Ad space

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দ্বৈত স্বীকৃতি অর্জন করল পূবালী ব্যাংক

প্রকাশ:
13
Image

ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) আয়োজিত ‘চতুর্থ আইসিসি ইমার্জিং এশিয়া ব্যাংকিং কনক্লেভ অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ দুটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে পূবালী ব্যাংক পিএলসি। ‘বেস্ট ব্যাংক-বাংলাদেশ’ এবং ‘বেস্ট পারফরম্যান্স অন গ্রোথ বাংলাদেশ’ বিভাগে এ সম্মাননা পেয়েছে ব্যাংকটি।

ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী ব্যাংকের পক্ষে দুটি সম্মাননা গ্রহণ করেন। আয়োজকদের মতে, টেকসই প্রবৃদ্ধি, সুশাসন, উদ্ভাবনী ব্যাংকিং সেবা এবং গ্রাহককেন্দ্রিক কার্যক্রমে ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যাংকটিকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক এ অর্জন উপলক্ষে পরে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মনজুরুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজ আহমদ মজুমদার, পরিচালক হাবিবুর রহমান, আজিজুর রহমান, মো. আব্দুর রাজ্জাক ম-ল, রানা লায়লা হাফিজ, মোস্তফা আহমেদ, আরিফ আহমেদ চৌধুরী ও কবির আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্বতন্ত্র পরিচালক মোহাম্মদ নওশাদ আলী চৌধুরী, অধ্যাপক ড. হাসিনা শেখ, কোম্পানি সেক্রেটারি ও মহাব্যবস্থাপক মো. আনিসুর রহমান, চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার ও মহাব্যবস্থাপক মো. লিটন মিয়া, চিফ প্রটোকল অফিসার মো. শাহ আলমসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এ সময় ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে কেক কেটে অর্জনটি উদযাপন করা হয়।

Image

অনুষ্ঠানে মনজুরুর রহমান বলেন, এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ব্যাংকিং উৎকর্ষ, টেকসই প্রবৃদ্ধি, সুশাসন, উদ্ভাবন এবং মানসম্মত গ্রাহকসেবার প্রতি পূবালী ব্যাংকের অঙ্গীকারের স্বীকৃতি। প্রযুক্তিনির্ভর ও গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে ব্যাংকটি অবদান রেখে যাচ্ছে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, এ অর্জন গ্রাহকদের আস্থা, শেয়ারহোল্ডারদের বিশ্বাস, পরিচালনা পর্ষদের দিকনির্দেশনা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাদারত্বের সম্মিলিত ফল। ভবিষ্যতেও ডিজিটাল রূপান্তর, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং নিরাপদ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে পূবালী ব্যাংক কাজ করে যাবে।

এবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন মো. ফজলুর রহমান

এবি ব্যাংক পিএলসি.-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. ফজলুর রহমান, এফসিএ নির্বাচিত হয়েছেন। গত ১৮ জুন ২০২৬ থেকে তাঁর এই নিয়োগ কার্যকর হয়।

এই দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তিনি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৭ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে এবি ব্যাংকে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তাঁর নেতৃত্বে ব্যাংক আর্থিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য মাইলফলক অর্জন করে।

ফজলুর রহমান একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। ব্যাংকিং, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও কৌশলগত পরিকল্পনায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর একাধিক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধ দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে।

এফবিসিসিআইর নতুন প্রশাসক ফজলুল হক, ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের নির্দেশ

দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর (এফবিসিসিআই) নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. ফজলুল হক। তাকে আগামী ১২০ দিনের মধ্যে এফবিসিসিআইর নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-১ শাখা থেকে জারি করা অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। রোববার (২ আগস্ট) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

আদেশে বলা হয়েছে, এফবিসিসিআইর কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংগঠনটি ‘বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২’, ‘বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ২০২৫’, ‘কোম্পানি আইন, ১৯৯৪’ এবং সংগঠনের সংঘস্মারক ও সংঘবিধি অনুযায়ী পরিচালিত হবে। দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের স্বার্থে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ১৭ ধারার আওতায় সরকারি অনুমোদনক্রমে মো. ফজলুল হককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মো. ফজলুল হক এর আগে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান এফবিসিসিআইর প্রশাসক ছিলেন। গত ২৭ জুন তাকে ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

নতুন প্রশাসক হিসেবে মো. ফজলুল হককে নির্ধারিত ১২০ দিনের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর এবং সে বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

Image

নর্দান এডুকেশন গ্রুপ ও প্রাসাদ গ্রুপের সিইও হলেন সৈয়দ আলমগীর

দেশের কর্পোরেট ও দ্রুত বিক্রিত ভোগ্যপণ্য (এফএমসিজি) খাতের অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী নির্বাহী সৈয়দ আলমগীর নর্দান এডুকেশন গ্রুপ ও প্রাসাদ গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

প্রায় পাঁচ দশকের কর্মজীবনে বিপণন, ব্র্যান্ড ব্যবস্থাপনা এবং কর্পোরেট নেতৃত্বে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি সুপরিচিত। বিশেষ করে এফএমসিজি খাতে ‘হালাল’ ধারণাকে কার্যকর বিপণন কৌশল হিসেবে প্রতিষ্ঠায় তিনি পথিকৃৎ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।

সৈয়দ আলমগীরের উদ্ভাবনী বিপণন কৌশল বিশ্বখ্যাত বিপণন বিশেষজ্ঞ ফিলিপ কোটলার-এর গ্রন্থ প্রিন্সিপালস অব মার্কেটিং-এ কেস স্টাডি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০১৯ সালে তিনি বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম থেকে ‘দ্য মার্কেটিং সুপারস্টার’ সম্মাননা লাভ করেন।

১৯৭৬ সালে ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করার পর তিনি মে অ্যান্ড বেকার (বর্তমানে সানোফি)-এ কর্মজীবন শুরু করেন। পরে যমুনা গ্রুপে ‘অ্যারোমেটিক’ সাবান ও ‘পেগাসাস’ জুতার ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

পরবর্তীতে তিনি এসিআই লিমিটেডে নির্বাহী পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে এসিআই সল্ট, পিওরসহ ১৭টি নতুন ব্র্যান্ড বাজারে আসে, যা প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভূমিকা রাখে।

পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সালমা আলমগীরের স্বামী এবং তিন কন্যাসন্তানের জনক।

যুক্তরাষ্ট্রের ২০ শতাংশ শুল্ক বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিদায়ক: বিজিএমইএ সভাপতি

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করাকে স্বস্তিদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

শুক্রবার (১ আগস্ট) এক প্রতিক্রিয়ায় মাহমুদ হাসান খান বলেন, গত তিন মাস ধরে পাল্টা শুল্ক নিয়ে ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছিল এবং মার্কিন ক্রেতারাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর।

তিনি বলেন, শুরু থেকেই বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ওপর বেশি শুল্ক আরোপ করা হলে রপ্তানি ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্তমানে পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের শুল্ক ১ শতাংশ বেশি হলেও ভারতের তুলনায় ৫ শতাংশ এবং চীনের তুলনায় ১০ শতাংশ কম। ফলে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

তবে বাড়তি শুল্কের কারণে স্বল্পমেয়াদে ব্যবসায় কিছুটা চাপ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন বিজিএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, অতিরিক্ত শুল্কের অর্থ পরিশোধ করতে হবে মার্কিন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এতে তাদের মূলধনের ওপর চাপ বাড়তে পারে এবং পর্যাপ্ত অর্থায়নের ব্যবস্থা না হলে তারা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, শুল্কের প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়েই গিয়ে পড়ে। আমদানিকারকদের বাড়তি ব্যয় পণ্যের দামে যুক্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের ওপর তার প্রভাব পড়বে, যা বিক্রি কমিয়ে দিতে পারে।

মাহমুদ হাসান খান জানান, গত এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসন সব দেশের পণ্যের ওপর ন্যূনতম ১০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কার্যকর করার পর অনেক মার্কিন ক্রেতা সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের একটি অংশ সরবরাহকারীদের বহন করতে চাপ দিয়েছিল। তবে এবার বিজিএমইএর সদস্যদের প্রতি তার আহ্বান, নতুন এই ২০ শতাংশ শুল্কের দায় যেন কোনোভাবেই বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের ওপর না চাপানো হয়। তার ভাষায়, এই অতিরিক্ত শুল্ক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত তা মার্কিন ভোক্তার কাছ থেকেই আদায় হবে।

আরও খবর নিয়ে

লোড হচ্ছে...