Ad space

এথিক এর এক থেকে একশ’তে ‘হাঁড়ি ফাটিবে শতক সন্ধ্যা’

প্রকাশ:
32
Image

একেই বলে হাঁটি হাঁটি পা পা গল্প। এক থেকে একশ’তে পৌঁছাতে সময় লেগেছে ১৬ বছর। একটি মঞ্চ নাটকের সংগ্রাম মুখর পথচলা। যেন বিন্দু থেকে সিন্ধুতে মিশে যাবার গল্প। নাটকের নাম হাঁড়ি ফাটিবে। উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ নাট্যকার, অভিনেতা উৎপল দত্তের সাড়া জাগানো এই নাটকটি আজ থেকে ১৬ বছর আগে অর্থাৎ ২০১০ সালে প্রথম মঞ্চে আনে রাজধানীর সেই সময়ের একেবারে নবীণ নাট্য সংগঠন এথিক। হাঁড়ি ফাটিবে সংগঠনটির প্রথম নাটক। বেইলী রোডের মহিলা সমিতি মঞ্চে নাটকটির প্রথম প্রদর্শনী অনুষ্ঠত হয় ২০১০ সালের ২২ মে। উদ্বোধক ছিলেন দুই বাংলার বিশিষ্ট নাট্যজন নৃপেন সাহা ও কেরামত মাওলা।

২০২৬ এর ২২ আগস্ট ঢাকায় জাতীয় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে নাটকটির শততম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হল বিপুল আনন্দ ও উৎসব মুখর পরিবেশে। শততম প্রদর্শনীর শিরোনাম ছিল ‘হাঁড়ি ফাটিবে শতক সন্ধ্যা’। এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে তিল ধারনের ঠাই ছিল না। টিকিট না পেয়ে অনেক দর্শক ফিরে গেছেন। শতক সন্ধ্যার অতিথি ছিলেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদাার ও আবুল হায়াত। দর্শক সারীতে পারিবারিক ভাবে আসা অসংখ্য হাস্যোজ্জ্বল মুখ দেখে মনে হয়েছে মঞ্চের প্রতি এখনও সবার আগ্রহ আগের মতোই আছে। শুধু প্রয়োজন যোগাযোগের আধুনিক উদ্যোগ।

নির্ধারিত সময় সন্ধ্যে ৭টায় শুরু হয় শতক সন্ধ্যার সূচনা পর্ব। জাতীয় সঙ্গীতের সুর মূর্চ্ছনায় শুরু হয় শতক যাত্রা। মঞ্চে আসেন সম্মানিত অতিথিদ্বয় যথাক্রমে আবুল হায়াত ও রামেন্দু মুজমদার। এই পর্বে সভাপতিত্ব করেন এথিক এর সভাপতি নাট্যজন রেজানুর রহমান।

আনুষ্ঠানিক বক্তৃতা পর্ব শেষে শুরু হয় নাটক। হলে সীট না পেয়ে অনেক দর্শক হলের পিছনে দাঁড়িয়ে নাটক দেখছিলেন। কখনও পিন পতন নীরবতা, আবার কখনও তুমুল করতালি। এভাবেই এগিয়ে যায় হাঁড়ি ফাটানোর গল্প। নাটক শেষে দর্শকের আনন্দ উচ্ছ্বাস ও করতালি যেন থামছিলই না। সবার অভিন্ন বক্তব্য- এই নাটক সবার বার বার দেখা উচিৎ। তাহলে বিবেক জাগ্রত হবে। মুখোশ পরা ভালো মানুষদের মুখোশ খোলার জন্য এই নাটকটি ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা শহরেও মঞ্চস্থ হওয়া উচিৎ বলে অনেক দর্শক মতামত দেন।

নাটকটির শুরুর দিকের নির্দেশক ছিলেন নাট্যকার, নির্দেশক অপু শহীদ। সময়ের প্রয়োজনে নতুন আঙ্গিকে নাটকটির নিদের্শক হিসেবে দায়িত্ব পান তরুণ নাট্যকর্মী নিদের্শক মিন্টু সরদার। শতক সন্ধ্যায় নাটকের অভিনেতা, অভিনেত্রীদের সাবলীল অভিনয়ের পাশাপাশি নিদের্শকেরও ভূয়শী প্রশংসা করেন দর্শক।

নাটকটির প্রথম মঞ্চায়নের দিন বিভিন্ন চরিত্রে পথিক পলাশ, হাসান রিজভী, ভাবনা হাসান, সুকর্ন হাসান, রবিউল হাসান রুবেল, প্রদীপ কুমার, দেবী বিশ্বাস, কাজী প্যারিস, এসএম টুটুল, জাহাঙ্গীর আলম ও মিন্টু সরদার অভিনয় করেছিলেন।

শতক সন্ধ্যায় অভিনয় করেন, নাহিদ মুন্না, হাসান রিজভী, ভাবনা হাসান, সুকর্ন হাসান, তারেক চৌধুরী রিমন, মনি কানচন, আফনান অপ্সরা, আজিম উদ্দিন, মিন্টু সরদার, প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, রুবেল খান, ইবনে মরিয়া ও আবীর বাবু।

Image

নাটক শেষে শুরু হয় সম্মাননা পর্ব। শতক সন্ধ্যার অভিনেতা, অভিনেত্রীদের পাশাপাশি নাটকটির সঙ্গে জড়িত নেপথ্যের কারিগরদের হাতেও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন নাট্যজন রামেন্দু মুজমদার ও আবুল হায়াত। নাটকটিতে শুরু থেকে ১০০ পর্যন্ত অভিনয়ে যুক্ত থাকা অর্থাৎ শতকে শতক হাকানো দুই অভিনেতা সুকর্ন হাসান ও মিন্টু সরদারকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে এই নাটকে শুরু থেকে ১০০ পর্যন্ত (অভিনয় সংখ্যা ৯৮) অভিনয়ের পাশাপাশি আর্থিক সংশ্লিষ্টতা সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ মনি কানচনকেও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। নাটকটির শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত নিবীড়ভাবে যুক্ত থাকা আলোক পরিকল্পক, নাট্যজন ঠান্ডু রায়হানকেও অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্¥াননা দেয়া হয়। একই ভাবে নাটকটির শততম মঞ্চায়ন পযর্যন্ত বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয়কারী একাধিক অভিনেতা অভিনেত্রীর হাতেও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।

নাটকে মোট ১১টি চরিত্র। মাঝি চরিত্রটি নির্দেশকের সৃষ্টি। এই ১২টি চরিত্রে সব মিলে এ যাবৎ ৫১জন শিল্পী অভিনয় করেছেন। শম্ভু চরিত্রে অভিনয় করেছেন পথিক পলাশ, রাতুল মীর, এনামুল মীর, আজিম উদ্দিন ও নাহিদ মুন্না। বিকাশ মুখার্জি চরিত্রে অভিনয় করেছেন হাসান রিজভী, ইমতিয়াজ আসাদ এবং অপু শহীদ। সুলোচনা দেবী চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভাবনা হাসান, নীলা আহমেদ, আফসা পারভিন, উম্মে হাবিবা মায়া, নূর সাবা, হাসনে আরা ডালিয়া ও আফনান অপ্সরা। সদাশীব রায় চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রদীপ কুমার বিশ্বাস ও মনি কানচন। জগন্ময় লাহিড়ী চরিত্রে অভিনয় করেছেন রবিউল হাসান রুবেল, মনিরুল হক ঝলক এবং তারেক চৌধুরী রিমন। রেবা জোয়ারদ্দার চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেবী বিশ্বাস, লীজু আহমেদ, শ্রাবণ ইসলাম প্রীতিকা, শাপলা খাতুন, রূপা ইমতিয়াজ, হাসনে আরা ডালিয়া, সুমনা সোমা, রওনক বিশাকা শ্যামলী, আফনান অপ্সরা, উর্মি আহমেদ ও দীপান্বিতা রায়। জ্ঞানেন্দ্র নাথ চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজী প্যারিস, জি এম সালাহউদ্দিন এবং আজিম উদ্দিন। পুলিশ অফিসার চরিত্রে এস এম টুটুল, ইমতিয়াজ আসাদ, জাহাঙ্গীর আলম, তারেক চৌধুরী রিমন, রাজিব আহমেদ, দেলোয়ার হোসেন সোহাগ, এস পি খান শাওন, দীপেন মজুমদার এবং প্রদীপ কুমার বিশ্বাস। সেপাই চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাহাঙ্গীর আলম, রাতুল মীর, তুগছেরুল রাফি, যায়েদ ইবনে মবিয়া এবং রুবেল খান। নাটকে রেবা জোয়ারদার চরিত্রে সর্বোচ্চ ১১জন অভিনেত্রী অভিনয় করেছেন। উল্লেখ্য, চিত্তব্রত চরিত্রে সুকর্ন হাসান এবং কালিকিংকর চরিত্রে মিন্টু সরদার এই দুজন নাটকের সব গুলো প্রদর্শনীতে অভিনয় করেছেন। রূপসজ্জার কাজটি শুরু থেকেই নিরলস ভাবে করে যাচ্ছেন মঞ্চপাড়ার প্রিয় মুখ শুভাশীষ দত্ত তন্ময় এবং তার সহযোগী জাহাঙ্গীর। সেই সাথে বিভিন্ন প্রদর্শনীতে নাটকের আলো প্রক্ষেপন করেছেন সবুজ খান, সুজন শামীম ও শাখাওয়াত শিবলী। আবহ প্রক্ষেপন করেছেন সবুজ রহমান, তারেক চৌধুরী রিমন ও শরিফা জাহান রুমা। পর্দা সরবরাহ করেছেন অশোক মুখার্জী ও কামাল হোসেন। কাউন্টার ব্যবস্থাপনায় নিরলস ভাবে কাজ করেন হ্যাপী মনি, পুনম ফাতেমা, শরিফা জাহান রুমা, ও রাব্বিল হোসেন।

Image

এথিককে অনেক ধন্যবাদ

রামেন্দু মজুমদার

বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে একটি নাটকের শততম মঞ্চায়ন অনেক বড় ঘটনা। এজন্য এথিককে অনেক ধন্যবাদ জানাই। হাঁড়ি ফাটিবে উৎপল দত্তের ব্যাপক আলোচিত মঞ্চ নাটক। ‘রাতের অতিথি’ হিসেবেও নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। এই নাটকে ভালো মানুষের মুখোশ পরে যারা সমাজে অন্যায় অপকর্ম করে তাদের স্বরুপ উন্মোচন করা হয়েছে। সেজন্য নাটকটি সর্বদাই সমসাময়িক। এমন একটি নাটকের সঙ্গে থাকার জন্য এথিককে ধন্যবাদ।

অনেক শুভকামনা এথিক এর জন্য

আবুল হায়াত

আমরা যারা অভিনয় করি তাদের কাছে মঞ্চের অবদান অনেক। এথিক এর এই আয়োজনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে এসে অনেক কথা মনে পড়ছে। যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে এখন কথা বলছি তার সৃষ্টির পিছনেও আমার কিছুটা অবদান আছে। উৎপল দত্তের হাঁড়ি ফাটিবে অনেক আলোচিত মঞ্চ নাটক। এথিক নাটকটির শততম মঞ্চায়ন করছে এজন্য সাধুবাদ জানাই। অনেক শুভ কামনা এথিক এর জন্য।

দর্শকের ভালোবাসায় রঙিন হলো হাড়ি ফাটিবে’র শতক সন্ধ্যা

এটা ঠিক সব কিছু বদলে গেছে। ঢাকায় আগে ছিল মহিলা সমিতির মঞ্চই একমাত্র নাটকের মঞ্চ। পাশাপাশি গাইড হাউজ মঞ্চেও নাটক হতো। বর্তমানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতেই রয়েছে ছোট, বড় ৩টি মঞ্চ। অথচ শুক্র, শনিবার ছুটির দিন বাদে শিল্পকলায় দর্শক পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। তাই বলে নাটকের চর্চা কি কমে গেছে? মোটেই না। শুধু মাত্র ঢাকা মহানগরীতেই সক্রিয় রয়েছে ৬৫টি নাট্য সংগঠন। সারাদেশে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ভুক্ত নাট্য দলের সংখ্যা প্রায় ৩০০। কী যে কষ্ট নাটকের একটি দল চালাতে। শহরের কষ্ট এক রকম, মফস্বল অর্থাৎ গ্রামাঞ্চলের কষ্ট অন্য রকম। তবুও কষ্টের নদী সাতরে প্রতিনিয়ত তীরে ওঠার সংগ্রামে বিভোর নাটকের সংগঠন গুলো। শুধু নাটকের সংগঠনই বা বলি কেন সাংস্কৃতিক সংগঠন গুলোরও একই অবস্থা। এমন বাস্তবতায় একটি নাটকের শততম মঞ্চায়ন অনেক গুরুত্বপুর্ণ ঘটনা বলে মনে করি। উৎপল দত্তের লেখা এথিক’র এই নাটকটি নতুন করে নির্দেশনা দিয়েছেন মিন্টু সরদার। যদিও ১০০ তে পৌছাতে ১৬টি বছর পার করতে হয়েছে।

হাঁড়ি ফাটিবে নাটকের মূল সুর দেশ ও সমাজের অনিষ্টকারী মানুষদের মুখোশ উম্মোচন। দেখে মনে হবে আহা, কত ভালো মানুষ। কিন্তুু বাস্তবে বদমাইশ, নীতিহীন নরকের কীট। এদের থেকে যতদূরে থাকা যায় ততই মঙ্গল। এই দূরে থাকার বার্তা আছে নাটকটিতে। দূরে থাকা মানে বিছিন্ন থাকা নয়। সুন্দর ও কল্যানের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকা।

হাঁড়ি ফাটিবে এথিক’র প্রথম প্রযোজনা। শুরুর দিকে নাটকটির নির্দেশক ছিলেন নাট্যকার, নির্দেশক অপু শহীদ। পরবর্তিতে সময়ের প্রয়োজনে নতুন আঙ্গিকে নাটকটি নির্দেশনার দায়িত্ব নেন মিন্টু সরদার।

নাটকে মোট ১১টি চরিত্র। মাঝি চরিত্রটি নির্দেশকের সৃষ্টি। এই ১২টি চরিত্রে সব মিলে এ যাবৎ ৫১জন শিল্পী অভিনয় করেছেন। শম্ভু চরিত্রে অভিনয় করেছেন পথিক পলাশ, রাতুল মীর, এনামুল মীর, আজিম উদ্দিন ও নাহিদ মুন্না। বিকাশ মুখার্জি চরিত্রে অভিনয় করেছেন হাসান রিজভী, ইমতিয়াজ আসাদ এবং অপু শহীদ। সুলোচনা দেবী চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভাবনা হাসান, নীলা আহমেদ, আফসা পারভিন, উম্মে হাবিবা মায়া, নূর সাবা, হাসনে আরা ডালিয়া ও আফনান অপ্সরা। সদাশীব রায় চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রদীপ কুমার বিশ্বাস ও মনি কানচন। জগন্ময় লাহিড়ী চরিত্রে অভিনয় করেছেন রবিউল হাসান রুবেল, মনিরুল হক ঝলক এবং তারেক চৌধুরী রিমন। রেবা জোয়ারদ্দার চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেবী বিশ্বাস, লীজু আহমেদ, শ্রাবণ ইসলাম প্রীতিকা, শাপলা খাতুন, রূপা ইমতিয়াজ, হাসনে আরা ডালিয়া, সুমনা সোমা, রওনক বিশাকা শ্যামলী, আফনান অপ্সরা, উর্মি আহমেদ ও দীপান্বিতা রায়। জ্ঞানেন্দ্র নাথ চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজী প্যারিস, জি এম সালাহউদ্দিন এবং আজিম উদ্দিন। পুলিশ অফিসার চরিত্রে এস এম টুটুল, ইমতিয়াজ আসাদ, জাহাঙ্গীর আলম, তারেক চৌধুরী রিমন, রাজিব আহমেদ, দেলোয়ার হোসেন সোহাগ, এস পি খান শাওন, দীপের মজুমদার এবং প্রদীপ কুমার বিশ্বাস। সেপাই চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাহাঙ্গীর আলম, রাতুল মীর, তুগছেরুল রাফি, যায়েদ ইবনে মবিয়া এবং রুবেল খান। নাটককে রেবা জোয়ারদার চরিত্রে সর্বোচ্চ ১১জন অভিনেত্রী অভিনয় করেছেন। উল্লেখ্য, চিত্তব্রত চরিত্রে সুকর্ন হাসান এবং কালিকিংকর চরিত্রে মিন্টু সরদার এই দুজন নাটকের সব গুলো প্রদর্শনীতে অভিনয় করেছেন।

হাঁড়ি ফাটিবে শতক সন্ধ্যায় দর্শকদের উপস্থিতি ছিল বিশেষ ভাবে উল্লেখ করার মতো। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে তিল ধারনের ঠাই ছিল না। টিকিট না পেয়ে অনেক দর্শক ফিরে গেছেন। হাঁড়ি ফাটিবে শতক সন্ধ্যার অতিথি ছিলেন নাট্যজন আবুল হায়াত ও রামেন্দু মজুমদার।

Image

হাঁড়ি ফাটিবে শতক সন্ধ্যার আয়োজন উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকায় বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক, চ্যানেল আই এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর মঞ্চ নাটকের জন্য বিকল্প ভাবনার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন- চ্যানেল আই এর ওটিটি প্লাটফর্ম আইস্ক্রিণে দেশের ৫০টিরও বেশী মঞ্চ নাটকের অভিনয় নিজেদের স্টুডিওতে ধারণ করার পর আইস্ক্রিণে আপলোড করা হয়েছে। দর্শকের আগ্রহ সেভাবে মিলেনি। এই নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া চোখে পড়েনি। মঞ্চ নাটকের দর্শক কেন কমে গেল, এই নিয়ে তেমন গবেষণাও নাই। অথচ একটা সময় মঞ্চ নাটক দেখার জন্য দর্শক অগ্রিম টিকেট কিনতো। আমি মনে করি মঞ্চ নাটক বোধকরি যুগের দাবী মিটাতে ব্যর্থ হচ্ছে। যদিও দর্শক খরার মধ্যেও অনেক দলের নাটকের টিকেট নাকি আগেই বিক্রি হয়ে যায়। তার মানে মঞ্চের দর্শক আছে। কিন্তুু তাদেরকে মঞ্চে ফিরিয়ে আনার জন্য আধুনিক চিন্তা ও উদ্যোগ নেই। মঞ্চে দর্শক ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজন আধুনিক কনটেন্ট। আধুনিক উপস্থাপনা। নাট্যকার মামুনুর রশীদ, আবুল হায়াত, রামেন্দু মজুমদার, নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, লাকী ইনাম সহ আমাদের মঞ্চের বিশিষ্টজনেরা মঞ্চ নাটকের ঐতিহ্যকে গভীর মমতা ও ভালোবাসার শক্তিতে সামনের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। বিশিষ্ট নাট্যজন জামিল আহমেদ ঈদের ছুটিতে মঞ্চ নাটকের প্রদর্শনীর আয়োজন করে নতুন ধারনার জন্ম দিয়েছেন। একটা সময় সুদুর বগুড়ায় ঘুর্নায়মান নাট্য মঞ্চে অভিনয় হতো। ঢাকায়ও এমন একটি নাট্য মঞ্চে নিয়মিত নাটকের প্রদর্শনী হতো। ঢাকার ঘুর্নায়মান মঞ্চটির এখন কোনো অস্থিত্ব নাই। বগুড়ায় মঞ্চটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এ ব্যাপারে সয়শ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি। যুগের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে মঞ্চ নাটকে আধুনিক ধারনার উম্মেষ প্রয়োজন। স্টুডিও থিয়েটারের পাশাপাশি উঠোন থিয়েটারের প্রচলন করা যেতে পারে। ফ্লাটবাড়ির ছাদ অথবা লনেও মঞ্চস্থ হতে পারে নাটক। একটা সময় কলেজ, বিশ্বাবিদ্যালয়ে হল পর্যায়ে নাট্য প্রতিযোগিতা হতো। এখন কেন হয় না তার উত্তর খোঁজা জরুরি। এথিক এর ব্যপক জনপ্রিয় নাটক হাঁড়ি ফাটিবে’র শততম সন্ধ্যায় এই ধারনা গুলো উসকে দিলাম। সংশ্লিষ্টরা ভাববেন আশাকরি।

যারা বলেন, মঞ্চের দর্শক কমে গেছে তাদের সঙ্গে আমি একমত হতে পারছিনা। যুগের প্রয়োজনে অনেক কিছুই বদলেছে। মঞ্চ নাটকেরও বদল প্রয়োজন। কনটেন্ট বাছাই এর ক্ষেত্রে আধুনিক দৃষ্টি ভঙ্গির প্রতি জোর দিতে হবে। যেতে হবে বহুদুর। পথটা যে মসৃণ তা তো নয়। প্রত্যেকে আমরা পরের তরে এই আন্তরিক ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে হাতে হাত রেখে যদি চলা যায় তাহলে কাঙ্খিত সাফল্য আসবেই। মঞ্চ নাটকের জয় হোক।

 

আরও খবর নিয়ে

লোড হচ্ছে...