Ad space

অর্থনীতি ও রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে অতিথি ডট কম

প্রকাশ:
10
Image

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তরুণ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিপুলসংখ্যক তরুণ শিক্ষাজীবন শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করছেন। কিন্তু প্রচলিত চাকরির বাজারে সীমিত সুযোগের কারণে তাদের বড় একটি অংশ দীর্ঘ সময় কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থাকছেন। এমন বাস্তবতায় প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের স্বাবলম্বী করে তোলার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে দেশীয় ট্রাভেল-টেক প্ল্যাটফর্ম ‘অতিথি ডট কম’।

প্রচলিত নয়টা-পাঁচটার চাকরির বাইরে প্রযুক্তিনির্ভর স্বাধীন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য। পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তি ও ই-কমার্সের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম শুধু ভ্রমণসেবা সহজ করার কাজেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং সারা দেশে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের আয়ের সুযোগ সম্প্রসারণেও কাজ করছে।

অতিথি গ্রুপের উদ্যোগের মূল দর্শন হলো তরুণদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে না দেখে তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তোলা। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা কাজে লাগিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে শহরকেন্দ্রিক কর্মসংস্থানের পাশাপাশি গ্রাম ও মফস্বল এলাকাতেও নতুন অর্থনৈতিক কর্মকা-ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বর্তমানে অতিথি ডট কমের সেবার আওতায় রয়েছে হোটেল ও রিসোর্ট বুকিং, কনভেনশন ও ব্যাংকুয়েট হল বুকিং, শেয়ার্ড রুম, অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া এবং পরিবহনসেবা। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব সেবা পরিচালনার ফলে গ্রাহক যেমন সহজে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারছেন, তেমনি এর সঙ্গে যুক্ত তরুণদের জন্যও তৈরি হচ্ছে আয়ের নতুন ক্ষেত্র।

বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা তরুণরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘরে বসেই এসব সেবার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে স্থানীয় পর্যটন ও আবাসন ব্যবসার সঙ্গে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ছে। একই সঙ্গে পরিবহন, আতিথেয়তা, বুকিং ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল সেবাকে ঘিরে একটি বিস্তৃত কর্মসংস্থান কাঠামো গড়ে উঠছে।

অতিথি ডট কমের এই উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া। শুধু একটি প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেই প্রতিষ্ঠানটি দায়িত্ব শেষ করছে না; বরং এর সঙ্গে যুক্ত কর্মী, ব্যবস্থাপক ও উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে।

সম্প্রতি অতিথি গ্রুপের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বিশেষ ম্যানেজার কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রশিক্ষণে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের ব্যবস্থাপকেরা আধুনিক করপোরেট ব্যবস্থাপনা, পেশাদারিত্ব, কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নেতৃত্ব, সমস্যা মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে বাস্তবমুখী ধারণা লাভ করেন।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা মনে করেন, একটি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসাকে দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করতে হলে শুধু প্রযুক্তি থাকলেই হবে না; প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ, দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা এবং মাঠপর্যায়ে কাজ করার মতো প্রশিক্ষিত উদ্যোক্তা। সে লক্ষ্যেই ব্যবস্থাপকদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের মতো বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পর্যটন ও সেবাখাতে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়লে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকা- যেমন বাড়বে, তেমনি কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্রও তৈরি হবে।

অতিথি ডট কমের কার্যক্রমের সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও যুক্ত রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জন করে দেশের তরুণরা যেমন দেশীয় বাজারে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন, তেমনি একই ধরনের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক সেবাবাজারেও যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি হতে পারে। অর্থাৎ ডিজিটাল কর্মসংস্থান, পর্যটনসেবা ও উদ্যোক্তা তৈরির সমন্বিত উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সক্ষমতাও বাড়াতে পারে।

Image

বাংলাদেশে পর্যটন খাতের সম্ভাবনা দীর্ঘদিনের। কিন্তু অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, তথ্যের ঘাটতি, সেবার মান এবং বুকিং ব্যবস্থার জটিলতার কারণে এ খাতের সম্ভাবনার পুরোপুরি ব্যবহার সম্ভব হয়নি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পর্যটনসেবাকে সহজলভ্য ও সংগঠিত করা গেলে দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন যেমন বাড়বে, তেমনি বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

এই পরিবর্তনের সঙ্গে তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করা গেলে এর সুফল আরও বিস্তৃত হতে পারে। একজন তরুণ যখন নিজে একটি সেবা পরিচালনা করেন, তখন তিনি শুধু নিজের কর্মসংস্থানই তৈরি করেন না; ধীরে ধীরে তার সঙ্গে আরও মানুষ যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এভাবেই একজন উদ্যোক্তা পরবর্তী সময়ে একাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের উৎস হয়ে উঠতে পারেন।

অতিথি ডট কমের উদ্যোগকে সেই বৃহত্তর কর্মসংস্থান কাঠামো তৈরির একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে তরুণদের দক্ষ করে তোলা, তাদের স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ দেওয়া এবং দেশব্যাপী উদ্যোক্তা নেটওয়ার্ক তৈরি করা গেলে দেশের শ্রমবাজারের ওপরও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য শুধু বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রচলিত চাকরির বাজারের ওপর নির্ভর করে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা কঠিন। প্রয়োজন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, ডিজিটাল কর্মসংস্থান, ফ্রিল্যান্সিং, পর্যটনসেবা এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্বাধীন পেশার সমন্বিত বিকাশ। অতিথি ডট কমের কার্যক্রম সেই পরিবর্তিত কর্মসংস্থান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি উদ্যোগ হিসেবে সামনে আসছে।

প্রযুক্তি ও পর্যটনের এই সমন্বিত প্রয়াস একদিকে যেমন ভ্রমণসেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে সহজ করছে, অন্যদিকে তরুণদের সামনে তৈরি করছে আয়ের বিকল্প পথ। প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি এবং উদ্যোক্তা তৈরির সমন্বয় ঘটাতে পারলে এর প্রভাব রাজধানীর বাইরেও আরও বিস্তৃত হতে পারে।

সব মিলিয়ে, অতিথি ডট কমের উদ্যোগ বাংলাদেশের তরুণদের জন্য একটি ভিন্নধর্মী কর্মসংস্থান ভাবনার দিক নির্দেশ করছে। যেখানে লক্ষ্য শুধু একটি চাকরি পাওয়া নয়, বরং নিজের দক্ষতা ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজেই একটি আয়ের ক্ষেত্র তৈরি করা। এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত ও টেকসই হলে দেশের পর্যটন ও সেবাখাতের বিকাশের পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির গতি বাড়বে, স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন পথও উন্মুক্ত হতে পারে।

বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে জনশক্তি থেকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগগুলোর ভূমিকা তাই ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অতিথি ডট কম সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের চাকরির অপেক্ষা থেকে বের করে উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করছে।

এই নগরে নিয়ে

লোড হচ্ছে...