
চলচ্চিত্রটি হিট হওয়ার পরেও পারিশ্রমিকের দেখা পায় নাই
বাংলাদেশে চলচ্চিত্র নির্মাণের শুরু থেকেই কাজ করিয়ে অনেক শিল্পী ও নির্মাতাকে পারিশ্রমিক না দেওয়ার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। পরিচালকরা দেন না শিল্পীকে আর অনেক প্রযোজক বকেয়া রাখেন পরিচালকের পারিশ্রমিক...

দেশের এভিয়েশন খাতে বড় ধরনের সম্প্রসারণের পথে এগোচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। আগামী দিনে বহরে নতুন করে ২১টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা, এয়ার কার্গো ব্যবসায় প্রবেশ এবং দক্ষ জনবল তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে বেসরকারি এই বিমান সংস্থাটি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দূরপাল্লার গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য নতুন প্রজন্মের ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে।
ইউএস-বাংলা গ্রুপ ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন মনে করেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত এখন এমন এক পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে সঠিক নীতি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে আগামী এক দশক হতে পারে এ খাতের ‘স্বর্ণালি দশক’। তাঁর মতে, দেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথের বাজারের বড় অংশ এখনো বিদেশি এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণে। ফলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। দেশীয় বিমান সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো গেলে একদিকে যেমন এই অর্থের বড় অংশ দেশে রাখা সম্ভব, অন্যদিকে কর্মসংস্থান, পর্যটন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগেও তৈরি হবে নতুন গতি।
আবদুল্লাহ আল মামুনের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে আকাশপথে যাত্রী পরিবহনের বাজারের আকার বছরে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশীয় দুই বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস মিলিয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ বাজার ধরে রেখেছে। আর্থিক হিসাবে যার পরিমাণ প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। বাকি প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বাজার বিদেশি এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তুলনা করলে এই চিত্রকে তিনি বাংলাদেশের জন্য বড় একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, সাধারণত একটি দেশের আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন বাজারের অন্তত অর্ধেক দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকে। বাংলাদেশে সেই অবস্থান এখনো তৈরি হয়নি। তাই দেশীয় এয়ারলাইনসের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাজারের একটি বড় অংশ দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নতুন ২১টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে ইউএস-বাংলার আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের পরিধি অনেকটাই বাড়বে। দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে ভারতের কলকাতা, চেন্নাই ও মালদ্বীপে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদ, নেপালের কাঠমান্ডু এবং শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় নতুন ফ্লাইট চালু করা হবে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বর্তমানে ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর ও সিঙ্গাপুর রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পর এসব গন্তব্যে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্রুনেই এবং মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু ও পেনাংয়ে নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

পূর্ব এশিয়ার বাজারেও বড় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে চীনের গুয়াংজুতে ফ্লাইট পরিচালনা করছে সংস্থাটি। নতুন পরিকল্পনায় গুয়াংজুতে ফ্লাইট বাড়ানোর পাশাপাশি কুনমিং, শেনজেন ও বেইজিংয়ে ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ রয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বাজারেও প্রবেশ করতে চায় ইউএস-বাংলা।
মধ্যপ্রাচ্যের বাজারেও সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহ, সৌদি আরবের জেদ্দা ও রিয়াদ, কাতারের দোহা এবং ওমানের মাসকাট রুটে ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন গন্তব্য হিসেবে কুয়েত, সৌদি আরবের মদিনা ও দাম্মাম এবং ওমানের সালালায় ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক সম্প্রসারণে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না ইউএস-বাংলা। চট্টগ্রাম ও সিলেটকে আন্তর্জাতিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। এর পেছনে রয়েছে এসব অঞ্চলের মানুষের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ধরন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের বড় একটি অংশ চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের।
আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৭০ শতাংশ যাত্রী বিদেশি তিনটি এয়ারলাইনস পরিবহন করছে। নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য চট্টগ্রামে চারটি এবং সিলেটে দুটি বোয়িং উড়োজাহাজ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য কারিগরি কাজও সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরগুলোতেই করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এতে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।
তবে সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশের এভিয়েশন খাতের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে ইউএস-বাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের। তাঁর মতে, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, নীতিগত সহায়তার ঘাটতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা এ খাতের অন্যতম বড় বাধা।
বিশেষ করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, বর্তমানে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি কার্যত একটি রানওয়ের ওপর নির্ভরশীল এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর বয়সও অনেক বেশি। ভবিষ্যতের যাত্রী ও কার্গো চাহিদা বিবেচনায় ঢাকার কাছাকাছি নতুন একটি বিমানবন্দর নির্মাণের বিষয়টি এখন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
দেশীয় এয়ারলাইনসের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা নিয়েও তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোতে ল্যান্ডিং, পার্কিং, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন ধরনের মাশুল পার্শ্ববর্তী অনেক দেশের তুলনায় বেশি। এর সঙ্গে যাত্রীদের ভ্রমণ কর, এক্সাইজ ডিউটি ও বিমানবন্দর চার্জ যুক্ত হওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমানভাড়া তুলনামূলক বেশি থাকে।
তবে তিনি কোনো বিশেষ সুবিধা দাবি করছেন না। তাঁর প্রত্যাশা একটি সমতাভিত্তিক ও প্রতিযোগিতাবান্ধব ব্যবসায়িক পরিবেশ। যাতে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলো বিদেশি এয়ারলাইনসের সঙ্গে সমান সুযোগে প্রতিযোগিতা করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারে।
বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের সম্ভাবনা নিয়ে অবশ্য আশাবাদী আবদুল্লাহ আল মামুন। তাঁর মতে, ভ্রমণ, চিকিৎসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বিদেশে যাতায়াত করেন। ফলে আকাশপথে যাত্রীর চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের বিমান ভ্রমণের বাজার প্রতিবছর প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী দশকে যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে আগামী ১০ বছর বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পের জন্য ‘স্বর্ণালি দশক’ হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তবে তার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আধুনিক অবকাঠামো, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং কার্যকর নীতিগত সহায়তা।
বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি লক্ষ্য নিয়েও তিনি আশাবাদী। তবে শুধু বড় বিমানবন্দর নির্মাণ করলেই হাব তৈরি হবে না বলে মনে করেন তিনি। আন্তর্জাতিক ট্রানজিট যাত্রী আকর্ষণ করতে বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত ট্রানজিট সুবিধা, উন্নত যাত্রীসেবা, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের শপ, খাবারের ব্যবস্থা এবং ডিউটি-ফ্রি কেনাকাটার সুযোগ থাকতে হবে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য দ্রুত ও সহজ ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা, অন-অ্যারাইভাল ভিসা এবং নির্দিষ্ট দেশের যাত্রীদের জন্য সহজ ভিসা ব্যবস্থাও প্রয়োজন। তাঁর মতে, বর্তমান বিমানবন্দরের কাঠামোয় এসব সুবিধা বড় পরিসরে নিশ্চিত করা কঠিন। তাই ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় নতুন প্রজন্মের বিমানবন্দর নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে।
এভিয়েশনকে তিনি শুধু যাত্রী পরিবহনের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখছেন না। তাঁর মতে, একটি শক্তিশালী এভিয়েশন খাত বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, পর্যটন সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজীকরণ, রপ্তানি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর ও কাতারের মতো দেশগুলো এভিয়েশনকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহার করে ইতোমধ্যে এর সুফল পেয়েছে।
বাংলাদেশও একইভাবে এভিয়েশনকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কৌশলগত খাত হিসেবে বিবেচনা করতে পারে বলে মনে করেন তিনি। এ জন্য নতুন এয়ার সার্ভিসেস চুক্তি দ্রুত সম্পাদন এবং পুরোনো চুক্তিগুলো আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
এ খাতের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ দক্ষ জনবল। নতুন রুট চালু, উড়োজাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি কিংবা রক্ষণাবেক্ষণ-প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রশিক্ষিত পাইলট, প্রকৌশলী, কেবিন ক্রু ও অন্যান্য কর্মী প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনবল তৈরির ক্ষেত্রে অনেকটাই বিদেশি প্রশিক্ষণের ওপর নির্ভরশীল।
এই ঘাটতি পূরণে ইউএস-বাংলা নিজস্ব উদ্যোগে পাইলট ও এয়ারক্রাফট প্রকৌশলী তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতোমধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে ২৮ জন মেধাবী তরুণকে যুক্তরাষ্ট্রে পাইলট প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরে আরও ২০০ তরুণকে বিদেশে পাইলট প্রশিক্ষণে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি ১০০ জন এয়ারক্রাফট প্রকৌশলী তৈরির জন্যও বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পূর্বাচলে প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে একটি গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড এভিয়েশন ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে পাইলট, প্রকৌশলী, কেবিন ক্রু এবং অন্যান্য এভিয়েশন পেশাজীবীদের একই ছাদের নিচে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইউএস-বাংলার ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এয়ার অ্যাস্ট্রা। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস থাকার পরও কেন নতুন একটি এয়ারলাইনস চালু করা হলো-এ প্রশ্নের উত্তরে আবদুল্লাহ আল মামুন বিশ্বের বড় এয়ারলাইনস গ্রুপগুলোর ব্যবসায়িক মডেলের উদাহরণ দিয়েছেন। তাঁর মতে, বিশ্বের অনেক বড় এয়ারলাইনস গ্রুপের একটি ফুল-সার্ভিস এবং একটি বাজেট এয়ারলাইনস রয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণির যাত্রীর চাহিদা পূরণ এবং বাজারের ভিন্ন ভিন্ন অংশে সেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই এয়ার অ্যাস্ট্রা চালু করা হয়েছে।
এয়ার কার্গোকেও ভবিষ্যতের বড় সম্ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন তিনি। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্যসহ দ্রুত পরিবহনযোগ্য ও উচ্চমূল্যের বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক এয়ার কার্গো পরিবহনের বড় অংশই এখন বিদেশি অপারেটরদের নিয়ন্ত্রণে।
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক এয়ার কার্গো পরিবহন বাজারের আকার প্রায় ১৪০ কোটি ডলার। এর মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ দেশীয় এয়ারলাইনস বহন করে, বাকি ৯৫ শতাংশ বিদেশি অপারেটরদের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে এ খাত থেকেও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে এয়ার কার্গো অপারেটরস স্টেশন বিধিমালা ২০২৬ দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। সঠিক নীতিগত সহায়তা পেলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক এয়ার কার্গো হাব হয়ে উঠতে পারে বলে তাঁর বিশ্বাস। সেই সম্ভাবনা সামনে রেখে ভবিষ্যতে ইউএস-বাংলার একটি স্বতন্ত্র কার্গো এয়ারলাইনস চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এভিয়েশন ও পর্যটনকে একই নীতির আওতায় দেখার ওপরও জোর দিয়েছেন আবদুল্লাহ আল মামুন। তাঁর মতে, শক্তিশালী পর্যটনশিল্প ছাড়া শক্তিশালী এভিয়েশন শিল্প গড়ে ওঠা কঠিন। আবার কার্যকর বিমান যোগাযোগ ছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যটনও বিকশিত হতে পারে না। দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও থাইল্যান্ডের অভিজ্ঞতা তার প্রমাণ।
বাংলাদেশের কক্সবাজারের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, উন্নত বিমান যোগাযোগের কারণে কক্সবাজারে পর্যটকের যাতায়াত বেড়েছে এবং সেখানকার পাঁচ তারকা হোটেলগুলোতেও সারা বছর অতিথি থাকছেন। ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে ইউএস-বাংলা ও এয়ার অ্যাস্ট্রার ফ্লাইট পরিচালনাও পর্যটন বিকাশে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন তিনি।
পর্যটন খাতকে আরও এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করার পাশাপাশি ই-ভিসা ও ভিসা-অন-অ্যারাইভাল ব্যবস্থা সহজ ও বিস্তৃত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন, সুন্দরবন, সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো পর্যটন গন্তব্যে আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে বিদেশে বাংলাদেশকে পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
সবশেষে ইউএস-বাংলার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও স্পষ্ট করেছেন আবদুল্লাহ আল মামুন। তাঁর লক্ষ্য কেবল একটি সফল বিমান সংস্থা পরিচালনা করা নয়; বরং ইউএস-বাংলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্লোবাল এভিয়েশন গ্রুপে পরিণত করা।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য নতুন প্রজন্মের ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি অত্যাধুনিক গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার কাজও এগোচ্ছে। এ জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জায়গা বরাদ্দ পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। সেখানে চায়নিজ ও কন্টিনেন্টাল খাবারের জন্য আন্তর্জাতিক মানের শেফ নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে এভিয়েশন কেবল পরিবহন খাত নয়। এটি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সংযোগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি কৌশলগত খাত। তাঁর বিশ্বাস, সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি বিমান সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগকারীরা যদি সমন্বিতভাবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোয়, তাহলে আগামী দুই দশকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন শক্তিতে পরিণত হতে পারে।
সেই লক্ষ্যে প্রয়োজন দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো পরিকল্পনা, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সাহসী নীতিগত সংস্কার। ইউএস-বাংলার ২১টি নতুন উড়োজাহাজের পরিকল্পনা তাই শুধু একটি বেসরকারি বিমান সংস্থার বহর বাড়ানোর উদ্যোগ নয়; বরং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথের বাজারে দেশীয় অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং এভিয়েশনকে বৃহত্তর অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার একটি বড় প্রচেষ্টার ইঙ্গিতও দিচ্ছে।
খবর প্রতিদিন নিয়ে
লোড হচ্ছে...

বাংলাদেশে চলচ্চিত্র নির্মাণের শুরু থেকেই কাজ করিয়ে অনেক শিল্পী ও নির্মাতাকে পারিশ্রমিক না দেওয়ার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। পরিচালকরা দেন না শিল্পীকে আর অনেক প্রযোজক বকেয়া রাখেন পরিচালকের পারিশ্রমিক...

আফজাল হোসেন ও আফসানা মিমি জুটিবদ্ধ হয়ে একটি ওটিটি কনটেন্টে অভিনয় করেছেন। বয়সের সঙ্গে সীমিত হয়ে আসে মানুষের চাহিদা, কমে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা; অন্য রকম হয়ে ওঠে হারানোর ভয়। এর সঙ্গে ,,,

সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ‘বিহান’। হেমন্ত সাদীকের এই স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবিতে অভিনয় করেছেন দিলরুবা দোয়েল। বিহান নারীপ্রধান গল্প। নারীদের বিভিন্ন সমস্যা এখানে তুলে ধরা হয়েছে। অনেকে হয়তো ভাবেন,

আলোচিত ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছেন আদালত। তিশা একজন নারী এবং শাড়ির দাম কম থাকায়,,,,,

শিশু কিশোরদের নিয়ে চ্যানেল আইতে এক যোগে তিনটি অনুষ্ঠান অর্থাৎ ৩টি রিয়েলিটি শোয়ের কার্যক্রম চলমান। একটি হল বহুল আলোচিত ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ। দ্বিতীয়টি শাপলাকুড়ি ২০২৬,,,,,,

প্রতিথযশা চলচ্চিত্র পরিচালক ও দেশের প্রথম চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকার সম্পাদক ফজলুল হকের নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের ...

নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মুরাদ পারভেজের সঙ্গে প্রায় ১০ বছরের সংসার ছিল সোহানা সাবার। সেই সংসারে তাঁদের একটি সন্তান রয়েছে.....

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) দীর্ঘদিন ধরেই শুধু একটি সংগঠন নয়; এটি ব্যবসায়ী সমাজের সবচেয়ে বড় প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান.......