Ad space

সম্পাদকের লেখা: বিশ্ব ফুটবলের ক্ষেত্রে আমরা কী দর্শক হয়েই থাকবো?

প্রকাশ:
31
Image

অন্যের কাছে শোনা গল্প। কর্মসূত্রে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন একজন বিদেশী ভদ্রলোক। বন্ধুদের নিয়ে একদিন তিনি ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে যান। সমুদ্র দর্শন করার পর আনন্দে তিনি লাফাচ্ছিলেন। হঠাৎ দেখলেন সমুদ্রের পানি আশে পাশের অনেক জায়গাকে ভিজিয়ে দিচ্ছে। জোয়ারের কারণে পানির উচ্চতা বেড়েছে। তাই দেখে তিনি ভয়ে কাঁপছিলেন। তাকে আশ্বস্থ করার চেষ্টা হল। তাকে বুঝানো হলো সমুদ্রের এটাই নিয়ম। জোয়ারে পানি বাড়ে। ভাটায় পানি নেমে যায়। কাজেই দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নাই। কিন্তু ভদ্রলোককে কোনো ভাবেই আশ্বস্থ করা গেল না। তার একটাই কথা যে দেশে সমুদ্রের পানি সকালে এক রকম থাকে, বিকেলে অন্যরকম হয়ে যায় সে দেশে থাকবেন না তিনি। এই ঘটনা উল্লেখ করার একটি কারণ আছে। বিশ্বকাপ ফুটবলের উম্মাদনা শেষ। সমুদ্রের জোয়ারের মতো সকালে উম্মাদনা শেষ। সমুদ্রের জোয়ারের মতো সকালে উম্মাদনা ছিল, বিকেলে যেন সবকিছু শান্ত। দীর্ঘ এক মাস ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত ছিল গোটা দেশের মানুষ। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সর্মথকরা নিজের দেশকে মোটামুটি দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছিল। ফুটবল উম্মাদনায় সারাদেশে ১৩জন মানুষের করুণ মৃত্যু ঘটে।

ফুটবল উৎসব শেষ। সবাই যেন আবার ভুলতে বসেছে ফুটবলকে। অথচ বিশ্বকাপ ফুটবলের অনুপ্রেরণায় দেশে ফুটবলের নয়া জাগরণ হওয়ার কথা। ৫ লাখ মানুষের দেশ কেপভাদ্রে এবারের বিশ্বকাপে সারা পৃথিবীতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেপভাদ্রে পারে আমরা কেন পারি না এই নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা নাই। তারা মানে আমরা কি বিশ্বকাপ ফুটবলের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র দর্শক হয়েই থাকব? আর কতদিন অন্যদেশকে সাপোর্ট করে সামান্য কথা কাটাকাটিকে অপমান ভেবে আত্মহত্যা করবো?

বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালে দেশের প্রচার মাধ্যমে প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল, দৈনিক পত্রিকার কলামে দেশের ফুটবলের জাগরণ নিয়ে কতই না কথা পড়েছি, শুনেছি। কত যে প্লান পরিকল্পনা। বিশ্বকাপ ফুটবল শেষ হবার পর সবাই যেন চুপ। ভাবটা এমন- বলার জন্য বলেছি। করতে হবে এমন তো কথা নেই। এই যদি হয় ফুটবল নিয়ে ভাবনা তাহলে বলার কিছু নেই। তবে আশা আছে বলেই মানুষ বাঁচে। ৩২ থেকে এবার ৪৮ এ দাঁড়িয়েছে বিশ্বকাপে অংশ নেয়া দেশের তালিকা। শোনা যাচ্ছে আগামী বিশ্বকাপে ৬৪টি দেশ অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। এবার তো বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখতেই পারে। সেজন্য এখন থেকে প্রস্তুতি প্রয়োজন। ভাবুন তো একবার, বাংলাদেশ যদি কোনো দিন বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় তাহলে দেশের ফুটবল পাগল মানুষের আনন্দের পারদ কোথায় গিয়ে ঠেকবে? একটা সময় দেশে ক্লাব ফুটবলের সুনাম ছিল। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ফুটবল টুর্নামেন্ট হতো। এখন সেই পরিবেশ নাই। এব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সুদুর প্রসারী ভাবনার প্রয়োজন। দেশের ৩০০ আসনের সম্মানিত সংসদ সদস্যরাও যদি নিজেদের এলাকার ফুটবল নিয়ে ভাবেন তাহলেও একটা পরিবর্তন সম্ভব। সারাদেশে বেশী বেশী ফুটবল টুর্নামেন্ট দরকার। তাহলে তরুণ মেধাবী ফুটবলার খুঁজে পাওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে আমাদের জাতীয় ফুটবল দলের জন্য আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলার বেশি বেশি সুযোগ দরকার। তাহলে ফুটবলের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের গতি বাড়বে, সাহস বাড়বে। আসুন সবাই ফুটবল নিয়ে একটু ভাবি।

সম্পাদকীয় নিয়ে

লোড হচ্ছে...