
চলচ্চিত্র সমালোচনা
রইদ: রহস্যের আঁধারে আলোর আল্পনা সাধুদের জীবনে পাগলীরা বারবার আসে। নানা রূপে আসে। এটা ঘটে এসেছে। ঘটছে। এবং এভাবে ঘটতে থাকবে। নিঃসঙ্গ আদমের জীবনে হাওয়া আসুক, আর হাওয়া খুঁজে নিক রইদকে।

কাজী হায়াৎ এর ভাষায় দেশে এখন সিনেমা নাই। তবে নির্বাচন আছে। জমজমাট নির্বাচন। হ্যা, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির এবারের নির্বাচনও বেশ উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের একটি শীর্ষ সারীর দৈনিক পত্রিকায় শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের কিছু অংশ তুলে ধরছি।
সপ্তাহের অন্য দিনের তুলনায় শুক্রবার সকালের এফডিসি ছিল একেবারেই অন্যরকম। ছুটির দিনের স্বাভাবিক নীরবতা ভেঙে সকাল থেকেই মুখর হয়ে ওঠে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণ। প্রধান ফটক থেকে ভোটকেন্ত্র সবখানেই শিল্পীদের আনাগোনা, প্রাথীদের করমর্দন, ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভোট চাওয়া আর সমর্থকদের ব্যস্ততা। একদিকে সংবাদকর্মীদের দৌড়ঝাঁপ, অন্যদিকে ক্যামেরার ফ্ল্যাশে ধরা পড়ছে তারকাদের হাসিমুখ। কেউ সহশিল্পীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন, কেউ আবার সেলফিতে বন্দী করছেন দিনের স্মৃতি। নির্বাচনী উত্তাপ থাকলেও পুরো পরিবেশে ছিল উৎসবের আবহ। যেন ভোট নয়, দীর্ঘদিন পর চলচ্চ্রিত পরিবারের এক মিলনমেলা বসেছে এফডিসিতে। সকালের দিকে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও ভোটকেন্দ্রে ছিল উৎসবের আমেজ। ভোট দিতে আসা শিল্পীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছিলেন প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা।
বিএফডিসির প্রধান ফটকে দেখা যায় কার্যকরী পরিষদ সদস্য পদপ্রার্থী চিত্রনায়ক শিপন মিত্র ও চিত্রনায়িকা জলি ভোটারদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তাঁরা দুজনই শিবা সানু-জয় চৌধুরী পরিষদের প্রার্থী।
ভোটকেন্দ্রের প্রবেশমুখে ভোটারদের স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রুমানা ইসলাম মুক্তি ও চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী। তাঁদের সঙ্গে দেখা যায় কায়েস আরজু, কামরুজ্জামান কমল, সনি রহমান, রিনা খানসহ বিভিন্ন পদের প্রার্থীদের। শিল্পীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, ছবি তোলা এবং ভোট চাওয়ায় ব্যস্ত সময় কাটান তাঁরা।
সকাল পৌনে ১০টার দিকে ভোট দিতে এফডিসিতে আসেন অভিনেতা ডা. এজাজুল ইসলাম। এত সকালে ভোট দিতে আসার কারণ জানতে চাইলে স্বভাবসুলভ সাহ্যরসে তিনি বলেন, ডাক্তার পেশাতে আছি ভাই। ভোট দেওয়ার পর এজাজুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার আমার চেম্বারে অনেক বেশি রোগী থাকেন তাই সকাল সকাল আসতে হলো। প্রতিবারই আমি সকাল সকাল ভোট দিই। নির্বাচন নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন শেষ হোক। নির্বাচনের পর তো আমরা সবাই এক। কোনো বিভেদ না থাকুক।
ভোটকেন্দ্রের উৎসবের আবহে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন অভিনেতা শম্ভু সরকার সঞ্জয়। ব্যাান্ড পার্টি ও পালকি নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজনে ভোট দিতে এফডিসিতে হাজির হন তিনি। গেট দিয়ে ঢুকতেই পালকির শোভাযাত্রা ঘিরে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। মুহূর্তেই তাঁকে ঘিরে ধরেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

সোনালি রঙের পোশাক, কাঁধে শাল ও হাতে লাঠি নিয়ে ভোটকেন্দ্রের দিকে এগিয়ে যান তিনি। তাঁর অভিনব উপস্থতি ভোট দিতে আসা শিল্পী ও দর্শনার্থীদের বদৃষ্টি কাড়ে। ভোট দেওয়ার পর শম্ভু সরকার সঞ্জয় বলেন, শিল্পী সমিতির নির্বাচন মানেই উৎসব। প্রার্থীদের উৎসব, ভোটারদের উৎসব। তাই প্রতিবারই দিনটিকে ঘিরে আমার অনেক পরিকল্পনা থাকে। কখনো ঘোড়ার চড়ে, আবার কখনো সৈন্য নিয়ে ভোটকেন্দ্রে এসেছি। এবার এসেছি পালকি নিয়ে।
এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল। একটির সভাপতি পদে লড়ছেন ফাইট ডিরেক্টর ও প্রযোজক মকবুল হোসেন আরমান, সাধারণ সম্পাদক পদে চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি। অন্য প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী অভিনেতা শিবা সানু এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী।
শিবা-জয় প্যানেলে সহসভাপতি পদে ছিলেন রোজিনা ও ডি এ তায়েব। সহসাধারণ সম্পাদক পদে সুব্রত, সাংগঠনিক সম্পাদক সনি রহমান, আন্তর্জাাতিকবিষয়ক সম্পাদক পলি, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক জ্যাকি আলমগীর, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক মুসফেকুল জামিল এবং কোষাধ্যক্ষ পদে জাদু আজাদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
অন্যদিকে আরমান-মুক্তি প্যানেলে সহসভাপতি পদে ছিলেন নূতন ও ইলিয়াস কোবরা। সহসাধারণ সম্পাদক পদে রিনা খান, সাংগঠনিক সম্পাদক চুন্নু, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এম এ পারভেজ চৌধুরী আবীর, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক রাসেল মিয়া, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক মারুফ আকিব এবং কোষাধ্যক্ষ পদে কমল নির্বাচন করছেন। দুই প্যানেলের বাইরে ১০ জনের বেশি শিল্পী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও লড়েছেন।
এবারের নির্বাচনকে ঘিরে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শিল্পী সমিতির সদস্য হতে পাঁচটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের শর্ত থাকলেও এবার কম কাজ করা কয়েকজনকেও সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হলেও বিদায়ী সভাপতি মিশা সওদাগর জানিয়েছেন, চলচ্চিত্র নির্মাণ কমে যাওয়ায় কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্তে আপাতত দুটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ভিত্তিতে পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে গঠনতন্ত্র সংশোধরেনও পরিকল্পনা রয়েছে।
শিল্পী সমিতির সাবেক সভাপতি মিশা সওদাগরের কথা দিয়েই প্রসঙ্গটা তুলে ধরি। মিশা বলেছেন, এখন সেভাবে সিনেমা নির্মাণ হয় না তাই অভিনয়ের সুযোগ কম। সে কারণে ৫টি সিনেমার স্থলে ৩টি সিনেমায় অভিনয় করলেই শিল্পী সমিতির সদস্য হওয়া যায় এখন।
সময় বিবেচনায় মিশা সওদাগরের এই যুক্তি সঠিক। কিন্তু প্রশ্নটিতো থেকেই যায়, যেখানে সিনেমা নেই সেখানে কেন এতো জৌলুস পুর্ন নির্বাচন। অনেকের প্রশ্ন- বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন আসে নির্বাচন চলে যায়। শিল্পীদের ভাগ্যের কি কোনো পরিবর্তন হয়? প্রতিবারই শিল্পী সমিতির নির্বাচন এলে অনেক নতুন মুখ সমিতির সদস্য হন। তারা কেন সদস্য হন?
অভিনেতা ইলিয়াস কোবরা ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বললেন, আমাদের দেশে চলচ্চিত্র কী আসলেই আছে? আমরা সবাই একটা সময় ‘ওয়ানম্যান শো’ নামের সুগন্ধি মাখতাম। এখন আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে চলছে ওয়ানম্যাান শো’র কারবার। আমিই থাাকবো, আর কেউ থাকবে না। কেন ভাই? শুধু আপনিই থাকবেন? অন্যদের জন্য আপনার কোনো দায়-দায়িত্ব নাই? মহানায়ক রাজ্জাক ভাই, বুলবুল ভাই, সোহেল রানা ভাই,ওয়াসিম ভাই, জাভেদ ভাই, ফারুক ভাইকে দেখছি, তারা সবাই মিলেমিশে ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়েছে। এখন মিলে মিশে থাকার সেই মন মানসিকতা নাই। এইভাবে ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচানো যাবে না।
স্বয়ং মিশা সওদাগর বললেন, এই মুহূর্তে নায়ক হিসেবে শাকিব খান এবং ভিলেন হিসেবে আমি মিশা সওদাগর অভিনয় করে টাকা পাই। যা দিয়ে সংসার চালানো যায়। অনেকের সে সুযোগ নাই। এভাবে একটা ইন্ডাস্ট্রিতো এগুতে পারবে না। মিশা সওদাগর বললেন, সিনেমার বিকাশ ভাবনায় সামাজিক ভাবে কোনো আগ্রহ বা উদ্যোগ নাই। একটা সহজ সরল প্রশ্ন করি। কোনো সচিব অথবা মন্ত্রীর ছেলে অথবা মেয়েকে নাচ শিখতে দেখেন? অভিনয় করতে দেখেন? মন্ত্রী, সচিব অথবা আমলাদের পরিবারের ছেলে-মেয়েরা কি ফুটবল তারকা হতে চায়? তারা কি ক্রিকেটে আগ্রহী হয়? হয় না। এটাই নির্মম বাস্তবতা। যারা দেশের নেতৃত্বে থাকেন তাদের ছেলে-মেয়েরা যদি অভিনয় অথবা খেলাধুলায় আগ্রহী হতো তাহলে সবকিছু বদলে যেতো।
মিশা সওদাগরের কথায় হয়তো যুক্তি আছে। এটাতো সত্য, সেই করোনাকাল থেকে শুরু করে ২৪ এর গণঅভ্যূত্থান পরবর্তি সময়ে দেশের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণ এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ধর্মের কথা বলে একটি পক্ষ দেশে গান বাজনা, অভিনয় এমনকি মেয়েদের খেলাধুলার ক্ষেত্রেও একধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রেখেছে।
দেশে আগের মতো সিনেমা নির্মিত হচ্ছে না। কেন এই অবস্থা সংশ্লিষ্ট সকলে তা জানেন। কিন্তু সংকট উত্তরণের পথ খোঁজার কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। এফডিসি মূলত: সিনেমা নির্মাণের মুল কেন্দ্র স্থল। এফডিসিতে আধুনিক ভবন নির্মিত হয়েছে, হচ্ছে। কিন্তু চলচ্চিত্র নির্মাণের আধুনিক ভাবনা, সমন্বিত উদ্যোগ তেমন চোখে পড়ছে না। দেশের প্রতিটি জেলা শহরে একটি করে আধুনিক সিনেপ্লেক্স নির্মাণের দাবী বহুদিন ধরে করে আসছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিগত সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে এব্যাপারে আশ্বাস মিলেছিল। কিন্তু আশ্বাসের বিশ্বাস গুরুত্ব পায়নি কখনও। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন সভাপতি শিবা শানু বলেছেন, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমরা চলচ্চিত্র শিল্পীরা একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। দেশে আগের মতো সিনেমা নির্মিত হচ্ছে না। শিল্পীদের কাজ কমে গেছে। আমরা অচিরেই এব্যাপারে সাংগঠনিক পর্যায়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেব বলে আশা রাখি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি একটি আরজি করতে চাই। তিনি দেশের বিভিন্ন সেক্টরের মানুষের জন্য বিশেষ কার্ডের ব্যবস্থা করেছেন। আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পীদের জন্যও এরকম কার্ডের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
সংগঠনের নতুন সভাপতি হিসেবে শিবা শানু যথার্থই বলেছেন। কিন্তু একটা কথা মনে রাখতে হবে প্রতিভার বদলে যখন দুঃস্থ শব্দটি গুরুত্ব পায় তখন শিল্পের উত্তরণ সম্ভব নয়। চলচ্চিত্র শিল্পকে বাঁচাতে হলে চলচ্চিত্রের নির্মাণ ধারার গতি বাড়াতে হবে। এজন্য আধুনিক সিনেমা হলের বিকল্প নাই। দেশে একসময় ১৩০০ সিনেমা হল ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা ৬০/৭০ এ নেমে এসেছে। অনেক বিভাগীয় শহরেও সিনেমা হল নাই। ধাক্কাটা এখানেই দিতে হবে।
শিল্পী সমিতির নতুন নেতৃত্বকে আনন্দ আলো পরিবারের পক্ষ থেকে স্বাগত জানাই। পাশাপাশি একটি অনুরোধ রাখতে চাই- শিল্পীদের নামের পাশে ‘দুঃস্থ’ শব্দটি যাতে যুক্ত না হয় সে ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিন। ঈদ কেন্দ্রিক সিনেমার বাইরে সারা বছর সিনেমা নির্মাণ ও তা প্রদর্শনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুণ। তাহলেই একটা কাজের কাজ হবে।
বাংলা সিনেমা জয় হোক।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি
শিবা শানু সভাপতি জয় চৌধুরী সাধারন সম্পাদক
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন অভিনেতা শিবা শানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন অভিনেতা জয় চৌধুরী। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দুজন একই প্যানেলের হয়ে লড়েছিলেন।
নির্বাচনে ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন ভোট দেন। ভোট গণনা শেষে ১৭টি ব্যালট বাতিল ঘোষণা করা হয় বলে জানায় নির্বাচন কমিশন।
ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে শিবা শানু পেয়েছেন ২৪৩ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইট ডিরেক্টর ও অভিনেতা আরমান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে ২৩৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন জয় চৌধুরী। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রুমানা ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট।
এ ছাড়া সহসভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ডি এ তায়েব ও ইলিয়াস কোবরা। হেরেছেন দুই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী নূতন ও রোজিনা। সহসাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন সুব্রত, হেরে গেছেন রিনা খান।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন সনি রহমান। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন পারভেজ চৌধুরী আবির। দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন জ্যাকি আলমগীর। সাংস্কৃতিক ও ক্রিয়া সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মারুফ আকিব। কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন কামরুজ্জামান কমল।
‘ভোট শেষে কোর্ট-কাছারি নয়’, সবাই মিলে কাজের আহ্বান আবুল হায়াতের।
এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত ১১ জন হলেন আলী রাজ, কাবিলা, কায়েস আরজু, জেসমিন, নাসরিন, ফরহাদ, শিপন মিত্র, রাকা, চিকন আলী, শিরিন শিলা ও সুশান্ত।
এবারের নির্বাচনকে ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিএফডিসিতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেলের মধ্যে ছিল মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একদিকে ছিলেন আরমান-মুক্তি পরিষদ, অন্যদিকে শিবা শানু-জয় চৌধুরী পরিষদ।
কর্মহীন সংকট দূর করতে চাই
শিবা শানু, সভাপতি
হঠাৎ করে সিনেমার সংকট দুর করা যাবে না। তাছাড়া সবার সমস্যা তো একই রকম নয়। একেকজনের সমস্যা একেক রকম। তবে মেজর যেটা হচ্ছে, আমরা ম্যাক্সিমাম শিল্পী কর্মহীন। কর্মহীন মানুষের কষ্টটা কোথায়? সংকটটা কি? তা সহজেই উপলব্দি করা যায়। চলমান সংকটটা যাতে লাঘব করা যায়, কিছুটা সাপোর্ট দেয়া যায় সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করবো।
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...

রইদ: রহস্যের আঁধারে আলোর আল্পনা সাধুদের জীবনে পাগলীরা বারবার আসে। নানা রূপে আসে। এটা ঘটে এসেছে। ঘটছে। এবং এভাবে ঘটতে থাকবে। নিঃসঙ্গ আদমের জীবনে হাওয়া আসুক, আর হাওয়া খুঁজে নিক রইদকে।

আমি চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে চেয়েছিলাম। আমাকে যে প্রস্তাবটা দেওয়া হয়েছিল সেটা এমন- ছবির প্রথম অংশের নায়িকা ববিতা। তখন চলচ্চিত্রে তরুণদের ক্রাশ তিনি। দ্বিতীয় অংশের নায়িকা টেলিভিশনের জনপ্রিয় শিল্পী সুবর্না, ...

প্রয়াত নাট্যজন হুমায়ূন ফরীদিকে নিয়ে কথা বলছিলেন তাঁর বন্ধুরা- ফরিদুর রেজা সাগর, ইমদাদুল হক মিলন ও আফজাল হোসেন। তাঁদের কথা শুনছিলেন মাহফুজ আহমেদ, আমীরুল ইসলাম, আফসানা মিমি, অনিমা রায়,

শহীদুজ্জামান সেলিম, ব্যাপক আলোচিত অভিনেতা, নির্মাতা ও সংগঠক। ডিরেক্টরস গিল্ডের বর্তমান সভাপতি তিনি। টিভি নাটকের পাশাপাশি সিনেমাতেও দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাই বলে ‘এলাম আর জয় করলাম’

ঢাকাই চলচ্চিত্রে যুগে যুগে নায়ক এসেছেন, গেছেন। কেউ কয়েক বছর আলো ছড়িয়েছেন, কেউ এক যুগ রাজত্ব করেছেন, আবার সময়ের স্রোতে হারিয়েও গেছেন। কিন্তু একটা নাম দুই যুগের বেশি সময় ধরে বারবার ফিরে এসেছে দর্শকের মুখে

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বার্ষিক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে অতি সম্প্রতি নন্দিত লেখক, পরিচালক হুমায়ূন আহমেদের কর্মময় জীবন নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। হুমায়ূনের সিনেমার প্রদর্শনীর পাশাপাশি

বাংলাদেশে ফুটবলকে বিষয় করে মাত্র দুটি সিনেমা নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদুর রেজা সাগরের লেখা কাহিনী অবলম্বনে রায়হান রাফি পরিচালিত ‘দামাল’ ব্যাপক আলোচিত সিনেমা। ইমপ্রেস প্রযোজিত এই সিনেমাটি শুধু ফুটবল নয় ফুটবলকে

শিল্পী মানেই ভালোবাসা আর সম্মানের কাঙাল। জীবনে কখনোই অর্থ-বিত্তের হিসাব করিনি, চেয়েছি শুধু মানুষের ভালোবাসা। সেই ভালোবাসাই আমাকে আজকের আমি বানিয়েছে। পরিবার, দেশের মানুষ, দেশের বাইরে ছড়িয়ে