Ad space

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফজলুল হক স্টুডেন্ট ফিল্ম প্রোডাকশন সাপোর্ট ট্রাস্ট ফান্ড গঠন

প্রকাশ:
10
Image

প্রতিথযশা চলচ্চিত্র পরিচালক ও দেশের প্রথম চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকার সম্পাদক ফজলুল হকের নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ফজলুল হক স্টুডেন্ট ফিল্ম প্রোডাকশন সাপোর্ট ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে। এই ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের ৪র্থ বর্ষ বিএসএস (সম্মান) শ্রেণীতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গ্রাজুয়েট প্রোডাকশন নির্মাণ করার জন্য এককালীন বৃত্তি প্রদান করা হবে। ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ হতে এই বৃত্তি চালু হবে।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রয়াত ফজলুল হকের বড় ছেলে চ্যানেল আই এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দেশবরেণ্য শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগর, ফজলুর হকের আদুরে কন্যা বিশিষ্ট রন্ধনবিদ কেকা ফেরদৌসী তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকৈ এই টাস্ট্র ফান্ডের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অর্থমূল্যের চেক হস্তান্তর করেন। চেক গ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফী বিভাগের চেয়ারম্যান সাইয়্যিদ শাহজাদা আল কারীম, চ্যানেল আই এর নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাসুদ, চ্যানেল আই এর প্রধান বার্তা সম্পাদক মীর মাসরুর জামান, আনন্দ আলোর সম্পাদক রেজানুর রহমান সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এই ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের জন্য দাতা পরিবারকে ধন্যবাদ জানান। টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে এই ট্রাস্ট ফান্ড সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অ্যালামনাই ও ইন্ডাস্ট্রির সম্পর্ক আরও জোরদার করার উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে এগিয়ে আসার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ প্রদানের জন্যও তিনি চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেন।

Image

একনজরে ফজলুল হক

ফজলুল হক। পুরো নাম আবু তাহের মোহাম্মদ ফজলুল হক। চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও সাংবাদিক। জন্ম ২৬ মে ১৯৩০। পিতা- এফ মাহমুদ। মাতা- এফ জাহান। মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন ময়মনসিংহে। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা- ইসলামিয়া কলেজ, কলকাতা থেকে। ¯œাতক- আজিজুল হক কলেজ বগুড়া থেকে। ১৯৫০ সালে বগুড়া থেকে প্রকাশ করেন প্রথম চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকা ‘সিনেমা’। ১৯৫২ সালে ঢাকা থেকে সিনেমা পত্রিকাটি প্রকাশ করেন। ১৯৫৫ সালে ইনল্যান্ড প্রেস নামক একটি প্রকাশনা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫৯ সালের শেষের দিকে সিনেমা পত্রিকার শেষ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়। ১৯৬০ সালের ওবায়েদ উল হকের একটি উপন্যাস অবলম্বনে চিত্রনাট্য রচনা করেন। পরে আজান নামে সেটি চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ১৯৬৬ সালে তিনি ‘সান অব পাকিস্তান’ (প্রেসিডেন্ট) নামে একটি শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন যেটি পুরস্কৃতও হয়েছিল।

১৯৬৯-এ শুরু করেন ‘আবাসিক প্রকল্প লিমিটেড’ নামে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা। তখনকার দিনে মানুষ আজকের মতো সচেতন না থাকায় ব্যবসাটি সফল হয়নি।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে কথিকা লিখতেন। আকাশবাণী কলকাতায় পদ্মা-মেঘনা-যমুনা নামে নাটক রচনা ও পরিচালনা করেন। আকাশবাণীতে তিনি মণি হক নামে অনেক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন। ১৯৭২ সালে তিনি বাংলা ভাষাকে সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে ঘড়ির ডায়ালে বাংলায় সময় লেখা ‘বাংলা ঘড়ি’ চালু করেন। ১৯৭৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পায় তাঁর চলচ্চিত্র ‘উত্তরণ’ নামে, যেটি তিনি ১৯৬০ সালে ‘আজান’ নামে চিত্রনাট্য লেখা শুরু করেছিলেন। ১৯৬৫ সালে রূপবান চলচ্চিত্র নির্মাণ এর কাজ করেন কিন্তু তিনি শেষ করতে পারেননি। ১৯৭৬ সাল থেকে তিনি কলকাতায় বসবাস শুরু করেন। এখানে বসবাস কালে ‘চিত্রসারথী’ নাম নিয়ে দুটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এর মধ্যে একটি লোককাহিনি ভিত্তিক চলচ্চিত্র সাতভাই চম্পা। ১৯৯০ সালের ২৬ অক্টোবর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে কলকাতার গোবরা কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। সহধর্মিনী প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন। তাঁর চার সন্তান। শিশুসাহিত্যিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগর, স্থপতি ফরহাদুর রেজা প্রবাল, বিশিষ্ট রন্ধনবিদ কেকা ফেরদৌসী এবং ফারহানা মাহমুদ কাকলী।

 

খবর প্রতিদিন নিয়ে

লোড হচ্ছে...