
সিনেমায় নতুন মুখ আসছে রাদিফা ও আসছে আরিয়ান
একজনের নাম রাদিফা। অন্যজনের নাম আরিয়ান। রাদিফা নারমিন ও আরিয়ান সারোয়ার। আমাদের চলচ্চিত্র পরিবারের নতুন সদস্য। হঠাৎ বৃষ্টির কথা নিশ্চয়ই মনে আছে সবার। ২৭ বছর আগের কথা.......
অভিনয়ে টিকতে না পারলেও খোদ ঢাকা শহরে রয়েছে অনেকের কোটি টাকা দামের ফ্ল্যাট আর দামি গাড়িসহ নানা বিত্তবৈভব। একই সঙ্গে ঘন ঘন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাঁদের ট্যুরে যেতেও দেখা যায়। এক্ষেত্রে সব শ্রেণির মানুষের প্রশ্ন হচ্ছে, ‘হাতে কাজ নেই কিন্তু তাঁদের এত বড় আয়ের উৎস কী?’
নব্বই দশকে চলচ্চিত্রে আসা অভিনেত্রী মৌসুমী, পূর্ণিমা, শাবনূর, পপির পর একমাত্র জয়া আহসান ছাড়া আর কেউ তেমনভাবে সফল হতে পারেননি। অপু বিশ্বাস ও বুবলী বলতে গেলে শাকিব খানের নায়িকা হিসেবে শাকিব খানের ওপর ভর করেই বেশ কিছু দিন ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে ছিলেন। শাকিবের পর অন্য কোনো নায়কের সঙ্গে বা আর কোনো চলচ্চিত্রে তাঁরা আর আগের মতো দর্শক মাত করতে পারেননি। এরপর আরও একঝাঁক নায়িকা এসেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রে। যেমন মাহিয়া মাহি, ববি, আইরিন সুলতানা, নুসরাত ফারিয়া ও পরীমণি দর্শকদের কাছে পরিচিত থাকলেও সুবিধা করতে পারছেন না। অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ ও সংশয়। চাহিদার চেয়েও বেশি সম্মানি হাঁকা, শিডিউল ফাঁসানোসহ নানা কারণে গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছেন নির্মাতাদের কাছে। অনেকে আবার কাজের চেয়ে সহজেই অর্থবিত্ত আর খ্যাতির পেছনে ছুটতে গিয়ে শুরুতেই চলচ্চিত্র থেকে ছিটকে পড়েছেন কিংবা অন্য কোনো উপায়ে রুটি রুজির ব্যবস্থা করেছেন।
এক্ষেত্রে কিছু নতুন নায়িকা রয়েছেন যাঁরা মাত্র দুই একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, পরে দর্শক গ্রহণযোগ্যতার অভাবে আর অভিনয়ে টিকতে না পারলেও খোদ ঢাকা শহরে রয়েছে অনেকের কয়েক কোটি টাকার ফ্ল¬্যাট আর দামি গাড়িসহ নানা বিত্তবৈভব। একই সঙ্গে ঘন ঘন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেককে ট্যুরে যেতেও দেখা যায়। এক্ষেত্রে সব শ্রেণির মানুষের প্রশ্ন হচ্ছে, ‘হাতে কাজ নেই কিন্তু তাদের এত বড় আয়ের উৎস কী?’ চলচ্চিত্রের মানুষ বলছেন, ‘এই আলোচনায় না যাওয়াই ভালো, কারণ তাহলে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসবে। এতে চলচ্চিত্র শিল্পের গায়েই কালি লাগবে। তবে এর অনুমান সবাই কম বেশি করতে পারছেন।’
এদিকে কিছু নায়িকা আবার ইমেজ সংকটে পড়ে শখের চলচ্চিত্র ছেড়ে পাড়ি জমাচ্ছেন বিদেশের মাটিতে। কেউ কেউ আবার বিয়ে করে রীতিমতো সংসারে মনোযোগী হয়েছেন। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, দুবাইসহ অনেকেই স্থায়ী হয়েছেন নানা দেশে। ব্যক্তিগত গুজব-গুঞ্জন, বিয়ে-বিচ্ছেদসহ আরও অনেক অনৈতিক কারণে নতুন নায়িকাদের অনেকে ইমেজ হারাচ্ছেন, ভুগছেন অস্তিত্ব সংকটে। সিনেমা সংশ্লিষ্টদের মতে, গুটিকয়েক নায়িকা বর্তমানে সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। বাকিদের কোনো কাজ নেই। আলোচনায় থাকতে ও ভাইরাল হতে ব্যক্তিগত নানাবিধ বিতর্কিত ইস্যু সামনে নিয়ে আসছেন বারবার। নুসরাত ফারিয়ার সর্বশেষ সিনেমা ‘জ্বীন-৩’ মুক্তির এক সপ্তাহ পরই সিনেমাটি সিনেপ্লেক্স থেকে নামিয়ে ফেলা হয়। এতে ব্যর্থ নায়িকার তালিকায় জুড়ে যায় এ নায়িকার নামও। ‘অগ্নি’খ্যাত নায়িকা মাহিয়া মাহি ক্যারিয়ারে ৩০টির অধিক সিনেমায় অভিনয় করলেও বর্তমানে বেকার সময় পার করছেন। একসময় হঠাৎ করেই সিনেমা ছেড়ে রাজনীতির মাঠে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন তিনি। পতিত আওয়ামী লীগের হয়ে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু নৌকার টিকিট না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হয়নি তাঁর। পরাজয় নিয়েই রাজনীতির মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। যদিও আবার সিনেমায় ফেরার চেষ্টা করছেন এ নায়িকা। কিন্তু আগের মতো আর সুবিধা করতে পারছেন না। দর্শকচাহিদা কমায় পাচ্ছেন না সিনেমার কাজ। তাঁকে সবশেষ ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত শাকিবের ‘রাজকুমার’ সিনেমায় ক্যামিও চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে। এরপর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র থাকার কারণে মাহি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এখন আশ্রয় নিয়েছেন ভারতে।
বেশ কয়েক বছর ধরে চলচ্চিত্রে যুক্ত রয়েছেন সুন্দরী পরীমণি। আলোচনার চেয়ে সমালোচনা বেশি হয় তাঁকে নিয়ে। অভিনয়ের চেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন ব্যক্তিজীবন নিয়ে। প্রেম-বিয়ে, মামলা-হামলাসহ একাধিক কর্মকা-ে জড়ান এ নায়িকা। সিনেমায় এখন তাঁর ব্যস্ততা নেই বললেই চলে। কারণ, সিনেমায় দেখার চেয়ে, দর্শক এখন তাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখতে বেশি অভ্যস্ত। নানা ইস্যুতে বিতর্কের জন্ম দিয়ে বরাবরই আলোচনায় থাকেন। অথচ ওপার বাংলার একটি সিনেমাতেও একসময় অভিনয় করেছিলেন তিনি।
নির্মাতাদের মতে, তাঁর মধ্যে যোগ্য নায়িকা হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু অভিনয়ে মনোযোগ না দিয়ে বিতর্কিত বিষয়ে গা ভাসানোর ফলে নির্মাতারা তাঁকে নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। পরীর মতো একই অবস্থা বিদ্যা সিনহা মিমের। কলকাতার নায়কের বিপরীতে অভিনয় করলেও নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারছেন না এই নায়িকা।
এ ছাড়া তমা মির্জা, জাকিয়া বারি মম, আইরিন সুলতানা, অধরা খান, শিরিন শিলা, মিষ্টি জান্নাত, পিয়া জান্নাতসহ আরও অনেক নায়িকার বেশ কয়েক বছর আগে অভিষেক হলেও দর্শক আস্থা অর্জন করতে পারেননি। তবে নিজেকে নায়িকা হিসেবে প্রমাণ করার প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন পূজা চেরী।
ব্যর্থ নতুন নায়িকার তালিকায় রয়েছে দীঘির নামও। এখন পর্যন্ত নায়িকা হিসেবে কোনো ছবিই আলোচনায় আসেনি তাঁর। টিকটক ও নানা সমালোচিত কাজে জড়িয়ে নির্মাতা ও দর্শক আস্থা হারিয়েছেন দীঘি।
এ ছাড়া জাহারা মিতু নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার আগেই ঝরে গেছেন নানা কারণে। তালিকায় আরও অনেকেই রয়েছেন। নায়িকা নিপুণও পড়েছেন অস্তিত্ব সংকটে। বিশেষ করে জুলাই-আগস্ট আন্দোলন-পরবর্তী তাঁর সামাজিক অবস্থান এখন বলা যায় শূন্যের কোঠায়।
সাধারণ দর্শক ও চলচ্চিত্র মানুষের প্রশ্ন- ‘নতুন নায়িকাদের যদি অভিনয়ের প্রতি মন না থাকে, অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে অর্থবিত্তের মালিক হতে চান, তাহলে চলচ্চিত্র জগতে কেন তাদের আসা? চলচ্চিত্রকে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে ভিন্নপথে টাকা কামানোই কি তাদের উদ্দেশ্য।’

ভালোবাসলাম কাকে? আমি গেলাম কোথায়?
শাকিব খান
শাকিব খানের ব্যক্তিজীবন নিয়ে সাধারণত আলোচনায় আসে চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীর নাম। কিন্তু এই দুই সম্পর্কের বাইরেও তাঁর জীবনে ছিল আরেকটি গভীর ভালোবাসা, যার কথা এত দিন প্রকাশ্যে খুব একটা শোনা যায়নি। এবার এসবের বাইরে গিয়ে শাকিব শোনালেন তাঁর জীবনের প্রথম প্রেমের গল্প। চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার সঙ্গে ‘চাঁদ তারার গুঞ্জরন’ অনুষ্ঠানে খোলামেলা আলাপে উঠে এল সেই অজানা ভালোবাসার গল্প, যা এত দিন জানতেন কেবল তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহকর্মী।
২৪ জুলাই রাতে চ্যানেল আইয়ে ‘চাঁদ তারার গুঞ্জরন’ অনুষ্ঠানে চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার মুখোমুখি হয়ে জীবনের সেই প্রথম প্রেমের গল্পই শোনালেন শাকিব খান।
কথা বলার একপর্যায়ে পূর্ণিমা পুরোনো স্মৃতি টেনে বলেন, ‘একজনের সঙ্গে কঠিন প্রেম ছিল তোমার।’ কিছুটা বিস্ময় নিয়ে শাকিব জিজ্ঞেস করেন, ‘কঠিন প্রেম ছিল?’ তখন পূর্ণিমা জানান, মেয়েটি মিডিয়ার বাইরের মানুষ, গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন। সেই সময় শাকিবের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধু ও সহকর্মীও বিষয়টি জানতেন। এরপর শাকিব নিজেই সেই সম্পর্কের কথা অকপটে জানালেন। এমনকি সেই সম্পর্কটায় জীবনের পরবর্তী সময় কাটাবেন, এমনটাও তখন ভেবে রেখেছিলেন, তাই জানালেন।
শাকিব বলেন, ‘মনে মনে আমি তাকেই বিয়ে করতে চেয়েছিলাম। ওর পরিবার খুব ভালো, বনেদি পরিবার। দেখতে খুব সুন্দর ছিল। আমাকেও অনেক ভালোবাসত, আমিও।’
জানা যায়, অভিনয়জীবনের কয়েক বছর পরে সেই মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে শাকিব খানের। মেয়েটির পরিবার ছিল গুলশানের প্রতিষ্ঠিত ও উচ্চশিক্ষিত পরিবার। সম্পর্কও ভালোভাবেই এগোচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নানা অভিমান আর পরিস্থিতির কারণে তা পরিণতি পায়নি।
প্রথম প্রেমের কথা বলতে গিয়ে কিছুটা আবেগপ্রবণ হন শাকিব। শাকিব বলেন, ‘আমি ওখানেই সেটেল্ড হতে চেয়েছিলাম। মাঝে মাঝে একা বসে থাকলে ভাবি, আমি যেতে চাইলাম কোথায়? আমি কার সঙ্গে থাকতে চাইলাম, ভালোবাসলাম কাকে, আর আমি গেলাম কোথায়? কীভাবে ঘটনাটা ঘটল, আমি নিজেও বুঝতে পারিনি।’
পূর্ণিমা তখন যোগ করেন, ‘খুবই সুন্দরী ছিল কিন্তু।’ প্রথম প্রেমকে এখনো মিস করেন কি না-এমন প্রশ্নে শাকিবের জবাব, ‘হ্যাঁ, মিস করি। তবে এখন আর কোনো যোগাযোগ নেই, করতেও চাই না। তবে প্রায়ই তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে যাতায়াত হয়।’ পূর্ণিমা জানতে চান, ‘এখনো যদি সে সিঙ্গেল থাকে, সুযোগটা কাজে লাগাবে?’ শাকিব বলেন, ‘জানি না, থাকতেও পারে। তবে সে আরও ভালো কিছু ডিজার্ভ করে।’
প্রথম প্রেম ভেঙে যাওয়ার জন্য কোনো অনুশোচনা আছে কি না-এমন প্রশ্নেও অকপটে তিনি বলেন, ‘বেশি ভালোবাসা থাকলে ছোট ছোট বিষয় নিয়েও অভিমান হয়। ভালোবাসাটা বেশি ছিল বলেই হয়তো কী থেকে কী হয়ে গেল, আমি নিজেও বুঝতে পারিনি। এটা নিয়ে সত্যিই আমার অনুশোচনা হয়।’
প্রেম, প্রেমের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে শেষে ভাগ্যের প্রসঙ্গ টানলেন শাকিব খান। বললেন, ‘আমরা অনেকেই ভাগ্যে বিশ্বাস করতে চাই না। কিন্তু জীবনে কিছু ঘটনা ঘটে, তখন মনে হয়-কিছু বিষয় আল্লাহ তাঁর হাতেই রেখে দিয়েছেন।’

এখনও উত্তম সবার প্রিয়
বছরের পর বছর, বাংলা সিনেমার দুনিয়ায় নায়ক অনেকেই হয়েছেন, সুপারস্টারও এসেছেন অনেক। কিন্তু ‘মহানায়ক’ উপাধিটি আজও যেন একাই বহন করেন উত্তমকুমার। কারণ, তাঁর জনপ্রিয়তা শুধু বক্স অফিসে সীমাবদ্ধ ছিল না; তা ছড়িয়ে পড়েছিল বাঙালির জীবন, ভাষা ও সংস্কৃতিতে। মৃত্যুর চার দশকের বেশি সময় পরও তাঁর সিনেমা নতুন দর্শক আবিষ্কার করে, অভিনয় নিয়ে গবেষণা হয়, আর মৃত্যুবার্ষিকী এলেই দুই বাংলায় ফিরে আসে তাঁকে ঘিরে আবেগ।
গতকাল ২৪ জুলাই মহানায়ক উত্তমকুমারের মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ভক্ত, শিল্পী ও সংস্কৃতিজনেরা। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজন করেছে স্মরণসভা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা। সারা দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দিনভর চলেছে তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণা। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু উত্তমকুমারের জাদু আজও ফুরায়নি।
১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর উত্তর কলকাতার আহিরীটোলায় জন্ম তাঁর। জন্মনাম অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়। সংসারের টানাপোড়েনের কারণে কলেজজীবন শেষ করতে পারেননি। জীবিকার জন্য যোগ দেন পোর্ট কমিশনার্স অফিসে সাধারণ কেরানির চাকরিতে। কিন্তু চাকরির পাশাপাশি অভিনয়ের স্বপ্নকে কখনো বিসর্জন দেননি। ছোটবেলা থেকেই থিয়েটার ও যাত্রার প্রতি ছিল তাঁর প্রবল আকর্ষণ। স্কুলের নাটক থেকে শুরু করে থিয়েটারের মহড়া-সবখানেই ছিল তাঁর নিয়মিত যাতায়াত। সেই ভালোবাসাই একদিন তাঁকে নিয়ে যায় রুপালি পর্দায়।
১৯৪৭ সালে প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ পান ‘মায়াডোর’ ছবিতে। কিন্তু ছবিটি মুক্তিই পায়নি। এরপর ‘দৃষ্টিদান’, ‘কামনা, ‘মর্যাদা’, ‘সহযাত্রী’, ‘নষ্টনীড়’, ‘সঞ্জীবনী’ ও ‘কার পাপে’-একের পর এক ছবি ব্যর্থ হয়। বারবার ব্যর্থতার কারণে স্টুডিওপাড়ায় তাঁকে নিয়ে বিদ্রুপ করা হতো। কেউ কেউ ডাকত ‘ফ্লপ মাস্টার জেনারেল’ বলে। অনেকেই ভেবেছিলেন, এই তরুণের অভিনয়জীবন হয়তো আর এগোবে না। কিন্তু তিনি থামেননি। প্রতিটি ব্যর্থতা তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে।
এই কঠিন সময়েই তাঁর ওপর আস্থা রাখেন অভিনেতা পাহাড়ী সান্যাল। নির্মাতা নির্মল দে নতুন ছবি ‘বসু পরিবার’-এর নায়ক খুঁজছিলেন। তখন পাহাড়ী সান্যালই উত্তমকুমারের নাম প্রস্তাব করেন। নির্মাতা প্রথমে আপত্তি জানালেও পাহাড়ী সান্যাল তাঁকে আশ্বস্ত করেন। শুধু তা-ই নয়, অরুণ কুমারের বদলে ‘উত্তম’ নামটি ব্যবহারের পরামর্শও দেন।
সেই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় বাংলা সিনেমার ইতিহাস। ‘বসু পরিবার’ সফল হয়, আর ১৯৫৩ সালে সুচিত্রা সেনকে নিয়ে মুক্তি পাওয়া ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ তাঁকে পৌঁছে দেয় জনপ্রিয়তার শিখরে। জন্ম নেয় বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটিগুলোর একটি। নায়ক উত্তমকুমার হয়ে ওঠেন মহানায়ক উত্তমকুমার।
এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। তিন দশকের অভিনয় জীবনে তিনি অভিনয় করেছেন প্রায় ২০০টির বেশি চলচ্চিত্রে। অভিনেতার পাশাপাশি ছিলেন পরিচালক, প্রযোজক ও সুরকার। সুচিত্রা সেনের সঙ্গে ২৯টি এবং সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে সর্বাধিক ৩২টি ছবিতে অভিনয় করেন। ‘হারানো সুর’, ‘সপ্তপদী’, ‘নায়ক’, ‘চিড়িয়াখানা’, ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’, ‘গৃহদাহ’, ‘অমানুষ’ ও ‘আনন্দ আশ্রম’সহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় আজও বাংলা সিনেমার মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
তাঁর অভিনয়ের শক্তি ছিল স্বাভাবিকতায়। সংলাপ বলার ধরন, চোখের ভাষা, হাসি, নীরবতা-সবকিছুই ছিল এতটাই সহজ যে দর্শক চরিত্রটিকেই সত্যি বলে বিশ্বাস করতেন। এ কারণেই তিনি শুধু তাঁর সময়ের দর্শকের নন, আজকের প্রজন্মের কাছেও সমান প্রাসঙ্গিক। সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন, তাঁর মতো তারকা আর হবে না। সুচিত্রা সেনের মতে, তিনি ছিলেন অসাধারণ শিল্পী, যদিও তাঁর প্রতিভার পুরোটা ব্যবহার করা হয়নি। আর নিজের অভিনয়দর্শন সম্পর্কে উত্তমকুমার বলেছিলেন, তিনি কখনো সাজানো বা কৃত্রিম অভিনয়ে বিশ্বাস করতেন না; মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকেই চরিত্রকে তুলে ধরতে চাইতেন।
তাই আজও তাঁর জাদু ফুরায় না। কারণ, তিনি শুধু একজন সফল নায়ক নন, তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের অভিনয়ভাষাই বদলে দিয়েছিলেন। তাঁর সিনেমা এখনো টেলিভিশনে প্রচারিত হয়, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নতুন দর্শক খুঁজে পায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সংলাপ ও দৃশ্য নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। মৃত্যুবার্ষিকী এলেই তাঁকে ঘিরে আলোচনা প্রমাণ করে উত্তমকুমার কোনো নির্দিষ্ট সময়ের নায়ক নন; তিনি বাংলা সিনেমার এক চিরন্তন উত্তরাধিকার।
১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে কলকাতায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন উত্তমকুমার। কিন্তু তাঁর প্রস্থান তাঁকে মানুষের মন থেকে মুছে দিতে পারেনি। কেওড়াতলায় দিনব্যাপী শ্রদ্ধাঞ্জলি, দুই বাংলার মানুষের ভালোবাসা আর নতুন প্রজন্মের আগ্রহ যেন আবারও মনে করিয়ে দেয়-মহানায়ক উত্তমকুমারের কোনো সমাপ্তি নেই। তিনি বেঁচে আছেন তাঁর কালজয়ী সৃষ্টি আর কোটি দর্শকের হৃদয়ে।
টিভি
ইয়াস রোহানও বুলিং এর শিকার হয়েছিলেন
টেলিভিশন, বড় পর্দা ও ওটিটি-তিন মাধ্যমেই নিজের অভিনয়দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন ইয়াশ রোহান। তবে অভিনয়জীবনের সফলতার আড়ালে লুকিয়ে আছে তাঁর স্কুলজীবনের এক কষ্টকর অধ্যায়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শৈশবের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন এই অভিনেতা।
একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানে ইয়াশ রোহান বলেন, ‘আমার স্কুল লাইফ ওয়াজ ভেরি ব্যাড। আমার স্কুল লাইফ ওয়াজ ভেরি ট্রমাটিক বলব। কারণ, আমি আমার স্কুলের ওই ছেলেটা ছিলাম, যে সবার থেকে হয়তো একটু খাটো ছিলাম, যে হয়তো চেহারার দিক দিয়ে অন্যদের থেকে অপরিণত ছিল দেখতে। একদম ছোটবেলা থেকেই আমাকে প্রচুর পরিমাণ বুলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে।’
কেন তাঁকে বুলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর আজও জানেন না ইয়াশ। তাঁর মতে, বুলিংয়ের পেছনে সব সময় নির্দিষ্ট কোনো কারণ থাকে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বুলিং ব্যাপারটা এমন একটা জিনিস, কাকে কেন বুলি করা হয়, এটার কোনো কারণ থাকে না। কিন্তু আমি নিয়মিতই আমার স্কুলে, ক্লাসে বুলিংয়ের শিকার হতাম।’
ইয়াশ রোহান জানান, এখন বুলিং নিয়ে সমাজে আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতনতা তৈরি হয়েছে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগও দেখা যায়। কিন্তু তিনি যখন স্কুলে পড়তেন, তখন পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইয়াশ বলেন, ‘এখন যেমন বুলিং নিয়ে অনেক সচেতনতা তৈরি হয়েছে, অনেক কথাবার্তা হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এ ব্যাপারে কঠোর, বিভিন্ন স্কুলও-তবে সব স্কুলে যে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, তা নয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জোর দিয়ে এটা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আমাদের স্কুলে তখনো বুলিং নিয়ে কোনো সচেতনতা ছিল না। তখন এটাকে যে বুলিং বলে, সেটাই বুঝতাম না, জানতাম না।’
সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আজও ইয়াশ রোহানকে তাড়িয়ে বেড়ায়। স্কুলজীবনের স্মৃতি মনে করতে গিয়ে ইয়াশ বলেন, ‘আমি স্কুলে অনেক নির্যাতিত হয়েছি। আমার স্কুলজীবন ছিল খুবই ভয়ংকর। সবাই স্কুলের কথা বলে, অনেক স্মৃতি থাকে। কিন্তু আমার স্কুলজীবনের ভালো কোনো স্মৃতি নেই।’
টেলিভিশন নাটক দিয়ে অভিনয়ের যাত্রা শুরু করা ইয়াশ রোহান বড় পর্দায় অভিষেক করেন ‘স্বপ্নজাল’ সিনেমার মাধ্যমে। পরে ‘পরাণ’সহ একাধিক সিনেমা, নাটক ও ওয়েব কনটেন্টে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। কিন্তু অভিনয়ে সাফল্য পেলেও স্কুলজীবনের সেই বুলিংয়ের স্মৃতি আজও তাঁর জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে।
ইয়াশ রোহানের বাবা নরেশ ভূইঁয়া ও মা শিল্পী সরকার অপু-তাঁরা দুজনও কয়েক দশক ধরে অভিনয় করছেন।
না ফেরার দেশে মুস্তাফিজুর রহমান
প্রখ্যাত টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব, নির্মাতা ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক মহাপরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান এখন না ফেরার দেশেল বাসিন্দা। মুস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) স্বর্ণালি সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতা ও প্রযোজক ছিলেন। তাঁর প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে বাংলা টেলিভিশনের কালজয়ী বহু নাটক। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর প্রয়াণে লিখেছেন অভিনেতা, নাট্যকর মামুনুর রশীদ
জগৎটাই বোধ হয় এ রকম। একসময় যাঁর সঙ্গে দিনরাত কথা হতো, দিন পেরিয়ে রাত হতো, এর মধ্যেই লেখালেখি, আহার, আড্ডা সব একাকার। সে সময়ের বড় বড় সৃজনের কাজও হয়ে যেত। সেই মুস্তাফিজ ভাইয়ের সরকারি বা নিজের বাড়িতে আমরা যেতাম। বড় খুঁতখুঁতে মানুষ তিনি। গল্প থেকে সংলাপ, তারপর অভিনয়-সবটাতেই খুঁতখুঁতে। মনমতো না হলে বারবার। এমনকি শুটিং শেষ হওয়ার পর দেখা গেল, পুরোটা বাদ দিয়ে আবার শুরু। আমি, হুমায়ূন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলন এবং আরও অনেকেই যেতাম। সেই সব যাতায়াত আর আড্ডার ফসলই হচ্ছে আমার ধারাবাহিক ‘সময়-অসময়’, টেলিফিল্ম ‘একটি সেতুর গল্প’, সাম্প্রতিক ‘স্বপ্নের শহর’ এবং হুমায়ূনের ‘এইসব দিনরাত্রি’। চলচ্চিত্র ‘শঙ্খনীল কারাগার’সহ লেখকের অনেক নাটক।
তখন একটিই টেলিভিশন কেন্দ্র। প্রযোজকদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। অবশ্যই সৃজনশীলতার। অনেক অভিনেতার জন্ম হচ্ছে; লেখকেরও। টেলিভিশনের স্বর্ণযুগের প্রযোজক ও ¯্রষ্টা মুস্তাফিজুর রহমান। দীর্ঘদেহী, ধীরস্থির, সততার প্রতিনিধি হিসেবে বড় বড় দায়িত্বও পালন করেছেন পাবলিক ও প্রাইভেট টেলিভিশনে। তাঁর স্ত্রী রওশন আরা মুস্তাফিজ প্রখ্যাত গায়িকা-এক অন্তহীন প্রেরণা, দুই পুত্রও শিল্পী।
মোস্তাফিজুর রহমানÑসফল টিভি প্রযোজক
ফরিদুর রেজা সাগর
বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রথম দিকে যে কয়জন প্রযোজক ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান তাদের ভেতর অন্যতম একজন। প্রথম জীবনে তিনি চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন সহকারী পরিচালক হিসেবে। আমার বাবা ফজলুল হকের সঙ্গেও তিনি কাজ করেছেন। সেই সুবাদে তার সঙ্গে আমার পরিচয় অনেকদিনের। প্রথম দিকে তিনি আগ্রহী ছিলেন প্রোডাকশন এবং অনুষ্ঠান প্রযোজনার প্রতি। যার কারণে চলচ্চিত্র থেকে টেলিভিশনে তার যাত্রা শুরু। মোস্তাফিজুর রহমান প্রচন্ড আড্ডাপ্রেমী ছিলেন। তার চারপাশে বন্ধুদের ভিড় লেগে থাকতো। সবার সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে তিনি অনেক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করে ফেলতেন। নানারকম অনুষ্ঠানের। আমি অনেককে দেখতাম একটি অনুষ্ঠান নিয়ে কত পরিকল্পনা করতেন সেখানে মোস্তাফিজুর রহমান আড্ডা দিতে দিতে কত অনুষ্ঠান শেষ করে দিতেন। এটাই ছিল মোস্তাফিজুর রহমানের গুণ। এমনিভাবে মোস্তাফিজুর রহমান প্রচুর অনুষ্ঠান করেছেন। জনপ্রিয় নাটক তৈরি করেছেন। মনে পড়ে আমজাদ হোসেনের প্রথম নাটক জব্বার আলী সহ অসংখ্য নাটকের প্রযোজকও ছিলেন তিনি। রফিকুল হক দাদুভাইয়ের লেখা নিথুয়া পাতার কান্না নাটকটিরও প্রযোজনাও করেছিলেন তিনি। সেই সময়ে টেলিভিশনে সপ্তাহে একটি নাটক প্রচারিত হতো। পরদিন সেই নাটক নিয়ে তুমুল আলোচনা হতো। তিনি সবসময় ভাবতেন কিভাবে দর্শকদের চমক দিবেন। আর নাটক নিয়ে যদি আলোচনা হয় তাহলে তিনি মধ্যমনিতে পরিণত হবেন।
তখন আউটডোর শুটিং খুব কঠিন ছিল প্রথম দিকে কোনো শব্দ যোগ দেয়া যেতো না। ডাবিং করে পরে শব্দ সংযোজন করা হতো। তবে তিনি কষ্ট করে হলেও আউটডোর শুটিংটা করতেন এবং দর্শকদের চমক উপহার দিতেন। আফজাল হোসেনের উপস্থাপনায় সেটি ছিল প্রথম ধারাবাহিক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা সহ নানান কাজ মোস্তাফিজুর রহমান শুনতেন এবং বলতেন করে দেখো না কি হয়। এই যে করে দেখানোর যে সুযোগটা আফজাল হোসেন নিতে পেরেছিলেন বলেই জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের তালিকায় ‘আপন প্রিয়’ স্থান করে নিয়েছে। আফজাল হোসেনের বহু নাটকের প্রযোজনাও করেছেন তিনি। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কথা আমি বলবোÑতিনি যেসব নাটক প্রযোজনা করতেন খুব নিখুঁতভাবে করতেন। নাটকে কোনো সংযোজন বিয়োজন করতে হলে তিনি সেটা করতেন না। অনেক শিল্পী কোনো চরিত্রের জন্য অনুরোধ করলে তিনি সেটা রাখতেন না। এজন্যই তার ঝুলিতে অনেক নাটক রয়েছে। তার শখ ছিল সিনেমা পরিচালনা করা সেটা তিনি পরিচালনা করেছিলেন শঙ্খনীল কারাগার। টেলিভিশনের প্রযোজক হয়েও তিনি চলচ্চিত্র পরিচালনা করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তার সহধর্মিণী রওশন আরা মোস্তাফিজ সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন। তিনি নজরুল সংগীতের একজন শিল্পী ছাড়াও সাংবাদিকতা করতেন। মোস্তাফিজুর রহমানের দুই ছেলে। বড় ছেলে অভি মোস্তাফিজ নাটকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি ভালো ভালো বেশকিছু নাটক লিখেছেন। এই নাটকগুলো প্রচারের জন্য বাবার কাছে যেতে হয়নি। টেলিভিশন কর্তৃপক্ষই উৎসাহ ভরে নাটকগুলো প্রচার করেছেন। আমরা সেই নাটকগুলো টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছি।
আমার যতদূর মনে পড়ে মাহবুব জামিল-এর উপস্থাপনায় অনুরোধের গানের আসর গীতি শতদল অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করতেন। এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এখন যিনি প্রকৃতি নিয়ে কাজ করছেন এবং স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন মুকিত মজুমদার বাবু। এই অনুষ্ঠানে নানারকম গান প্রচারিত হতো। একটি গানের ভেতর যে বৈচিত্র্য মোস্তাফিজুর রহমান আনতেন সেটায় দর্শকরা আনন্দ পেতেন। মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে অনেক কথা বলা যায়। বিশেষ করে সেই সময়ে যে এগারোজন প্রযোজক ছিলেন তাদের প্রত্যেককে নিয়ে যদি লেখা যায় তাহলে সেগুলো একেকটি গল্প হবে। সেই গল্প যদি আপনারা পড়েন তাহলে জানবেন তার সময়ের প্রযোজকরা কেমন ছিলেন। তাদের কাজে কত আন্তরিকতা ছিল। যেমন ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। তার সৃষ্টির প্রতি ছিলেন আন্তরিক। দর্শকদের কথা বিবেচনা করে অনুষ্ঠান তৈরি করতেন। দর্শকরা যেন ভালো অনুষ্ঠান দেকতে পারেন সেটাই ছিল তার এবং তার সময়ের প্রযোজকদের একমাত্র চিন্তা। তাদের মতো প্রযোজকরা ছিলেন বলেই দেশের বাইরে থেকেও দর্শকরা কষ্ট করে চেষ্টা করতেন বাংলাদেশ টেলিভিশন দেখার জন্য। আক্ষরিক অর্থেই বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান অনেক আকর্ষণীয় ছিল তখন। আর এটা সম্ভব হয়েছিল সে সময়ের সফল প্রযোজকদের কারণে।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবার পর্দায় অভিনয় করবেন
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবার নতুন পরিচয়ে হাজির হচ্ছেন। মাঠে গোল করার পাশাপাশি এবার তিনি যুক্ত হচ্ছেন টেলিভিশন সিরিজ নির্মাণে। শুধু প্রযোজকই নন, নতুন একটি ব্রিটিশ সিরিজে অভিনয়ও করবেন পর্তুগিজ এই ফুটবল কিংবদন্তি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ডে ওয়ানস’ নামে নির্মিতব্য সিরিজটির নির্বাহী প্রযোজক রোনালদো। এতে একটি বিশেষ ভূমিকায় তাঁকে পর্দায়ও দেখা যাবে।
ফুটবল এজেন্টের গল্প
‘ডে ওয়ানস’-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে কাল্পনিক ফুটবল এজেন্ট স্ট্যানলি ডালটনকে ঘিরে। চরিত্রটিতে অভিনয় করছেন হলিউড অভিনেতা ড্যামিয়ান লুইস, যিনি ‘হোমল্যান্ড’ ও ‘বিলিয়ানস’ সিরিজের জন্য পরিচিত।
সিরিজটির শুটিং ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। সম্প্রতি লন্ডনের উত্তর-পশ্চিমে বার্নেট এফসির মাঠে শুটিং করতে দেখা গেছে ড্যামিয়ান লুইসকে।
থাকছেন থিয়েরি অঁরিও
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোনালদোর পাশাপাশি সিরিজটিতে উপস্থিত থাকবেন ফরাসি কিংবদন্তি ফুটবলার থিয়েরি অঁরি। তাঁর বাস্তব জীবনের এজেন্ট ড্যারেন ডেইনের একটি ধারণা থেকেই সিরিজটির গল্পের সূচনা।
প্রযোজনা-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, এই সিরিজ নিয়ে বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে। কারণ, এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের তারকাখ্যাতি এবং নির্মাণ মান-দুই দিক থেকেই এটি একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প।
‘টেড ল্যাসো’ নয়, ভিন্ন ধরনের গল্প
সূত্রটির ভাষ্য, সাম্প্রতিক বিশ্বকাপের পর বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ ফুটবলকে ঘিরে আগ্রহ আরও বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ‘ডে ওয়ানস’ নির্মিত হচ্ছে।
তবে এটি জনপ্রিয় কমেডি সিরিজ ‘টেড ল্যাসো’-এর মতো নয়; বরং এটি মূলত একটি নাটকীয় গল্প, যেখানে হাস্যরসের কিছু উপাদান থাকলেও কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ফুটবল ব্যবসা, সম্পর্ক এবং ক্ষমতার রাজনীতি।
রোনালদোর নতুন স্টুডিও
‘ডে ওয়ানস’ নির্মাণ করছে ইউআর মার্ভ স্টুডিওস। চলতি বছরই এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন রোনালদো ও ব্রিটিশ পরিচালক ম্যাথিউ ভন। ‘কিংসম্যান’ ও ‘কিক-অ্যাস’-এর পরিচালক ভনের লক্ষ্য, প্রচলিত চলচ্চিত্র নির্মাণের ধারা বদলে নতুন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করা।
স্টুডিও ঘোষণার সময় ম্যাথিউ ভন বলেছিলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো মাঠে এমন সব গল্প সৃষ্টি করেছেন, যা আমি চাইলেও লিখতে পারতাম না। এবার তাঁর সঙ্গে অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প তৈরি করার অপেক্ষায় আছি।’
অন্যদিকে রোনালদো বলেছিলেন, ‘এটি আমার জীবনের নতুন ও রোমাঞ্চকর একটি অধ্যায়। ফুটবলের বাইরেও নতুন উদ্যোগ নিয়ে আমি আশাবাদী।’
ফুটবল থেকে বিনোদনের জগতে
৪১ বছর বয়সী রোনালদো বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরের অধিনায়ক। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি দুই দফায় ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলেছেন। মাঠে অসংখ্য সাফল্যের পর এবার বিনোদনজগতেও নিজের অবস্থান তৈরি করার পথে হাঁটছেন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই ফুটবলার।
‘ডে ওয়ানস’-এ আরও অভিনয় করবেন ব্রিটিশ র্যাপার ডেভ এবং নবাগত অভিনেত্রী কারলোত্তা বানাত। সিরিজটির মুক্তির তারিখ বা কোন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে এটি প্রকাশিত হবে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
আরও খবর নিয়ে
লোড হচ্ছে...

একজনের নাম রাদিফা। অন্যজনের নাম আরিয়ান। রাদিফা নারমিন ও আরিয়ান সারোয়ার। আমাদের চলচ্চিত্র পরিবারের নতুন সদস্য। হঠাৎ বৃষ্টির কথা নিশ্চয়ই মনে আছে সবার। ২৭ বছর আগের কথা.......

ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) আয়োজিত ‘চতুর্থ আইসিসি ইমার্জিং এশিয়া ব্যাংকিং কনক্লেভ অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ দুটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে পূবালী ব্যাংক পিএলসি। ‘বেস্ট ব্যাংক-বাংলাদেশ’....

গুণী মানুষের আত্মজীবনী প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের জন্য প্রেরণার বাতিঘর হিসেবে কাজ করে। ছাপা অক্ষরে আত্মজীবনী ও ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি আত্মজীবনীর মধ্যে অনেক পার্থক্য। ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দী আত্মজীবনী...

বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা হলেই পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু কিংবা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো সামনে আসে। কিন্তু জনস্বাস্থ্যের এই প্রচলিত আলোচনার বাইরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র রয়েছে,

অভিনেত্রী জয়া আহসান ও রুনা খানের ফটোশুট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা নতুন কিছু নয়। এবার এই বিষয়টি নিয়ে নিজের মতামত জানালেন অভিনেত্রী ফারজানা চুমকি.....

যুগটাই এখন চমক দেখানোর। যার যত চমক দেখানোর ক্ষমতা তার তত পরিচিতি। এক অর্থে চমকও এক ধরনের যোগ্যতা। সে কারণে অনেক জনপ্রিয় তারকাও তার অবস্থান ধরে ...

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস পালন উপলক্ষে চ্যানেল আই বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। হৃদয়ে লাল সবুজ বিজয়ের ৫৪ বছর শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে.............

৪০ মিনিটের নাটকে ৮০-এর অধিক বার ধূমপানের দৃশ্য দেখঅনো হয়েছে। এই ধরনের উদ্যোগ রাষ্ট্রীয় আইনের চরম লঙ্ঘন বলে দাবি করছেন ..............