
আইস্ক্রিনে আসছে ‘মিশন ডিডিএলজে’
‘আমরা যারা ৮০ সালে জন্মেছি, ৯০ দশকে বেড়ে উঠেছি, তাদের প্রেম বা ভালো লাগায় শাহরুখ খানের সিনেমার অনুপ্রেরণা থাকবেই।’ এমনটাই বললেন নির্মাতা আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক,,,,

খ্যাতির মোহ নয়, কাজটাই মন দিয়ে করতে চান শ্যামল মাওলা। প্রায় দেড় যুগের অভিনয়জীবনে তিনি বারবার নিজেকে নতুন করে গড়ার চেষ্টা করেছেন। টেলিভিশনে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেও যে স্বীকৃতি অধরা ছিল, ওটিটির বিস্তারে সেটিই যেন ধরা দিয়েছে তাঁর হাতে। তবে এই অর্জনকে শেষ গন্তব্য মনে করেন না তিনি। বরং প্রতিটি নতুন চরিত্রকে নিজের জন্য নতুন পরীক্ষা বলেই মনে করেন।
সম্প্রতি নাকে ছোট একটি অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছিল শ্যামল মাওলাকে। সে কারণে কয়েক দিন অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন। আবার কাজে ফিরছেন তিনি। প্রথমেই অংশ নেবেন একটি টার্কিশ সিরিজের বাংলা ডাবিংয়ে। এরপর শুরু করবেন নতুন একটি ওয়েব প্রজেক্টের শুটিং। তবে সেটি নিয়ে এখনই বিস্তারিত জানাতে রাজি নন তিনি।
অভিনয় জীবনের প্রায় দেড় যুগ পার করে পেছনে তাকালে কী দেখেন? হাসতে হাসতে শ্যামল বললেন, ভালো লাগে। আনন্দ করতে করতেই জীবনটা কাটালাম। এখনও জীবনকে উপভোগ করছি। যখন যেভাবেই ছিলাম না কেন, উপভোগ করেই কাজ করেছি। বয়স অনুযায়ী পারফরম্যান্স করে যাচ্ছি। একটা জার্নির মধ্য দিয়েই তো যাচ্ছি।
এই জার্নির শুরুটা কিন্তু অনেক আগে। বাবা ছিলেন থিয়েটারকর্মী। সেই সূত্রেই ছোটবেলা থেকে নাটকের পরিবেশে বেড়ে ওঠা। শিশু থিয়েটারে অভিনয়ের হাতেখড়ি, এরপর বড়দের নাট্যদলে নিয়মিত কাজ। মঞ্চের সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই টেলিভিশন নাটকে অভিষেক। এরপর এক যুগেরও বেশি সময় ছোট পর্দায় কাজ করেছেন। অসংখ্য নাটকে অভিনয় করলেও খুব বেশি আলোচিত চরিত্র তাঁর ভাগ্যে জোটেনি। কিন্তু একটি বিষয় নিয়ে কখনও প্রশ্ন ওঠেনি- নিজের কাজে তাঁর নিষ্ঠা ও পরিশ্রম।
ওটিটির আগমনের পরই যেন বদলে যেতে শুরু করে তাঁর ক্যারিয়ারের গতি। ২০১৮ সালে সৈয়দ আহমেদ শাওকীর থ্রিলার ড্রামা ‘ক্যাশ’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন যাত্রা শুরু করেন। এরপর তানিম নূর ও কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের ‘মানি হানি’ সিরিজ তাঁকে নতুনভাবে দর্শকের সামনে তুলে ধরে। একের পর এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে প্রমাণ করেছেন, নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে হাজির করার ক্ষমতা তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।
শ্যামল মাওলা বলেন, আমি যখন ওটিটিতে কাজ শুরু করি, তখন এই মাধ্যম এতটা জনপ্রিয় ছিল না। এখনকার মতো পরিচিতিও ছিল না। তবে এই মাধ্যম আমাকে ভালো কিছু নির্মাতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। নিজেকে প্রমাণ করার নতুন একটা জায়গা পেয়েছি। নিজেকে ভাঙার চেষ্টা ছিল সব সময়। জানি না কতটা পেরেছি, তবে চেষ্টা করেছি।
বর্তমানে ওটিটির নির্মাতাদের কাছে তিনি অন্যতম ভরসার নাম। নতুন কোনো সিরিজের পরিকল্পনায় তাঁর নামও চলে আসে আলোচনায়। কিন্তু কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো শর্টকাটে বিশ্বাস করেন না তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘পরিচালক, গল্প ও চরিত্র- এই তিনটি বিষয় সব সময় মাথায় রাখি। এই তিনটির সমন্বয় হলেই কাজ করতে আগ্রহী হই।’
ওটিটি ও সিনেমার ব্যস্ততায় যখন অনেক অভিনেতাই টেলিভিশন নাটক থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন, শ্যামল সেখানে ব্যতিক্রম। কারণ তাঁর কাছে মাধ্যম নয়, অভিনয়টাই আসল। তিনি বলেন, আমার কাছে অভিনয়ই মূল বিষয়, মাধ্যম নয়। ওয়েব, টিভি, থিয়েটার কিংবা রেডিও- যেখানেই অভিনয়ের সুযোগ পাই, যদি চরিত্রটি আমাকে টানে, আমি করতে চাই। প্ল্যাটফর্মের চেয়ে গল্প, চরিত্র আর সৃষ্টিশীলতাই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বড় পর্দাতেও ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করছেন শ্যামল। ২০২১ সালে তৌকীর আহমেদের ‘স্ফুলিঙ্গ’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তাঁর। পরে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ান। সম্প্রতি তিনি শেষ করেছেন রবিউল আলম রবির সুরাইয়া ওয়েব ফিল্মের শুটিং। শিবব্রত বর্মণের ছোটগল্প অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি। শহুরে জীবনের রুক্ষ বাস্তবতা ও মানবিক গল্পের মিশেলে নির্মিত রোমান্টিক ঘরানার ছবিটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেওয়ার পর দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতার।
পরিচালনায় আসার ইচ্ছা আছে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে শ্যামল বলেন, ‘এখনই পরিচালনা নিয়ে ভাবছি না। তবে ভবিষ্যতে হয়তো করব। দীর্ঘদিন অভিনয় করতে করতে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। সময়, পরিকল্পনা আর মানসিক প্রস্তুতি ঠিক হলে একদিন পরিচালনায় আসতে পারি। কিন্তু এখন পুরো মনোযোগ শুধু অভিনয়ে।’
বর্তমান সময়ের দর্শকদের রুচির পরিবর্তনও ইতিবাচকভাবে দেখেন তিনি। তাঁর মতে, ‘দর্শক এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা গল্প, অভিনয়, নির্মাণশৈলী-সবকিছু বিচার করে। তাদের প্রত্যাশা বেড়েছে। এই প্রত্যাশাই আমাদের আরও ভালো কাজ করতে উৎসাহ দেয়।
কাজের বাইরে শ্যামল মাওলা অবশ্য একেবারে অন্য মানুষ। শান্ত, নিরিবিলি জীবন তাঁর পছন্দ। খুব বেশি মিশুক নন; বরং নিজের সময়, নিজের পরিসর আর ব্যক্তিগত জীবনকে গুরুত্ব দেন।
ওটিটির সাফল্য, সিনেমার নতুন সম্ভাবনা কিংবা জনপ্রিয়তার আলো- সবকিছুর মধ্যেও শ্যামল মাওলার লক্ষ্য একই রয়ে গেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন অভিনেতার সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর কাজ। তাই খ্যাতির পেছনে ছোটা নয়, প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার মধ্যেই তিনি খুঁজে পান অভিনয়ের আসল আনন্দ।

ব্যক্তির নিজের কারণেও জীবন জটিল হয়
জাকিয়া বারী মম
নাটকের নাম ‘চাওয়া পাওয়া’। রাকেশ বসু পরিচালিত নতুন এই ধারাবাহিকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন লাক্স চ্যানেল আই তারকা জাকিয়া বারী মম। হঠাৎ করেই ঘোড়ার পিঠে দেখা গেল মমকে। এটা কি স্যুটিং এর দৃশ্য? মম নিজেই জানালেন সে কথা।
অনেকে ভেবেছেন, এটা শুটিংয়ের। আসলে তা নয়। কিছুদিন ধরে এআই নিয়ে নিরীক্ষা করছি। নিজেকে ঘোড়ার পিঠে দেখার একটা ফ্যান্টাসি ছিল। এআই দিয়ে তাই করেছি। ঘোড়ার নাম রেখেছি ‘শামস’। মজার বিষয় হচ্ছে, ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখতাম, আমার দুইটা ঘোড়া আছে। একটার পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি, আরেকটা অন্য একজনকে দিয়ে দিয়েছি।
সত্যিই যদি দুটো ঘোড়া পেয়ে যান... তাহলে কি করবেন?
প্রশ্ন শুনে জাকিয়া বারী মম বললেন, অবশ্যই আমি ঘোড়া দুটো পেলে পুষে রাখব। মাঝেমধ্যে ঘোড়ার পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়াব।
আচ্ছা, জীবনটা আপনার কাছে কী?
প্রশ্ন শুনে মম বললেন, জীবনটা সুন্দর। পরিবার, মা-বাবা, আমার সন্তান-সব ঠিক আছে। আমি ওদের সাথেও থাকি। আমার একা সময়ও থাকে। তবে আমি কখনো একা থাকিনি। আই অ্যাম অলওয়েজ ওয়াচড বাই অলমাইটি।
জীবনে মানুষ তো সঙ্গীর কথাও ভাবে...
এই প্রশ্নের জবাবে মম বললেন, আমিই আমার নিজের সেরা সঙ্গী। জীবন চলতে চলতে তো মানুষ শেখে। বই পড়েও শিখি, তবে সেটা আলাদা। আমি তো জীবন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। জীবন আমাকে নানা সময় নানা শিক্ষা দিয়েছে।
সবচেয়ে বড় শিক্ষাটা কী দিয়েছে?
প্রশ্ন শুনে মম বললেন, জীবন সিম্পল, জীবন সুন্দর-এটাকে কখনো জটিল করে তোলা উচিৎ নয়।
জীবন জটিল হয় কিসে?
প্রশ্ন শুনে মম একটু ভেবে নিয়ে বললেন, ব্যক্তির নিজের কারণেই জীবন জটিল হয়। আমাদের প্রত্যেকের মগজ তো একেকটা পৃথিবী। যার পৃথিবীতে ময়লা আবর্জনা থাকে, তার জীবন জটিল হবে। আর ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার থাকলে জীবন সুন্দর। শরীরে ডায়াবেটিস হবে, নাকি রক্তচাপ হবে-এগুলোর বেশির ভাগ নির্ভর করে খাদ্যাভ্যাসের ওপর। মগজ চলে-মগজকে কী খেতে দিলাম, কী দেখলাম, কী পড়লাম, কী বুঝলাম তা থেকে। আমি সব সময় টক্সিসিটিকে দূরে রাখতে চাই। কারণ, মুহূর্তটা এই মুহূর্তেই সত্যি।
তার মানে আপনি কী বর্তমানে বাঁচায় বিশ্বাসী?
মম বললেন, শুধু আমিই নই, মনীষীরাও বর্তমানে বাঁচার কথাই বলে গেছেন। বর্তমানে যদি বাঁচতে না পারি, পরমুহূর্তেই তা অতীত হয়ে যায়। আর ভবিষ্যৎ মানুষের জানার সাধ্যের বাইরে।
মানুষ তো অতীতের কথা মনে করে আফসোসও করে?
প্রশ্ন শুনে মম বললেন, কখনো অতীতের কথা মনে করে আফসোস করি না। অতীতের ভালো স্মৃতি আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আমি মনে করি, পৃথিবীতে কোনো কিছুই আনপেইড নয়। কাজই একমাত্র সত্য। সেই জায়গা থেকে বলব, খারাপ সময়টাও দরকার ভালো সময়ে উন্নীত হওয়ার জন্য। তাই খারাপ সময়টাকেও ধন্যবাদ জানাই। কারণ, ওটা না থাকলে ভালো সময়টার জন্য তৈরি হতে পারতাম না। অন্ধকার থাকে বলেই তো আলোর প্রয়োজন হয়, গুরুত্ব পায়।

বেশি আশা করিনি, তাই হতাশও হইনি
দুই বছর বিরতির পর আবার অভিনয়ে নিয়মিত হয়েছেন নাদিয়া আফরিন মিম। একক ও ধারাবাহিক নাটকের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনচিত্রেও কাজ করছেন তিনি। অভিনেত্রীর সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা হয়।
প্রশ্ন: আপনার নতুন নাটক ‘প্রেমে বরবাদ’ কেমন হলো?
নাদিয়া আফরিন মিম: ইউটিউবে রোমান্টিক নাটকগুলো বরাবরই ভালো চলে। এটাও ভালো ভিউ হচ্ছে। যে চ্যানেল থেকে নাটকটি এসেছে সেটি একদম নতুন। দর্শক নাটকটি ভালোই গ্রহণ করেছে।
প্রশ্ন: দর্শক ‘কাজিনস’ ধারাবাহিকটি পছন্দ করার কারণ কী?
নাদিয়া আফরিন মিম: টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ফ্যামিলি গল্প নিয়ে যে ধারাবাহিকগুলো হয় সেগুলো সব সময়ই দর্শক পছন্দ করে। ‘কাজিনস’ও ফ্যামিলি গল্প নিয়ে। পরিবারের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না নিয়েই পর্বগুলো এগিয়েছে। ফলে দর্শক ধরে রাখতে পেরেছে শুরু থেকে।
প্রশ্ন: মাঝখানে দুই বছর হঠাৎ করে আপনাকে পাওয়া যায়নি কেন?
নাদিয়া আফরিন মিম: একটু ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত ছিলাম। বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে একটা ব্যবসা দাঁড় করাতে চেয়েছি এই সময়টাতে। একটা কিছু হয়েছেও। এখন তাই একটু রিলাক্সড আছি। আবার অভিনয়ে ব্যস্ত হয়েছি।
প্রশ্ন: অভিনেতা জিয়াউল রোশানের সঙ্গে একটি বিজ্ঞাপন করেছেন...
নাদিয়া আফরিন মিম: হ্যাঁ। এটি বিআরবি ফ্যানের বিজ্ঞাপনচিত্র। শরাফ আহমেদ জীবন ভাই নির্মাণ করেছেন। দারুণ একটা কাজ হয়েছে। দর্শকের ভালো লাগবে।
প্রশ্ন: এ বছর শোবিজে এক যুগ হলো। দীর্ঘ এই যাত্রায় পাওয়া না পাওয়া নিয়ে বলুন...
নাদিয়া আফরিন মিম: পাওয়া না পাওয়ার হিসাব করলে পাওয়াটার পাল্লাই বেশি ভারী। আমি শুরু থেকে খুব বেশি আশা করিনি, ফলে হতাশও হইনি। পাওয়ার ক্ষেত্রে বলতে গেলে, অনেক বড় বড় নির্মাতার সঙ্গে কাজ করেছি। সহ-অভিনেতারাও ছিলেন দেশসেরা। সিনিয়ররা অনেক বেশি স্নেহ করেছেন, ভালোবেসেছেন। এই তো! আর না পাওয়া বলতে গেলে, এখনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে পারলাম না। আসলে ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে অনেক প্রস্তাব পেয়েছিলাম। তখন কাজ করতে চাইনি। মনে হয়েছে, নিজের মধ্যে ম্যাচিউরিটি আসেনি। পড়াশোনার চাপও ছিল। এখন চলচ্চিত্রে কাজ করতে চাই। সুযোগ পেলে নিয়মিতই চলচ্চিত্র করব।
প্রশ্ন: নতুন আর কিছু করছেন?
নাদিয়া আফরিন মিম: আপাতত বলা যাবে না। আমি কাজ শেষ করার আগে বরাবরই বলি না। কারণ অনেক সময় নানা ধরনের সমস্যা হয়। তবে নাটকের পাশাপাশি শিগগিরই আমাকে ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও পাবেন।

ধারাবাহিক নাটকেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি
ধারাবাহিক নাটকে নিয়মিতই অভিনয় করেন গোলাম ফরিদা ছন্দা। ইদানীং একক নাটকেও ফিরেছেন। একটি চলচ্চিত্রও আছে মুক্তির অপেক্ষায়।
প্রশ্ন: একক নাটকে আপনাকে পাওয়া যায় না বললেই চলে...
গোলাম ফরিদা ছন্দা: নিজে থেকেই সরে দাঁড়িয়েছিলাম। একক নাটকগুলোর বেশির ভাগ ছিল পুবাইলকেন্দ্রিক, কমেডি ঘরানার গল্প। এই ধরনের গল্প আমার পছন্দ নয়। এ কারণে প্রস্তাব এলেও সায় দিতাম না। শুধু ধারাবাহিক নাটকগুলো করতাম। এখন অবশ্য গল্পে পরিবর্তন এসেছে।দারুণ দারুণ টপিক নিয়ে গল্প হচ্ছে। এ কারণে আবার দু-একটা করে একক নাটক করছি।
প্রশ্ন: নাটকে ইদানীং পারিবারিক গল্প ফিরেছে। এটাকে কিভাবে দেখছেন?
গোলাম ফরিদা ছন্দা: খুবই পজিটিভ দিক। আমাদের সময় যে নাটকগুলো হতো তার প্রতিটিতে নায়ক-নায়িকার বাইরে আরো অনেক চরিত্র থাকত। তিন-চারটি করে জুটিও থাকত একেকটি নাটকে। মাঝখানে তো সেই কালচার উঠেই গিয়েছিল। এখন পরিবর্তন এসেছে। এখন পারিবারিক গল্পগুলোতে শিক্ষণীয় অনেক বিষয় থাকে। তরুণ প্রজন্মও অনেক কিছু শিখতে পারে।
প্রশ্ন: দীপ্ত টিভিতে আপনার অভিনীত ‘খুশবু’ প্রচারিত হয়। কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
গোলাম ফরিদা ছন্দা: ভালো। দীপ্তর ধারাবাহিকগুলোর আলাদা একটা দর্শক তৈরি হয়ে গেছে। তারা নিয়মিত দেখে। যত দূর জানি, এটা টিআরপিতেও ওপরের দিকে আছে। নইলে তো এত পর্ব পর্যন্ত চলত না।
প্রশ্ন: নতুন আর কোনো ধারাবাহিক নাটক করছেন?
গোলাম ফরিদা ছন্দা: দুটো করছি। একটা ভিকি জাহেদের ‘আমাদের নীল বাড়ি’। এটা প্রচারিত হবে চ্যানেল আইয়ে। আরেকটা করলাম হাসান রেজাউলের ‘এরই নাম সংসার’। এটি প্রচারিত হবে এশিয়ান টিভিতে। আসলে ধারাবাহিকগুলোতে প্রচুর সময় দিতে হয়। প্রতি মাসেই একটা নির্দিষ্ট শিডিউল রাখতে হয়। ফলে অন্য কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক শিল্পী দেখবেন ধারাবাহিক নাটক করতেই চান না। আমার অবশ্য অভ্যাস হয়ে গেছে। ধারাবাহিক নাটকেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।

তিন রূপে আসছেন মাহি
ছোট পর্দার অন্যতম জনপ্রিয় মুখ সামিরা খান মাহি। একক ও ধারাবাহিক নাটকে তার উপস্থিতি এবং জনপ্রিয়তা বেশ। নতুন তিনটি কাজ নিয়ে প্রস্তুত অভিনেত্রী। এর মধ্যে দুটি মিনি সিরিজ, আর একটি একক নাটক।
জানা গেছে, সিরিজ দুটির নাম ‘মায়ার সংসার’ ও ‘কর্মফল’। এর মধ্যে পারিবারিক টানাপোড়েন ও সম্পর্কের গল্প নিয়ে ‘কর্মফল’ নির্মাণ করেছেন মহিন খান। এই সিরিজে মাহির পাশাপাশি অভিনয় করেছেন দিলারা জামান, ইরফান সাজ্জাদ, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, আ খ ম হাসান, দীপা খন্দকার ও মনিরা মিঠুর মতো একঝাঁক গুণী শিল্পী। ‘মায়ার সংসার’ নির্মাণ করেছেন মোহাম্মদ ওমর ফারুক। অবশ্য এই সিরিজে মাহির সহশিল্পী কারা থাকছেন তা এখনই প্রকাশ করা হয়নি। সিরিজ দুটি খুব শিগগিরই ‘সিনেমাওয়ালা’ ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে।
অন্যদিকে মাহির দুই নতুন মিনি সিরিজ আসার খবরের মাঝে তার নতুন একটি নাটক মুক্তির খবর মিলল। রোম্যান্টিক ঘরানার সেই নাটকটির নাম ‘কথা দিলাম’। ইমরাউল রাফাতের পরিচালনায় এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন আরশ খান। ইউটিউবে অবমুক্ত করা হবে নাটকটি। সব মিলিয়ে এই তিনটি কনটেন্টে তিন রূপে মাহিকে দেখার অপেক্ষায় দর্শক।
কান ভারী করা ‘কিচেন পলিটিক্স’
বৈশাখী টিভিতে সপ্তাহের প্রতি দিন শনি, রবি ও সোমবার রাত ৯.২০ মিনিটে প্রচার হচ্ছে নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘কিচেন পলিটিক্স’। বৈশাখী টেলিভিশনের নিজস্ব প্রযোজনায়, অনিকেতের রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন সাঈদ রিংকু। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিলারা জামান, মাসুম বাসার, মিলি বাসার, নাবিলা ইসলাম, জয়রাজ, একে আজাদ সেতু, পূর্ণিমা বৃষ্টি, দোলন দে, তানহা ইয়াসমিন, সাদিয়া তানজিম, শিবলী নোমান, ঈষিকা সাকিন, মীর নওফেল আশরাফী জিসান, মিলু চৌধুরী, মোস্তফা রতন, নাসরিন অনু, শাহজাদা সম্রাটসহ আরও অনেকে।
নাটকের গল্প সম্পর্কে জানতে চাইলে নাট্যকার অনিকেত বলেন, একটি একান্নবর্তী পরিবারকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে কিচেন পলিটিক্স নাটকের কাহিনি। এটি মূলত একটি সামাজিক স্যাটায়ার গল্প। গল্পের বাবা একজন আদর্শবান রিটায়ার্ড সরকারি কর্মকর্তা। তার তিন ছেলে, স্ত্রী এবং দুই ছেলের বউকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করেন। ছোট ছেলে অবিবাহিত। তার মেয়ে মুন্নি তার স্বামীর বাড়িতে থাকে। মুন্নির সঙ্গে তার মায়ের খুব ভাব, মুন্নি যা বলে তার মা তা-ই করে। মুন্নি ফোন করে এবং বাড়িতে এসে তার তিন ভাই এবং ভাইয়ের বউদের বিরুদ্ধে মায়ের কান ভারী করে। মাকে সবসময় সে বুদ্ধি দেয় মা যেন তার ছেলের বউদের পিছে লেগে থাকে এবং সবসময় বউদের দোষ ধরে যাতে করে সংসারে সবসময় অশান্তি লেগে থাকে। নাটকটি যেহেতু সোশ্যাল স্যাটায়ার সেহেতু নাটকের প্রতিটা পর্বে থাকবে নতুন নতুন টুইস্ট এবং টানাপড়েন, নানা হাস্যরসের মাধ্যমেই উপস্থাপন করা হবে সেগুলো। নাটকটি যে দর্শকদের কাছে ভালো লাগবে সে ব্যাপারে আমি একশ ভাগ নিশ্চিত।
‘কর্মফল’ এ যা হয়
জীবন থেকে নেওয়া গল্পে নাটক নির্মাণে এরই মধ্যে নিজের মেধার পরিচয় দিয়েছেন সময়ের মেধাবী পরিচালক মুহিন খান। তার নির্মিত বহু নাটক বিগত দুই-তিন বছরে বেশ আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি এই পরিচালক নির্মাণ শুরু করেছেন সাত পর্বের ধারাবাহিক নাটক ‘কর্মফল’। নাটকটি রচনাও মুহিন খান নিজেই। এরই মধ্যে রাজধানীর অদূরে পূবাইলের একটি শুটিংবাড়িতে টানা কয়েকদিনের শুটিং শেষ হয়েছে। তারকাবহুল এই নাটকটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিলারা জামান, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, আখম হাসান, দীপা খন্দকার, মুনিরা মিঠু, ইরফান সাজ্জাদ ও সামিরা খান মাহি।
আমার সরলতা পছন্দ করে দর্শক
কমেডি নাটকেই তাঁকে বেশি পাওয়া যায়। নাটকের শুটিং করতে এখন রাজশাহীতে রয়েছেন মানসী প্রকৃতি। শুটিং এর ফাঁকে অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা হয়।
প্রশ্ন: শুটিংয়ে?
মানসী: না।
প্রশ্ন: রাজশাহী যাচ্ছি আমরা। আগামি কয়েকদিন টানা নাটকের শুটিং করব। প্রতিটি নাটকেরই পরিচালক আমার স্বামী আদিবাসী মিজান। আমার সঙ্গে আছেন শামীমা নাজনীন আপু। আমি, শামীমা নাজনীন আপু আর মিজানের জুটির কথা তো দর্শক জানেন। আমাদের এই ত্রয়ীর সব নাটকই দর্শক লুফে নিয়েছেন।
প্রশ্ন: এই ত্রয়ীর মেলবন্ধনটা হলো কী করে?
মানসী: বছর দুয়েক আগের কথা। মিজান আমাকে আর নাজনীন আপুকে নিয়ে নির্মাণ করল ‘মা মেয়ে বেক্কল’। একদম নতুন একটা ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি মুক্তি পেল। আমি খুব একটা আশাবাদী ছিলাম না। একে তো নতুন চ্যানেল, তার ওপর নামজাদা কোনো অভিনেতা নেই। শুধু আমি আর আপু। দর্শক কি দেখবে? তবে মিজান আত্মবিশ্বাসী। সে বলল, ‘নাটকে তুমি [আমি] নায়ক আর শামীমা নাজনীন আপা নায়িকা। আমার আর কারো লাগবে না। দেখ, নাটকটা কী পরিমাণ হিট হয়!’ মিজানের কথাই ঠিক হলো। দর্শক দারুণ পছন্দ করলেন।
প্রশ্ন: আপনারা নাকি পা-ুলিপি ছাড়াই শুটিং করেন?
মানসী: হ্যাঁ। স্পটে বসেই প্লট তৈরি করে মিজান। সংলাপগুলোও বলে দেয়। এমনও হয়, তিন-চারটা দৃশ্যের শুটিংয়ের পর নাটকের নাম ঠিক করি। এক-দেড় শ নাটক তো এভাবেই করলাম। কোনো সমস্যা হয় না।
প্রশ্ন: আপনি ওটিটিতে কাজ করেন না কেন?
মানসী: বাবু পেটে আসার পর আমি আসলে মিজান পরিচালিত নাটকই করেছি। স্পটে মাঝেমধ্যে খারাপ লাগত, অসুস্থ হয়ে পড়তাম। তখন অন্যরা যদি মেনে নিতে না পারে! ভাবলাম, স্বামীর নাটকগুলোই করি, ওর সঙ্গে থাকাও হবে আবার প্রোডাকশনও বাড়বে। তবে এখন রুহ ৯ মাসের। সলিড খাবার খেতে পারে। আমিও সিদ্ধান্ত নিয়েছি আবার বাইরের প্রোডাকশন করব।
প্রশ্ন: সমসাময়িক নাটকের অভিনেত্রীদের মধ্যে কাকে বেশি পছন্দ আপনার?
মানসী: মেহজাবীন চৌধুরী আপু আমার অনেক প্রিয়। তবে তানিয়া বৃষ্টি আনপ্যারালাল। ও যেভাবে স্যাড ক্যারেক্টারগুলো প্লে করে তার তুলনা হয় না। আমি ওর অভিনয়ের ভক্ত।
বিটিভিতে নতুন দুই ধারাবাহিক
বাংলাদেশ টেলিভিশনে আজ থেকে শুরু হচ্ছে নতুন দু’টি ধারাবাহিক নাটক ‘বিরোধ’ ও ‘তবুও জীবন’। পরিবার, সম্পর্ক, দ্বন্দ্ব, মানবিক মূল্যবোধ ও জীবন-সংগ্রামের নানা গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ধারাবাহিক দু’টি। ‘বিরোধ’ নাটকটি রচনা করেছেন সাজ্জাদ হোসেন দোদুল। প্রযোজনায় মামুন মাহমুদ। ধারাবাহিকটিতে অভিনয় করেছেন- ফারজানা ছবি, তন্ময় সোহেল, কায়েস আরজু, সমাপ্তি মাশুক, শিবা শানু প্রমুখ। ‘বিরোধ’ একটি একান্নবর্তী পরিবারের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, প্রতিশোধ, সম্পর্কের ভাঙন এবং মানবিক মূল্যবোধের গল্প।
অর্থ ও ক্ষমতার অহংকারে অন্ধ মির্জা কামাল নিজের পরিবারকেই ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেন। অতীতের অন্যায়, ষড়যন্ত্র, ভুল সিদ্ধান্ত ও পারিবারিক অবহেলার প্রভাব পড়ে পরবর্তী প্রজন্মের ওপর। অন্যদিকে, সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ডের রচনায় ও মো. নাসির উদ্দিনের প্রযোজনায় নির্মিত ‘তবুও জীবন’ নাটকে অভিনয় করেছেন- দীপা খন্দকার, সাব্বির আহমেদ, নুসরাত জান্নাত রুহি প্রমুখ। এতে তিনটি পরিবারের জীবন-সংগ্রাম, পারিবারিক দায়বদ্ধতা ও সম্পর্কের নানা বাস্তবতা উঠে এসেছে। সপ্তাহের প্রতি রোববার, সোমবার ও মঙ্গলবার রাত ৯টায় ‘বিরোধ’ এবং রাত সাড়ে ৯টায় ‘তবুও জীবন’ প্রচারিত হচ্ছে।

এবার ওটিটিতে সাবিলা নূর
টিভি নাটকের পর বাণিজ্যিক সিনেমা। এবার ওটিটিতে ফিরছেন মডেল-অভিনেত্রী সাবিলা নূর। কমেডি ঘরানার ফ্ল্যাশ ফিকশন ‘ফাইসা গেছি’ নিয়ে ২০ আগস্ট মুক্তি পেয়েছে। মাহমুদুর রহমান হিমি পরিচালিত ‘ফাইসা গেছি’ একজন রাইডশেয়ার চালকের জীবনে ঘটে যাওয়া বিচিত্র কিছু ঘটনার গল্প। হাস্যরসের মোড়কে নির্মিত হলেও গল্পে উঠে এসেছে সুযোগ, লোভ ও অপরাধবোধের মতো বিষয়। সাবিলা নূরের সঙ্গে এতে অভিনয় করেছেন দিব্য জ্যোতি। আরও রয়েছেন আরফান মৃধা শিবলু ও করভী মিজান। আলফা-আই ও চরকির যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে কনটেন্টটি।
নতুন কাজটি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত সাবিলা। তিনি বলেন, আমি সবসময় চেষ্টা করি এক কাজের সঙ্গে আরেক কাজের যেন মিল না থাকে। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘রকস্টার’-এর পর ‘ফাইসা গেছি’ আমার জন্য একেবারেই ভিন্ন অভিজ্ঞতা। কমেডি ঘরানার গল্পে কাজ করতে দারুণ লেগেছে। আশা করি দর্শকরাও কাজটি উপভোগ করবেন।
সাবিলার ভাষায়, ‘আমি নাটক থেকে উঠে এসেছি। এটাই আমার শিকড়। এরপর ওটিটিতে বেশকিছু কাজ করেছি। সেগুলো দর্শক ভালোভাবে নিয়েছেন। তারপর সিনেমায় এসেছি। এখানেও দর্শক আমাকে দারুণভাবে গ্রহণ করেছেন। নাটক, ওটিটি ও সিনেমা-এই তিনটি প্ল্যাটফর্মের প্রস্তুতি তিন রকম। সিনেমার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিতে হয়। তাই সবসময় নাটক বা ওটিটিতে কাজ করা সম্ভব হয় না। আমার মূল পরিচয় একজন অভিনয়শিল্পী। তাই সব মাধ্যমেই অভিনয় করে যেতে চাই।’

মুরাদ পারভেজের অপরাধ-রহস্যে ঘেরা ওয়েব সিরিজ ‘খুপরি’
ঢাকার একটি কাল্পনিক মহল্লার গল্প নিয়ে নির্মিত হচ্ছে ওয়েব সিরিজ ‘খুপরি’। সৈয়দ রিশাদ পরিচালিত সিরিজটির চিত্রনাট্য লিখেছেন সৈয়দ শামসের তারিফ। অপরাধ, রহস্য, প্রতিশোধ ও প্রেম- বিভিন্ন উপাদান নিয়ে তৈরি হচ্ছে তিন সিজনের এই সিরিজ।
‘খুপরি’র গল্পের কেন্দ্র দুই গলি-চাপানি ও তকমা। এই দুই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ। চাপানি গলির নেতৃত্বে আছেন জসিম ঢালী, আর তকমা গলির প্রভাবশালী চরিত্র কোহিনুর। পুরোনো এক প্রতিশোধের সূত্র ধরে তাদের দ্বন্দ্ব ক্রমে জড়িয়ে পড়ে মাদক ব্যবসা, চোরাচালান, অনলাইন প্রতারণা ও খুনের মতো নানা অপরাধে।
নির্মাতা সৈয়দ রিশাদ জানান, ‘খুপরি’কে তিনটি সিজনে সাজানো হয়েছে। প্রথম সিজনের নাম ‘ফর্মা-তক্ষক’, দ্বিতীয়টি ‘তক্ষক-ভিক্ষুক’ এবং তৃতীয় সিজনের নাম ‘ভিক্ষুক-বন্ধুত্ব’। প্রথম সিজনের সাত পর্বের দৃশ্যধারণ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী আগস্টের মাঝামাঝি দেশি ও আন্তর্জাতিক একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিরিজটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
‘খুপরি’র বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন কচি খন্দকার, দিলরুবা হোসেন দোয়েল, বাসার বাপ্পি, ইকবাল হোসেন, জান্নাতুল রিতু, আনিসা দিয়া, আলেহা, তাফসীর স্বরন ও মনির হোসাইন সহ অনেকে।

নাটকের নাম ‘জোসনায় ফেরা’
উপস্থাপনা দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও অল্প সময়েই অভিনয়ে আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন আইশা খান। ছোট পর্দার নাটক, ওয়েব কনটেন্ট ও বিশেষ প্রযোজনায় অভিনয় দিয়ে দর্শকের নজর কেড়েছেন তিনি। গত মাসে ‘শিকড়’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায়ও অভিষেক হয়েছে এ অভিনেত্রীর।
এবার আবারো জুটি বেঁধে পর্দায় আসছেন ইরফান সাজ্জাদ ও আইশা খান। তাদের দেখা যাবে ‘জোসনায় ফেরা’ নাটকে। শফিকুর রহমান শান্তনুর রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন চয়নিকা চৌধুরী। নাট্য পরিচালনায় ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে চারটি ফিকশন নির্মাণ করছেন এ নির্মাতা। এরই অংশ হিসেবে নির্মিত হয়েছে জোসনায় ফেরা।
সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নাটকটির দৃশ্যধারণ শেষ হয়েছে। এতে উঠে এসেছে সম্পর্কের নানা জটিলতা। না জেনে বা না বুঝে অনেক সময় মানুষ এমন কিছু কথা বলে কিংবা সিদ্ধান্ত নেয়, যা সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আবার অনেক ক্ষেত্রে পুরো পরিস্থিতি না জেনেই অন্যকে বিচার করে ফেলার প্রবণতাও দেখা যায়। এসব বিষয়ের পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে, সে গল্পই তুলে ধরা হয়েছে নাটকটিতে।
নাটকটি প্রসঙ্গে ইরফান সাজ্জাদ বলেন, দর্শক এ সময় যে ধরনের নাটক দেখতে চায়, এটি তেমনই। নাটকের নাম শুনে মনে হতে পারে এটি শুধু ভালোবাসার গল্প। আসলে তা নয়। এটি শুধু রোমান্টিক গল্প নয়; স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের নানা দিকও এখানে তুলে ধরা হয়েছে। বেশ বিরতির পর আইশা খানের সঙ্গে আবারো জুটি হয়ে কাজ করতে পেরে ভালো লাগছে। আশা করছি, আমাদের পর্দার রসায়ন আবারো দর্শকের ভালো লাগবে।
নাটকটি নিয়ে আশাবাদী আইশা খানও। তিনি বলেন, জোসনায় ফেরায় সম্পর্কের গল্পের পাশাপাশি মানুষের ভুল বোঝাবুঝি, বিচার করার প্রবণতা ও তৃতীয় ব্যক্তির কারণে তৈরি হওয়া জটিলতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। ইরফান সাজ্জাদের সঙ্গে এর আগেও কাজ করেছি। নতুন নাটকটিতে আমাদের পর্দার রসায়ন দর্শকের কাছে উপভোগ্য হবে। নাটকটিতে ইরফান সাজ্জাদ ও আইশা খান ছাড়াও অভিনয় করেছেন তামান্না জীম, দীপা খন্দকারসহ আরো অনেকে।
চয়নিকা চৌধুরী জানান, ২৫ বছরের ক্যারিয়ারে নানা অভিজ্ঞতা, পরিশ্রম, ভালোবাসা, আনন্দ-বেদনা ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তিনি এখনো কাজ করে যাচ্ছেন। তার কাছে ব্যস্ততা মানেই সুস্থতা। ক্যারিয়ারের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নির্মিত জোসনায় ফেরা নিয়েও আশাবাদী তিনি।
জানা গেছে, লেজার ভিশন প্রযোজিত নাটকটি আগামী মাসের মাঝামাঝি বৈশাখী টিভিতে প্রচার হবে।

অল্প কাজ করি, অল্পতেই তুষ্ট!
অভিনয়ে নিজস্ব দর্শন মেনে চলেন অভিনেত্রী তানজিকা আমিন। নাটক, সিনেমা কিংবা ওয়েব সিরিজ-তিন মাধ্যমে সক্রিয় থাকলেও কাজের সংখ্যা হাতেগোনা। ভালো গল্প ও চরিত্রকেই প্রাধান্য দিয়ে বেছে বেছে কাজ করেন এ অভিনেত্রী।
২০০৪ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়ে আলোচনায় আসেন তানজিকা। এরপর দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত ‘বকুল ফুলের মালা’ সিনেমার মধ্য দিয়ে পর্দায় তার যাত্রা শুরু হয়। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় করলেও কাজের সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে পছন্দের চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরতেই বেশি আগ্রহী তিনি।
এ প্রসঙ্গে তানজিকা বলেন, সহজ কথায় উত্তর দিলে, আমি অল্পতে তুষ্ট। অল্প কাজ করি, যেটি নিয়ে সন্তুষ্ট। হয়তো সুপারস্টার হইনি, অভিনেত্রী হয়েছি। অভিনয় ভালোবাসি। ভালো আছি, সুস্থ আছি, অভিনয় করছি। এ আমার জীবন।
তানজিকার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি আলোচিত চরিত্রগুলোর একটি মিতু। ২০২৩ সালে আশফাক নিপুণের ওয়েব সিরিজ ‘মহানগর ২’-এ মিতু চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা পান তিনি। চরিত্রটি এখনো দর্শকের মনে গেঁথে আছে বলে মনে করেন এ অভিনেত্রী।
মিতু চরিত্রটি নিয়ে তানজিকা বলেন, সাধারণ দর্শকের পাশাপাশি আমার কাছের মানুষও মিতু চরিত্রটির জন্য বেশ আপ্লুত। চরিত্রটি মানুষের মনে গেঁথে আছে। ভালো কাজ করার পর চাপ বেড়ে যায় শিল্পীদের। আমারও তাই হয়েছে।
সে চাপ সামলে পরের কাজগুলোয়ও নিজেকে প্রমাণ করেছেন তানজিকা। ২০২৪ সালে সালজার রহমান পরিচালিত ‘কালপুরুষ’ সিরিজে নোভা চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। নিঃসন্তান এক দম্পতির অসুখী দাম্পত্য জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত এ সিরিজেও তার অভিনয় প্রশংসিত হয়।
২০২৫ সালে মুক্তি পায় অমিতাভ রেজা চৌধুরী পরিচালিত ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’। এ সিরিজে প্রথমবারের মতো হিজাব ও বোরকা পরে অভিনয় করেন তানজিকা। এমন গেটআপে এর আগে তাকে দেখা যায়নি।
গত বছরের ডিসেম্বরে মাত্র চারদিনের ব্যবধানে মুক্তি পায় তানজিকার আরো দুটি ওয়েব সিনেমা, শরাফ আহমেদ জীবনের ‘ডিমলাইট’ ও রায়হান রাফীর ‘অমীমাংসিত’। ডিমলাইটে তানিয়া নামের এক গৃহিণীর চরিত্র এবং অমীমাংসিত সিনেমায় একজন সাংবাদিকের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
সাম্প্রতিক এসব কাজের মাধ্যমে ওটিটিতে নিজের আলাদা দর্শক তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তানজিকা। তিনি বলেন, কাজগুলোর সুবাদে ওটিটিতে আমার আলাদা ফ্যান-ফলোয়ার হয়েছে। এটি আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। নাটকের বাইরে নতুন দর্শক তৈরি হয়েছে। নিজেকে দেখানোর সুযোগ পাচ্ছি। নাটকে হয়তো সবসময় সেটা দেখানোর সুযোগ হয়ে ওঠেনি।

প্রসঙ্গ হাবুর স্কলারশিপ
বৈশাখী টেলিভিশনের দীর্ঘ ধারাবাহিক ‘হাবুর স্কলারশিপ’। সপ্তাহে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে নিয়মিত প্রচারিত হচ্ছে। এ ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন রাশেদ সীমান্ত, তানজিকা আমিন, অহনা রহমান, নীলা ইসলাম, শফিক খান দিলু, হায়দার আলী, সাইকা আহমেদ, নেহা মনিসহ অনেকে। টিপু আলম মিলনের গল্পে আহসান আলমগীরের চিত্রনাট্যে, নাটকটি পরিচালনা করেছেন আল হাজেন। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘মিড এন্টারপ্রাইজ’।
নাটকের গল্পে দেখা যায়, গ্রামের সহজ-সরল ছেলে হাবু বৃত্তি পেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যায়। সেখানে মেধার স্বাক্ষর রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাফল্য অর্জন করলেও বিদেশে থেকে চাকরির সুযোগ প্রত্যাখ্যান করে দেশের জন্য কাজ করতে দেশে ফিরে আসে সে। দেশে ফিরে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়ে প্রতিবাদী চরিত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে হাবু।
বৈশাখীর ধারাবাহিক ‘ভিলেজ সোসাইটি’
বৈশাখী টেলিভিশনের ধারাবাহিক নাটক ‘ভিলেজ সোসাইটি’। প্রত্যয় হাসানের রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন হোসাইন ইমরান। পর্ব পরিচালনায় রয়েছেন মাহফুজ খান। নাটকটি সপ্তাহে তিন দিন রাত ৯টা ২০ মিনিটে প্রচার হয়।
নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন আশরাফ সুপ্ত, সবুজ আহমেদ, জান্নাতুল মাওয়া, স্পর্শিয়া মিম, সাবা সুস্মিতা, আমিন আজাদ, সঞ্জীব আহমেদ, পারভেজ সুমন, সোনিয়া স্বপ্ন, হেদায়েত নান্নু, তাবাসসুম মিথিলাসহ অনেকে। মধুপুর গ্রামের কিছু অদ্ভুত ও সরল মানুষের জীবনযাপন, সম্পর্ক, দ্বন্দ্ব, সংকট এবং পরবর্তী সময়ে গ্রামে রাজনীতি, হিংসা ও সংঘাতের বিস্তারকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে নাটকটির গল্প।
বিনোদন নিয়ে
লোড হচ্ছে...

‘আমরা যারা ৮০ সালে জন্মেছি, ৯০ দশকে বেড়ে উঠেছি, তাদের প্রেম বা ভালো লাগায় শাহরুখ খানের সিনেমার অনুপ্রেরণা থাকবেই।’ এমনটাই বললেন নির্মাতা আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক,,,,

আজকের শাকিব খানকে দেখে বুঝার কি সুযোগ আছে তিনি অভিনয়ে প্রথম জীবনে অনেক কষ্ট করেছেন? এলাম আর জয় করলাম এমন সৌভাগ্য পাননি তিনি........

প্রেম ভালোবাসা, মায়া ও শ্রদ্ধায় মোড়ানো এক সন্ধ্যার গল্প! বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সবার প্রিয় শিক্ষক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের কথা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছিলেন সবাই। বই এবং বউ নিয়ে কথা বলছিলেন তিনি

ভালোবাসার মহাসমুদ্রে কত কথা কত স্মৃতি! শাহজাহান সত্যিকার অর্থে প্রায় বাকরুদ্ধ। আবেগে থর থর করে কাঁপছে। তার দু’চোখে আনন্দ আর সুখের কান্না। জানতে চাইলাম-কেমন লাগছে শাহজাহান?

আবারও বড়পর্দায় জুটিবদ্ধ হয়ে আসছেন আফরান নিশো ও তমা মির্জা। ‘সুড়ঙ্গ’ ও ‘দাগি’র পর এবার এই জুটিকে নিয়ে নিজের প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন ভিকি জাহেদ। নিশো-তমা জুটির তৃতীয় এই সিনেমাটির নাম হতে....

সম্প্রতি ‘হইচই’ এ মুক্তি পেয়েছে সালেহ সোবহান অনীমের তারকাবহুল ওয়েব সিরিজ ‘হেডলাইন’। সেই সিরিজে অভিনয় করেছেন সারিকা সাবরিন। হেডলাইন ও সম্প্রতি বিষয় নিয়ে অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা হয়......

বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেতা কাজী হায়াৎ দুঃখ প্রকাশ করে বললেন, এফডিসিতে সিনেমা নাই। তবে নির্বাচন আছে। শিল্পী সমিতির নির্বাচন বেশ জমজমাট হয়। এবারও তাই হয়েছে। আমাদের শিল্পী সংখ্যা অনেক,

রইদ: রহস্যের আঁধারে আলোর আল্পনা সাধুদের জীবনে পাগলীরা বারবার আসে। নানা রূপে আসে। এটা ঘটে এসেছে। ঘটছে। এবং এভাবে ঘটতে থাকবে। নিঃসঙ্গ আদমের জীবনে হাওয়া আসুক, আর হাওয়া খুঁজে নিক রইদকে।