Ad space

আবারও বিয়ে করলেন সোহানা সাবা

প্রকাশ:
15
Image

নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মুরাদ পারভেজের সঙ্গে প্রায় ১০ বছরের সংসার ছিল সোহানা সাবার। সেই সংসারে তাঁদের একটি সন্তান রয়েছে। বিচ্ছেদের পর ব্যক্তিগত জীবনে নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছেন তিনি। ধীরে ধীরে নিজেকে সামলে নিয়ে নতুন করে জীবন গুছিয়েছেন। এরই মধ্যে পরিচয় হয় ফয়সালের সঙ্গে।

সোহানা সাবা জানান, ফয়সালের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল সাড়ে পাঁচ বছরের। সেই সম্পর্কের পর তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তবে বিয়ের দিন-তারিখ প্রকাশ করতে চাননি তিনি। শুধু জানিয়েছেন, দেড় বছরের বেশি সময় আগে নিজেদের বাসায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

বিয়ের পর কেমন কাটছে জীবন, কথা প্রসঙ্গে সোহানা সাবা বলেন, ‘আমার স্বামী, আমরা ভালো আছি। সাড়ে পাঁচ বছরের সম্পর্ক। বিয়ে অনেক আগে হয়েছে। দিন-তারিখ বলতে চাই না। আমার ছেলে অনেক খুশি।’

Image

স্বামীর পরিচয় প্রসঙ্গে শুরুতে নাম প্রকাশ করতে চাননি সাবা। বলেছিলেন, ‘নাম না বলি, পেশায় সে ব্যবসায়ী। সে তাঁর অঙ্গনে বিখ্যাত।’ পরে কথার এক পর্যায়ে স্বামীর নাম ফয়সাল বলে জানান তিনি। তবে এর বেশি কিছু জানাতে চাননি।

ফয়সালের সঙ্গে সম্পর্কের শুরু ও বিয়ের সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে কথা বলেছেন সোহানা সাবা। তিনি বলেন, ‘মনে হয়েছে, এই মানুষটার জন্যই অপেক্ষা করেছি এত দিন, প্রথম দেখাতেই। কিন্তু তাকে বা কাউকে সেটা বুঝতে দিইনি। সে-ই আমাকে নক করে ভালোবাসার কথা যখন জানায়, তখন তাকে “হ্যাঁ” বলেছি।’ বিয়ের খবরটি সোহানা সাবার ছেলে ইতিবাচকভাবে নিয়েছে বলে জানান তিনি। মায়ের নতুন জীবনের সঙ্গীকে ছেলে পছন্দ করেছে এবং বিয়ের খবরে সে বেশ খুশিও।

টেলিভিশন নাটকের অভিনয়শিল্পী সাবা একটা সময় বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন। চলচ্চিত্রের মিষ্টি মেয়েখ্যাত কবরী পরিচালিত ‘আয়না’ ছবির শুটিং দিয়ে তাঁর বড় পর্দার জীবন শুরু হয়। তবে মুক্তির দিক দিয়ে মোরশেদুল ইসলামের ‘খেলাঘর’ এগিয়ে ছিল। ‘খেলাঘর’ মুক্তির পরের মাসে মুক্তি পায় ‘আয়না’। এরপর একে একে অভিনয় করেছেন ‘চন্দ্রগ্রহণ’, ‘প্রিয়তমেষু’, ‘বৃহন্নলা’ ও ‘অসম্ভব’ ছবিতে। ভারতে কাজ করেছেন ‘ষড়্‌রিপু’, ‘এপার-ওপার’ এবং আরেকটা নাম ঠিক না হওয়া সিনেমার। আফজাল হোসেন পরিচালিত ‘মানিকের লাল কাঁকড়া’ সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন সাবা।

Image

সালমান শাহ

ডন গ্রেফতার আবারও আলোচনায় সালমান শাহ’র মৃত্যু

চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুর ঘটনায় তার বন্ধু অভিনেতা ডনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ফলে ২৯ বছর পর আবারও এই মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারেই বদলে দিয়েছিলেন ঢাকাই সিনেমার চিত্র। কোটি দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন ক্ষণজন্মা নায়ক সালমান শাহ। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে বিদায় নেন তিনি। মৃত্যুর ২৯ বছর পার হলেও প্রশ্ন থেকে গেছে-আত্মহত্যা নাকি হত্যা?

চিত্রনায়ক সালমান শাহ তখন থাকতেন রাজধানী ঢাকার নিউ ইস্কাটন রোডের ইস্কাটন প্লাজার একটি ফ্ল্যাটে। সেদিন সকাল সাতটায় বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ছেলে শাহরিয়ার চৌধুরী ইমনের সঙ্গে দেখা করতে ইস্কাটনের বাসায় যান। কিন্তু ছেলের দেখা না পেয়ে তিনি ফিরে আসেন। সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী বলেন, বাসার নিচে দারোয়ান সালমান শাহর বাবাকে তাঁর ছেলের বাসায় যেতে দিচ্ছিলেন না। নীলা চৌধুরীর বর্ণনা ছিল এ রকম, ‘বলেছে, স্যার এখন তো ওপরে যেতে পারবেন না। কিছু প্রবলেম আছে। আগে ম্যাডামকে (সালমান শাহর স্ত্রীকে) জিজ্ঞেস করতে হবে। একপর্যায়ে উনি (সালমান শাহর বাবা) জোর করে ওপরে গেছেন। কলবেল দেওয়ার পর দরজা খুলল সামিরা (সালমান শাহর স্ত্রী)। উনি (সালমান শাহর বাবা) সামিরাকে বললেন, “ইমনের (সালমান শাহর ডাকনাম) সঙ্গে কাজ আছে, ইনকাম ট্যাক্সের সই করাতে হবে। ওকে ডাকো।” তখন সামিরা বলল, “ও তো ঘুমে।” তখন উনি বললেন, “ঠিক আছে আমি বেডরুমে গিয়ে সই করিয়ে আনি।” কিন্তু যেতে দেয়নি। আমার হাজব্যান্ড ঘণ্টা দেড়েক বসে ছিল ওখানে।

Image

বেলা ১১টার দিকে একটি ফোন আসে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর বাসায়। ওই টেলিফোনে বলা হলো, সালমান শাহকে দেখতে হলে তখনই যেতে হবে। টেলিফোন পেয়ে নীলা চৌধুরী দ্রুত ছেলে সালমান শাহর বাসার দিকে রওনা হয়েছিলেন। তবে সালমানের ইস্কাটনের বাসায় গিয়ে ছেলে সালমান শাহকে বিছানার ওপর দেখতে পান নীলা চৌধুরী। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘খাটের মধ্যে যেদিকে মাথা দেওয়ার কথা, সেদিকে পা। আর যেদিকে পা দেওয়ার কথা সেদিকে মাথা। পাশেই সামিরার (সালমান শাহর স্ত্রী) এক আত্মীয়র একটি পারলার ছিল। সেই পারলারের কিছু মেয়ে ইমনের হাতে-পায়ে শর্ষের তেল দিচ্ছে। আমি তো ভাবছি ফিট হয়ে গেছে। আমি দেখলাম, আমার ছেলের হাত-পায়ের নখগুলো নীল। তখন আমি আমার হাজব্যান্ডকে বলেছি, আমার ছেলে তো মরে যাচ্ছে।’

ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বলা হয়, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন। তবে বিষয়টি এখনো বিচারাধীন। সালমানের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে না পারায় তাঁর ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয় নানা প্রশ্নের।

মাত্র ২৫ বছরের জীবন, চার বছরের ক্যারিয়ার। এর মধ্যেই তিনি বদলে দিয়েছিলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের গতিপথ। হয়েছিলেন কোটি ভক্তের হৃদয়ের নায়ক। আজও দর্শকেরা বলেন, বাংলা সিনেমার ইতিহাসে যদি ক্ষণজন্মা কোনো নায়কের নাম লেখা হয়, তবে সবার আগে আসবেন সালমান শাহ।

৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ‘প্রেম পিয়াসী’ ছবির ডাব করতে এফডিসিতে গিয়েছিলেন সালমান শাহ। সেখানে ডাবিংয়ের জন্য আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন এই ছবির নায়িকা শাবনূর। এফডিসিতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর সালমান বাবাকে ফোন করে বলেন, তাঁর স্ত্রী সামিরাকে নিয়ে এফডিসির সাউন্ড কমপ্লেক্সে আসার জন্য।

Image

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করেন তাঁর বাবা কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ বলে উল্লেখ করা হয়। সিআইডির প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে সালমান শাহর বাবা ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করেন। ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হয়। এ আদেশের প্রায় ১২ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এতেও সালমান শাহর মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ২০১৫ সালের ১৯ এপ্রিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবার রিভিশন আবেদন করেন নীলা চৌধুরী। ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

সালমানের মৃত্যু নিয়ে ২৯ বছর পর নতুন বিতর্ক, যা বললেন শাবনূর

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর তাঁকে ঘিরে নতুন করে ছড়ানো বিভিন্ন বক্তব্যে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়িকা শাবনূর। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী রিজভী আহমেদ নামের এক ব্যক্তির ‘ব্ল্যাকমেল’, প্রেম ও বিয়েসংক্রান্ত দাবিগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলেছেন তিনি। শাবনূরের ভাষ্য, সালমান শাহ তাঁর প্রিয় সহশিল্পী ও বড় ভাইয়ের মতো ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে শাবনূরের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে কথা বলেন শাবনূর। তাঁর সঙ্গে কখনো সরাসরি দেখা না হলেও রিজভী কেন এসব দাবি করছেন, সেটিই বুঝতে পারছেন না এই অভিনেত্রী।

শাবনূর বলেন, ‘১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ওই লোককে আমি কখনো সামনাসামনি দেখিইনি। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে আমি যুক্তরাজ্যেও যাইনি। অথচ সে দাবি করছে, ওই সময় নাকি আমাদের বিয়ে ও বিচ্ছেদ হয়েছে! তার এসব কথা শুনে মনে হচ্ছে, আমার সঙ্গে তার বাস্তবে কোনো বিয়ে হয়নি, হয়তো শুধু “স্বপ্নের বাসর” হয়েছিল।’ কথাটি বলেই কিছুক্ষণ হাসেন তিনি।

সম্প্রতি দুটি পৃথক সাক্ষাৎকারে রিজভী আহমেদ দাবি করেন, শাবনূর নাকি সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেল করতেন। নিজের সঙ্গে শাবনূরের সম্পর্ক নিয়েও দুই রকম বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে বলেন, শাবনূরকে মনে মনে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। আরেক সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, ২০১৬ সালে নাকি তাঁদের বিয়েই হয়েছিল।

রিজভীর এসব বক্তব্যের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে শাবনূর বলেন, একই ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছে। কখনো বলছে সে রাজসাক্ষী, কখনো বলছে সালমান আত্মহত্যা করেছে, আবার কখনো বানিয়ে বানিয়ে আমার সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলছে। কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে বা কারও প্ররোচনায় পড়ে সে এসব মিথ্যা কথা ছড়াচ্ছে।

সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় ১৯৯৭ সালে রাজসাক্ষী হয়েছিলেন রিজভী আহমেদ। তবে সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন। এ জন্য সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ও শাবনূরকে দায়ী করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে শাবনূর বলেন, সালমান শাহ আমার প্রিয় সহশিল্পী ছিলেন, বড় ভাইয়ের মতো ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র কোনো সম্পর্ক ছিল না। এত বছর পর একজন মানুষ একেক সময় একেক কথা বলে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা গল্প ছড়াবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টও দিয়েছেন শাবনূর। সেখানে রিজভীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করার পর অনেক অনুরাগী তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। পোস্টটির নিচে হাজারো মন্তব্য জমা পড়েছে।

শাকিল আহমেদ নামের এক অনুরাগী লিখেছেন, ধন্যবাদ প্রিয় অভিনেত্রী, সত্যটা উপস্থাপন করার জন্য। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সালমান শাহ হত্যাকা-ের সষ্ঠু বিচার হোক। শেখ শামীমের মন্তব্য, বিনা পাসপোর্টে বিমান ভাড়া করে যুক্তরাজ্যে যাওয়া কিংবা অবাস্তব সব বিয়ের গল্প ফেঁদে বসা শুনেই বোঝা যায়, এসব নিছক বানোয়াট গালগল্প। এমন অপপ্রচারে বিচলিত হবেন না।

মোস্তাফিজুর রহমান মানিক লিখেছেন, ‘একজন মানসিক রোগীর কথা বিবেচনায় নেওয়া অবান্তর।’ মারিয়া আকতার নামের আরেক অনুরাগী লিখেছেন, ‘ওই লোকটা মনে হয় মানসিক রোগী। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।’

শাবনূরের এই বক্তব্যের দিনই সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি, খল চরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাঁকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে সালমান শাহর। মাত্র সাড়ে তিন বছরের অভিনয়জীবনে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে ঢালিউডে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে প্রায় তিন দশক ধরে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে।

সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর গত বছর আদালত হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেন। তাঁর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে মামলাটি করেন তাঁর ভাই আলমগীর কুমকুম। রাজধানীর রমনা থানায় করা মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডন হক, রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।

সালমান শাহর অকালমৃত্যু এখনো তাঁকে ব্যথিত করে জানিয়ে শাবনূর বলেন, আমি চাই, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হোক। এই ঘটনায় প্রকৃত দোষী যারা, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

প্রযোজকদের ভোটাধিকার হরণ করছে কারা

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির নির্বাচন নিয়ে জটিলতা কাটছেই না। নির্বাচনে একই ব্যক্তির বারবার প্রার্থী হওয়ার বিষয় নিয়ে গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সিনেমার মাদার অর্গানাইজেশনখ্যাত এ সংগঠনটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে স্বৈরাচার হাসিনার পক্ষ নিয়ে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে দাঁড়িয়েছিলেন প্রযোজক খোরশেদ আলম খরসরুসহ সিনেমা জগতের অনেকে। অভিযোগ আছে, এ খসরুই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে প্রধান বাধা। সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, পরপর তিন মেয়াদ কার্যনির্বাহী কমিটিতে নির্বাচিত হওয়ার পর একজন ব্যক্তি পরবর্তী এক মেয়াদে নির্বাচন করতে পারবেন না, এমন বিধান বিদ্যমান ছিল। বর্তমানে ট্রেড অর্গানাইজেশনের আইন ২০২৫-এর ১৮(ক) অনুযায়ী পরপর দুই মেয়াদে কার্যকরী কমিটিতে থাকা কেউ এক মেয়াদ বিরতি দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। কিন্তু সমিতির ২০০৫-০৭, ২০০৮-১০, ২০১১-১৩ কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনে প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু ও শামসুল আলম পরপর টানা ৩ মেয়াদে নির্বাচিত হন। এ কারণে পরবর্তী এক মেয়াদে তাদের নির্বাচন থেকে বিরত থাকার বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু তা তারা মানেননি। ২০১৪-১৬ মেয়াদেও তারা নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন। ওই সময় নির্বাচন কমিশনার তাদের অবৈধ ঘোষণা করেন এবং আপিল কমিশনেও তাদের প্রার্থিতা অবৈধ হিসাবে গণ্য হয়। পরে খোরশেদ আলম খসরু উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন (নাম্বার ৭২৬৪/২০১৪) মামলা করেন এবং প্রার্থিতা ফিরে পান। একই সময় তৎকালীন সভাপতি প্রার্থী কেএমআর মঞ্জু আদালতের এ আদেশের চ্যালেঞ্জ করলে উচ্চ আদালত আবারও তা আমলে নিয়ে খসরুদের প্রার্থিতা বাতিল করেন। তবে তৎকালীন নির্বাচন কমিশনার এসব বিবাদের কারণে নির্বাচন স্থগিত করেন। এরপর নাছির উদ্দীন আহমেদ নামে এক প্রযোজক খসরু ও সামছুল আলমের প্রার্থিতার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন (নাম্বার ৫৯৯৬/২০১৬) দায়ের করেন। উচ্চ আদালত প্রায় দুবছর শুনানির পর খসরু ও শামসুল আলমের বিরুদ্ধে একটি আদেশ প্রদান করেন। সেটি হলো, ‘কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ যাই হোক না কেন, এ আদেশ জারির পর কোনো ব্যক্তি ওই কমিটিতে প্রতি মেয়াদের জন্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে একনাগাড়ে ছয় বছরের জন্য নির্বাচিত হইলে, তিনি ওই ছয় বছর শেষ হওয়ার পরবর্তী দুবছর নির্বাচনে প্রার্থী হইতে পারবেন না।’

এরপর ২০১৯-২০২১ মেয়াদে সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এ নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আদালতের পূর্ববর্তী আদেশ ও প্রযোজক নাছির উদ্দীনের মামলার বিষয়টি গোপন রেখেই ওই সময় নির্বাচনে খসরু ও সামছুল আলম অংশগ্রহণ করেন এবং সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। এর ১৫ মাস পর অভিনেতা ও প্রযোজক জায়েদ খান ট্রেড অর্গানাইজেশনের মহাপরিচালকের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ও পর্যালোচনার পর সেসময় পুরো কমিটি বাতিল করে সরকার প্রযোজক সমিতিতে প্রশাসক নিয়োগ করে। পরবর্তী সময়ে প্রশাসক ২০২২-২৪ মেয়াদের নির্বাচন ঘোষণা করেন। কিন্তু এ নির্বাচনেও খোরশেদ আলম খসরু ও শামসুল আলম প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দাখিল করেন। যথারীতি নিয়মানুযায়ী নির্বাচন কমিশন তাদের মনোনয়ন বাতিল করেন। এরপর তারা আপিল কমিশন আবেদন করেন। আপিল বোর্ডও তাদের মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশ বহাল রাখে। পরবর্তী সময়ে তারা এফবিসিসিআইয়ের ট্যাইবুনালে আবেদন করেন। ট্যাইবুনাল শর্তসাপেক্ষে তাদের আবেদন মঞ্জুর করেন, কিন্তু নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান এসব জটিলতার জন্য ২০২২ সালের ১৭ আগস্ট নির্বাচন স্থগিত করেন। খোরশেদ আলম খসরু প্রায় এক মাস পর উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন (নাম্বার ১০৫১৯/২২) করেন। এ মামলার মাধ্যমে তিনি তার প্রার্থিতা ফিরিয়ে আনেন।

এদিকে সমিতির বর্তমান প্রশাসক ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন ঘোষণা করলে যথারীতি এ দুজন আবারও প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দাখিল করেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন খোরশেদ আলম খসরু ও শামসুল আলমের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করেন। পরবর্তী সময়ে আপিল বোর্ড তাদের বৈধ প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করে। কিন্তু আপিল কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবারের নির্বাচনের উজ্জ্বল-লিপু পরিষদের সভাপতি প্রার্থী জনপ্রিয় অভিনেতা ও প্রযোজক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল দুবার শুনানির পর উচ্চ আদালতে করা ২০২২-এর একটি রিট পিটিশন (নং ১০৫১৯, যা অকার্যকর) রায়ের আলোকে সিদ্ধান্ত মুলতবি রাখেন। এরপর ন্যায়বিচারের স্বার্থে উজ্জ্বল উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন (আবেদন নং ১০৮৫৬)। উভয়পক্ষের আইনজীবীর শুনানি শেষে উচ্চ আদালত পূর্ববর্তী মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন দুই মাসের জন্য স্থগিত রাখার অন্তর্বর্তী আদেশ প্রদান করেন।

এ অবস্থায় এসে এবারের নির্বাচন বন্ধের জন্য উজ্জ্বল-লিপু পরিষদের প্রতি অভিযোগের তির ছুড়েন খসরু ও সামছুল আলম পরিষদের প্রার্থীরা। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টির ব্যাখ্যা করে অভিযোগের জবাব দিয়েছে উজ্জ্বল-লিপু পরিষদ। এ সময়ে উজ্জ্বল বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, একটি বাণিজ্যিক সংগঠনের নির্বাচন শুধু ভোটগ্রহণের বিষয় নয়; বরং এটি সংগঠনের গঠনতন্ত্র, আইন, সদস্যদের আস্থা এবং সুশাসনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। আমাদের মতে, সমিতির গঠনতন্ত্রে কার্যনির্বাহী কমিটিতে সদস্য হিসাবে ধারাবাহিক মেয়াদসংক্রান্ত যে বিধান রয়েছে, তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন। এ বিধানের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়েই বর্তমানে বিভিন্ন আইনগত প্রশ্ন এবং বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমাদের জ্ঞাত তথ্যমতে, অতীতে বিভিন্ন নির্বাচন, ভোটার তালিকা, প্রার্থিতা এবং গঠনতন্ত্রের ব্যাখ্যা নিয়ে একাধিক মামলা ও রিট আবেদন দায়ের হয়েছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালত ও কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন এবং কিছু বিষয় এখনো বিচারাধীন রয়েছে। বিশেষ করে, ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচনে দুজনের প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও আপিল কমিশনের ভিন্নমুখী সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি নিয়ে এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়। ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় আমরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হই। আমাদের দায়েরকৃত আবেদনের (আবেদন নং ১০৮৫৬) শুনানি শেষে উচ্চ আদালত উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে পূর্ববর্তী মামলাগুলোর নিষ্পত্তির আলোকে দুমাসের জন্য নির্বাচন স্থগিতের আদেশ প্রদান করেছেন। আমরা আদালতের এ আদেশকে সম্মান জানাই এবং বিশ্বাস করি, বিচারাধীন বিষয়গুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভবিষ্যতে অপ্রয়োজনীয় আইনগত জটিলতা ও সাংগঠনিক বিরোধ এড়ানো সম্ভব হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আবার স্পষ্ট করতে চাই, আমাদের এ বক্তব্য কোনো ব্যক্তি বা প্রার্থীর বিরুদ্ধে নয়। আমরা শুধু একটি আইনসম্মত, স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য এবং গঠনতন্ত্রসম্মত নির্বাচন নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। আমরা সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশন, আপিল কমিশন, এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনাল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং আদালতের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে আশা করি, প্রযোজ্য আইন ও গঠনতন্ত্রের আলোকে সব প্রশ্নের নিষ্পত্তি হবে এবং পরবর্তী সময়ে একটি অংশগ্রহণমূলক ও বিতর্কমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

এসময় উজ্জ্বল-লিপু পরিষদের পক্ষ সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী কামাল মোহাম্মদ কিবরিয়া লিপু প্রশ্ন তোলেন, ‘অভিযোগকারী প্রার্থীগণ ২০০৫-০৭, ২০০৮-১০, ২০১১-১৩ ও ২০১৯-২১ মেয়াদে কার্যকর কমিটিতে ছিলেন। তাহলে এফবিসিসিআই-এর ২০২৫ ১৮(ক) ধারা কেন অমান্য করে তারা বারবার প্রার্থী হচ্ছেন? যতদিন পর্যন্ত তারা এ পদ পরিহার না করবেন, তত দিন পর্যন্ত একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’

খবর প্রতিদিন নিয়ে

লোড হচ্ছে...