
ভুয়া মৃত্যু ভুয়া বিয়ের খবর উৎস খুঁজে শাস্তি প্রদান জরুরি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে দেশের প্রায় প্রতিটি মানুষ এক একজন সংবাদকর্মীর ভূমিকা পালন করছেন ইদানিং। অনেকের এমন অবস্থা- যখন যা মনে হয় তাই লিখছেন ফেসবুকে। মন

একটি পণ্যকে বাজারে প্রতিষ্ঠিত করা এবং একটি ব্র্যান্ডকে ভোক্তার জীবনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে যুক্ত করা-দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ। প্রথমটির জন্য প্রয়োজন কার্যকর বিপণন; দ্বিতীয়টির জন্য প্রয়োজন ভোক্তার আচরণ, সংস্কৃতি, বাজারের গতিপ্রকৃতি এবং ব্যবসায়িক বাস্তবতার গভীর অনুধাবন। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ব্র্যান্ড কৌশল, উদ্ভাবন, মুনাফা-ক্ষতি ব্যবস্থাপনা এবং পরিবর্তনশীল বাজারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা।
প্রায় দুই দশকের পেশাজীবনে নাবিলা জাবিন খান এই বহুমাত্রিক দক্ষতার সমন্বয় ঘটিয়েছেন। ভোক্তা পণ্য ও ভোক্তা স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে বর্তমানে তিনি ইউনিলিভার বাংলাদেশের ব্যক্তিগত পরিচর্যা ব্যবসার বিপণন পরিচালক ও ব্যবসায়িক ইউনিট প্রধান। ২০২৬ সালের শুরুতে তিনি নতুন এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির ত্বক পরিষ্কারক, স্কিন কেয়ার, লাইফবয় এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক পোর্টফোলিওতে বিভিন্ন নেতৃত্বস্থানীয় দায়িত্ব পালন করেছেন।
নাবিলার ক্যারিয়ারকে তাই শুধু একজন বিপণন পেশাজীবীর ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা হিসেবে দেখলে এর ব্যাপ্তি পুরোপুরি ধরা পড়ে না। তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ব্র্যান্ড ব্যবস্থাপনার সঙ্গে ব্যবসায়িক নেতৃত্বের সমন্বয়। স্থানীয় বাজারের ভোক্তা-অন্তর্দৃষ্টি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের কৌশলগত ব্যবস্থাপনা-দুই ক্ষেত্রেই কাজ করার সুযোগ তাঁর নেতৃত্বের পরিধিকে বিস্তৃত করেছে।
ঢাকার ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ২০০৭ সালে রেকিট বেনকিজারে ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন নাবিলা। পরবর্তী সময়ে ব্র্যান্ড ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়ে স্ট্রেপসিলস, গ্যাভিসকন ও নুরোফেনের মতো বহুল পরিচিত ভোক্তা স্বাস্থ্যপণ্যের দায়িত্ব পান। ইউরোপ, রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন বাজারে নুরোফেন ও গ্যাভিসকনের ব্র্যান্ড ইকুইটি ব্যবস্থাপনায়ও কাজ করেছেন তিনি।
ভোক্তা স্বাস্থ্যসেবা খাতের এই অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ এ ধরনের পণ্যের বিপণনে কেবল ব্র্যান্ডের দৃশ্যমানতা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। ভোক্তার আস্থা, পণ্যের কার্যকারিতা, বৈজ্ঞানিক তথ্য, ব্যবহারকারীর প্রয়োজন এবং নিয়ন্ত্রক বাস্তবতা-সবকিছুকে সমন্বয় করে ব্র্যান্ডের অবস্থান তৈরি করতে হয়। ফলে নাবিলার প্রাথমিক ক্যারিয়ারেই ব্র্যান্ড কমিউনিকেশনের পাশাপাশি ব্যবসায়িক যুক্তি ও ভোক্তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হয়।
২০১১ থেকে ২০১২ সালে লন্ডনের পূর্ণকালীন এমবিএ তাঁর এই ব্যবসায়িক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করে। ওই সময়ে উইরশিপফুল কোম্পানি অব মার্কেটর্সের বৃত্তিও অর্জন করেন তিনি। বিপণন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তাঁর একাডেমিক কাজ পরবর্তী পেশাগত অভিজ্ঞতার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এমবিএ শেষে যুক্তরাজ্যে মিশন ফুডসে সিনিয়র ব্র্যান্ড ম্যানেজার হিসেবে কাজ করার সময় নাবিলা খাদ্যপণ্য বিপণনে ভোক্তার আচরণ ও সাংস্কৃতিক অন্তর্দৃষ্টিকে ব্যবসায়িক কৌশলের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ পান। ডিজনির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর র্যাপ তৈরির একটি প্রকল্পে তিনি যুক্ত ছিলেন। পণ্যের স্বাদ, শিশুদের পছন্দ এবং জনপ্রিয় চরিত্রকে একই ব্র্যান্ড অভিজ্ঞতার মধ্যে নিয়ে আসার মাধ্যমে প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের কাছেও পণ্যটির বাজার তৈরি হয়।
২০১৯ সালে ইউনিলিভার বাংলাদেশে যোগ দেওয়ার পর নাবিলার ক্যারিয়ার নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে। ত্বক পরিষ্কারক ব্যবসার নেতৃত্ব দিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রায় তিনি পরবর্তী সময়ে কাস্টমার ডেভেলপমেন্ট, আঞ্চলিক ব্র্যান্ড ব্যবস্থাপনা, বৈশ্বিক লাইফবয় ব্যবসা, স্কিন কেয়ার এবং ডাভ ও প্রিমিয়াম পোর্টফোলিওসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
এই সময়ের অন্যতম বড় পরীক্ষা ছিল কোভিড-১৯ মহামারি। ভোক্তার আচরণ, স্বাস্থ্যবিধি, কেনাকাটার ধরন এবং ব্র্যান্ডের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক-সবকিছু দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে লাইফবয়ের মতো একটি ব্র্যান্ডের জন্য ব্যবসায়িক লক্ষ্য ও জনস্বাস্থ্য সচেতনতার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় তৈরি করা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
ইউনিলিভারের ২০২১ সালের টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদনে নাবিলাকে ত্বক পরিষ্কারক বিভাগের প্রধান ও ব্যবসায়িক দলের নেতৃত্বে থাকা কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ওই সময়ে ইউনিলিভার বাংলাদেশ ব্র্যাকের সঙ্গে যৌথভাবে ৭০০টি স্কুলে হাত ধোয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে, যার আওতায় তিন লাখ ৫০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পৌঁছায়। ‘এইচ ফর হ্যান্ডওয়াশিং’ কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল শিশুদের মধ্যে সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা।
এই অভিজ্ঞতা নাবিলার নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যুক্ত করে-ব্র্যান্ডের উদ্দেশ্যকে ব্যবসায়িক কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। একটি ব্র্যান্ড তখনই দীর্ঘমেয়াদি প্রাসঙ্গিকতা তৈরি করতে পারে, যখন তার ব্যবসায়িক প্রস্তাব ভোক্তার বাস্তব জীবনের কোনো প্রয়োজন বা মূল্যবোধের সঙ্গে সংযুক্ত হয়। লাইফবয়ের বিভিন্ন জনস্বাস্থ্যভিত্তিক উদ্যোগে এই দর্শনের বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায়।
তবে নাবিলার নেতৃত্বের মূল্যায়ন কেবল সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে করা যথেষ্ট নয়। ইউনিলিভারে দায়িত্বের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কাজের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ব্যবসায়িক কর্মদক্ষতা, পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা, ব্র্যান্ড কৌশল এবং বিভিন্ন বিভাগের সমন্বিত নেতৃত্ব। স্থানীয় বাজারের বাস্তবতা এবং বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের কৌশল-এই দুইয়ের মধ্যে কার্যকর ভারসাম্য তৈরির অভিজ্ঞতা তাঁর অন্যতম বড় পেশাগত সম্পদ।

বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান নিয়ে আঞ্চলিক ব্র্যান্ডিংয়ের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি বৈশ্বিক লাইফবয় দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে একাধিক বাজারের ভোক্তা আচরণ ও ব্যবসায়িক বাস্তবতা বোঝার সুযোগ দিয়েছে। একই ব্র্যান্ডের বৈশ্বিক অবস্থান অক্ষুণ্ন রেখে স্থানীয় বাজারে কীভাবে প্রাসঙ্গিকতা তৈরি করতে হয়-এই দ্বৈত চ্যালেঞ্জ তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশে লাইফবয়ের প্রচারণা তাঁর এই পদ্ধতির সাম্প্রতিক উদাহরণ। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ না নিলেও দেশের ফুটবলপ্রেম ও বৈশ্বিক ফুটবল সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে ব্র্যান্ডের জন্য একটি স্থানীয় সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়। নাবিলার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দুই ধাপের ওই প্রচারণায় প্রায় ৯০ হাজার অংশগ্রহণ হয়। ঢাকাসহ রাজশাহীতে পাঁচ দিনব্যাপী ফ্যানফেস্ট আয়োজন, বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের তিন তরুণ খেলোয়াড় এবং শতাধিক ন্যানো কনটেন্ট নির্মাতাকে যুক্ত করা হয়। প্রচারণা ঘিরে প্রায় ৩০০টি কনটেন্ট তৈরি হয় এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ১৩ কোটি ২০ লাখের বেশি ভিউ পাওয়া যায় বলে তিনি জানিয়েছেন।
এই উদ্যোগের ব্যবসায়িক গুরুত্ব কেবল প্রচারণার পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেখায়, একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড কীভাবে স্থানীয় সংস্কৃতি, ভোক্তার আবেগ এবং সমসাময়িক সামাজিক অভিজ্ঞতাকে ব্র্যান্ড কমিউনিকেশনের অংশে পরিণত করতে পারে। বর্তমান বিপণন ব্যবস্থায় যেখানে ভোক্তা ক্রমেই বিজ্ঞাপনসচেতন হয়ে উঠছে, সেখানে ব্র্যান্ডকে প্রাসঙ্গিক করে তুলতে সাংস্কৃতিক অন্তর্দৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নাবিলার নেতৃত্বের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া। ত্বক পরিষ্কারক ব্যবসার দায়িত্ব ছাড়ার সময় তাঁর একটি পেশাগত লেখায় তিনি উল্লেখ করেছিলেন, বিভিন্ন বিভাগের মানুষের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি ছিল সমস্যার বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে দাঁড় করানো, একে অপরের বিরুদ্ধে নয়। বড় প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন মত, অগ্রাধিকার ও ব্যবসায়িক চাপের মধ্যে একটি অভিন্ন লক্ষ্য ধরে রাখার এই সক্ষমতা নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বাস্তবে বড় ব্র্যান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে বিপণন বিভাগের সিদ্ধান্ত কখনোই বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে না। বিক্রয়, সরবরাহব্যবস্থা, অর্থ, গবেষণা ও উন্নয়ন, মানবসম্পদ এবং কাস্টমার ডেভেলপমেন্ট-প্রতিটি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন। ফলে আধুনিক বিপণন নেতৃত্ব ক্রমেই একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবসায়িক নেতৃত্বের রূপ নিচ্ছে। নাবিলার পেশাগত অভিজ্ঞতায় এই পরিবর্তনের প্রতিফলন স্পষ্ট।
তাঁর প্রোফাইলে ব্র্যান্ড কৌশল, পিএন্ডএল ব্যবস্থাপনা, উদ্ভাবন এবং বাজারে বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সহকর্মীদের পেশাগত মূল্যায়নেও চাপের মধ্যে স্থির থাকা, সমস্যা কাঠামোবদ্ধভাবে বিশ্লেষণ করা এবং সৃজনশীল সমাধান তৈরি করার সক্ষমতার কথা উঠে এসেছে। এসব দক্ষতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ এমন একটি বাজারে, যেখানে ভোক্তার পছন্দ দ্রুত বদলাচ্ছে এবং ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
২০২৬ সালে ইউনিলিভার বাংলাদেশের ‘বিজমায়েস্ট্রোস এক্স ইউনিলিভার ফিউচার লিডার্স প্রোগ্রাম’-এর বিচারক হিসেবেও নাবিলা দায়িত্ব পালন করেন। বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থাপিত সমাধান মূল্যায়নের এই দায়িত্ব তাঁর পেশাগত ভূমিকার আরেকটি দিক তুলে ধরে। ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতিভা চিহ্নিত ও বিকাশের ক্ষেত্রেও তাঁর সম্পৃক্ততা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে ব্যক্তিগত পরিচর্যা ব্যবসার বিপণন পরিচালক ও ব্যবসায়িক ইউনিট প্রধান হিসেবে নাবিলার সামনে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ব্যক্তিগত পরিচর্যা পণ্যের বাজারে ভোক্তার প্রত্যাশা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ডিজিটাল মাধ্যম ব্র্যান্ডের সঙ্গে ভোক্তার যোগাযোগের ধরন পাল্টে দিয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যসচেতনতা, প্রিমিয়ামাইজেশন, পণ্যের উদ্ভাবন, ব্যক্তিগত পরিচর্যার নতুন ধারণা এবং স্থায়িত্বের মতো বিষয়গুলোও বাজারের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।
এই পরিস্থিতিতে একটি বড় ব্যবসায়িক পোর্টফোলিও পরিচালনার জন্য শুধু শক্তিশালী ব্র্যান্ড কৌশল যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন ভোক্তার তথ্য ও আচরণ বিশ্লেষণ, দ্রুত উদ্ভাবন, কার্যকর মূল্য নির্ধারণ, সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থার দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ড ইকুইটি তৈরির সক্ষমতা। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারের বাস্তবতা এবং বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের কাঠামোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
নাবিলা জাবিন খানের প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে তাই একটি বিষয় স্পষ্ট-তাঁর পেশাগত যাত্রা শুধু পদোন্নতির ধারাবাহিকতা নয়; বরং ব্যবসার পরিধি ক্রমে বিস্তৃতভাবে দেখার একটি প্রক্রিয়া। রেকিট বেনকিজারের ভোক্তা স্বাস্থ্যসেবা থেকে যুক্তরাজ্যের খাদ্যপণ্য, সেখান থেকে ইউনিলিভার বাংলাদেশের ত্বক পরিষ্কারক ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা ব্যবসা-প্রতিটি পর্যায় তাঁর অভিজ্ঞতার সঙ্গে নতুন একটি মাত্রা যুক্ত করেছে।
আজকের করপোরেট পরিবেশে একজন বিপণন নেতার সাফল্য শুধু একটি সফল বিজ্ঞাপন বা একটি জনপ্রিয় পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত সাফল্য হলো ভোক্তার প্রয়োজনকে ব্যবসায়িক সুযোগে রূপান্তর করা, ব্র্যান্ডের দীর্ঘমেয়াদি মূল্য তৈরি করা এবং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সক্ষমতাকে একটি অভিন্ন ব্যবসায়িক লক্ষ্যে পরিচালিত করা।
নাবিলা জাবিন খানের ক্যারিয়ার সেই পরিবর্তিত বিপণন নেতৃত্বেরই একটি উদাহরণ। এখানে বিজ্ঞাপন আছে, কিন্তু বিজ্ঞাপনের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে ভোক্তা-অন্তর্দৃষ্টি; ব্র্যান্ড আছে, কিন্তু ব্র্যান্ডের পাশাপাশি রয়েছে ব্যবসার পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব; বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা আছে, আবার স্থানীয় বাজারের সূক্ষ্ম বাস্তবতাও রয়েছে। ফলে তাঁর বর্তমান দায়িত্ব শুধু একটি বড় ব্যক্তিগত পরিচর্যা পোর্টফোলিও পরিচালনার সুযোগ নয়-এটি একটি পরিবর্তনশীল ভোক্তা বাজারে কীভাবে ব্র্যান্ড, ব্যবসা ও মানুষের অভিজ্ঞতাকে একই কৌশলগত কাঠামোর মধ্যে আনা যায়, তারও একটি বড় পরীক্ষা।
জীবনযাপন নিয়ে
লোড হচ্ছে...

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে দেশের প্রায় প্রতিটি মানুষ এক একজন সংবাদকর্মীর ভূমিকা পালন করছেন ইদানিং। অনেকের এমন অবস্থা- যখন যা মনে হয় তাই লিখছেন ফেসবুকে। মন

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত যখন নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করছে, ঠিক সেই সময় নিজেদের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে ঢাকা ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান


সহশিল্পী নায়কদের মধ্যে ববিতার প্রেমের সম্পর্ক জোরালোভাবে উচ্চারিত হয় একজনের সঙ্গে। তিনি জাফর ইকবাল..

যুক্তরাজ্যে ১৫ মাসের বেশি সময়ের চিকিৎসা শেষে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। দেশে ফেরার এক দিন পরই তাঁকে দেখতে ....

অহংকার মানুষকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করায়, একজনের অহংকার অন্যজনকে কিভাবে আহত করে তার একটি বাস্তব ঘটনা তুলে ধরলেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক......

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক (গ্রেড-১) পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক, লেখক ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাতা কাজী জেসিন। দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা, টেলিভিশন অনুষ্ঠান.....

ময়ূরপঙ্খী এবং ইন্টারন্যাশনাল প্রফেশনাল একাডেমীর উদ্যোগে জমকালো আয়োজনে ‘২য় আইপা অ্যাওয়ার্ড’ (ইন্টারন্যাশনাল প্রফেশনাল অ্যাচিভার) ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে । স্ব স্ব ক্ষেত্রে অবদান রাখা দেশ-বিদেশের,,,,