Ad space

বিশ্বসংসারের কল্যাণে রমণী ও পুরুষ দু’জনেরই গুণ লাগে

প্রকাশ:
11
Image

আনন্দ আলো: কেমন আছেন?

দীপ্তি চৌধুরী: ভালো আছি।

আনন্দ আলো: জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। কেমন চলছে?

দীপ্তি চৌধুরী: প্রত‍্যাশার চেয়ে বেশি ভালো। মাঝে মাঝে মনে হয় অনন্তকাল এরকম একসাথে আছি; কখনো আবার মনে হয় এই তো সেদিন এক হলাম।

আনন্দ আলো: বিয়ে আপনার কাছে কি?

দীপ্তি চৌধুরী: বিয়ে আমার কাছে একটা পার্টনারশিপ । সুখে একসাথে সেলিব্রেট করা; জীবনের ছুড়ে দেয়া চ‍্যালেঞ্জকে একসাথে ফেস করা। একে অন‍্যরে কমতি গুলোকে পূরণ করে দেয়া।

আনন্দ আলো: সংসার মানে কী? সংসার সুখের হয় রমনীর গুণে... একথা কি আপনি মানেন?

দীপ্তি চৌধুরী: এখনো অতটা বুঝে উঠিনি সংসার কি। আমরা দুজনেই চেয়েছি আমাদের স্বপ্ন ও সক্ষমতাকে এক করে বিশ্ব সংসারের মঙ্গল কাজ করতে। আপাতত সেটা নিয়েই ব্যস্ত আছি। আর বিশ্ব সংসারের কল্যাণে রমণী ও পুরুষ দুজনেরই গুণ লাগে।

Image

আনন্দ আলো: কিছু মানুষ আপনাদের বিয়ে নিয়ে নেতিবাচক কথা বলেছে... এমন কথাাও শোনা গেছে আপনাদের বিয়ে ভেঙ্গে গেছে। কেন তারা এই তথ্য ছড়ালো?

দীপ্তি চৌধুরী: সেটা তারাই ভালো বলতে পারবেন।  সম্ভবত সামাজিক অস্থিরতার এই সময়ে যে কারো ব‍্যর্থতা বা কষ্ট এমন উদযাপনের বিষয় হয়েছে যে সেটা কল্পনা করেও কিছু মানুষ আনন্দ পান।

আনন্দ আলো: ২৪ এর গণ অভ্যূত্থান চলাকালে চ্যানেল আই এর একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আপনাকে ঘিরে দেশের মানুষের ব্যাপক আগ্রহ দেখা দেয়। এব্যাপারে কিছু বলুন।

দীপ্তি চৌধুরী: ২৪ শে বাংলাদেশের সকল মানবিক ও দেশপ্রেমিক মানুষ যার যার জায়গা থেকে শিশুহত‍্যা ও গণহত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছে । গণ মানুষ প্রতিরোধ করেছে। আমি আমার কাজের জায়গায় সৎ থাকতে চেয়েছি সবসময় । সেদিনের সেই প্রতিবাদ তাই বিশেষ কিছু নয় ; বরং অতি সামান্যই।

আনন্দ আলো: ২৪ এর গণ অভ্যূত্থান আপনার মাঝে যে প্রেরণা ছড়িয়েছে তা কি এখনও ধাবমান?

দীপ্তি চৌধুরী: প্রেরণা কোনো অলিক অনুভূতি নয় । বাস্তবতার পরিবর্তনে তা নতুন উপলব্ধি এনে দেয় । ঠিক ৫ আগস্ট দেশকে যেভাবে দেখেছি এখনকার দেখে ও ভাবনা নিশ্চয়ই অনেকখানি আলাদা ।

আনন্দ আলো: ফারজানা ব্রাউনিয়ার নেতৃত্বে চ্যানেল আই এর স্বর্ণ কিশোরী রিয়েলিটি শোয়ের একজন মেধাবী প্রতিযোগী হিসেবে মিডিয়ায় আপনার আগমন। সেই দিন গুলোর কথা কি মনে পড়ে? স্বর্ণ কিশোরীরা কেমন আছে?

দীপ্তি চৌধুরী: ভীষণ মনে পড়ে। আমার জীবনের রঙিন স্মৃতি দিনগুলো । স্বর্ণকিশোরীরা তো আর কিশোরী নেই; এক একদন স্বর্ণ মানবী হয়েছেন। নানা ক্ষেত্রে আলো ছড়াচ্ছেন।আমি চাই আরো অনেক কিশোরী এমন প্লাটফর্ম পাক।

আনন্দ আলো: বর্তমান সময়ে আপনি অনেক ব্যস্ত সময় পার করছেন। রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি বর্গকে আপনি প্রশ্ন করেন। পরিবেশ কেমন? মন খুলে প্রশ্ন করতে পারছেন?

Image

দীপ্তি চৌধুরী: পারছি। যখন পারবো না তখন কাজটাই করবো না।

আনন্দ আলো: ২৪ এর গণ অভ্যূত্থানে জড়িত ফ্যাসিস্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সবার কাম্য। ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে আপনার অভিমত কি?

দীপ্তি চৌধুরী: অবশ্যই শাস্তি চাই। যারা দেশ এবং মানুষের বিপক্ষে থাকবেন তারা সর্বদা ঘৃণ‍্য।

আনন্দ আলো: ২৪ বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছে। তরুণেরাই এই বদলের কারিগর। সামনের দিন গুলোতে তরুণদের ভবিষ্যৎ কেমন দেখছেন?

দীপ্তি চৌধুরী: বেশ অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন তরুণেরা। পরাজিত শক্তি নানা ভাবে তাদের টার্গেট করছে।ওসমান হাদীর মতো এক্টিভিস্টকে হত্যা করা হলো। আমি মনে করি তরুণদের প্রতি রাষ্ট্রের আরও বেশি অভিভাবক সুলভ হওয়া উচিত।

আনন্দ আলো: নেপালে রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়েছে তরুণেরা। আপনাকে বাংলাদেশের দায়িত্ব দেয়া হল। কী কী করবেন?

দীপ্তি চৌধুরী: দুর্নীতিবাজ, সুবিধাবাদী এবং অকর্মণ্য রাষ্ট্রীয় কর্মচারীদের প্রথমে ঠিক করতাম। হাসপাতালগুলোর পরিবেশ ঠিক করতাম। বিচার ব‍্যবস্থা নিরপেক্ষ করতাম। আরও কত কি যে করতাম কি জানি!....

আনন্দ আলো: করোনাকাল এবং ২৪ এর গণ অভ্যূত্থান সময়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষায় শতকরা ৩৬ ভাগ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়নি। এটা কি স্বাভাবিক ঘটনা। আপনার মন্তব্য জানতে চাই।

দীপ্তি চৌধুরী: খুব একটা অস্বাভাবিক না!  আর শুধু পরীক্ষায় কত শতাংশ বসলে সেটা দিয়েও তো শিক্ষার মূল্যায়ন করা যায় না। মানে ১০০% পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও শিক্ষার মান উন্নত সেটা বলা যাবে না।

আনন্দ আলো: বৈষম্যের বিরুদ্ধেই মূলত: ২৪ এর গণ অভ্যূত্থান সংগঠিত হয়েছে। বৈষম্য কি দূর হয়েছে? আপনি যে প্রত্যাশা নিয়ে গণ অভ্যূত্থানের সম্মুখ সারীতে ছিলেন তা কি পুরণ হয়েছে?

দীপ্তি চৌধুরী: অনেক কিছুই হয়নি। কোনে বিপ্লব বা অভ‍্যুথ্থানের পরই রাতারাতি সব বদলে যায় না। তাই বলে বিপ্লব থেমে থাকে না। থেমে থাকে না পরিবর্তনের আকাক্সক্ষা ।এটা একটা  চলমান প্রক্রিয়া । তাই আমি এখনো পরিবর্তনে স্বপ্ন দেখি ।

আনন্দ আলো: দেশ আপনার কাছে কি?

দীপ্তি চৌধুরী: দেশ আমার কাছে অস্তিত্ব- যার জন্য আজীবন লড়ে যাওয়া যায় ।

আনন্দ আলো: পরিবার? পরিবার টিকে থাকে কোন মন্ত্রে?

দীপ্তি চৌধুরী: পরিবার হলো দিন শেষে ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসার জায়গা- যেখানে কেউ ফেরায় না। যেখেনে প্রত‍্যেেক নিজের চেয়ে অন্যকে ভালো রাখতে চায় সেই সেটিই পরিবার ।

আনন্দ আলো: বন্ধু আপনার কাছে কী? বন্ধু টিকে থাকে কোন মন্ত্রে?

দীপ্তি চৌধুরী: যাকে সবসময় কাছে না পেলেও মনে হয়- সে আছে! হিসেব নিকেশ বাদ দিয়ে শুধু কল‍্যাণ কামনার নিশ্চয়তা টুকু থাকলেই বন্ধুত্ব টিকে যায় ।

আনন্দ আলো: বিনোদন আপনার কাছে কি? আপনার নিজের বিনোদন কি?

দীপ্তি চৌধুরী:  বিনোদন মানে ভালো লাগা। আপনজনের বলয়ে নির্মল স্বপ্ন চর্চা করাই আমার বিনোদন ।

আনন্দ আলো: যে কথা এখনও বলা হয়নি?

দীপ্তি চৌধুরী:  মাঝে মাঝে মনে হয় সব ছেড়ে উধাও হয়ে যাই!

আরও পড়ুন

লোড হচ্ছে...