
এবার মিস ওয়ার্ল্ডের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সামানজার
ওর নাম সামানজার। নামটাই যেন অন্যরকম। ৭৫তম মিস ওয়ার্ল্ডে বাংলাদেশের প্রতনিধিত্ব করবেন তিনি। আসুন দেখি কে এই সামানজার।‘ছোটবেলা থেকেই সুন্দরী প্রতিযোগিতা দেখতে ভালো লাগত......

পুর্ণিমা, এই তিনটি অক্ষরই তাঁর পরিচয়ের জন্য যথেষ্ট। দেশের ব্যাপক জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা, সেরা উপস্থাপক। সবচেয়ে বড় কথা, একজন ভালো মানুষ। ভালো বন্ধু। ভালো মা। বন্ধুসম স্ত্রী। তাঁর বড় পরিচয় দর্শক নন্দিত অভিনেত্রী। একটি পরিবারের বাবা, মা, ছেলে, মেয়ে, নাতি নাতনী অর্থাৎ সকল বয়সের মানুষ অভিনেত্রী পুুর্ণিমার ভক্ত। তাকে ভালোবাসেন সবাই। যেখানেই পূর্ণিমাার উপস্থিতি সেখানেই আনন্দ আর উৎসবের রঙ। কোনো সিনেমায় পূর্ণিমাা থাকা মানেই সেই সিনেমার জন্য দর্শকের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। প্রায় ৮৫টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন সবার প্রিয় চিত্র নায়িকা পূর্ণিমাা। দেশে নির্মিত সাহিত্য নির্ভর কাহিনীর অধিকাংশ সিনেমার নায়িকা পূর্ণিমাা। যেমন অভিনয় তেমনই অনুষ্ঠান উপস্থাপনায়ও আলো ছড়িয়েছেন তিনি। সাধারনত যারা নায়ক, নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেন তারা অভিনয়ের বাইরে অন্য কিছুতে আগ্রহ দেখান না। কিন্তু পূর্ণিমাা এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। অভিনয়ের মতো অনুষ্ঠান উপস্থাপনাকেও একটা গুরুত্বপুর্ন অবস্থানে দাঁড় করিয়েছেন। কোনো সিনেমায় পূর্ণিমাা আছেন জানতে পারলে সিনেমাটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ যেমন বেড়ে যায় তেমনই আগ্রহ বেড়ে যায় অনুষ্ঠান উপস্থাপনার খবর শুনলে। পূর্ণিমাা বেশ মিষ্টি করে হাসেন। আড্ডা, আলোচনায় স্বভাব সুলভ ভঙ্গিতে এমন ভাবে কথা বলেন যে, তার কথা শোনার জন্য সবার আগ্রহ বেড়ে যায়। আড্ডা আলোচনায় পূর্ণিমাা সাধারনত হাসেন না। তবে তার কথা শুনে অন্যরা হাসে, আনন্দ পায়। আর তাই বন্ধু মহলে পূর্ণিমাার গুরুত্ব অনেক বেশী। একে তো দেশসেরা চিত্রনায়িকা, তার ওপর সাদা মনের মানুষ। আর তাই পূর্ণিমাার সঙ্গ পাবার জন্য বন্ধুরা মুখিয়ে থাকে।
চলচ্চিত্র পরিবারেও পূর্ণিমাা ব্যাপক জনপ্রিয়। কাছের মানুষ। রূপালী পর্দায় তিনি যেন পূর্ণিমাার চাঁদ। ব্যক্তিত্ব ও সৌন্দর্যে, দুরদর্শিতার দীপ্তিতে তিনি হয়ে উঠেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের অনন্য একটি নাম। দিলারা হানিফ রীতা থেকে পূর্ণিমাা হয়ে ওঠার গল্পটি খুব একটা সহজ নয়। অভিনয় প্রতিভার ঝলক দেখিয়েই দিলারা হানিফ থেকে পূর্ণিমাা নামটিকে তিনি বাংলা সিনেমার কোটি কোটি দর্শকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় ও আদরনীয় করে তুলেছেন। ৯০ দশকের শেষ প্রান্তে রুপালী পর্দায় তাঁর আগমন। তাঁর অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘এ জীবন তোমার আমার’। শৈশবের স্বপ্ন আর শিল্পের প্রতি ভালোবাসার স্বপ্নকে ঘিরে শুরু হয়েছিলো সবার প্রিয় অভিনেত্রী পূর্ণিমাার পথচলা। সুঅভিনয়, সৌন্দর্য আর সাবলীল উপস্থিতিতে সিনেমায় হয়ে ওঠেন দর্শকদের অত্যন্ত প্রিয়মুখ। একের পর এক সফল সিনেমায় তিনি ছড়াতে থাকেন অভিনয়ের দ্যূতি। রোমান্টিক চরিত্রের পাশাপাশি জীবন ঘনিষ্ঠ বৈচিত্রপুর্ন নানা চরিত্রে পূর্ণিমাা তাঁর অভিনয় পরিক্রমায় স্বাক্ষর রেখেছেন নিপুণ ভাবে। রুপালী পর্দার সীমানা পেরিয়ে টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের

বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর পদচারনা দর্শক হৃদয় জয় করেছে। অভিনয়ের ২৭ বছরের পরিক্রমায় পূর্ণিমাা জাতীয় চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার সহ অর্জন করেছেন আরও বেশ কিছু সম্মাননা। সম্প্রতি নিজের জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেল আই এর আমন্ত্রণে তারকাকথন এর বিশেষ অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে এসেছিলেন পূর্ণিমাা। সঙ্গে ছিলেন চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ তারকা, দেশসেরা সঙ্গীত শিল্পী কোনাল। দুই ভুবনের দুই তারকার মধ্যে জমে ওঠে জম্পেশ আড্ডা। তারই চুম্বক অংশ এবার আনন্দ আলোর শীর্ষকাহিনীতে প্রকাশ করা হল।
পূর্ণিমাাময় একটি দিন
আড্ডার শুরুতেই জন্মদিনের কথা তুললেন কোনাল। পূর্ণিমাা বললেন, জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও কাছের, দুরের অনেক মানুষ উইশ করেছে। কেউ বাদ যায়নি। প্রথমে হাজবেন্ড তারপর মেয়ে, পরে ফ্রেন্ড সার্কেলরা উইশ করেছে। এখন চ্যানেল আইতে তারকা কথন অনুষ্ঠানে বসে কথা বলছি। বলতে গেলে গোটা পৃথিবীর বাংলা ভাষাভাষি মানুষ আমাকে দেখছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে আমার জন্মদিন পূর্ণিমাাময় হয়ে ওঠে। খুউব ভালো লাগে।
জন্মদিন মানেই এগিয়ে যাওয়া
জন্মদিন নিয়েই আবার প্রশ্ন করলেন কোনাল। জন্মদিন আসে জন্মদিন চলে যায়। পূর্ণিমাা, আপনার কাছে জন্মদিন আসলে কী?
পুনির্মা মৃদু হেসে বললেন, একেকটা জন্মদিন মানেই তো এগিয়ে যাওয়া। একধাপ করে অতিক্রম করা। সঙ্গে বয়স বাড়ে, এটাই স্বাভাবিক।
স্মরনীয় জন্মদিন
কোনালের এক প্রশ্নের জবাবে পূর্ণিমাা বললেন, ইন্ডাস্ট্রিতে আসার পর দেখেছি অর্থাৎ একটা ট্রেন্ড ছিল নায়িকার বার্থডে বড় করে উদযাপন করা । চলচ্চিত্র পরিবারের সবাইকে ইনভাইট করা হতো। বিশাল কনভেনশন হলে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। বার্থডে গার্ল মানে, ওই যে সিনেমায় যেমন দেখায় সাদা গাউন পরা... এমনটা আমি দেখেছি শাবনুর আপুর বেলায়, এমন আয়োজন পপি করতো, আমি করতাম। আমার জন্মদিন কখনও কখনও পারিবারিক ভাবে ঘরোয়া আয়োজনে হয়েছে আবার কখনও কখনও বিশাল আয়োজন করেও হয়েছে। আজ যেমন চ্যানেল আইতে বিশাল আয়োজন করা হয়েছে। আমি বেশ আনন্দিত।
কেমন চলছে পূর্ণিমাার সংসার?
পূর্ণিমাার মেয়ের নাম আরশিয়া। স্বামীর নাম রবিন। কোনাল জানতে চাইলেন- কেমন চলছে পূর্ণিমাার সংসার? পূর্ণিমাা বললেন, আলহামদুলিল্লাহ। সংসার ভালই চলছে। সুখে আছি, আনন্দেই আছি।
আরশিয়া কি মায়ের মতো হতে চায়?
পূর্ণিমাার আদুরে মেয়ে কি মায়ের মতোই বড় অভিনেত্রী অর্থাৎ সুপারস্টার হতে চায় নাকি অন্যকিছু...? কোনালের এই প্রশ্ন শুনে পূর্ণিমাা বললেন, আমার মেয়ে এখনও ছোটো। সুপারস্টার ব্যাপারটা ওর কাছে এখনও স্পষ্ট নয়। ও যখন আরও ছোট ছিল তখন ওর সঙ্গে একটু একটু করে টিকটক করতাম। করোনাকালে আমরা সবাইতো ঘরে বন্দী ছিলাম। তখন সময় কাটানোর জন্য ওকে নিয়ে আমি টিকটক করতাম। ও আমার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সব করতো। মা যা করে তাই করতো। একটা পর্যায়ে ও যখন সবকিছু বুঝতে শুরু করলো তখন একদিন আমাকে প্রশ্ন করে বসলো- মা তুমি কি টিকটকার? আমি ওর কথা শুনে যারপর নাই অবাক। মনে মনে ভাবলাম- এই হচ্ছে আমার জীবনের প্রাপ্তি। পরে আস্তে ধীরে ওকে আসলে বুঝানো হয়েছে যে, আমি আসলে সিনেমায় কবে থেকে কাজ করছি, আমার অর্জন গুলো কি? এখন সে বুঝতে পারে। তবে হ্যা, সে একটা জায়গায় আমার মতো হতে চায়। সেটা কি? আমাকে যখন রিয়েলিটি শো গুলোতে দেখে, ও এটা বেশ এনজয় করে। ও রিয়েলিটি শোয়ের সরাসরি বিচারক হতে চায়। বিশেষ করে রান্নার প্রোগ্রামের বিচারক হতে চায়। কেন? রান্নার প্রোগ্রামের বিচারক হলে অনেক ভালো খাবার খাওয়া যাবে। আমি তখন মেয়েকে বুঝাই, মা বিচারক হতে গেলে তো অনেক কিছু শিখতে হবে। অনেক কিছু জানতে হবে। আরশিয়ার সহজ সরল উত্তর- আমিও একদিন হয়ে যাব...
দেড়শ নয় আশি থেকে পঁচাশি
পূর্ণিমাা অভিনীত সিনেমার সংখ্যা তুলে ধরতে গিয়ে কোনাল বলছিলেন, যতদুর জানি আপনি দেড়শ’র মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন। আপনার অভিনীত প্রিয় সিনেমা কোনটি?
পূর্ণিমাা বললেন, ছবির সংখ্যার ক্ষেত্রে একটা সংশোধনী আনতে চাই। আমার অভিনীত ছবির সংখ্যা দেড়শ নয়। তবে হ্যা, আমি আরেকটু সিরিয়াস হলে ছবির সংখ্যা দেড়শ ছাড়িয়ে যেত। আমার অভিনীত ছবির সংখ্যা ৮০ থেকে ৮৫ হবে। এর চেয়ে আরও বেশী ছবি হওয়া উচিৎ ছিল। কিন্তু আমি আসলে আলসে টাইপের মানুষ। আমি অভিনয় থেকে একটু দূরে পালাতে চাইতাম। আমার ভালো লাগতো না। এজন্য অনেক ভালো অফার আমি ফিরিয়ে দিয়েছি। কাজ করিনি। আমার অভিনীত যে ছবি গুলো দর্শক প্রিয়তা পেয়েছে তার সব গুলোই আমার প্রিয়।
কোন চরিত্র দেখে আফসোস হয়েছে
পূর্ণিমাাকে কোনাল প্রশ্ন করলেন, কিছু চরিত্র থাকে না দেখলে মনে হয়, ইস আমি যদি করতে পারতাম। আপনার বেলায় এমন কি হয়েছে।
পূর্ণিমাা একটু ভেবে নিয়ে বললেন, অনেক চরিত্রই তো আছে। নাম নাই-বা বলি। তবে হ্যা, মৌসুমী আপুর ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ এর চরিত্রটি আমার খুব প্রিয়। মাঝে মাঝে মনে হয় ইস ওই ক্যারেক্টারটা যদি করতে পারতাম। আরেকটা চরিত্র আছে। শাবনুর আপু ‘আনন্দঅশ্রু’ তে যে চরিত্রটি করেছিলেন ওই চরিত্রটাও আমার খুব প্রিয়। আনন্দঅশ্রুর গান গুলো খুবই শ্রুতিমধুর ছিল। এই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করার জায়গা আছে।

প্রিয় কাজ?
প্রশ্ন: আপনার অভিনীত প্রিয় সিনেমা?
পূর্ণিমাা: সব সিনেমা। কোনোটাকে আলাদা করা যাবে না।
প্রশ্ন: প্রিয় পরিচালক?
পূর্ণিমাা: সবাই। সবাই... সবাই আমার প্রিয় পরিচালক।
প্রশ্ন: নায়ক?
পূর্ণিমাা: সবাই।
প্রশ্ন: গানের শিল্পী?
পূর্ণিমাা: সবাই।
প্রশ্ন: কাউকে আলদা করে বলবেন না?
পূর্ণিমাা: (একটু ভেবে নিয়ে) হ্যা আলাদা করে যদি বলতে হয় তাহলে একজনের নাম বলবো। তাঁর গান আমার বাবা শুনতেন। আমরা তখন কে গাইছে না গাইছে বুঝতে পারতাম না। কিন্তু ওনার গান গুলো মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল। পরে বুঝতে পারলাম তিনি হচ্ছে শ্রদ্ধেয় রুনা লায়লা। রুনা লায়লা ম্যামের গান শুনে শুনে বড় হয়েছি। কখনও ভাবিনি ওনার সান্নিধ্যে বা কাছে যেতে পারব। রুনা ম্যাম আমার অনেক পছন্দের শিল্পী।
প্রশ্ন: আপনার সিনেমায় রুনা লায়লা গানে কণ্ঠ দিয়েছেন।
পূর্ণিমাা: হ্যা। অবশ্যই... সৌভাগ্যক্রমে আমাদের মধ্যে একটা পারিবারিক সম্পর্ক হয়েছে। রুনা ম্যামের কোনো অনুষ্ঠান হলেই আমার ডাক পড়ে। অনুষ্ঠানে খাওয়া-দাওয়া শেষে শুরু হয় মিমিক্রির আবদার। আসো এবার মিমিক্রি করো।
পূর্ণিমার মিমিক্রি প্রসঙ্গ
পূর্ণিমাার মিমিক্রি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কোনাল। আপনার এই প্রতিভা ঘর থেকে বের হয়ে ন্যাশনালি ছড়িয়ে পড়েছে। এটা অনেক বড় যোগ্যতা। প্রতিভাবানরাই এটা পারে। প্রচুর হিউমার সেন্স দরকার হয়। এটা কি ছোটবেলা থেকে করতেন? পূর্ণিমাা কি ছোটবেলায় খুব দুস্টু ছিল?
সহজ সল স্বীকারোক্তি দিলেন পূর্ণিমাা। হ্যা, আমি ছোটবেলায় অনেক দুস্টু ছিলাম।
কোনাল প্রশ্ন করলেন- তখন থেকেই কি মিমিক্রি করা হতো?
পূর্ণিমাা বললেন- না না। ছোটবেলায় মিমিক্রি কি জিনিস বুঝতাম না। মিডিয়াতে আসার পর থেকে মিমিক্রি শুরু করি।
শিক্ষককে কেন ভয় দেখাতেন
ছোটবেলার দুস্টোমির একটা ঘটনা জানতে চাইলেন কোনোল। পূর্ণিমাা বললেন- লেখাপড়ার ক্ষেত্রে বেশ ফাঁকি দিতাম। টিচার পড়াতে এলে বেশ বিরক্ত লাগতো। স্কুল থেকে আসার পর বাসায় কেন প্রাইভেট পড়তে হবে? টিচারকে বেশ জ্বালাতাম। স্যারের জুতায় কখনও পানি ঢেলে দিয়েছি, মাথার চুল কেটে দিয়েছি। যাতে স্যার আর পড়াতে না আসেন। এসব করার পর টিচারকে ভয় দেখিয়ে বলতাম- এই ঘটনা আমার মা যেন না জানে। জানলে আপনার খবর আছে। স্যার কিছুই বলতেন না। বরং আমাকে বুঝাতেন তুমি মন দিয়ে পড়। পাস করলেই হবে। তবে আম্মা ব্যাপারটা জানতেন।
মিমিক্রি কিভাবে শুরু হল?
আবার মিমিক্রি প্রসঙ্গ তুললেন কোনাল। মিডিয়ায় ঢুকে মিমিক্রি শুরু করলেন? এব্যাপারে কিছু বলেন?
পূর্ণিমাা বললেন, বিষয়টা আসলে আমার মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রথম দিকে আমার নিজেকে নায়িকা মনে হতো না। ১৪ বছরের একটি মেয়ে কিভাবে নায়িকা হয়? আমার মেয়ের কথা যদি চিন্তা করি। ওর বয়স যখন চৌদ্দ হবে তখন আমি কল্পনাও করতো পারবো না যে ও সিনেমার নায়িকা হবে। ও হতে চাইলেও, ওর হাত পা বেধে আটকিয়ে রাখবো।
যাক, কোনো ভাবে ১৪ বছর বয়সে নায়িকা হয়ে গেছি। কিন্তু আমার নিজেকে কখনই নায়িকা মনে হতো না। গেটআপ, মেকআপ কোনো কিছুতেই না। স্যালনে যেতে হবে, হেয়ার স্টাইল করতে হবে, চোখ সাজাতে হবে। এসব কিছুই জানতাম না। নিজেকে গ্রুমিং করতেই অনেক সময় লেগেছে।
শুরুটা কেমন ছিল?
কোনালের এক প্রশ্নের জবাবে পূর্ণিমাা বললেন, আমার অভিনয় জীবনের শুরুটা বেশ ভালই ছিল। একজন নতুন নায়িকা সলো হিরোইন হিসেবে ব্রেক পাচ্ছে। এটাই তো বিশাল ব্যাপার। ফাস্ট লিড, সেকেন্ড লিড থাকে সিনেমায়। আমি ফাস্ট লিড হিসেবেই সিনেমায় ঢুকি। আমার বিপলীতে রিয়াজ ছিল। আমাদের দু’জনের ওপর রোমান্টিক একটা গল্প। তবে সামহাউ ছবিটা ক্লিক করে নাই। পাশাপাশি আরেকটা ছবির অফার পেয়েছিলাম। নাম ভন্ড। শহীদুল ইসলাম খোকনের সিনেমা। ওই সময়টায় আমার আম্মা আমাকে কারও সঙ্গে কথা বলতে দিতেন না। আমার ব্যাপারে আম্মাই কথা বলতেন। একদিন শহীদুল ইসলাম খোকন আম্মাকে ফোন করে বললেন- পূর্ণিমাা আছে?
আম্মা জবাব দিলেন- আমি পূর্ণিমাার মা। কি বলবেন বলেন...
খোকন বললেন- আমি পূর্ণিমাার সঙ্গেই কথা বলতে চাই।
আম্মা বললেন- পূর্ণিমাা ছবির ব্যাপারে ভালো ভাবে কথা বলতে জানে না। কি বলবেন আমাকেই বলেন।
খোকন ভাই রেগে বললেন- অভিনয় কি আপনি করবেন নাকি আপনার মেয়ে করবে?
আম্মার সাফ জবাব- অভিনয় ওই-ই করবে। তবে কথা আমি বলবো। ডেট নিয়ে কথা থাকলে আপনি আমাকে বলেন।
খোকন ভাই রেগে বললেন- থাক আপনার সঙ্গে কথা বলার কোনো প্রয়োজন দেখছিনা। যদি কোনো দিন আপনাকে অভিনয়ের জন্য দরকার পড়ে তাহলে আপনার সঙ্গেই ডেট নিয়ে কথা বলবো।
খোকন ভাই ফোন কেটে দিলেন। আমি ছবিটা থেকে বাদ পড়লাম। খোকন ভাই জেদি মানুষ। দেড় দুই মাসের মধ্যে নতুন নায়িকা নিয়ে ছবিটা শেষ করলেন। নায়িকার নাম তামান্না। নায়ক রুবেল ভাই। জেদের বশে খোকন ভাই এমন একটা ব্যবস্থা করলেন যাতে আমার প্রথম ছবি মুক্তির দিন তার ছবিটাও মুক্তি পায়। ফলে যা হবার তাই হলো। শহীদুল ইসলাম খোকন, রুবেল ভাই তখনকার দিনে আমাদের সিনেমার বড় তারকা। সেখানে আমি নতুন। কেউ আমাকে তেমন চিনে না। রিয়াজও নতুন। ভন্ড’র সঙ্গে আমাদের ছবি তাল মিলাতে পারলো না। আমি ‘ভন্ড’ দেখতে গিয়েছিলাম। হলে লোকের জায়গা দেয়া যাচ্ছে না। আর আমাদের ছবিতে দর্শক মোটামুটি আছে। তবে ভন্ডের তুলনায় কিছুই না। প্রথম ছবিতেই ধাক্কা খেলাম।
দ্বিতীয় ছবিতেও ধাক্কা
পূর্ণিমাা তার সিনেমা জীবনের গল্প বলেই যাচ্ছিলেন। প্রথম ছবিতে ধাক্কা খাওয়ার পর দ্বিতীয় ছবিতে বিরক্ত হলেন আমার ডান্স ডিরেক্টর। সিনেমার নিয়ম হলো ডান্স ডিরেক্টর অথবা কোরিওগ্রাফারের কাছে গিয়ে তার পা ছুয়ে সালাম করতে হয়। নতুনদের বেলায় এটা জরুরি কর্তব্য। কিন্তু আমি এব্যাপারে কিছুই জানতামনা। কেউ আমাকে শিখিয়ে দেয়নি। আমি স্যুটিং স্পটে এসেছি। দেখলাম নায়িকাদের জন্য যে চেয়ার রাখা হয় সেই চেয়ার নেই। কোরিওগ্রাফার এলেন। আমাকে দেখিয়ে ইউনিটকে বললেন- ওকে কোনো ছাতা দিবে না, বসার জন্য চেয়ারও দিবে না। শাস্তি স্বরুপ আমাকে উচু নীচু একটা জায়গায় হাঁটতে বললেন। আমি যার পর নাই। বিরক্ত। এটা কেমন শাস্তি। আমি কি ভুল করেছি যে আমাকে এমন শাস্তি পেতে হবে। হঠাৎ দেখি ইউনিটের একজন এগিয়ে এসে আমার কানে কানে বললো- অ্যাই তুমি কি গুরুজির পায়ে সালাম করেছো?
আমি বললাম- না।
সালামও দাওনি। জানতে চাইল সে।
আমি বললাম- না।
এবার সে আমার কানে কানে একটা পরামর্শ দিল- শোন, কাল স্যুটিং এ এসেই গুরুজির পায়ে সালাম করবে।
আমি মাথা নেড়ে বললাম- হ্যা।
পরের দিন আর ভুল করিনি। স্যুটিং এসেই গুরুজির পা ছুয়ে সালাম করলাম। তিনি আমার মাথা ছুঁয়ে আর্শীবাদ করে বললেন- ওহ। বেটি আমার। তারপর ইউনিটের লোকজনকে বললেন- ওকে বসতে দাও। বলেই হাসতে থাকলেন পূর্ণিমাা।
চ্যানেল আই এর প্রতি কৃতজ্ঞতা
অভিনয়ের শুরুর দিকে বুঝে না বুঝে নানা ধরনের সিনেমায় অভিনয় করেছেন পূর্ণিমাা। প্রসঙ্গক্রমে বললেন, কোনটা ভালো, কোনটা মন্দ এটা জাজ করার সুযোগ ছিল না। ছবি করতে হবে বলে করতাম। তবে চ্যানেল আই আমাকে সিনেমার ব্যাপারে একটু স্বস্থির জায়গা তৈরি করে দিল। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের উপন্যাস অবলম্বনে চ্যানেল আই অর্থাৎ ইমপ্রেসের ব্যানারে ‘মেঘের পরে মেঘ’ ছবিতে অভিনয় করলাম। এই প্রথম ডিফারেন্ট একটা ক্যারেক্টার পেলাম। নাচ গান, হেভি মেকআপ এর বাইরের সিনেমা। ওভার মেকআপ থেকে বেরিয়ে ডিফারেন্ট একটা ক্যারেক্টার পেলাম। আবার চ্যানেল আই এর একটি ছবি করলাম। নাম শাস্তি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে। শাস্তিতে জান প্রাণ দিয়ে কাজ করেছি। অভিনয়ের প্রয়োজনে হিন্দু পাড়ার মহিলার ব্যবহার করা শাড়ি পড়েছি। আমি আর চম্পা আপা। স্যুটিং এ গিয়ে স্থানীয় মহিলার ব্যবহার করা শাড়ি নিয়ে পড়তাম। বৌদিকে যখন বললাম- আপনার এই শাড়িটা পড়তে দিবেন। বৌদি তো অবাক। পুরানো ময়লা শাড়ি আপনারা পড়বেন?
আমরা বলতাম পুরানো ময়লা শাড়িই আমাদের দরকার। বৌদিরা বেশ অবাক হয়েছিলো। আগ্রহ ভরে শাড়ি দিয়েছিল। ওই শাড়ি পড়েই মাটির মধ্যে বসেছি। মাটিতে বসে খেয়েছি। অভিনয় করেছি।
এরপর এলো সুভা। এই প্রথম মনে হল ছবিতে কোনো কথা নাই। সংলাপ বিহীন চরিত্র। বোবার চরিত্র। এটাও এক ধরনের অভিজ্ঞতা।
এই ছবিটা করতে গিয়ে চাষী নজরুল ইসলাম আংকেলের সঙ্গে আমার একটা বন্ডিং তৈরি হয়। পর পর তার তিনটা ছবিতে আমি অভিনয় করি।
টিকটক প্রসঙ্গ
পূর্ণিমাা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দারুণ ব্যস্ত। টিকটক করেন। ‘প্রয়োজনে তারা বন্ধুর মুখোশ পড়ে ঘোরে আর সুযোগ পেলে মুখে বিষ ঢেলে দেয়। আমাদের স্বপ্নে আমাদের জীবনে...’ এক সময় সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত পূর্ণিমাার এই বক্তব্যের রেশ ধরে কোনাল জানতে চান আপনার বন্ধু কারা? ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কি বন্ধুত্ব হয়?
পুনির্মা বললেন- ইন্ডাস্ট্রিতে আসলে ওইরকম বন্ধুত্ব হয় না। কারণ কখন কোন সময় কার রুপ বদলে যায়, পাল্টে যায় এটা একদমই প্রেডিক্ট করা যায় না। বিষয়টা আনপ্রেডিকটেবল। যাকে ট্রাস্ট করছি, বিশ্বাস করছি মনে প্রাণে, কেন জানি না... ঋতু যেমন বদলায়, তেমনই বন্ধুদের ক্যারেকটারও পাল্টে যায়। এটা সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সিঙ্গারদের হোক, আর্টিস্ট হোক, টিভি, সিনেমা সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আমি মাঝে মাঝে দুই লাইনের ছোট ছোট কবিতা লিখি। যখন যার জোয়ার তখন তার পেছনে মানুষ আসলে ঘুরতে থাকে। যখন ভাটা পড়ে, ওই সময় কেউ তার আর কোনো খোঁজ খবর নেয় না। এটা প্রত্যেকের জীবনেই ঘটে। দেখা গেল আমারই ম্যানেজার, বছর জুড়ে আমার সঙ্গে কাজ করতো। ও হয়তো বা এখন নিজেই বড় লোক হয়ে স্যুট টুট পড়ে এসেছে। আমিই তাকে দেখে সালাম দিলাম। তাকে তো আমি চিনতে পারছিনা। প্রাডো মাডো কিনে বড় লোক হয়ে গেছে। এই যে চেঞ্জ মানুষের জীবনে আসে এটা ভালো। কিন্তু সম্পর্ক থাকে না। বন্ধুত্ব টিকে না। হাহা হিহি করার জন্য আমার কিছু বন্ধু আছে। আমি সবাইকে নিয়ে হৈ হুল্লোড় করতে পছন্দ করি। কিছু স্পেপেসিক ফ্রেন্ড আছে। তারা মিডিয়ার বাইরে। আমি মিডিয়ায় তাদেরকে আনিনা। তাদেরকে নিয়েই সময় কাটাই।
এই নগরে নিয়ে
লোড হচ্ছে...

ওর নাম সামানজার। নামটাই যেন অন্যরকম। ৭৫তম মিস ওয়ার্ল্ডে বাংলাদেশের প্রতনিধিত্ব করবেন তিনি। আসুন দেখি কে এই সামানজার।‘ছোটবেলা থেকেই সুন্দরী প্রতিযোগিতা দেখতে ভালো লাগত......

একজন উদ্যোক্তার পরিচয় কেবল তাঁর ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকে না। সমাজ, রাষ্ট্র, সংস্কৃতি, ক্রীড়া কিংবা জনকল্যাণের ক্ষেত্রেও একজন সফল মানুষের চিন্তা ও ভূমিকা তাঁর অবস্থানকে আলাদা মাত্রা দেয়....

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তরুণ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিপুলসংখ্যক

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত এমন একটা সময় অতিক্রম করছে, যখন প্রতিটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সামনে একই সঙ্গে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ উপস্থিত। খেলাপি ঋণের চাপ, মূলধন সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, গ্রাহকের......

ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ফুটেনি। যান্ত্রিক শহর ঢাকার হাতিরঝিলে এক অন্যরকম উৎসবমুখরতা। ভোরের স্নিগ্ধ বাতাসে হাজারো মানুষের পদচারণা। কিন্তু এটি আর দশটা সাধারণ ছুটির দিনের সকালের রান বা ফিটনেস.....

করপোরেট নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা যখন জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে মিলিত হয়, তখন তা একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। সেই পথেই এগিয়েছেন সায়েফ উদ্দিন নাসির....

বাংলাদেশের অর্থনীতির বিকাশে উদ্যোক্তাদের ভূমিকা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পায়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তোলার পেছনে যেসব উদ্যোক্তা দীর্ঘ সময় ধরে অবদান রেখে....

রাশিয়ান জনকূটনীতির ১০০তম বার্ষিকী এবং বাংলাদেশের বিজয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে রাজধানীর রবীন্দ্রসরোবরে আয়োজন করা হয়েছে ‘হারমোনি অব ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের।