Ad space

সম্পাদকের লেখা

প্রকাশ:
42
Image

ঈদ আনন্দে সুখ খোঁজার লড়াই এবং একটি মানবিক গল্পের খসড়া

আড়াই মাসের ব্যবধানে দুই ঈদের দুই উৎসব। অনেকের জন্য নাভির্শ্বাস অবস্থা। এক ঈদের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই আরেক ঈদ উৎসব এসে হাজির। তবুও আনন্দে উদ্ভাসিত হয় সবার মুখ। কারণ ঈদ উৎসব বলে কথা। সারা বছরের প্রস্তুতি থাকে। ঈদুল ফিতরে নতুন জামা কাপড়, গহনা কেনার দৌড়ঝাপ শুরু হয় প্রায় সবার মধ্যে। সেই সঙ্গে ভালো খাবারের আয়োজন তো থাকেই। আর কোরবানী অর্থাৎ ঈদুল আজহায় শুরু হয় পশু কোরবানী দেয়ার তোড়জোড়। দুই ঈদের আনন্দ দুই ধরনের।

খ.

আনন্দ আলোর ঈদুল আজহা সংখ্যা প্রকাশ হল। আনন্দ উৎসবের আমেজকে গুরুত্ব দিয়ে এবারের সংখ্যাটি প্রকাশ করা হলো। ‘আমাদের ঈদ উৎসব’ শীর্ষক শীর্ষ কাহিনীতে ঈদের অতীতকাল এবং বর্তমান কালের কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতি ঈদে দেশের টেলিভিশন চ্যানেল গুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে। প্রায় প্রতিটি টিভি চ্যানেলে নাটক হয়ে ওঠে ঈদের আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান। চ্যানেল আইতে ৭দিনের অনুষ্ঠান মালায় ৭টি সিনেমা, ১৩টি টেলিফিল্ম ও ১৬টি একক নাটক প্রচার হবে। অন্যান্য টেলিভিশন চ্যানেলেও ৭দিনের বিশেষ অনুষ্ঠান রয়েছে। একটি অনুরোধ করি, এবারের ঈদে অন্যদেশের টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠান না দেখে আসুন না নিজের দেশকে একবার দেখি। এবার ঈদে দেশের সকল টেলিভিশন চ্যানেল মিলিয়ে কমপক্ষে ৩০০টি নাটক ও টেলিফিল্ম প্রচার হবে। কেমন হলো এবারের ঈদ অনুষ্ঠান তা বুঝার জন্য হলেও দেশের টেলিভিশন অনুষ্ঠান দেখা উচিৎ।

গ.

কোরবানী ঈদটা আসলে একটু অন্যরকম। পশু কোরবানীর মাধ্যমে আমরা অহংকার, অহংবোধ ও পশুত্বকে কোরবানী দেই। কোরবানী সবার জন্য জায়েজ নয়। সামর্থ্য না থাকলে কোরবানী দিতেই হবে ধর্মে এমন কথা বলা হয়নি। তবে কোরবানীর মাংসের ওপর আপনার পাশের বাড়ির অভাবগ্রস্থ মানুষটিরও হক আছে। কাজেই ধর্মীয় বিধান মেনে দুঃস্থ মানুষের মধ্যে কোরবানীর মাংস বিলিয়ে দিবেন। তাহলে আপনার কোরবানী মহান সৃষ্টিকর্তা নিশ্চয়ই কবুল করবেন।

ঘ.

অতীতকালের ঈদ আর বর্তমান সময়ের ঈদের মধ্যে অনেক পার্থক্য। ডিজিটাল জামানায় ঈদও যেন ডিজিটাল হয়ে গেছে। অতীতকালে ঈদের দিন বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ানোর প্রচলন ছিল। ফলে আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে দেখা হতো। এখন ঈদেও আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে দেখা করেন না অনেকে। নাড়ির টানে বাড়ি যান ঠিকই। কিন্তু বাড়ি গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই মেতে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমই মূলত: ঈদের সংস্কৃতি বদলে দিয়েছে। এবারের ঈদে আসুন না আমরা অতীতের মতো একে অপরের প্রতি মানবিক হই। বৈষম্য ভুলে ঈদের আনন্দকে সার্বজনীন করে তুলি।

ঙ.

ঈদে অনেকে বেড়াতে যাবার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু অনেকের পরিকল্পনায় দেশ থাকে না। অনেকেই এখনও সুন্দরবন দেখেননি। কক্সবাজারে কখনই যাননি। কুয়াকাটাও দেখা হয়নি। অথচ বিপুল অর্থ খরচ করে ছুটে যান অন্য দেশে। তাদেরকে বলব- আগে নিজের দেশটাকে দেখুন। তাহলে বিদেশে গিয়ে নিজের দেশকে নিবীড়ভাবে অনুভব করতে পারবেন।

চ.

ঈদে যারা নাড়ীর টানে বাড়ি যান তারা মোবাইল ফোনে অহেতুক সময় না কাটিয়ে আত্মীয় স্বজনের সাথে দেখা করুন। আপনার সহপাঠীকে খুঁজে বের করে তার সঙ্গে সময় কাটান। প্রিয় শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করুন। সন্তানকে গ্রামীণ জীবন ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারনা দিন। অতীতের গল্প শোনান। তাহলে দেখবেন ঈদের আনন্দ আপনার এবং আপনার পরিবারের মধ্যে আলো ছড়াচ্ছে। সম্ভব হলে গ্রামের একজন দরিদ্র মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীকে কিছু আর্থিক সহায়তা দিন। দেখবেন আপনার মনে প্রশান্তি আসবে। ঈদের আনন্দ অনেক আলো ছড়াবে।

Image

ছ.

একটি ছোট্ট গল্প বলি। সুখ কিনতে হাটে গেছে একজন লোক। বিভিন্ন দোকানে সুখ খুঁজছেন। দোকানিরা তার কথাবার্তা ও আচরণ দেখে যারপর নাই অবাক।

একজন দোকানদার তাকে প্রশ্ন করলেন- ভাই আপনি কি খুঁজছেন বললেন?

লোকটি জবাব দিল- সুখ খুঁজছি। সুখ কিনতে চাই।

দোকানদার অবাক হয়ে বললেন- সুখ হাটে কেনার বিষয় নয়। বাড়ি যান। বাড়ি গিয়ে সুখ খোঁজেন। পেয়ে যাবেন।

লোকটি বললো- বাড়িতে সুখ খুঁজেছি, পাইনি।

দোকানদার জিজ্ঞেস করলেন- আপনার পরিবারে লোক সংখ্যা কত?

লোকটি বললো- তিন জন। আমি, আমার স্ত্রী ও আমাদের একটি মাত্র সন্তান।

আপনার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক কেমন?

ভালো, আবার ভালো না।

দোকানদার বললেন- দুই নৌকায় পা দিবেন না। বউয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করুণ। সন্তানকে সময় দিন। সুখ পেয়ে যাবেন।

জ.

এই গল্পের একটি মাজেজা আছে। আপনি যাই করেন না কেন পরিবারকে গুরুত্ব দিন। পরিবারের সদস্যরা হ্যাপি তো আপনি সার্থক মানুষ। পরিবার আনন্দে থাকলে আপনার ঈদও সার্থক হবে। কী বুঝলেন? পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা নিন। ঈদ মোবারক।

আরও পড়ুন

লোড হচ্ছে...