Ad space

ফরিদুর রেজা সাগরের প্রিয়জন আপনজন

প্রকাশ:
60
Image

ভালোবাসার মহাসমুদ্রে কত কথা কত স্মৃতি!

শাহজাহান সত্যিকার অর্থে প্রায় বাকরুদ্ধ। আবেগে থর থর করে কাঁপছে। তার দু’চোখে আনন্দ আর সুখের কান্না। জানতে চাইলাম-কেমন লাগছে শাহজাহান? মৃদু হেসে বললেন-আমার কাছে ঈদের দিন মনে হচ্ছে। এতো এতো গুণী মানুষের ভীড়ে স্যার আমাকে নিয়েও লিখেছেন। আমার আর কিছু চাওয়ার নাই। মহান আল্লাহপাকের কাছে একটাই প্রার্থনা স্যারের শরীর যেন সুস্থ থাকে।

শাহজাহান চ্যানেল আই এর একজন নিবেদিত প্রাণকর্মী। দীর্ঘ ৬০ বছর যাবৎ তিনি ফরিদুর রেজা সাগরের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে, ফরিদুর রেজা সাগরের নতুন গ্রন্থ প্রিয়জন আপনজনে স্থান পাওয়া দেশের ১০০ জন গুণী মানুষের তারিকায় শাহজাহানও গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছেন। একেই বলে নির্মোহ পর্যবেক্ষণ। আমরা অনেকেই প্রিয়জন আপনজন বলতে অগ্রসর, গুণী মানুষদের কথা ভাবি। কিন্তু অফিসের একজন পিয়নও যে প্রিয়জনের তালিকায় যুক্ত হতে পারে সেই উদারতা দেখিয়েছেন ফরিদুর রেজা সাগর। তাঁর প্রিয়জন আপনজন গ্রন্থে শাহজাহান সম্পর্কে লিখেছেন-

এই জীবনে অনেকটা বছর পার করে আজকে যেখানে এসেছি, সেখানে দাঁড়িয়ে পেছন ফিরে তাকালে অজ¯্র মানুষের কথা মনে পড়ে, চোখে ভাসে। এমন অনেক মুখ, অনেক সঙ্গী রয়েছে যারা আমার সঙ্গে অর্ধ শতাব্দীর চেয়ে বেশি সময় ধরে রয়েছে। কেউ কেউ বাংলাদেশে বিখ্যাত মানুষ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু হঠাৎ করে ভাবতে গিয়ে খেয়াল হলো, আমার অফিসেই একজন মানুষ রয়েছে যার সঙ্গে আমার পরিচয় ষাট বছরের বেশি সময় ধরে এবং মনে হয় আমার ভাই বোন ছাড়া আমার সাথে আর কারোর যদি বেশি সম্পর্ক থাকে তাহলে এই মানুষটির কথা না বললেই নয়।

শাহজাহানকে স¤্রাটের সঙ্গে তুলনা করেছেন ফরিদুর রেজা সাগর। তাই শিরোনাম দিয়েছেন ‘শাহজাহান স¤্রাটের নামে নাম যার। স¤্রাটের মতোই তেজোদ্দীপ্ত অনুভূতি ব্যক্ত করলেন শাহজাহান। ‘আমার কাছে ঈদের দিন মনে হচ্ছে।’

বাস্তবেও ঈদের দিন হয়ে উঠেছিল একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান। শুধু বাংলাদেশে নয় উপমহাদেশের আর কোনো দেশে একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে এতো আনন্দ আর উৎসবের বর্নিল রং ইতিপূর্বে দেখা যায়নি। একটি অভিজাত হোটেলের বিশাল হল রুমে বসেছিলো প্রিয়জন ও আপনজনের মিলন মেলা। সবার মধ্যে রুদ্ধর্শ্বাস প্রতিক্ষা। কার কথা লেখা হয়েছে প্রিয়জন আপনজন গ্রন্থে। বইটির মোড়ক উন্মোচনের আগে অনেকেই জানতেন না ১০০ জনের তালিকায় তার নাম আছে কিনা। মোড়ক উন্মোচনের আগে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার হাতে একটি সৃদুশ্য ব্যাগে ভরা ৪ শতাধিক পৃষ্ঠার একটি বই দেয়া হলো। তারপর একটা পর্যায়ে ব্যাগ থেকে বইটি বের করলেন সবাই। অসাধারণ একটি মুহূর্ত সবাইকে আনন্দে ভাসিয়ে নেয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা সংস্থা অন্যপ্রকাশ অনন্য সাধারন এই বইটির গর্বিত প্রকাশক। ছাপা, বাধাই এবং কাভার পরিকল্পনা বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে অন্যপ্রকাশ। কাভারে ব্যবহার করা হয়েছে চট। এটি বাংলাদেশে প্রথম। আরও প্রথম দেশের ১০০ জন গুণী ব্যক্তিকে নিয়ে এই প্রথম কোনো লেখকের একটি অনন্য সাধারণ বইয়ের প্রকাশনা। ১০০ জনের মধ্যে বেঁচে নেই ৫৬ জন। তাদের পক্ষেও অনুষ্ঠানে এসেছিলেন স্বজনরা। যারা জীবিত তারা বইটি হাতে পেয়ে যারপর নাই অভিভূত। বিস্মিতও বটে। কারণ প্রিয়জনকে নিয়ে একজন লেখকের কলম সত্যিকার অর্থে সবাইকে মুগ্ধ করেছে। প্রতিটি লেখা একজন ব্যক্তিকে ঘিরে। কিন্তু সব লেখাই ইতিহাসের আলো ছড়িয়েছে। ছাপা অক্ষর গুলো যেন সবাইকে অতীত স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছিলো। এক একটি লেখা যেন এক একটি নাটক, সিনেমার মতো অনুভব তৈরি করেছে। পড়তে পড়তে মনে হবে বাস্তবেও ঘটনা গুলো দেখছি। আহ! জীবন কত সুন্দর, কত মায়াময়।

Image

প্রিয়জন আপনজন গ্রন্থর প্রকাশনা উপলক্ষে অনন্য সাধারন একটি মঞ্চ সাজানো হয়েছিল হোটেল ওয়েস্টিনে। সেই মঞ্চে উপস্থাপক হিসেবে সবার সামনে এলেন বিশিষ্ট উপস্থাপক ফারজানা ব্রাউনিয়া। ততক্ষণে বিরাট হল ঘরটি প্রিয়জন আপনজনের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পুর্ন হয়ে উঠেছে। মঞ্চে ডেকে নেওয়া হলো গ্রন্থের লেখক ফরিদুর রেজা সাগর, লেখকের প্রিয় বন্ধু আফজাল হোসেন, ইমদাদুল হক মিলন এবং গ্রন্থের প্রকাশক অন্য প্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলামকে। শুরু হল প্রিয়জন ও আপনজন নিয়ে বিতর্ক। যিনি প্রিয় তিনিই কি আপনজন? মনোমুগ্ধকর আলোচনা চললো প্রায় দেড় ঘণ্টা। আলোচনা পর্বের শেষ লগ্নে মঞ্চে ডেকে নেয়া হল বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা ফরিদুর রেজা সাগরের প্রিয়তমা স্ত্রী কনা রেজাকে। তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলো আরও একটি বিস্ময়। ফরিদুর রেজা সাগরের প্রতিটি গ্রন্থে উৎসর্গপত্রে থাকে বিরাট চমক। প্রিয়জন আপনজন-এ তার ব্যতিক্রম ছিল না। উৎসর্গ পত্রে স্থান পেয়েছে কনা রেজার নাম। সাতটি শব্দ ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও মায়ার জগৎ তৈরি করেছে- ‘কনাকে, বইয়ে লেখা মানুষ গুলোও ওর পরিবারের অংশ। আলোচনা পর্ব শেষে ছিল আর এক বিস্ময় ও চমক। প্রিয়জন আপনজন গ্রন্থের একটি বিরাট প্রচ্ছদ থেকে বেরিয়ে এলেন বাংলাদেশের গানের পাখি সাবিনা ইয়াসমিন। তাকে এতোটা আনন্দিত ও হাস্যোজ্জ্বল এর আগে খুব কম দেখা গেছে। প্রিয়জন আপনজনদের জন্য মন উজাড় করে গাইলেন বিভিন্ন চলচ্চিত্রে গাওয়া তাঁর প্রিয় কিছু গান। এক ফাঁকে প্রিয়জন আপনজনের জন্য একটি গান উপহার দিয়ে গেলেন খুরশিদ আলম। ততক্ষণে প্রিয়জন আপনজন গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানটি আনন্দ সাগরে পরিণত হয়েছে। সবার মাঝে ফরিদুর রেজা সাগরের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার শক্তিটাই স্পষ্ট হচ্ছিলো। অনেকেই তো লেখেন। কিন্তু প্রিয়জনকে নিয়ে এমন ভাবনাব কথা ক’জন ভাবেন? কজন লেখেন? এখানেই ফরিদুর রেজা সাগর লেখক হিসেবে ব্যতিক্রম।

১০০ প্রিয়জন আপনজন

অঞ্জনা সুলতানা: একজন নিরহংকার শিল্পী, আইয়ুব বাচ্চু: রক লিজেন্ড, আওলাদ স্যার: প্রিয় শিক্ষক, আনিসুজ্জামান: কাছ থেকে দেখা, আনিসুল হক: পরোপকারের নেশায়, আফজাল হোসেন বন্ধু থেকে ছোটকাকু, আফলাতুন: পাখি যার ভালোবাসা, আফসানা মিমি: প্রিয়মুখ, আবুল হায়াত: একাশির তরুণ, আহসান নেওয়াজ বাবু দেখা না-দেখার বন্ধু, আবদুন নূর তুষার: উজ্জ্বল উপস্থাপনা, আবদুর রহমান: প্রিয়জন, আবদুল মুক্তাদির: স্বাপ্নিক বন্ধু, আবদুল্লাহ আল মামুন: একজন কিংবদন্তি, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ: ও আলোর পথযাত্রী, আমজাদ হোসেন: বহুগুণে গুণী যেজন, আমীরুল ইসলাম: প্রিয়জন আপনজন, আলী ইমাম: বড় ভাই, আসাদ চৌধুরী: তারুণ্যের কবি, ইফতেখারুল ইসলাম: প্রিয় বন্ধু, ইমদাদুল হক মিলন: সময়ের লেখক, এম এ হামিদ: খেলাধুলায় জীবন যার, এন্ড্রু কিশোর: যুগের কণ্ঠ, কবরী: চিরদিনের নায়িকা, কাজী আনোয়ার হোসেন: তিনিই মাসুদ রানা, কাজী কাইয়ূম: বিস্ময়কর যে মানুষ, কামাল লোহানী: বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর, কেকা ফেরদৌসী: রকমারি রান্নার খনি, কেরামত মওলা: শিল্পের কারিগর, খালিদ মাহমুদ মিঠু: স্বল্প সময়ের অতিথি, খালেদা ফাহমী: নিভৃতে যতনে যেজন, খুরশীদ আলম: সংগীত স্বজন, গোলাম মুস্তাফা: সার্থক জনম যাঁর, গোলাম সারওয়ার: সম্পাদকের প্রতিকৃতি, তাহমিনা জাকারিয়া: হৃদয়জুড়ে ভালোবাসা যার, জিনাত রেহানা: সাগরের তীর থেকে, জিল্লুর রহমান: একাই অদ্বিতীয়, জুয়েল আইচ: দ্য ম্যাজিশিয়ান, নওয়াজীশ আলী খান: মমতায় মাখা টিভি প্রযোজনা, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু: যুদ্ধের পরেও কমান্ডার, নীলুফার ইয়াসমিন: স্বর্ণালি কণ্ঠ, পাপিয়া সারোয়ার: যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে, ফখরুজ্জামান চৌধুরী: দারুণ এক ব্যক্তিত্ব, ফকির আলমগীর: গণমানুষের শিল্পী, ফজলুল আলম: আসল ছোটকাকু, ফজলে লোহানী: সময়ের চেয়ে এগিয়ে, ফজলে হাসান আবেদ: বিরল ব্যক্তিত্বের সরল গুণগান, ফরিদ আলী: বিটিভির প্রথম নাটকের অভিনেতা, ফরিদা পারভীন: অচিন পাখি, ফারজানা ব্রাউনিয়া: অনন্য উপস্থাপনা গুণের অধিকারী, ফারুক: প্রিয় মিয়া ভাই, ফেরদৌস আরা: নজরুলে নিবেদিত প্রাণ, ফেরদৌস হাসান: গুণী নাট্যকার, ববিতা: অনঙ্গ বউ, বুলবুল আহমেদ: আমাদের দেবদাস, বেলাল বেগ: কীর্তিমান প্রযোজক,

মতিউর রহমান চৌধুরী: অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব, মাজহারুল ইসলাম: প্রিয়বরেষু, মামুনুর রশীদ: নাট্যগুরু, মিনার মাহমুদ: তরুণ তুর্কী, মুকিমুল আনোয়ার মুকিম: সৌন্দর্যের ফেরিওয়ালা, মুস্তাফা জামান আব্বাসী: ভরা নদীর বাঁকে, মোস্তফা কামাল সৈয়দ: নীরব প্রস্থান, মুস্তাফা মনোয়ার: তিনি তো জাদুকরই, মৌসুমী: কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি, রফিকুল হক: চাঁদের হাটের দাদুভাই, রাজ্জাক: রাজাধিরাজ, রাফি হোসেন: চিরকিশোর, রামেন্দু মজুমদার: জীবনের বিটপী, রেজানুর রহমান: অভিমানী সম্পাদক, রুনা লায়লা: শিল্পী আমি শিল্পী, রুমানা চৌধুরী: বহু গুণের অধিকারী, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা: সুরের ধারা, রোকনুজ্জামান খান: সবার দাদাভাই, শহীদুল আলম সাচ্চু: বহু রূপের বহু রঙের, শাইখ সিরাজ: মাটির মানুষ, শাহ আলমগীর: উজ্জ্বল সাংবাদিক, শাহজাহান: সম্রাটের নামে নাম যার, শাহাদাত হোসেন খান: ক্ষণিকের অতিথি, শিমূল ইউসুফ: মঞ্চ কুসুম, শিপলু: ম্যাকগাইভার যার ভালোবাসা, শিখা দত্ত বণিক: প্রবাসে স্বদেশ, শেখ রিয়াজউদ্দিন বাদশা: অসময়ে চলে যাওয়া, সমীর কুশারী: সাহসী চিত্রগ্রাহক, সন্‌জীদা খাতুন: ছায়ানটের ছায়া, সাবিনা ইয়াসমিন: গানের পাখি, সুভাষ দত্ত: একজন চলচ্চিত্র সাধক, সানাউল আরেফীন: পরোপকারী বন্ধু, সুবর্ণা মুস্তাফা: জীবন যার শিল্পের সাধনায়, সুজানা চৌধুরী: সেতুবন্ধ, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম: শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়, সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী: সেলুলয়েডের ঘুডিড, সৈয়দ হাসান ইমাম: বাতিঘর, সোহানুর রহমান সোহান: গুণী চিত্রপরিচালক, হাবীব আহসান: কোহিনূর প্রতিভা, হাবিবুর রহমান খান: চলচ্চিত্রই যার পৃথিবী, হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল: এত আগেই চলে গেলে, হাসান হাফিজ: আমাদের শাহজাদা, হুমায়ূন আহমেদ: যাঁর গল্পের শেষ নেই, হুমায়ূন ফরীদি: ধূমকেতুর মতো বন্ধু।

Image

সাগর একজন বড় লেখক

ইমদাদুল হক মিলন

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, আমি সম্প্রতি সাগরের সঙ্গে আমেরিকায় গিয়েছিলাম। ১৫ দিন ছিলাম। এই যাত্রা এবং ফিরে আসার সময়টুকুতে আমি একজন অন্যরকম ফরিদুর রেজা সাগরকে আবিস্কার করি। তার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব ’৭৩-৭৪ সাল থেকে। দীর্ঘ একটা জীবন আমরা এক সঙ্গে কাটাচ্ছি। আমরা বন্ধুরা ওই যে পরস্পরের হাত ধরেছি, সেই হাত ছাড়িনি। মৃত্যু ছাড়া এই হাত আমাদের সরবে না। আমেরিকায় থাকাকালে সাগরের কিছু লেখা আমি নতুন করে পড়লাম। পিতার প্রিয় মুখ নামে একটি বই পড়লাম। মনে পড়লো প্রিয় মুখ নামে সাগরের একটি সিরিজ গ্রন্থ আছে। আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তা হলো- সাগরের ভুতের বই গুলো নিয়ে একটি সংকলন গ্রন্থ তৈরি করা হবে। কিশোর গল্প, ভুতের বাইরের গল্প আলাদা করা হবে। তার প্রিয়জন আপনজন আলাদা করা হবে। সাগরের যত রকমের লেখা আছে বিভিন্ন ভাবে ভাগ করে প্রকাশ করার একটা চিন্তা আমার মধ্যে আছে। এজন্য একদিন সাগরকে জিজ্ঞেস করলাম- তোমার ভুতের গল্প কয়টা? তার সহজ উত্তর- আমি তো এটা জানি না। যেটা জিজ্ঞেস করি একই উত্তর- আমি তো জানি না। এর ফলে আমি বুঝলাম যে একজন লেখক ফরিদুর রেজা সাগর যখন লেখেন তখন তিনি একটা ঘোরের মধ্যে থাকেন। তাঁর লেখাটা শেষ হবার পরে সেই দিকে তিনি আর ফিরে তাকান না। নতুন একটি লেখার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সামান্য যেটুকু লেখালেখির অভ্যেস আমার তাতে আমি এইটুকু বুঝি যে, সাগর একজন ঘোরের মধ্যে থাকা লেখক। যারা ঘোরগ্রস্থ লেখক তারা বড় লেখক। সাগর একজন বড় লেখক।

Image

প্রিয়জন আপনজনের সাহায্য নিয়েই আমরা জীবন গড়ি

আফজাল হোসেন

অনুষ্ঠানে ছিল না প্রচলিত ধারার কোনো বক্তৃতা পর্ব। ছিলেন না প্রধান অতিথি। যারা উপস্থিত হয়েছিলেন তারা সবাই প্রিয়জন এবং আপনজন। অনুষ্ঠানে প্রিয়জন আপনজন নিয়ে চমৎকার একটি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

আফজাল হোসেন বললেন, আমাদের চারপাশে অনেক মানুষের বিচরণ। কিন্তু কে আপন কে প্রিয়জন তা অনেকেই বুঝার চেষ্টা করি না। আজকের এই অনুষ্ঠানে যে মানুষ গুলোর মুখ দেখছি কোনো না কোনো ভাবে আমরা জীবনকে গড়েছি তাদের সঙ্গে, তাদের সাহায্যে, তাদের উঞ্চতায়। সুতরাং আমি বিশ্বাস করি এ ধরনের আয়োজনের খুব দরকার ছিল।

সাগরের লেখা ‘প্রিয়জন আপনজন’ এই বইটির একটি গুরুত্বপুর্ন বিষয় হচ্ছে একটা প্রজন্মের কাছে আরেকটা প্রজন্মের পরিচয়টা তুলে ধরা। কোন মানুষ গুলো কোন ক্ষেত্রে খুব আলাদা করে ছিলেন। একজন যিনি সর্বস্তরের গুণী তার কলমে... সুতরাং বিশ্বাস করি প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম যে মানুষের গুণ, কৃতিত্ব বয়ে চলবে সেটা প্রকশের আর কোনো পথ নেই যখন তখন ‘প্রিয়জন আপনজন’ নামের এই বইটা অনেক বড় বাহন ও শক্তি হয়ে এগিয়ে যাবে।

এই বইয়ের প্রচ্ছদ আমি এঁকেছি। প্রচ্ছদটিকে নান্দনিক ভাবে প্রকাশের অনন্য ভূমিকা পালন করেছে অন্য প্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম। মাজহার অনর্গল একটা কথা ভেবেছে। প্রচ্ছদটা এঁকে দেয়ার পর সেটা ছাপা কিভাবে হবে, চটের উপর ছাপলে কেমন হবে? তার উপর একটা ট্রেচিং পেপার থাকবে। এই যে একটা বই নিয়ে ভাবা, আজকাল কে ভাবে?

বইটিতে আমিও আছি বেশ আনন্দ হচ্ছে

সাবিনা ইয়াসমিন

কোনো অনুষ্ঠানে সাবিনা ইয়াসমিনের উপস্থিতি মানেই দর্শকদের বাড়তি আনন্দ যুক্ত হওয়া। ফরিদুর রেজা সাগরের নতুন গ্রন্থ ‘প্রিয়জন আপনজন’ এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানটি স্মরণ কালের সেরা অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে। সেখানে বাড়তি আনন্দ ছিল সাবিনা ইয়াসমিনের একক গানের পর্ব। একে একে ৭টি গান গেয়ে শোনান বাংলাদেশের গানের পাখি সাবিনা ইয়াসমিন। তাৎক্ষনিক ভাবে অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, সাগরের ‘প্রিয়জন আপনজন’ বইয়ে আমিও আছি। এজন্য খুব আনন্দ হচ্ছে।

Image

বইয়ের সবাই প্রকৃত অর্থে আমাদের পরিবারের অংশ

কনা রেজা

‘প্রিয়জন আপনজন’ বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা কনা রেজাকে। তাঁকে ডাকা হলো মঞ্চে। কনা রেজা যখন মঞ্চের দিকে আসছিলেন তখণ উপস্থাপক ফারজানা ব্রাউনিয়া বলছিলেন, একজন স্ত্রীর সাফল্যের পিছনে যেমন স্বামীর কৃতিত্ব থাকে, তেমনই একজন স্বামীর কৃতিত্বের পিছনেও স্ত্রীর কৃতিত্ব থাকে। ‘প্রিয়জন আপনজন’ গ্রন্থটি প্রিয়তমা স্ত্রী কনা রেজাকে উৎসর্গ করেছেন লেখক।

অনুষ্ঠানে কনা রেজার হাতে বইটির একটি কপি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন ফরিদুর রেজা সাগর। কনা রেজা বলেন, এই বইতে যাদের কথা লেখা হয়েছে তারা সবাই সত্যিকার অর্থে আমাদের পরিবারেরই অংশ। সবাই সাগরের জন্য দোয়া করবেন। ও যেন এভাবেই নিয়মিত লিখে যেতে পারে।

Image

 

বইটি আমাদের প্রকাশনা জগতের গুরুত্বপুর্ন অংশ হয়ে থাকবে

মাজাহারুল ইসলাম

একটি বই প্রকাশ হবে। তার জন্য কত যে আন্তরিক আয়োজন। দেশের শীর্ষ প্রকাশনা সংস্থা অন্য প্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বললেন সে কথা।

ফরিদুর রেজা সাগরের ‘প্রিয়জন আপনজন’ নামের এই বইটি আমাদের প্রকাশনা জগতের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপুর্ন অংশ হয়ে গেল। প্রায় ৪ মাস আগে ওয়েস্টিন এর মতো আরেকটি হোটেলের বলরুমে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কোনো বইয়ের প্রচ্ছদ উন্মোচন হয়েছে। এটি বাংলাদেশে ইতিপূর্বে আর হয়নি। একটি গুরুত্বপুর্ন কথা বলি। ফরিদুর রেজা সাগরের প্রিয় মানুষ যে কত সেটা আসলে সংখ্যায় প্রকাশ করাটা বেশ কঠিন। কিন্তু প্রকাশনার সীমাবদ্ধতার কারণে আমাদেরকে একটি জায়গায় এসে থামতে হয়েছে। ১০০ জনকে নিয়ে বইটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়। এই বইটির প্রচ্ছদ নিয়ে একটু বলি। প্রচ্ছদের ক্ষেত্রে আমরা সাধারনত কি করি? কাগজ, আর্ট পেপার, ম্যাট পেপার, আর্ট কার্ড দিয়েই মূলত: বইয়ের প্রচ্ছদ হয়। এই প্রথমবারের মতো একটি বইতে আমরা প্রচ্ছদে ব্যবহার করেছি চট। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সোনালী আঁশ... সেই সোনালী আশের চট দিয়ে বইটির প্রচ্ছদ করা হয়েছে।

ফরিদুর রেজা সাগরের ‘প্রিয়জন আপনজন’ শুধুমাত্র স্মৃতিচারণ মূলক গ্রন্থ নয়। এই বইয়ে এমন এমন কিছু গুণী মানুষের কথা আছে যাদের মাধ্যমে একটি সময়ের চিত্র, একটি জীবন দর্শন, একজন মানুষ কিভাবে বেড়ে উঠেছে, কিভাবে সমাজকে আলোকিত করেছে, কিভাবে সংস্কৃতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে সব ইতিহাস এই বইয়ে মলাট বন্দী হয়ে আছে।

ধন্যবাদ ফারজানা ব্রাউনিয়া

একজন উপস্থাপক হলেন একটি অনুষ্ঠানের গুরুত্বপুর্ন ব্যক্তি। তাকে এক অর্থে ক্যাপ্টেন অব দ্য শীপও বলা যায়। কারণ একজন উপস্থাপকের উপস্থাপনার গুণের ওপর অনুষ্ঠানটির ভালো মন্দ নির্ভর করে। ফরিদুর রেজা সাগরের ‘প্রিয়জন আপনজন’ এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক ছিলেন বিশিষ্ট উপস্থাপক ফারজানা ব্রাউনিয়া। উপস্থাপনার গুণে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি অনুষ্ঠানটিকে দারুণ প্রাণবন্ত করে রাখেন। অনেক শুভকামনা তার জন্য।

একনজরে

প্রিয়জন আপনজন

লেখক: ফরিদুর রেজা সাগর

প্রচ্ছদ: আফজাল হোসেন

প্রথম প্রকাশ: জুলাই ’২৪

গ্রন্থস্বত্ব: কনা রেজা

উৎসর্গ: কনা রেজাকে

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০৪

মূল্য: ৩০০০ টাকা

প্রকাশক: মাজহারুল ইসলাম

প্রকাশনা সংস্থা: অন্য প্রকাশ

বৈশিষ্ট্য: দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ১০০ জন গুণী মানুষের জীবনের কথা এবং তাকে ঘিরে সময়ের ইতিহাস পরম মমতায় তুলে ধরেছেন লেখক।

বিনোদন নিয়ে

লোড হচ্ছে...