

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে দেশের প্রায় প্রতিটি মানুষ এক একজন সংবাদকর্মীর ভূমিকা পালন করছেন ইদানিং। অনেকের এমন অবস্থা- যখন যা মনে হয় তাই লিখছেন ফেসবুকে। মন চাইলো হঠাৎ কারও মৃত্যুর খবর প্রকাশ করতেও দ্বিধা করছেন না। জীবিত ব্যক্তির মৃত্যুর খবর প্রকাশ, প্রচার হলে সেই ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যদের কী দশা হয় তা সহজেই অনুমেয়। অথচ জীবিত ব্যক্তির মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে এক শ্রেণীর ইউটুবার জনমনে অসন্তোষ ছড়াচ্ছেন। প্রয়াত অভিনেতা এটিএম শামুসজ্জামানকে জীবিত অবস্থায় একাধিকবার তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এক পর্যায়ে দেশের এই বরেণ্য অভিনেতাকে বিবৃতি দিয়ে বলতে হয়েছিল- আমি মরি নাই। বেঁচে আছি। সম্প্রতি বিশিষ্ট চিত্র নায়ক, নিরাপদ সড়ক চাই এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ করেন একজন ইউটুবার। অথচ ইলিয়াস কাঞ্চন বেঁচে আছেন।
বর্তমানে লন্ডনে চিকিৎসাধীন এই অভিনেতা ভালো আছেন। বলে পরিবার থেকে জানানো হয়েছে।
ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়ে মিথ্যা মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে তাঁর হাতে গড়া সংগঠন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবন্দসহ সারা দেশের প্রায় ১২০টি শাখার নেতা-কর্মীরা গুজবের উৎস শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ বলেছেন, ‘“সবার আগে সংবাদ” দেওয়ার প্রতিযোগিতা কখনোই সত্য ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকল্প হতে পারে না। একটি সংবাদ দ্রুত প্রকাশ করার চেয়ে সংবাদটি সত্য কি না, সেটি নিশ্চিত করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
নিসচার নেতারা বলেছেন, মৃত্যু, দুর্ঘটনা কিংবা অসুস্থতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে তথ্য প্রকাশের আগে পরিবার, নিকটজন বা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। একজন জীবিত মানুষের মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে দিলে তাঁর পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ও মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের তথ্য শেয়ার করাও অনৈতিক ও ক্ষতিকর।
ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর গুজব প্রথম কোথা থেকে ছড়িয়েছে, তা শনাক্ত করে তদন্তের দাবি জানিয়েছে নিসচা। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে দেশবাসী ও ইলিয়াস কাঞ্চনের শুভানুধ্যায়ীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত ইলিয়াস কাঞ্চন গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে চিকিৎসাধীন। গত বছরের আগস্টে সেখানে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের বড় একটি অংশ অপসারণ করলেও ঝুঁকির কারণে পুরোটা অপসারণ করতে পারেননি। এরপর বিভিন্ন ধাপে কেমোথেরাপি ও ওরালথেরাপি নিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘ চিকিৎসার মধ্যে সম্প্রতি ১০ দিনের জন্য দেশে এসেছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এ সময় পরিবার, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি নিসচার একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পূর্বপুরুষদের কবরও জিয়ারত করেন। গত সপ্তাহে জামাতার সঙ্গে আবার লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তিনি।
পরিবার জানিয়েছে, তাঁর কেমোথেরাপির ধাপ শেষ হয়েছে। পরবর্তী চিকিৎসার জন্যই তিনি লন্ডনে ফিরেছেন।

সম্প্রতি হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়ে অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভার বিয়ের খবর। শুধু তাই নয়, দাবি করা হয়, গোপনে ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’ করেছেন এ অভিনেত্রী। এমন খবর ছড়িয়ে পড়ায় মানসিকভাবে অস্বস্তিতে পড়েছেন প্রভা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খবরটি একেবারেই গুজব ও ভিত্তিহীন।’
প্রভা বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না। হঠাৎ শুনলাম, আমার বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে কী বলব! সত্য হলো, আমি বিয়ে করিনি। চুক্তিভিত্তিক বিয়ের কথাও বলা হচ্ছে। আমি কখনো চুক্তিভিত্তিক বিয়ে বা এ ধরনের কোনো সম্পর্কে আবদ্ধ হইনি। আমাকে নিয়ে যেসব কথা ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
প্রভা জানান, তাঁর বিয়ের খবর প্রকাশ করা হলেও এ বিষয়ে কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। নিজের ইচ্ছামতো অনেকেই নানা তথ্য লিখছেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের লেখার শক্তি আছে। একই কলম কাউকে ভয়ংকর মানুষ হিসেবে, আবার কাউকে চমৎকার মানুষ হিসেবে তুলে ধরতে পারে। এই শক্তির সঙ্গে দায়িত্বও আসে। তাই কারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সংবেদনশীল কোনো অভিযোগ প্রকাশের আগে অনুগ্রহ করে তথ্য যাচাই করুন। আমার সঙ্গে কথা বলুন। তাহলে সত্যটা সহজেই জানা যেত।’
‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’র এই ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন প্রভা। কারণ, অনেকেই বিষয়টি ভুলভাবে জানছেন। ভক্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা কোনো ধরনের ভিত্তিহীন গুজব বা অপপ্রচারে কান দিয়ে বিভ্রান্ত হবেন না।

আমার ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবন বা যেকোনো বিষয়ে সঠিক ও সত্য তথ্য সব সময় আমার ফেসবুকের মাধ্যমে জানানো হবে। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থনই আমার শক্তি।’
সাদিয়া জাহান প্রভা ২০০৫ সালে মডেলিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন। পরে টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করে দর্শকের কাছে পরিচিতি পান। সর্বশেষ একটি সিনেমার শুটিং করেছেন তিনি। প্রভা জানান, সিনেমাটির কিছু কাজ এখনো অসমাপ্ত। শিগগিরই আবার শুটিংয়ে দেখা যেতে পারে তাঁকে।
জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ এই তিনটি ঘটনা একজন মানুষের জীবনে অনেক গুরুত্বপুর্ন। একজন জীবিত ব্যক্তির মৃত্যুর খবর প্রকাশ করার মধ্যে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার গতি ব্যহত হয়। একইসঙ্গে নির্ধারিত ব্যক্তির নিজের এবং তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম অস্থিরতা দেখা দেয়। তাই আমরা নিরাপদ সড়জ চাই অর্থাৎ নিসচার দাবীর প্রতি সমর্থন জানাচ্ছি। যে সূত্র থেকে ইলিয়াস কাঞ্চনের ভুয়া মৃত্যু সংবাদ ছড়ানো হয়েছে সেই সূত্র খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য বলে মনে করি। একই সঙ্গে তারকাদের নিয়ে ভুয়া খবর প্রকাশকারী তথাকথিত ইউটুবারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থাগ্রহণ সময়ের দাবী বলে মনে করি।








