
অ্যাডভেঞ্চার অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ঈদের বিশেষ পর্ব ২০২৬
বিশ্বের নানা প্রান্তের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে প্রকৃতি ও জীবন অনুষ্ঠানের বিশেষ আয়োজন অ্যাডভেঞ্চার অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড। মুকিত মজুমদার বাবুর পরিকল্পনা.....

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে এমন এক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিংবা বাজেটের আকারের পাশাপাশি আরেকটি বিষয় ক্রমেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে-আস্থা। ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, বিনিয়োগের পরিবেশকে টেকসই করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন স্থিতিশীলতা ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতি। দেশের শীর্ষ উদ্যোক্তা ও ব্যাংকারদের একজন আব্দুল হাই সরকার সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বক্তব্যে সেই বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরছেন। তার মতে, দেশীয় উদ্যোক্তারা যদি স্বস্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, তাহলে বিদেশী বিনিয়োগও স্বাভাবিকভাবেই উৎসাহিত হবে।
ঢাকা ব্যাংক পিএলসি-এর চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস-এর চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের ব্যাংকিং ও শিল্প খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে অর্থনীতির ভেতরের পরিবর্তন, উদ্যোক্তাদের মানসিক অবস্থা কিংবা বিনিয়োগের বাস্তব চ্যালেঞ্জ, সবকিছুই তিনি কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তার বক্তব্যে তাই শুধু আর্থিক খাতের সংকট নয়, বরং অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা নিয়েও এক ধরনের ভাবনা প্রতিফলিত হয়।
আব্দুল হাই সরকার মনে করেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নীতির ধারাবাহিকতা। একজন উদ্যোক্তা যখন বড় বিনিয়োগ করেন, তখন তিনি শুধু বর্তমান পরিস্থিতি নয়, ভবিষ্যতের পরিবেশও বিবেচনায় রাখেন। কিন্তু ঘন ঘন নীতিগত পরিবর্তন, প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা কিংবা জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে কঠিন করে তোলে। তার মতে, অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা জরুরি।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর ঋণ কর্মসূচি প্রসঙ্গেও তিনি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পরামর্শ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন। কারণ অর্থনৈতিক সংস্কারের চাপ অনেক সময় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ওপরও প্রভাব ফেলে। তাই যেকোনো নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাস্তবতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করা দরকার বলে তিনি মনে করেন।
ব্যাংক খাত নিয়ে তার পর্যবেক্ষণও বেশ স্পষ্ট। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কয়েকটি দুর্বল ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন। তার মতে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পদ্ধতি থাকলেও যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে আমানতকারীদের আস্থা ও বাজারের মনস্তত্ত্ব বিবেচনায় রাখা জরুরি। কারণ ব্যাংকিং খাত মূলত বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। মানুষ যদি তাদের সঞ্চয় নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে, তাহলে পুরো খাতই চাপের মুখে পড়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা নিয়েও তিনি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা করে আসছেন। তার মতে, দেশের অর্থনীতির আকারের তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। এতে প্রতিযোগিতা যেমন বাড়ে, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা বা ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বিতরণের প্রবণতাও তৈরি হতে পারে। তাই ব্যাংক খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিকল্পিত সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
খেলাপি ঋণের বিষয়টি নিয়েও তার উদ্বেগ রয়েছে। তিনি মনে করেন, আইনি প্রক্রিয়া আরও কার্যকর ও দ্রুত হলে অনেক সমস্যার সমাধান সহজ হতে পারে। বর্তমানে কোনো খেলাপি ঋণ আদায়ে দীর্ঘ সময় লেগে যায়, যা ব্যাংকগুলোর জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে। তার মতে, বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আরও দক্ষ ও সময়োপযোগী কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তবে তিনি শুধু বেসরকারি ব্যাংকগুলোর বিষয়েই কথা বলেন না; রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অবস্থাও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখার পক্ষে মত দেন। তার দৃষ্টিতে, আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই জবাবদিহি ও দক্ষতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
করনীতি প্রসঙ্গেও আব্দুল হাই সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের ওপর জোর দেন। তার মতে, নিয়মিত করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি না করে নতুন করদাতা বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেয়া উচিত। একই সঙ্গে অর্থনীতির অনানুষ্ঠানিক খাতগুলোকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার আওতায় আনা গেলে রাজস্ব আয় বাড়বে এবং ব্যবসায়িক পরিবেশও উন্নত হবে।
জমি নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবায় ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর পক্ষে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মত দিয়ে আসছেন। তার বিশ্বাস, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে প্রযুক্তিনির্ভর রূপান্তরের সামাজিক প্রভাব সম্পর্কেও তিনি সচেতন। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে ডিজিটালাইজেশনের ফলে কর্মসংস্থানের ধরন বদলে যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তাই প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির দিকেও নজর দেয়া প্রয়োজন।
একজন শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে তিনি বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুতের সীমাবদ্ধতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, উৎপাদন খাতে স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে শিল্পকারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতাও প্রভাবিত হয়।
বিদেশী বিনিয়োগ নিয়ে তার বক্তব্যে একটি বাস্তবধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়। তিনি মনে করেন, বিদেশী বিনিয়োগকারীরা সাধারণত স্থানীয় বিনিয়োগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই সিদ্ধান্ত নেন। যদি দেশীয় উদ্যোক্তারা স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা করতে পারেন এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা অনুভব করেন, তাহলে বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে যায়। তাই তার মতে, দেশীয় বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করাই বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের অন্যতম পূর্বশর্ত।

বাজেট নিয়েও তার কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে। তিনি মনে করেন, বড় বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থায়নের উৎস এবং বেসরকারি খাতের ওপর এর প্রভাব বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যাংক খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেয়া হলে বেসরকারি বিনিয়োগে চাপ তৈরি হতে পারে। তাই বাজেট প্রণয়নের আগে ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের সঙ্গে আরও বিস্তৃত আলোচনা হওয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন।
আব্দুল হাই সরকারের বক্তব্যে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়, তা হলো অর্থনীতিতে আস্থা ও স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তা। তিনি মনে করেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গেলে দেশের অর্থনীতি নতুন গতি পেতে পারে।
বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় তার এই পর্যবেক্ষণগুলো তাই শুধু একজন ব্যাংকারের মতামত নয়; বরং দীর্ঘদিন শিল্প ও আর্থিক খাতের সঙ্গে যুক্ত একজন উদ্যোক্তার অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। তার বিশ্বাস, দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা গেলে অর্থনীতির ভেতরের শক্তিটাই আরও দৃঢ় হবে। আর সেই আস্থার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই ভবিষ্যতে টেকসই বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির পথ আরও সুসংহত হতে পারে।
আব্দুল হাই সরকারের বক্তব্যে আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়-তিনি অর্থনীতিকে কেবল বড় বড় পরিসংখ্যানের ভেতরে সীমাবদ্ধ করে দেখেন না। তার দৃষ্টিতে অর্থনীতির প্রকৃত শক্তি বোঝা যায় মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে, শিল্পকারখানার উৎপাদনে, ব্যবসায়ীদের আত্মবিশ্বাসে এবং কর্মসংস্থানের গতিশীলতায়। তিনি মনে করেন, কোনো দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন সেই প্রবৃদ্ধির প্রভাব বাস্তব খাতে প্রতিফলিত হয়।
বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাত নিয়ে তার পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তিনি নিজেও দীর্ঘ সময় ধরে এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার মতে, বাংলাদেশের রপ্তানি অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি এখনও তৈরি পোশাক শিল্প। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সংকট, কাঁচামালের ব্যয় বৃদ্ধি, ডলারের অস্থিরতা এবং ঋণের উচ্চ সুদের কারণে উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেক কারখানা সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করতে পারছে না। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতাও কিছুটা কমে যাচ্ছে।
তিনি মনে করেন, শিল্প খাতের উন্নয়নে শুধু প্রণোদনা ঘোষণা যথেষ্ট নয়। বরং অবকাঠামো, জ্বালানি সরবরাহ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা-এসব ক্ষেত্রেও সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়োজন। একজন উদ্যোক্তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ। যদি প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আগ্রহ কমে যায়।
এই কারণেই নীতির ধারাবাহিকতার প্রশ্নটি তার বক্তব্যে এত গুরুত্ব পায়। তার মতে, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যদি অর্থনৈতিক নীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসে, তাহলে ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সংশয়ে পড়ে যান। বিশেষ করে ব্যাংকিং ও শিল্প খাতের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগনির্ভর খাতে স্থিতিশীল নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাংক খাত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রায়ই উদ্যোক্তাদের ভূমিকার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তার মতে, একটি ব্যাংকের সফল পরিচালনার পেছনে উদ্যোক্তাদের দায়বদ্ধতা ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ হওয়া উচিত নীতিমালা ও তদারকি নিশ্চিত করা, তবে একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের কাজ করার সুযোগও দিতে হবে। তিনি মনে করেন, ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমেই ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব।
অবশ্য অতীতে কিছু ব্যাংকে অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কথাও তিনি অস্বীকার করেন না। তবে তার মতে, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার দায় পুরো খাতের ওপর চাপানো ঠিক হবে না। বরং যেসব ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে, সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই বেশি কার্যকর পন্থা। কারণ ব্যাংকিং খাতের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হলে তার প্রভাব পুরো অর্থনীতিতেই পড়ে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাংক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে আমানত প্রবাহেও প্রভাব পড়ে বলে তিনি মনে করেন। তাই যেকোনো সংস্কার প্রক্রিয়ায় সতর্কতা জরুরি। তার ভাষায়, আর্থিক খাতে সিদ্ধান্ত এমনভাবে নিতে হবে যাতে আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি না হয়।
করব্যবস্থা নিয়েও তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামোর পক্ষে কথা বলে আসছেন। তার মতে, কর আদায়ের পরিধি বাড়ানো জরুরি, তবে সেই প্রক্রিয়া যেন ব্যবসাবান্ধব হয়। নিয়মিত করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করলে তা বিনিয়োগ পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বরং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও সহজ করা গেলে রাজস্ব আয়ও বাড়বে এবং ব্যবসায়ীরাও স্বস্তি পাবেন।
এ ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি বলেন। তার মতে, জমি নিবন্ধন, স্থানীয় কর ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সরকারি সেবাকে ডিজিটাল প্লাটফর্মে নিয়ে আসা গেলে দুর্নীতি কমবে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ হবে।
ডিজিটাল ব্যাংকিং নিয়েও তার অবস্থান ইতিবাচক, তবে বাস্তবধর্মী। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতের ব্যাংকিং প্রযুক্তিনির্ভর হবে-এটি অনিবার্য। কিন্তু সেই পরিবর্তনের সঙ্গে মানবসম্পদ উন্নয়নকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ প্রযুক্তির প্রসারের ফলে কর্মক্ষেত্রের ধরন বদলে যাচ্ছে। তাই নতুন প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তোলার দিকেও মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন।
অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আব্দুল হাই সরকার আশাবাদের কথাও বলেন। তার বিশ্বাস, বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে সক্ষমতা ও সম্ভাবনার অভাব নেই। নানা বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্যেও দেশের শিল্পোদ্যোক্তারা উৎপাদন ও রপ্তানির ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। তবে সেই সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করতে হলে তাদের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
তার মতে, অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন পারস্পরিক আস্থা। সরকার, ব্যাংক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যদি ইতিবাচক সম্পর্ক ও বিশ্বাস তৈরি হয়, তাহলে বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। কারণ অর্থনীতি শুধু নীতির ওপর নয়, মানুষের প্রত্যাশা ও আত্মবিশ্বাসের ওপরও দাঁড়িয়ে থাকে।
বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় আব্দুল হাই সরকারের বক্তব্য তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। তিনি মনে করেন, টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করতে হলে প্রথমেই দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য স্বস্তিকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা যখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাবেন, তখনই বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছেও বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় ও স্থিতিশীল অর্থনীতির প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...

বিশ্বের নানা প্রান্তের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে প্রকৃতি ও জীবন অনুষ্ঠানের বিশেষ আয়োজন অ্যাডভেঞ্চার অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড। মুকিত মজুমদার বাবুর পরিকল্পনা.....

আমাদের ছোটবেলার ঈদ ছিল অন্যরকম। আমাদের দেশে ঈদ উৎসব সবচেয়ে বড় উৎসব। পাকিস্তান আমলের কথা বলছি। আমার তখন ৫/৬ বছর বয়স,,,

মনিরা মিঠু। এক নামেই যার ব্যাপক পরিচিতি। টিভি, চলচ্চিত্র, ওটিটি সব মাধ্যমেই তার সরব উপস্থিতি দর্শকদের বেশ আগ্রহের বিষয়। মা চরিত্রে অনবদ্য তিনি। একই সময়ে দুটি .....

আয় খুকু আয়... এই গানটির মধ্যে বাবা-মেয়ের মধুর সম্পর্কের একটি চিত্র নাট্য খুঁজে পাওয়া যায়। বাবা-মেয়ের সম্পর্কটাই অন্যরকম। মেয়ের ছোটবেলায় বাবাই অভিভাবক....

ছোটকাকু সিরিজ ,ভুলতে ভুলতে ভোলাতে, ছোটকাকু বললেন, ডিলা গ্রান্ডে মেফিস্টো ফিলিপস ইয়াক ইয়াক। কার ডায়লগ বলতো.....

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম তাঁর অনেক পরিচয়। শিক্ষক, লেখক, প্রাবন্ধিক, রাজনৈতিক আন্দোলনের কর্মী। অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। সবার প্রিয় শিক্ষক,,,

বাংলাদেশের ব্যাংক খাত যখন দীর্ঘদিন ধরে আস্থার সংকট, খেলাপি ঋণের চাপ, তারল্য সংকট এবং সুশাসনের প্রশ্নে আলোচিত, ঠিক সেই সময় দেশের চতুর্থ প্রজন্মের.....

বাড়ি কিংবা অফিস সাজাতে আলোর ভূমিকা এখন আর কেবল অন্ধকার দূর করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সঠিক আলোকসজ্জা যেমন ছোট ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে বড় দেখা যাবে, তেমনি সাধারণ একটি কক্ষকে করে তোলে অনন্য ও আধুনিক..........