Ad space

জনসংখ্যা নয়, সুস্থ ও দক্ষ মানবসম্পদই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শক্তি

প্রকাশ:
12
Image

বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা হলেই পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু কিংবা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো সামনে আসে। কিন্তু জনস্বাস্থ্যের এই প্রচলিত আলোচনার বাইরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র রয়েছে, যা আগামী প্রজন্মের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা এবং সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সেটি হলো যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য। এই বিষয়টিকে দীর্ঘদিন ধরে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে, স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর মধ্যে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে আসছেন ডক্টর আবু সাঈদ মোহাম্মদ হাসান।

বর্তমানে তিনি জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) বাংলাদেশের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপদ মাতৃত্ব, পরিবার পরিকল্পনা, কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, মিডওয়াইফারি, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার, মানবিক সংকটে প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো তাঁর কাজের প্রধান ক্ষেত্র। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, চিকিৎসক, মিডওয়াইফ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে তিনি এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষে কাজ করছেন, যেখানে প্রত্যেক নারী, কিশোর-কিশোরী ও তরুণ প্রয়োজনীয় তথ্য, মানসম্মত সেবা এবং নিজের জীবন সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাঁর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যকে কখনোই শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি বিষয় হিসেবে ব্যাখ্যা করেন না। বরং তিনি এটিকে শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে একসূত্রে দেখেন। তাঁর মতে, একটি দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সম্ভব নয়; মানুষের ওপর বিনিয়োগই শেষ পর্যন্ত উন্নয়নের প্রকৃত ভিত্তি তৈরি করে।

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে চ্যানেল আইয়ের বিশেষ আলোচনায় তাঁর বক্তব্যেও এই দর্শনের সুস্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়। এবারের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য ছিল-তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্মাণ। ড.হাসানের ভাষায়, এই প্রতিপাদ্যের মূল বার্তা হলো জনসংখ্যাকে কেবল সংখ্যার হিসাব হিসেবে না দেখে একটি দক্ষ ও মানসম্পন্ন জনসম্পদে রূপান্তর করা।

তিনি মনে করিয়ে দেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই তরুণ। এই বিশাল জনগোষ্ঠী দেশের জন্য একদিকে যেমন সম্ভাবনা, অন্যদিকে তেমনি বড় দায়িত্বও। কারণ সঠিক পরিকল্পনা না থাকলে এই জনসংখ্যা অর্থনীতির শক্তিতে পরিণত হবে না; বরং কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

Image

ডক্টর হাসান তাই ‘তরুণদের জন্য পরিকল্পনা’ নয়, ‘তরুণদের সঙ্গে পরিকল্পনা’-এই ধারণার ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের কথা শুনতে হবে। তারা কী ধরনের শিক্ষা চায়, কী ধরনের দক্ষতা অর্জন করতে চায়, কী ধরনের কর্মসংস্থান প্রত্যাশা করে এবং কী ধরনের স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন-এসব বিষয়ে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করলে কোনো নীতিই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না।

তিনি বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেন। প্রথমত, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা এখনো সর্বত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দ্বিতীয়ত, শিক্ষিত তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়নি। তৃতীয়ত, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সেবা এখনো দেশের প্রতিটি তরুণের কাছে সমানভাবে পৌঁছায়নি।

এই তিনটি সমস্যাকে তিনি আলাদা করে দেখেন না। তাঁর মতে, এগুলো একই উন্নয়ন কাঠামোর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। একজন তরুণ যদি সুস্থ না থাকে, নিজের শরীর ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন না হয়, তাহলে দক্ষতা অর্জন করলেও তার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো কঠিন হবে।

বাংলাদেশ গত পাঁচ দশকে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে যে সাফল্য অর্জন করেছে, সেটিকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে মূল্যায়ন করেন। একসময় দেশে আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার ছিল অত্যন্ত কম। বর্তমানে সেই হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাতৃমৃত্যু কমেছে, শিশুস্বাস্থ্যের উন্নতি হয়েছে এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে।

তবে তাঁর মতে, এখানেই থেমে থাকার সুযোগ নেই। কারণ নতুন প্রজন্মের চাহিদা, জীবনধারা এবং যোগাযোগের মাধ্যম আগের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। অতীতের সফল কৌশল ভবিষ্যতের জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।

ড.হাসান বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য নিয়ে। তাঁর মতে, বাংলাদেশে এখনো অসংখ্য কিশোর-কিশোরী শরীরের পরিবর্তন, ঋতু¯্রাব, প্রজনন স্বাস্থ্য, সম্পর্ক কিংবা পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য ছাড়াই বেড়ে ওঠে। পরিবারে এসব বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয় না। অনেক বিদ্যালয়েও বিষয়গুলো যথাযথভাবে পড়ানো হয় না।

ফলে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা অনির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। এতে ভুল ধারণা তৈরি হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি বয়সোপযোগী, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং সাংস্কৃতিকভাবে গ্রহণযোগ্য যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, সঠিক তথ্য কখনোই তরুণদের বিপথে পরিচালিত করে না; বরং তাদের আরও সচেতন, দায়িত্বশীল এবং আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

বাংলাদেশে স্কুল পাঠ্যক্রমে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক কিছু অধ্যায় থাকলেও বাস্তবে তার কার্যকারিতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনেক শিক্ষক বিষয়টি পড়াতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। আবার অনেক অভিভাবকও মনে করেন, এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করলে সন্তানরা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হবে।

ড.হাসানের মতে, এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং বিশ্বব্যাপী গবেষণা বলছে, যথাযথ যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ কমায়, অপ্রত্যাশিত গর্ভধারণের ঝুঁকি হ্রাস করে এবং তরুণদের নিরাপদ ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।

তাঁর ভাষায়, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা-এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত না করলে শুধু পাঠ্যবই পরিবর্তন করে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।

এই কারণেই তিনি মনে করেন, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যকে স্বাস্থ্য খাতের একক বিষয় হিসেবে না দেখে শিক্ষা, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র-সব পক্ষের যৌথ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

ড.আবু সাঈদ মোহাম্মদ হাসানের বিশ্লেষণে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাগুলোর একটি হলো কিশোরী মাতৃত্ব। তাঁর মতে, এটি শুধু একটি চিকিৎসাবিষয়ক সমস্যা নয়; বরং শিক্ষা, অর্থনীতি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত একটি জাতীয় ইস্যু।

তিনি বলেন, অল্প বয়সে গর্ভধারণ একজন কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে তার শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়, কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ কমে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে দারিদ্র্যের চক্র আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়। ফলে একজন কিশোরীর স্বাস্থ্যঝুঁকি শেষ পর্যন্ত একটি পরিবারের, এমনকি একটি সমাজের উন্নয়নের গতিকেও প্রভাবিত করে।

এই কারণেই তিনি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধকে শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় হিসেবে দেখেন না। তাঁর মতে, শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা, পরিবার পরিকল্পনা সেবা এবং কিশোর-কিশোরীদের জন্য সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা-সবকিছু একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। একজন কিশোরী যদি নিজের শরীর, অধিকার এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন থাকে, তাহলে সে নিজের জীবন সম্পর্কে আরও আত্মবিশ্বাসী সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

ডক্টর হাসানের বক্তব্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল নিরাপদ মাতৃত্ব। গত দুই দশকে বাংলাদেশ মাতৃমৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতিতে প্রসবের হার বেড়েছে, জরুরি প্রসূতি সেবার পরিধি বিস্তৃত হয়েছে এবং কমিউনিটি পর্যায়ে মাতৃস্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, এখনো অনেক পথ বাকি।

বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানসম্মত মাতৃস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, জরুরি প্রসূতি সেবার সহজ প্রাপ্যতা এবং প্রসব-পরবর্তী সেবার মানোন্নয়ন এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। তাঁর মতে, একজন নারী শুধু নিরাপদ প্রসব করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; গর্ভধারণের আগে, গর্ভাবস্থায় এবং সন্তান জন্মের পরও ধারাবাহিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

এই প্রসঙ্গে তিনি মিডওয়াইফারি ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেখায়, দক্ষ মিডওয়াইফ একটি দেশের মাতৃ ও নবজাতক মৃত্যুহার কমাতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। বাংলাদেশেও গত এক দশকে মিডওয়াইফারি পেশার বিকাশ এবং সরকারি হাসপাতালে মিডওয়াইফ নিয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে।

ডক্টর হাসানের মতে, একজন প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফ শুধু প্রসব করান না; তিনি একজন নারীর পুরো মাতৃত্বযাত্রার সঙ্গী। পরিবার পরিকল্পনা, গর্ভকালীন পরামর্শ, নিরাপদ প্রসব, নবজাতকের পরিচর্যা এবং প্রসব-পরবর্তী সেবা-সব ক্ষেত্রেই মিডওয়াইফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই এই পেশায় বিনিয়োগকে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য কৌশলগত বিনিয়োগ বলে মনে করেন।

পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর অবস্থানও সুস্পষ্ট। বাংলাদেশের পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি বিশ্বের অন্যতম সফল জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও বর্তমান বাস্তবতা আগের চেয়ে ভিন্ন। নগরায়ণ, অভিবাসন, পরিবর্তিত জীবনধারা এবং প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ তরুণ প্রজন্মের চাহিদাকে বদলে দিয়েছে। ফলে শুধু প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।

তাঁর মতে, পরিবার পরিকল্পনাকে এখন আরও বেশি অধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে হবে। একজন নারী ও দম্পতির নিজের সন্তান নেওয়ার সময়, ব্যবধান এবং সংখ্যা সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে মানসম্মত পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য এবং সহজলভ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

Image

ডক্টর হাসানের কাজের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানবিক সংকটে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় কিংবা বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারী ও কিশোরীরা সাধারণ সময়ের তুলনায় আরও বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে। গর্ভবতী নারীর নিরাপদ প্রসব, জরুরি প্রসূতি সেবা, পরিবার পরিকল্পনা এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকারদের স্বাস্থ্যসেবা-এসব বিষয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়ায় এই বিষয়টি তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ জলবায়ুজনিত দুর্যোগের প্রথম ও সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে নারী, শিশু এবং কিশোরীদের ওপর। তাই জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনার মধ্যেও যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবাকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি তুলে ধরেন।

ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও ডক্টর হাসানের দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবভিত্তিক। তাঁর মতে, বর্তমান প্রজন্ম তথ্যের জন্য প্রথমেই মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেটের আশ্রয় নেয়। ফলে স্বাস্থ্য খাতকেও ডিজিটাল যোগাযোগকে গুরুত্ব দিতে হবে। তবে এই ডিজিটাল কনটেন্ট হতে হবে নির্ভুল, বৈজ্ঞানিক এবং সহজ ভাষায় উপস্থাপিত।

তিনি মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, টেলিমেডিসিন, ডিজিটাল কাউন্সেলিং এবং অনলাইন স্বাস্থ্যতথ্য ভবিষ্যতে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে পারে। তবে প্রযুক্তি কখনোই মানবিক স্বাস্থ্যসেবার বিকল্প নয়; বরং এটি দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর কাজকে আরও কার্যকর করার একটি মাধ্যম।



আরও পড়ুন

লোড হচ্ছে...