Ad space

নায়করাজ, সাবিনা ইয়াসমিন, সৈয়দ হাদী ও খুরশিদ আলমকে নিয়ে শাইখ সিরাজের অনবদ্য প্রামান্যচিত্র

প্রকাশ:
13
Image

গুণী মানুষের আত্মজীবনী প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের জন্য প্রেরণার বাতিঘর হিসেবে কাজ করে। ছাপা অক্ষরে আত্মজীবনী ও ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি আত্মজীবনীর মধ্যে অনেক পার্থক্য। ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দী আত্মজীবনী নির্দিষ্ট ব্যক্তির জীবন যাপন, ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠা নানা অধ্যায়কে অনেক বেশি বিশ্বস্থ করে তোলে। কথায় বলে ক্যামেরার চোখকে ফাঁকি দেয়া যায় না। সেজন্য দেশে-বিদেশে ভালো-মন্দ কিছু একটা ঘটলেই ক্যামেরার চোখকে খুঁজে মানুষ।

শাইখ সিরাজ। এক নামেই যার জগৎ জোড়া পরিচিতি। মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। কৃষি ও কৃষকের জীবন যাপন এবং কৃষি অর্থনীতিকে উপজীব্য করে বিটিভিতে শুরু করেছিলেন ‘মাটি ও মানুষ’ শীর্ষক একটি আলোচিত অনুষ্ঠান। শুরুর দিকে অনেকেই বলেছিলেন কৃষি ও কৃষককে নিয়ে টিভি অনুষ্ঠান মোটেও জমবে না। তবে শাইখ সিরাজ তাঁর লক্ষ্য পুরণে ছিলেন অবিচল। সে কারণে কৃষি ও কৃষককে নিয়ে ভিন্ন ধারার টিভি অনুষ্ঠানটিই এখন দেশে বিদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়। বিটিভিতে একটানা ১৬ বছর অনুষ্ঠানটি করার পর সময়ের প্রয়োজনে একটু বিরতি দেন শাইখ সিরাজ। পরবর্তিতে চ্যানেল আইতে শুরু করেন ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ নামের নতুন অনুষ্ঠান। অল্প সময়ে চ্যানেল আই এর ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ সহ গোটা পৃথিবীর কোটি কোটি বাংলা ভাষাভাষি মানুষের প্রিয় অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে। ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠানটিকে ঘিরে আরও কিছু অনুষ্ঠান শাখা প্রশাখায় পল্লবিত হয়ে ওঠে। তারমধ্যে ছাদ কৃষি, কৃষকের ঈদ আনন্দ, কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট, কৃষির প্রতি কিশোর ও তরুণ শিক্ষার্থীদের মনযোগ আকর্ষনের জন্য ফিরে চল মাটির টানে সহ আরও কিছু অনুষ্ঠান বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষককে অনন্য মর্যাদায় অভিসিক্ত করেছে। শাইখ সিরাজ নামটিই এখন কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা ও আস্থার স্থল।

Image

ছোটবেলায় খুব সিনেমা দেখতেন শাইখ সিরাজ। তখনকার দিনে ঢাকা সহ সারাদেশে বিনোদনের একমাত্র মাধ্যমই ছিল সিনেমা। নায়করাজ রাজ্জাক ছিলেন শাইখ সিরাজের অনেক প্রিয় নায়ক। বাংলা ভাষার প্রথম ডিজিটাল টেলিভিশন চ্যানেল, চ্যানেল আই এর একজন উদ্যোক্তা পরিচালক হিসেবে নায়ক রাজ্জাককে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান শাইখ সিরাজ। ততদিনে নায়করাজ রাজ্জাকও কৃষি উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজের গুণমুগ্ধ ভক্ত হয়ে উঠেছেন। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে দু’জনের মধ্যে। শাইখ সিরাজ নির্মাণ করেন ‘রাজাধিরাজ রাজ্জাক’ শীর্ষক নায়করাজের জীবনী ভিত্তিক প্রামান্যচিত্র। পরিকল্পনা ও নির্মাণ শৈলীর জাদুকরি স্পর্শে নায়করাজ রাজ্জাককে নিয়ে নির্মাণ করা এই প্রামান্য চিত্রটি ইতিহাসের একটি অনন্য দলিল হয়ে উঠেছে। সিনেমাকে ঘিরে নায়করাজের বর্নাঢ্য জীবনের গল্প আমরা সকলেই জানি। কিন্তু ছাপার অক্ষর ও স্যালুলয়েডের পর্দায় নায়করাজের জীবন নিয়ে খুব একটা কাজ হয়নি। তাই শাইখ সিরাজের এই প্রামান্য চিত্রটি খুবই গুরুত্বপুর্ন। জীবদ্দশায় নায়করাজ রাজ্জাক প্রামান্য চিত্রটি দেখে বলেছিলেন, শাইখ সিরাজের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তিনি অনন্য সাধারন একটি কাজ করেছেন। উল্লেখ্য, এটি প্রামান্য চিত্র ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছে।

Image

নায়করাজ রাজ্জাকের পর শাইখ সিরাজ তার দ্বিতীয় প্রামান্যচিত্রের জন্য বাংলাদেশের গানের পাখি সাবিনা ইয়াসমিনকে বেছে নেন। এই প্রামান্যচিত্রের নাম দিলেন জুঁইফুল সাবিনা ইয়াসমিন। ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে এই প্রামান্যচিত্রটিও। সাবিনা ইয়াসমিন বলেছেন, এই প্রামান্যচিত্রটি আমার সঙ্গীত জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার।

জুঁইফুল সাবিনা ইয়াসমিনের পর তৃতীয় প্রামান্যচিত্র হিসেবে জীবন্ত কিংবদন্তী সঙ্গীতজ্ঞ সৈয়দ আব্দুল হাদীকে নিয়ে অনন্য সাধারন একটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন শাইখ সিরাজ। এই প্রামান্যচিত্রের শিরোনাম গল্প আছে এখানে। প্রামান্যচিত্রটি দেখে সৈয়দ আব্দুল হাদী স্বয়ং বলেছেন, শাইখ সিরাজ এবং চ্যানেল আই অনন্য সাধারন একটি কাজ করেছে। আমি কৃতজ্ঞ তাদের প্রতি।

গুণীজনদের নিয়ে প্রামান্যচিত্র নির্মাণের তালিকায় ৪র্থ নম্বরে স্থান পেয়েছেন গুণী সঙ্গীতশিল্পী খুরশিদ আলম। এই প্রামান্যচিত্রের শিরোনাম হৃদয়ে কি সুর বাজে। খুরশিদ আলম বললেন, এই প্রামান্যচিত্র আমার সঙ্গীত জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার। এজন্য শাইখ সিরাজ এবং অবশ্যই চ্যানেল আই এর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।

আরও খবর নিয়ে

লোড হচ্ছে...