Ad space

জীবন যাপন ক্রেডিট কার্ডের খোলা জানালা

প্রকাশ:
42
Image

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করছে এআই প্রযুক্তি। এটা একটা পরিবর্তন। পকেটে টাকা না নিয়ে বাজারে গেলেন। প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী কিনবেন কি করে? চিন্তার কোন কারণ নাই। আপনার মানিব্যাগে যদি থাকে ক্রেডিট কার্ড তাহলে কাগজের টাকার প্রয়োজন পড়বে না। গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল সহ প্রতিমাসে নানান ধরনের বিল দিতে হয়। এজন্য ব্যাংকের বুথের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। এজন্য সময়ের যেমন অপচয় হয় তেমনই মানসিক সংকটেও পড়তে হয়। তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে এখন ব্যাংকে গিয়েও নানা ধরনের বিল জমা দেওয়া যায়। যদি পকেটে থাকে ক্রেডিট কার্ড তাহলে পকেটে টাকা রাখার প্রয়োজন নেই। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেই আপনি প্রাত্যহিক জীবনের কেনাকাটা সারতে পারবেন।

সময়ের বাস্তবতায় দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে লেনদেনের ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডের ব্যব্রহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে নগদ টাকার ব্যবহার কমছে। আশার কথা, আধুনিক অবকাঠামো এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড পরিচালনায় নতুন নীতিমালার মাধ্যমে এই খাতকে আরও নিরাপদ ও গ্রাহক বান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে সক্রিয় ক্রেডিট কার্ড রয়েছে প্রায় ১৯ লাখ। ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২৬ লাখ। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৭৮% ভাগ, নারীর সংখ্যা ২২%।

নতুন সুবিধা ও নীতিমালায় রয়েছে ঋণ সীমা দ্বিগুন করা, কার্ডের মেয়াদ ন্যনতম ৫বছর, শুধু বকেয়া টাকার উপর সুদ প্রযোজ্য, একাধিক নয়, বিলম্ব ফি একবারই, ইএমআই সুবিধায় অতিরিক্ত সুদ নেই এবং বিমান বন্দরে লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ।

একবার চোখ বন্ধ করে কল্পনা করুন, আজ আপনার হাতে কেউ ২০ লাখ টাকা ধরিয়ে দিল। শর্ত একটাই-আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে টাকাটা ফেরত দিতে হবে, যার জন্য আপনাকে এক পয়সাও সুদ দিতে হবে না। অর্থাৎ প্রায় দেড় মাসের জন্য বড় অঙ্কের এই মূলধন আপনি ব্যবহার করতে পারছেন সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে। কল্পকথা মনে হলেও আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ক্রেডিট কার্ডের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ঠিক এই সুবিধাই পাওয়া সম্ভব।

একসময় বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ডকে কেবল উচ্চবিত্তের বিলাসিতা কিংবা ‘ঋণের ফাঁদ’ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর পদক্ষেপে নতুন নীতিমালায় কিছু সংশোধনের কারণে এই প্লাস্টিক কার্ড মানি এখন মধ্যবিত্তের জীবনযাপনে সচ্ছলতা ও নিরাপত্তার এক নতুন চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে।

ক্রেডিট কার্ডে গ্রাহকের ক্ষমতা

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে জামানতবিহীন ঋণের সীমা ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত পর্যায়ে ঋণের সীমা ২৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪০ লাখ টাকা। এই সিদ্ধান্তের ফলে কেবল কেনাকাটা নয়, বরং আপৎকালীন বড় অঙ্কের অর্থের সংস্থান করাও এখন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ‘বিনা মূল্যে’ পুঁজি

আমাদের দেশের অনেক ছোট বা মাঝারি ব্যবসায়ী আছেন, যাঁদের ব্যবসার ধরনটি এমন যে কাঁচামাল কেনা থেকে শুরু করে পণ্য বিক্রির টাকা হাতে আসা পর্যন্ত এক বা দুই সপ্তাহের জন্য বড় অঙ্কের নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়। এই স্বল্প সময়ের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সাধারণত কাউকে ঋণ দেয় না। ফলে বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ীরা স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা ধার নেন অথবা আত্মীয়স্বজনের কাছে হাত পাতেন।

এখানেই ক্রেডিট কার্ড হতে পারে একজন ছোট ব্যবসায়ীর পরম বন্ধু। ৪৫ দিনের এই গ্রেস পিরিয়ড বা সুদবিহীন সময়কে কাজে লাগিয়ে তাঁরা অনায়াসেই ব্যবসার চলতি পুঁজি হিসেবে কার্ডের অর্থ ব্যবহার করতে পারেন। সময়মতো টাকা পরিশোধ করে দিলে এক টাকাও অতিরিক্ত খরচ না করে ব্যবসা সম্প্রসারণ সম্ভব।

কিস্তিতে স্বপ্নপূরণ: ইএমআই-সুবিধা

মধ্যবিত্ত জীবনে এককালীন বড় অঙ্কের টাকা খরচ করা অনেক সময়ই অসম্ভব হয়ে পড়ে। ধরুন, প্রচ- গরমে ঘরে একটি এসি বা পুরোনো ফ্রিজটি বদলে নতুন একটি ফ্রিজ কেনা খুব জরুরি। কিন্তু বাজেট নেই। ক্রেডিট কার্ডের ইএমআই-সুবিধা এখানে ত্রাতার ভূমিকা পালন করে।

বর্তমানে দেশের প্রায় সব বড় ইলেকট্রনিকস, আসবাব এবং গ্যাজেট শপ ক্রেডিট কার্ডে শূন্য শতাংশ সুদে কিস্তিসুবিধা দেয়। ৩ মাস থেকে শুরু করে ৩৬ মাস পর্যন্ত এই কিস্তিসুবিধা পাওয়া যায়। এতে সুবিধা হলো, আপনাকে পণ্যের পুরো দাম একবারে দিতে হচ্ছে না, বরং প্রতি মাসে ছোট ছোট কিস্তিতে তা শোধ করা যাচ্ছে। ফলে নাগরিক জীবনের অতি প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো কেনা এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে।

Image

বিপদের বিশ্বস্ত সঙ্গী: জরুরি চিকিৎসা

অসুখবিসুখ বা দুর্ঘটনা কখনো সময় জানিয়ে আসে না। মধ্যবিত্ত বা উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোয় অনেক সময় পর্যাপ্ত সঞ্চয় থাকলেও তা তাৎক্ষণিক নগদায়ন করা সম্ভব হয় না। গুরুতর কোনো অসুস্থতায় যখন হাসপাতালের মোটা অঙ্কের বিল পরিশোধ করতে হয়, তখন ক্রেডিট কার্ডই হয়ে ওঠে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। হাসপাতালের বিল দেওয়া, জরুরি ওষুধ কেনা কিংবা বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য যাওয়ার ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডের এই তাৎক্ষণিক অর্থ সংস্থান পরিবারকে বড় ধরনের মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দেয়।

কমছে গ্রাহকের খরচ

একটা সময় ক্রেডিট কার্ড নিতে সাধারণ মানুষ ভয় পেত এর ‘লুকানো মাশুল’ বা হিডেন চার্জের কারণে। গ্রাহকদের অজান্তেই অনেক সময় ফি বাড়িয়ে দেওয়া হতো। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি গ্রাহক হয়রানি বন্ধে একগুচ্ছ কঠোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে:

স্বচ্ছ চার্জ তালিকা: এখন থেকে কার্ডের সব ফি, চার্জ ও সুদের হার ব্যাংকের ওয়েবসাইটে সহজবোধ্য ভাষায় প্রকাশ করতে হবে। কার্ড দেওয়ার সময় গ্রাহককে পূর্ণাঙ্গ ‘শিডিউল অব চার্জেস’ বুঝিয়ে দেওয়া এখন বাধ্যতামূলক। ব্যাংক চাইলেই এখন আর লুকানো চার্জ আরোপ করতে পারবে না।

বিলম্ব ফির ওপর সুদ নয়: আগে ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধে দেরি হলে ব্যাংকগুলো প্রথমে একটি নির্দিষ্ট ‘বিলম্ব ফি’ বা লেট ফি চার্জ করত এবং পরে সেই ফির ওপর চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ নিত। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এখন থেকে লেট ফির ওপর কোনো সুদ নেওয়া যাবে না। এটি গ্রাহকের আর্থিক বোঝা বহুগুণে কমিয়ে দিয়েছে।

সহজেই কার্ড বন্ধ করার অধিকার: আগে অনেক ব্যাংক গ্রাহককে কার্ড বন্ধ করতে দিনের পর দিন ঘোরাত। এর মধ্যে বার্ষিক ফি জমা হয়ে বড় অঙ্কের বকেয়া তৈরি হতো। এখন নিয়ম হলো, গ্রাহক সব বকেয়া পরিশোধ করে কার্ড বন্ধ করতে চাইলে ব্যাংককে তা ৭ কর্মদিবসের মধ্যে কার্যকর করতে হবে।

সম্মতি ছাড়া কার্ড নয়: ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থাকলেই গ্রাহককে জোর করে কার্ড পাঠিয়ে দেওয়ার সুযোগ আর নেই। গ্রাহকের লিখিত বা সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল সম্মতি ছাড়া কোনো ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে পারবে না।

কার্ড-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ক্রেডিট কার্ড ঋণের ফাঁদ নয়, যদি আপনি বিল পরিশোধের তারিখ বা ‘ডিউ ডেট’ সম্পর্কে সচেতন থাকেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ করলে এটি আপনার পকেটে থাকা একটি শক্তিশালী আর্থিক হাতিয়ার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা এবং আধুনিক ব্যাংকিং সেবা ক্রেডিট কার্ডকে একটি ভয়ংকর ঋণের ফাঁদ থেকে বের করে মানুষের আস্থার জায়গায় নিয়ে এসেছে। স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন কার্ড ব্যবহার করা অনেক বেশি নিরাপদ। তাই সঠিক পরিকল্পনা আর সচেতনতা থাকলে একটি ক্রেডিট কার্ডই হতে পারে আপনার মধ্যবিত্ত জীবনের সচ্ছলতা ও নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় গ্যারান্টি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নতুন নীতিমালা ক্রেডিট কার্ডকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য ও সাশ্রয়ী করে তুলবে। সঠিক পরিকল্পনা আর সচেতনতা থাকলে এটিই হতে পারে আপনার মধ্যবিত্ত জীবনের সচ্ছলতার চাবিকাঠি।

দেশে সিটি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক সহ বিভিন্ন ব্যাংক ক্রেডিট কাউকে উৎসাহিত করছে।

সিটি ব্যাংকের ব্যস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন বলেছেন, গ্রাহকদের স্বাচ্ছন্দ্য মাথায় রেখে আমাদের প্রতিটি কার্ডের সেবা চালু রয়েছে। যেমন সিটিম্যাক্স ডেবিট কার্ডে আন্তর্জাতিক লেনদেনে ১% ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়। আবার অ্যামেক্স ক্রেডিট কার্ডে আছে মেম্বারশীপ রিওয়ার্ড পয়েন্টস। সব চেয়ে বড় পরিবর্তন এনেছে আমাদের সিটি টাচ ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাপ। গ্রাহক এখন কল সেন্টারে ফোন না দিয়েই নিজের আন্তর্জাতিক লেনদেন চালু বা বন্ধ করতে পারবেন।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেছেন, এমটিবি সব সময় স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী। আমাদের কার্ডসংক্রান্ত চার্জ সব সময় অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত থাকে। এর বাইরে এমটিবি কোনো ধরনের গোপন ফি গ্রাহকদের ওপর আরোপ করে না। চার্জ নীতিমালায় কোনো পরিবর্তন এলে গ্রাহকদের দ্রুত জানানো হয়। বিলিংয়ের প্রক্রিয়া সহজ করতে আমরা ‘সিঙ্গেল অ্যাকাউন্ট পদ্ধতি’ চালু করেছি, যেখানে দেশি ও বিদেশি সব লেনদেন একই পদ্ধতিতে বাংলাদেশি টাকায় দেখতে পারেন। এ ছাড়া প্রতি মাসের স্টেটমেন্টের সঙ্গেই চার্জের তালিকা সংযুক্ত থাকে, যাতে গ্রাহকদের মধ্যে কোনো অস্পষ্টতা না থাকে।

ডাচ বাংলা ব্যাাংক এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মো: এহতেশামুল হক বলেছেন, শুরুতে আমাদের সেবা এটিএমকেন্দ্রিক থাকলেও এখন তা বাংলা কিউআর, পস ও ই-কমার্স লেনদেনে বিস্তৃত হয়েছে। ‘নেক্সাসপে’ অ্যাপটি ক্যাশলেস পেমেন্টের ক্ষেত্রে একটি গেম চেঞ্জার। এর মাধ্যমে গ্রাহকেরা কার্ড ছাড়াই মোবাইল দিয়ে কিউআরভিত্তিক কেনাকাটা ও দ্রুত লেনদেন করতে পারছেন। আমাদের শক্তিশালী ই-পেমেন্ট গেটওয়ে এবং দেশব্যাপী বিস্তৃত নেটওয়ার্ক একটি শক্তিশালী ক্যাশলেস ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ করছে।

Image

ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান জামান চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে গ্রাহকের আস্থার প্রধান ভিত্তি হলো নিরাপত্তা। প্রতিনিয়ত সাইবার ঝুঁকি বাড়তে থাকায় আমরা এনক্রিপশন ও মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। কার্ডের অননুমোদিত ব্যবহার রোধে রিয়েল-টাইম ট্রানজেকশন অ্যালার্ট এবং উন্নত চিপ-প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। ফলে গ্রাহকেরা এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে নিরাপদ বোধ করছেন। ঝুঁকি মোকাবিলায় আমাদের সিস্টেম নিয়মিত আপডেট করা হয়।

প্রাইম ব্যাংক এর অ্যাডিশনাল ম্যানেজিক ডিরেক্টর এম নাজিম এ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ডের বাজার ও এর সম্ভাবনা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এটি কেবল কেনাকাটার মাধ্যম নয়, এটি আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি বড় হাতিয়ার। ক্রেডিট কার্ডের প্রতিটি লেনদেন খুব সহজেই শনাক্ত করা যায়, যা অবৈধ লেনদেন ও মানি লন্ডারিংয়ের মতো অপরাধ রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এই কার্ডের ব্যবহার উৎসাহিত করা গেলে জাতীয় পর্যায়ে আর্থিক স্বচ্ছতা আরও সুসংহত হবে। বর্তমানে দেশের মানুষের মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের প্রতি যে আস্থা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা এই বাজারকে আরও বহুদূর নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ব্র্যাক ব্যাংকের ডিএমডি মাহীয়ুল ইসলাম বলেছেন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আমরা বরাবরই এগিয়ে থাকতে চাই। সম্প্রতি ব্র্যাক ব্যাংক ভিসা ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের জন্য ‘গুগল পে’ সেবা চালু করেছে। ফলে এনএফসি সক্রিয় মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই গ্রাহকেরা এখন স্পর্শহীন লেনদেন করতে পারছেন। এর পাশাপাশি আমরা বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘স্মার্ট পিওএস’ ডিভাইস নিয়ে আসতে যাচ্ছি। এই ডিভাইসে পেমেন্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘রিয়েল-টাইম ভয়েস নোটিফিকেশন পাওয়া যাবে, যা মার্চেন্ট ও গ্রাহক উভয়ের জন্যই বাড়তি স্বস্তি। জালিয়াতি রোধে আমাদের ‘রিয়েল-টাইম ফ্রড ডিটেকশন অ্যালার্ট’ ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

ঢাকা ব্যাংক এর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: মোস্তাক আহমেদ বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে ঢাকা ব্যাংকের মূল লক্ষ্য হবে তরুণ প্রজন্ম। জেন-জি ও তরুণ পেশাজীবীদের লাইফস্টাইলের সঙ্গে সংগতি রেখে বিশেষায়িত প্রিপেইড কার্ড ও কো-ব্র্যান্ডেড কার্ড নিয়ে আসছি। স্টার্টআপ এবং ই-কমার্স খাতের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের জন্য বিশেষ সাবস্ক্রিপশন সুবিধা ও অফার চালু করছি। আমাদের লক্ষ্য একটি ‘সুপার অ্যাপ’ গড়ে তোলা, যেখানে ব্যাংকিং হবে আনন্দদায়ক ও স্মার্ট।

আরও পড়ুন

লোড হচ্ছে...