Ad space

আমার জীবনের গভীর বেদনাকে অন্যের জীবন রক্ষার আন্দোলনে রূপ দিয়েছি

প্রকাশ:
12
Image

যুক্তরাজ্যে ১৫ মাসের বেশি সময়ের চিকিৎসা শেষে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। দেশে ফেরার এক দিন পরই তাঁকে দেখতে গুলশানের বাসায় যান চিত্রনায়ক আলমগীর।

নিরাপদ সড়ক চাই এর ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ জানান, দেশে ফেরার এক দিন পর ইলিয়াস কাঞ্চনকে দেখতে আসেন আলমগীর। সেখানে তিনি প্রায় দুই ঘণ্টার মতো অবস্থান করেন।

লিটন এরশাদ বলেন, ‘চলচ্চিত্রের বাইরেও দুজনের দীর্ঘদিনের একটা সুসম্পর্ক রয়েছে। দুজনের আড্ডায় স্বাস্থ্যগত বিষয় নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো অনেক স্মৃতি নিয়ে তাঁরা হাসিঠাট্টা করেছেন। লিটন এরশাদ বলেন, অসুস্থতার কারণে অনেক কিছুই কাঞ্চন ভাই মনে করতে পারছেন না, আলমগীর ভাই অনেক কিছু মনে করানোর চেষ্টা করেছেন। তাঁকে মানসিক সাহস দিয়েছেন। দুশ্চিন্তা করতে না করেছেন।’

ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের এপ্রিল থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসা নিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানকার হাসপাতাল ও মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকে চলে তাঁর চিকিৎসা। গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের একটি বড় অংশ অপসারণ করলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার সরাতে পারেননি। পরে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর ব্রেন ক্যানসারের কথা।

অস্ত্রোপচার শেষে শুরু হয় ইলিয়াস কাঞ্চনের দীর্ঘ সময়ের চিকিৎসা। প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপি নেওয়ার পাশাপাশি চলে দ্বিতীয় ধাপে ওরাল থেরাপি।পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় মধ্যে প্রায় ৬০টির বেশি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে এই অভিনেতাকে। এরপর তিন মাসের প্রথম ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ করে তিনি দ্বিতীয় ধাপের আরও তিন মাসের ওরাল থেরাপি নিয়েছেন। তিন ধাপে সব মিলিয়ে মোট শ খানেক কেমোথেরাপি নিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

Image

তবে এত দীর্ঘ চিকিৎসার পরও ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। লিটন এরশাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেড় বছরের বেশি সময় ধরে দেশে বাইরে থাকতে থাকতে ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই অস্থির হয়ে উঠেছেন। দেশে ফেরার জন্য তাঁর মন টানছিল। পরিবারকেও বলছিলেন, তৃতীয় ধাপের থেরাপি যেহেতু শেষ হয়েছে, কয়েক মাসের জন্য দেশে ফিরতে চান। কাঞ্চন ভাইয়ের ইচ্ছাতে তাঁকে দেশে আনা হচ্ছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। অবস্থার উন্নতিও খুব একটা নেই। তৃতীয় ধাপের থেরাপি গত ৩০ জুলাই শেষ হয়েছে। এরপর আবার তাঁর নতুন চিকিৎসা শুরু হবে। তার আগে দেশে কিছুদিন কাটাতে চাইছেন।’

চিকিৎসকের বরাতে লিটন এরশাদ জানালেন, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার যে স্থানে ছিল, এখনো সেখানেই রয়েছে। যদিও তা শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েনি। এটিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকেরা।

Image

এদিকে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত নিরাপদ সড়ক চাইয়ের ১১তম মহাসমাবেশে উপস্থিত হয়ে এ কথা বলেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘৩৩ বছর আগে ব্যক্তিগত জীবনের এক গভীর বেদনাকে আমি মানুষের জীবন রক্ষার আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলাম। আজ সেই আন্দোলন সারা দেশের মানুষের আন্দোলন। এটি আর ইলিয়াস কাঞ্চনের আন্দোলন নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের আন্দোলন।’

নিজের শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমি বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। দেশবাসীর কাছে আমার জন্য আন্তরিক দোয়া কামনা করছি। মহান আল্লাহতাআলা যেন আমাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং মানুষের পাশে, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পাশে আবারও সক্রিয়ভাবে কাজ করার শক্তি দান করেন।’

দেশবাসীর সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সরকার, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, প্রকৌশলী, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম ও দেশের প্রত্যেক সচেতন নাগরিককে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অংশ হতে হবে।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমরা একে অপরের প্রতিপক্ষ নই। আমরা সবাই মানুষের জীবন রক্ষার সহযোদ্ধা। আমার স্বপ্ন আপনাদের কাছে দিয়ে দিলাম। আমি না থাকলেও আপনারা নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন।’

জীবনযাপন নিয়ে

লোড হচ্ছে...