
মঞ্চই কি প্রকৃত অভিনেতার জন্মভূমি
ক্যামেরার সামনে কয়েক সেকেন্ডের একটি দৃশ্য। প্রয়োজন হলে বারবার শট নেওয়া যায়, সংলাপ ভুল হলে সংশোধনের সুযোগ থাকে, সম্পাদনার মাধ্যমে অনেক দুর্বলতাও ঢেকে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু মঞ্চে?

একটি বইয়ের দুটি কাভার। একটিতে ইমদাদুল হক মিলনের ছবি। অন্যটিতে আফজাল হোসেনের ছবি। বইয়ের নাম, যুবকদ্বয়। লেখালেখির শুরুর দিকে দুই বন্ধু একটি বইয়ের কাভারে এভাবেই নিজেদেরকে হাজির করেছিলেন। যুবকদ্বয় নামের সেই বইয়ে দুই যুবকের দুটি উপন্যাস ছাপা হয়েছিল। অভিনব এই আইডিয়া তখনকার দিনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল আমাদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। সেই থেকে আফজাল হোসেন ও ইমদাদুল হক মিলনের বন্ধুত্ব অনেক আলোচিত। কারও কারও কাছে ঈর্ষনীয়ও বটে।
মেঘে অনেক বেলা হয়ে গেছে। মিলন এবং আফজাল দু’জনই এখন দারুণ ব্যস্ত মানুষ। তাই বলে তাদের বন্ধুত্বে এতটুকু ছেদ পড়েনি। এখনও দু’জন দু’জনকে তুই সম্মোধন করেন। অতি সম্প্রতি দুই বন্ধু পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিলেন। উপলক্ষ একটা ছিল। আফজাল হোসেনের জন্মদিন পালন করা। চ্যানেল আই এই সুযোগটি করে দিয়েছিল। সূত্রধরের ভূমিকায় ছিলেন নাট্যকার, পরিচালক আরিফ খান। দুই বন্ধুর আড্ডাকে ঘিরে আনন্দ আলোর বিশেষ প্রতিবেদন...
গাড়িতে চেপে যাচ্ছেন দুই বন্ধু। পাশাপাশি বসেছেন। ইমদাদুল হক মিলনই প্রসঙ্গটা তুললেন।
আফজাল তোর কি মনে আছে? আমি আর আমাদের বন্ধু পাভেল একবার তোদের গ্রামের বাড়ি পারুলিয়ায় গিয়েছিলাম। তুই তখন টিভি নাটকের ব্যস্ত তারকা। তোর ভিউ কার্ড বেরিয়েছে। আমরা দেখলাম রাস্তার মোড়ে, চায়ের দোকানে তোর ভিউকার্ড ঝুলছে। বিভিন্ন পোজের ভিউ কার্ড। দেখলাম, তুই এটা গ্রাহ্যই করলি না। তুই লুঙ্গি পড়ে হেঁটে বেড়াচ্ছিস। এব্যাপারে তোর প্রতিক্রিয়া কি?
বন্ধুর কথা শুনছিলেন আর মিটিমিটি হাসছিলেন আফজাল হোসেন। ইমদাদুল হক মিলনের প্রশ্ন শেষ হতেই আফজাল হোসেন বললেন, আমার লুঙ্গি পড়ার অভ্যাস নাই। কিন্তু আমি বাড়ি গেলেই লুঙ্গি পড়তাম। মজা লাগতো আব্বার লুঙ্গি পড়তে। একটা ব্যাপার সব সময়ই মনে হতো, এটা আমার গ্রাম। ছোটবেলা থেকে গ্রামের মানুষ আমাকে নানা ভাবে দেখেছে। সেখানে আমি ঢাকা শহরে যেভাবে চলি এভাবে যদি গ্রামেও চলাফেলা করি সেটা মানান সই হবে না। তবে এনিয়ে আব্বা খুব রাগ করতেন। আব্বা বলতেন, তুমি অভিনয় করো, মানুষ তোমাকে যেভাবে ঢাকা শহরে দেখে গ্রামেও সেই ভাবে নিজেকে দেখাও। আম্মার অভিযোগ ছিল- তুই মাথার চুল আচরাস না ক্যান? গ্রামে আমার ভিউকার্ড ঝুলছে। কিন্তু আমি তো গ্রামে ভিউকার্ডের মানুষটা না। ভিউকার্ডের আফজাল হোসেন তো অভিনয়ের মানুষ। তারকা। তাই আমার কোনো আগ্রহ ছিল না।
গ্রামে একটা সময় পরিচিত সেলুনে চুলের স্টাইল এঁকে দিয়েছেন আফজাল হোসেন। মজার সেই ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলেন ইমদাদুল হক মিলন। আফজাল হোসেন হাসতে হাসতে বললেন, এখন তো চুলের স্টাইল নিয়ে কতই না ছবি পাওয়া যায়। তখনকার দিনে এমন সুযোগ ছিল না। আমার ছবি আঁকার ঝোক ছিল। ছবি আঁকতাম। গ্রামের মানুষ আমার ছবি আঁকা পছন্দ করতো। সুচিকর্মটা তখনকার দিনে বেশ জনপ্রিয় ছিল। মহিলারা আমার কাছে আসতেন। বালিশের ওয়্যার, রুমালে ছবি এঁকে নিতেন। ব্যাপারটা আমি বেশ উপভোগ করতাম। বয়সটা উপভোগ করার মতোই ছিল। এই কাজ গুলো আর কোথায় করা যায়? তা নিয়ে ভাবতাম। একদিন মনে হল সেলুনে মানুষ মাথার চুল কাটাতে আসে। কিভাবে চুল কাটবেন? স্টাইল কেমন হবে এমন ছবি যদি এঁকে দেওয়া যায় তাহলে চুল কাটার স্টাইল নিয়ে মানুষের আগ্রহ তৈরি হবে। সেলুন মালিকের আগ্রহে একদিন একটি সেলুনে চুল কাটার স্টাইল সম্বলিত আমার আঁকা ছবি ঝুলিয়ে দিলাম। ব্যস, মানুষের আগ্রহ তৈরি হল। ছবির স্টাইলে চুল কাটার আগ্রহ বেড়ে গেল সবার।

আফজাল হোসেনের বাবা একজন নামকরা চিকিৎসক ছিলেন। রোগী দেখার সময় রোগীর সঙ্গে কথা বলতে বলতে কাগজে ছবি আঁকতেন। বিষয়টি আঁকাআঁকির ক্ষেত্রে আফজাল হোসেনকে কতটা প্রভাবিত করেছিল? ইমদাদুল হক মিলনের প্রশ্ন শুনে আফজাল হোসেন বললেন, শুধু আঁকাআঁকি নয় আব্বার হাতের লেখাও অনুসরণ করতাম। আব্বার হাতের লেখা সাহিত্যের ভাষায় যদি বলি- গোটা গোটা, মুক্তো দানার মতো ছিল। প্রত্যেকটা অক্ষরের ক্ষেত্রে তাঁর একটা সৃজনশীলতা ছিল। রোগীর সঙ্গে কথা বলার সময় কাগজে আঁকিঝুকির করতেন। আমি সেগুলো সংগ্রহ করতাম এবং আঁকার চেষ্টা করতাম। মূলত: এভাবেই আমার ছবি আঁকা শুরু।
কথায় কথায় চারুকলায় পড়তে আসার প্রসঙ্গ উঠলো। আফজাল হোসেন বললেন, আমার এক চাচা, আমরা তাকে কাকা বলতাম। বিলেতে থাকতেন। ডাক্তারি পড়তেন। আব্বা একদিন তার সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে বললেন আফজালকে তো ডাক্তারি পড়ানো যাবে না। কারণ সে আর্টস নিয়ে পড়েছে। ছবি আঁকে। একদিন কাকা আমাকে বলেছিলেন, যা কিছুই করো না কেন পড়াশুনা তোমাকে করতেই হবে। ভালো ভাবে পড়াশুনা করো। আর্ট কলেজে গিয়ে ভর্তি হও। এই আমার মাথায় আর্ট কলেজ ঢুকলো।
কথায় কথায় কবিতা লেখার প্রসঙ্গ উঠলো। ইমদাদুল হক মিলন জানতে চাইলেন, তুই ১৯৭০ সালে ঢাকায় এলি। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হল। গ্রামে ফিরে গেলি। আবার সেই গ্রাম। বসির হাট... এই সময়ে কবিতা লেখা শুরু হল। এনিয়ে কিছু বল...
আফজাল হোসেন ভেবে নিয়ে বললেন, স্বাধীনতার সময় আসলে মনে হয়েছিল লেখালেখিটা বেশ গুরুত্বপুর্ন। একজন মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে... তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। তিনি আমাদের এলাকার মানুষ নন। তাই এলাকার মানুষ তাকে চিনে না। অথচ দেখলাম জানাজায় উপস্থিত অনেক মানুষ। একটা অংশ জানাজায় দাঁড়িয়েছে। আরেকটা অংশ একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। এই যে অনুভূতিটা আমাকে দারুণ ভাবে নাড়া দেয়। কেউ তাকে চিনে না। অথচ তার জন্য হাউমাউ করে কাঁদছে। আমার মধ্যে একটা কষ্টের সৃষ্টি হল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আমি প্রথম একটি ভালো লেখা লিখি। বন্ধুর কথা শুনে ইমদাদুল হক মিলন অভিভূত কণ্ঠে বললেন, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটা লাইন মনে পড়ছে। তিনি লিখেছিলেন দুঃখই কবিতার জনক। শুনে আফজাল হোসেন বললেন, তাতো বটে। ইমদাদুল হক মিলন বললেন, এভাবেই শিল্পের সৃষ্টি হয়। আফজাল হোসেন বললেন, শিল্পের সৃষ্টির জন্য মানুষকে কোনো না কোনো ভাবে জ্বলতে হয়। পুড়তে হয়।
কথায় কথায় আফজাল হোসেনের অভিনয় জীবনের কথা উঠলো। ইমদাদুল হক মিলন বললেন, তোর অভিনয় জীবন শুরুর ব্যাপারটা আমি কখনও জানতে চাইনি। শুরুটা কেমন ছিল? গ্রামে অভিনয় করতি?

আফজাল হোসেন বললেন, অভিনয় আসলে কি.... ওই অর্থে না... আগেরকার দিনে গ্রামে লাইব্রেরি ছিল, পাঠাগার ছিল। আমাদের গ্রামে একটা বড় লাইব্রেরি ছিল। বড়দের জন্য একটা ক্লাব ছিল। সেখানে বাৎসরিক একটা নাটক হতো। সেই নাটকের রিহার্সেল হচ্ছিলো। আমরা যেহেতু ছোটো, আমাদেরকে রিহার্সেল দেখতে দেয়া হতো না। আমরা সমবয়সীরা ঠিক করলাম আমরা একটা নাটক করব। অথচ এব্যাপারে আমাদের কোনো অভিজ্ঞতাই নাই। বাঁশবাগানের নীচে চাটাই বিছিয়ে গ্রামোফোনে নাটক সিরাজদৌল্লা শুনলাম সাত দিন ধরে। কে কোন ক্যারেকটার করবে তা নিজেরাই ঠিক করলো। গ্রামোফোনে ডায়লগ শুনে লিখে নিল। নাটক করতে গেলে তো কিছু টাকা তো লাগে। আমাদেরকে কে পয়সা দিবে? পাড়ার চাচী, ফুফু, মাসী, মিসি সবার কাছে হাত পাতলাম। তারা যে যা পারে অর্থ দিল। আমরা একদিন অভিনয় করলাম। বড়রা আমাদের অভিনয় দেখতে এসে অভিভূত হলেন। পরবর্তিতে বড়রাই আয়োজন করে আমাদেরকে আবার ওই নাটকটি করালেন।
আর্ট কলেজই কি আফজাল হোসেনের জীবনের গতিপথ নির্ধারণ করেছে? ইমদাদুল হক মিলনের প্রশ্নের সূত্র ধরে আফজাল হোসেন বললেন, আর্ট কলেজে ভর্তি হওয়া... একজন মানুষ ছবি আঁকা শিখবে, বড় শিল্পী হবে, এর চেয়ে বড় ব্যাপার হলো জীবনকে আবিস্কার করতে পারবে। জীবনকে দেখতে শিখবে। জগৎকে অনুভব করতে পারবে। আমার আর্ট কলেজের জীবনই কিন্তু একদল বন্ধুকে খুঁজে দিয়েছে। যেমন তুই...
কথার সূত্র ধরে ইমদাদুল হক মিলন বললেন, চাঁদের হাট আমাদের জীবনে বেশ গুরুত্বপুর্ন। শুধুমাত্র সাহিত্য করার জন্য আমরা একদল বন্ধু চাঁদের হাটের সঙ্গে যুক্ত হলাম।
আফজাল হোসেন বললেন, আর্ট কলেজ আমাকে একটা অনুভূতি দিল। এই যে একটা সংগঠন করা সেখান থেকে কিছু প্রাপ্তি। তারপর ঢাকা থিয়েটার... বলতে গেলে আমার থিয়েটার জীবন আমাকে আরেক স্তরে পৌছে দিল। এভাবেই মূলত ধাপে ধাপে একটা জীবন তৈরি হয়। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জীবনকে তৈরি করেছে। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জীবনকে গতি দিয়েছে।
আফজাল হোসেনের কথার সঙ্গে একমত পোষণ করে ইমদাদুল হক মিলন বললেন- আমাদের প্রজন্মকে নির্মাণ করেছে মহান মুক্তিযুদ্ধ।
কার্টুন বিষয়েও আফজাল হোসেনের খ্যাতি অনেক। প্রসঙ্গ তুলে ইমদাদুল হক মিলন জানতে চাইলেন- কার্টুন আঁকা তো একটা জটিল বিষয়। তোর আগ্রহ কিভাবে তৈরি হলো?
আফজাল হোসেন বললেন, আমার শিক্ষকদের কথা একটু বলি। রফিকুন নবী, কাইয়ুম চৌধুরী, হাশেম খান তাঁদের আঁকা ইলাস্ট্রেশন খুব ফলো করতাম। একদিন মনে হল আমি কার্টুন আঁকব। কারণ কার্টুন আসলে অন্যরকম একটা ড্রয়িং। আমি চন্ডি লাহিড়ীর কার্টুন দেখতাম। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় বশিরহাটে ছোট্ট একটা কার্টুন প্রদর্শনী করেছিলাম। আমি এমন কিছু আঁকি তা কিন্তু নয়। কিন্তু ওই সময় সবাই মর্যাদা ও সম্মান দিল যে আমি জয় বাংলার লোক। এই কার্টুন প্রদর্শনীটি আমার ভেতরে একধরনের দায়িত্ব বোধ সৃষ্টি করে। ঢাকায় ফিরে মনে হল আমি আরও বেশি করে কার্টুন আঁকব। পত্রিকা অফিস গুলোতে কার্টুন নিয়ে ঘুরতাম। মিলন তোর নিশ্চয়ই মনে আছে, তখনকার দিনে একটা প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলা এবং ইংরেজি দুটি পত্রিকা বের হয়। ওরা প্রথম আমার কার্টুন ছাপে। তারপর পুর্বদেশে, ইত্তেফাকে আমার কার্টুন ছাপা হলো। তখনকার দিনে ইত্তেফাক কি ধরনের জনপ্রিয় কাগজ ছিল তা এখন হয়তো বুঝানো যাবে না। পুর্বদেশও তাই। সেই সময় দৈনিক পত্রিকার প্রথম পাতায় আমার আঁকা কার্টুন প্রকাশ হতো নিয়মিত। একটা বিষয় হচ্ছে কি মিলন, মানুষের জীবন একটা পথ। এই পথে তুমি হাঁটতে বেরিয়েছ। তোমার সামনে একটি করে দরজা খুলে যাচ্ছে। এটাও কিন্তু ভাগ্য। তোমার সামনে একটি করে দরজা খুলে যাচ্ছে। পাশাপাশি পথ আরও দীর্ঘ হচ্ছে। মোড়ে মোড়ে কেউ না কেউ এগিয়ে থাকে তোমাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য। যেমন রফিকুল হক দাদু ভাইয়ের কথা একটু বলি। পুর্বদেশে নিয়মিত আমার কার্টুন ছাপা হচ্ছে। চাঁদেরহাট নামে তখন পুর্বদেশে শিশু-কিশোরদের জন্য একটি বিভাগ ছিল। অর্থাৎ প্রতি সপ্তাহে চাঁদেরহাট নামে একটি পাতা প্রকাশ হতো। দাদু ভাই এই পাতায় কাটুৃন আঁকতে বললেন। আমরা এক সাথে হলাম। এক সাথে হওয়া মানে আমরা এনক গুলো মানুষ সাহিত্য নিয়ে ভাবতে শুরু করলাম।
আমরা একদল বন্ধু একত্রিত হলাম।্ যে যেখানেই থাকি না কেন, নিজেদের ভাবনা নিয়ে এক সঙ্গে বসি, খাই দাই, আড্ডা মারি। কেউ অভিনয়, কেউ লেখালেখি, কেউ ব্যবসায় জড়িত হলো। টানা পঞ্চাশ বছর ধরে আমরা সেই সময়ের বন্ধুরা এক সঙ্গেই আছি। সবাই কিছু না কিছু সৃজনশীল কাজে জড়িত। কি হতে পেরেছি, কি হতে পারিনি, এটা আমার কাছে মোটেই গুরুত্বপুর্ন ব্যাপার নয়। তবে হ্যা, আমরা বন্ধুরা প্রত্যেকে যার যার জায়গায় আলাদা করে নিজেদেরকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছি। মিলন তোর নিশ্চয়ই মনে আছে। তুই লিখতে শুরু করেছিস, আমরা তোমার বন্ধু হয়েছি। তুই প্রায়ই বলতি আমাকে লেখক হতেই হবে...

বন্ধুর কথার সূত্র ধরে ইমদাদুল হক মিলন বললেন, কথাটা এই রকম ছিল যে... আমার তো তেমন কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল না। শিল্প সাহিত্যের ক্ষেত্রে আমার কোনো ব্রাকগ্রাউন্ডই ছিল না। চাঁদেরহাটে যুক্ত হবার পরেই মূলত: আমি লেখক হবো এরকম একটি প্রতিজ্ঞা করি। আফজাল বললেন, আমরা সবাই এক সঙ্গে হয়েছি দেখে নিশ্চয়ই তোর মাঝে এই স্বপ্নটা শুরু হয়?
মিলন বললেন, আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের যোগ্যতা প্রমাণ করতে চাইতাম, প্রত্যেকের জায়গা থেকে।
আফজাল বললেন, আমাদের বন্ধুদর মধ্যে সম্পর্কটা অনেক জটিলও ছিল। পরস্পরের মধ্যে তুমল ঝগড়া করতাম। নিজেদের কাজ নিয়েই মূলত: ঝগড়া হতো। যেমন তোর একটা লেখা প্রকাশ হয়েছে। সেই লেখা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়ে যেতো। এটা ভালো হয় নাই। এটা কোনো লেখাই না। এই ভাবে লেখা উচিৎ ছিল। তবে আমরা পরস্পরকে দারুণ শ্রদ্ধা করতাম। ভালোবাসতাম। এখনও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। সেই সময় আমাদের দু’জন বন্ধু খুব বেশি পড়–য়া ছিল। একজন হচ্ছে আমাদের গোত্রের একটু বাইরে, ইফতেখার। আরেকজন তুই ইমদাদুল হক মিলন। কিছু একটা মনে হলেই আমরা তোদের দু’জনের শরনাপন্ন হতাম।
এবার মিলন বললেন, পড়ার বিষয়টা আসলে... কার্টুন প্রসঙ্গে তুই যেমন রফিকুন নবী, হাশেম খানের কথা বললি। তাঁদের দেখে কার্টুনের প্রতি আগ্রহী হয়েছিস। আমার ক্ষেত্রেও তেমনটা ঘটেছে। আমি যখন ভাবলাম লেখক হবো, তখন মনে হলো লেখক হতে গেলে আমাকে প্রচুর পড়তে হবে। না পড়লে আমি লিখবো কিভাবে? আমার অগ্রজরা পড়ার ব্যাপারে বেশ তাগাদা দিতেন। বলতেন, না পড়লে তুমি জানবে কি করে?
প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে আফজাল হোসেন বললেন, বই, প্রতিষ্ঠান আসলে মানুষকে সবকিছু শেখায় না। আশে পাশের পরিবেশ, চারপাশের মানুষ অনেক কিছুই শেখায়? আমার এক সময় মনে হতো আর্ট কলেজ আমাকে ছবি আঁকা শেখাবে কি করে? যখন আমি শিল্পী এবং সাধারন মানুষের মধ্যে পার্থক্যটা বুঝলাম তখন নিজের প্রতি আস্থা বাড়লো। একজন শিল্পী ও সাধারন মানুষের মধ্যে পার্থক্যটা হচ্ছে যে, একজন সাধারন মানুষ গাছটা শুধু দেখে। একটা রংকে রংই দেখে। কিন্তু একজন শিল্পী একটা রং এর ভেতরে বহু রং আবিস্কার করে। শিল্পী একটা গাছের গড়নটা দেখে। গড়নটা আবিস্কার করার চেষ্টা করে। ধরো, চাঁদের হাট এই যে আমাদের সবাইকে একটা সৃজনশীল কাজের মধ্যে ডুবিয়ে দিল। লেখালেখি... লেখালেখি... এবং লেখালেখি... তখন দেশ কেবল স্বাধীন হয়েছে। নানান দিকে অস্থিরতা। তার মধ্যে আমরা এইটা নিয়ে যেতে থাকলাম। এক সময় ঢাকা থিয়েটারে ঢুকলাম। ঢাকা থিয়েটার প্রসঙ্গ উঠতেই আফজাল হোসেনকে একটু থামিয়ে দিলেন ইমদাদুল হক মিলন। তখন তুই টিভি নাটকেও ব্যস্ত তারকা। ঢাকা থিয়েটার আগে নাকি টিভি নাটক আগে?
আফজাল হোসেন বললেন, ঢাকা থিয়েটার অর্থাৎ মঞ্চেই আমি বেশ ব্যস্ত হয়ে পড়ি। আমাদের একটি মঞ্চ নাটক দেখলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। ওই নাটক দেখেই তিনি আমাকে তার টিভি নাটকে অভিনয় জন্য ডাকেন। টিভি নাটকে আমার ব্যস্ত অভিনয় জীবন শুরু হয়।
(আগামী সংখ্যায় শেষ কিস্তি)
শীর্ষ কাহিনী নিয়ে
লোড হচ্ছে...

ক্যামেরার সামনে কয়েক সেকেন্ডের একটি দৃশ্য। প্রয়োজন হলে বারবার শট নেওয়া যায়, সংলাপ ভুল হলে সংশোধনের সুযোগ থাকে, সম্পাদনার মাধ্যমে অনেক দুর্বলতাও ঢেকে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু মঞ্চে?

সুন্দরবনের অভিভাবক বাঘ। আর বাঘের অভিভাবক দেশের ১৮ কোটি মানুষ। বাঘ বাঁচলে সুন্দরবন বাঁচবে। সুন্দরবন বাঁচলে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ বাঁচবে। আর তাই বাঘ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকৃতি

ক্যামেরা যখন তুলির মতো এখন এই কথাটা সহজেই বলা যায়। এখন সবার হাতেই একটি করে ক্যামেরা থাকে। মোবাইল ফোনের কারণে এখন ছবি তোলা খুবই সহজ হয়ে গেছে। ছয় বছরের বাচ্চাও দারুণ করে ছবি তুলতে পারে...

আমাদের দেশে ঈদ উৎসবই বড় উৎসব। আড়াই মাসের ব্যবধানে দুটি ঈদ। ঈদুল ফিতর। ঈদুল আজহা। রমজানের একমাস সিয়াম সাধনার পর, অর্থাৎ একমাস রোজা রাখার পর.....

প্রিয়বন্ধু আফজাল হোসেনের পাশেই বসেছেন দেশখ্যাত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ইমদাদুল হক মিলন। প্রিয়বন্ধুর ঘাড়ে হাত রেখে পরশ দিচ্ছিলেন আর শুনছিলেন দু’জনেরই .....

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করছে এআই প্রযুক্তি। এটা একটা পরিবর্তন। পকেটে টাকা না নিয়ে বাজারে গেলেন। প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী কিনবেন কি করে?

বাংলাদেশকে একসময় বিশ্বের দরিদ্র ও সহায়তানির্ভর দেশ হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি রাষ্ট্র হিসেবে যাত্রা শুরু করা দেশটি আজ উন্নয়ন, দারিদ্র্য.......

৭দিনে ৭সিনেমা ১৩ টেলিফিল্ম ১৬টি নাটকচ্যানেল আইতে ঈদের ৭দিন ব্যপি অনুষ্ঠানমালার আওতায় ৭টি সিনেমা, ১৩টি টেলিফিল্ম, ১০৬টি একক নাটক প্রচার হবে। পাশাপাশি.....