
নাই সিনেমার দেশে শিল্পী সমিতির কাজ কি?
বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেতা কাজী হায়াৎ দুঃখ প্রকাশ করে বললেন, এফডিসিতে সিনেমা নাই। তবে নির্বাচন আছে। শিল্পী সমিতির নির্বাচন বেশ জমজমাট হয়। এবারও তাই হয়েছে। আমাদের শিল্পী সংখ্যা অনেক,
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বার্ষিক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে অতি সম্প্রতি নন্দিত লেখক, পরিচালক হুমায়ূন আহমেদের কর্মময় জীবন নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। হুমায়ূনের সিনেমার প্রদর্শনীর পাশাপাশি তাঁকে নিয়ে আলোচনা সভারও আয়োজন ছিল। আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হুমায়ূন আহমেদের পুত্র তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা নুহাশ হুমায়ূন। এক ফাঁকে তিনি প্রচার মাধ্যমে কথা বলেন। তারই চুম্বক অংশ আনন্দ আলোর পাঠকদের জন্য...
প্রশ্ন: হুমায়ূন আহমেদের কোনো উপন্যাস অথবা উপন্যাসের বিশেষ কোনো চরিত্র নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে?
নুহাশ: (মৃদু হেসে) এই মুহূর্তে বাবার কোনো উপন্যাস নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছি না। আমার প্রথম সিনেমা জাস্ট শেষ করলাম। সিনেমার নাম মুভিং বাংলাদেশ। আমি নিজে একটু গ্রো করি নির্মাতা হিসেবে তারপর হয়তো সাহসটা পাবো বাবার বই গুলো নিয়ে কাজ করার।
প্রশ্ন: একটা ব্যাপার থাকে না। পছন্দের চরিত্র। বড় পর্দায় নিয়ে আসার স্বপ্ন...
নুহাশ: এখনই বলার সময় আসেনি। বললে বিশাল হেড লাইন হয়ে যাবে। মানুষ ভাববে যে কালকেই বানাচ্ছি... বেশি এক্সপেক্টেশন তৈরি হবে। থাক, আপাতত এগুলা না বলি।
প্রশ্ন: হুমায়ূন আহমেদের লেখার কোন বিষয় গুলো ভালো লাগে?
নুহাশ: বাবার লেখা ছোট গল্প গুলোর খুব ভালো লাগে। তাঁর ছোট গল্প গুলো খুব সুন্দর। তাঁর একটা বই আছে ‘আজ আমি কোথাও যাবো না’। আমার খুব প্রিয়। মিসির আলী, হিমু, শুভ্র সব চরিত্রই আমার প্রিয়। কিন্তু তাঁর সায়েন্স ফিকশন, হরর সংকলন গুলো খুবই, খুবই ইন্টারয়েস্টিং।
প্রশ্ন: এই চরিত্র গুলো নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে?
নুহাশ: চরিত্র গুলো আমাকে খুবই ইন্সপায়ারড করে। আমাদের দেশে বাবাই প্রথম সুন্দর করে সায়েন্স ফিকশন ইন্ট্রুডিউস করে। বাবা লিটেরেচারে যা করে গেছেন তা আমাকে খুবই ইন্সপায়ারড করে। বাংলাদেশের অনেক আর্টিস্ট কিন্তু বাবার থেকে ইন্সপায়ারড হয়ে কাজ করেন। আমি তাদের মধ্যে একজন।
প্রশ্ন: মুভিং বাংলাদেশ এর ব্যাপারে কিছু জানতে চাই। কোন পর্যায়ে আছে এখন? গল্প সম্পর্কে কিছু বলা যাবে?
নুহাশ: ‘মুভিং বাংলাদেশ’ একটি ইন্সপেরেশনাল গল্প। ইয়ং কিছু ছেলে যারা দেশে থেকে একটি কোম্পানী বিল্ড করে। নিজেরা কিছু করার চেষ্টা করে। এমন একটা কাহিনী। এরকম গল্প বলতে খুব ইচ্ছে করছিলো। আমি অনেক ধরনের কাজ করেছি। হরর, সুপার ন্যাচারাল, থ্রিলার নিয়ে কাজ হয়েছে। ইচ্ছে হচ্ছিলো ইন্সপায়ারিং কিছু বানানোর। এটি একটি সামাজিক গল্প। একটি ফ্যামিলি ড্রামা। অনেক দিন ধরে কাজ করছি সিনেমাটা নিয়ে। ৫/৬ বছরের বেশি হয়ে গেছে। স্ক্রীপ্ট নিয়ে অনেক ঘষামাজা করেছি। অনেক গুলো ল্যাবে গিয়েছি। প্রথম সিনেমা তো, আমি আসলে চাচ্ছিলাম সময় নিয়ে বানাতে। ইদানিং দেখছি অনেকে রাস (তড়িঘড়ি) করে সিনেমা বানিয়ে ফেলে। ঠিকমতো পোস্ট প্রোডাকশন হয় না। আমি চাচ্ছি একটু সময় নিয়ে বানাতে। হয়তো আরও এক বছর লাগবে ছবির কাজ শেষ করতে। এই ছবিতে রিয়েল লাইফের গল্প আছে। ফিকশনাইজ করা গল্পও গুরুত্ব পেয়েছে। আমার পারসোনাল লাইফ থেকেও কিছু কাহিনী নেওয়া হয়েছে। এই জার্নি যে অনেক সহজ ছিল তা বলা যাবে না। একটি টেলিফিল্ম এবং একটি পুর্নাঙ্গ চলচ্চিত্রের মধ্যে অনেক পার্থক্য।
ডিফিকাল্ট জিনিস। ছবিটার জন্য অনেক ল্যাবে গিয়েছি। অনেক গবেষনা করেছি। লস এঞ্জেলস এর একটি ল্যাবে পার্টিসিপেট করেছি। আমাদের দেশে ফিল্ম শেখার কোনো প্রতিষ্ঠান, স্টাকচার নাই। যেখানে ফিল্ম শেখা যাবে। চেষ্টা করেছি দেশের বাইরের কিছু ফেস্টিভ্যালে, ল্যাবে ট্রাভেল করে কতটুকু শেখা যায়। দেখি ফাইনাল রেজাল্টটা কি হয়। সবকিছু আসলে নির্ভর করবে অডিয়েন্সের উপর।
প্রশ্ন: ছবিটি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

নুহাশ: দুই ধরনের পরিকল্পনা আছে। বড় পর্দায় তো আসবেই। পৃথিবীর বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালেও যাব। আমি বিভিন্ন দেশের সিনেমা ফেস্টিভ্যালে যাই। নিজের কাজ পাঠাই। তাই দেখে অনেকের হয়তো ধারনা হতে পারে আমি ফেস্টিভ্যাল নিয়েই আছি। ব্যাপারটা পরিস্কার করতে চাই। কোনো কাজ যদি অনেস্টলি বানানো হয় ওইটা অটোমেটিকলি দর্শকের কাছে যাবে। ফেস্টিভ্যালেও অংশ নিবে। আমার যে কাজ গুলো বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালে আলোচিত হয়েছে... যেমন মশারি, পেটকাটা ষ.... হরর ফিল্ম তো আসলে কোনো ফেস্টিভ্যালের জন্য বানাই নাই। বানাইছি সাধারন মানুষের জন্য। আমাকে অনেক দর্শক বলে, আমি আমার কাজিনদের নিয়ে সারারাত জেগে আপনার কাজ গুলো দেখেছি তখন খুব ভালো লাগে। আমার সিনেমা অবশ্যই পৃথিবীর বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালে যাবে। সিনেমা হলেও মুক্তি পাবে। ইন্টারন্যাশনালি ছবিটা ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রচার পেয়েছে।
প্রশ্ন: হুমায়ূন আহমেদের সিনেমা নিয়ে কিছু বলুন...
নুহাশ: বাবার উপন্যাস অবলম্বনে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নামে একটি সিনেমা নির্মিত হয়েছে। এই সিনেমাটির ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা প্রমান করে গল্পের উপর কোনো কিছু নাই। খুব ভালো লাগছে যে টুয়েন্টি টুয়েন্টি সিক্স-এ এসেও বারবার উপন্যাস নিয়ে কাজ হচ্ছে। অনেক আগেই বাবাকে আমরা হারিয়েছি। আসলে তিনি হারিয়ে যাননি। তিনি আমাদের মাঝেই আছেন। আমি চাই অন্য নির্মাতারাও বাবার উপন্যাস নিয়ে সিনেমা বানাক। বাবার গল্প গুলো নিয়ে কাজ করুক। বাংলাদেশ হোক অথবা ইন্ডিয়া হোক, মেধাবী, বেস্ট ডিরেক্টররা বাবার সাহিত্য নিয়ে কাজ করুন আমি তা চাই।
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...

বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেতা কাজী হায়াৎ দুঃখ প্রকাশ করে বললেন, এফডিসিতে সিনেমা নাই। তবে নির্বাচন আছে। শিল্পী সমিতির নির্বাচন বেশ জমজমাট হয়। এবারও তাই হয়েছে। আমাদের শিল্পী সংখ্যা অনেক,

রইদ: রহস্যের আঁধারে আলোর আল্পনা সাধুদের জীবনে পাগলীরা বারবার আসে। নানা রূপে আসে। এটা ঘটে এসেছে। ঘটছে। এবং এভাবে ঘটতে থাকবে। নিঃসঙ্গ আদমের জীবনে হাওয়া আসুক, আর হাওয়া খুঁজে নিক রইদকে।

আমি চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে চেয়েছিলাম। আমাকে যে প্রস্তাবটা দেওয়া হয়েছিল সেটা এমন- ছবির প্রথম অংশের নায়িকা ববিতা। তখন চলচ্চিত্রে তরুণদের ক্রাশ তিনি। দ্বিতীয় অংশের নায়িকা টেলিভিশনের জনপ্রিয় শিল্পী সুবর্না, ...

প্রয়াত নাট্যজন হুমায়ূন ফরীদিকে নিয়ে কথা বলছিলেন তাঁর বন্ধুরা- ফরিদুর রেজা সাগর, ইমদাদুল হক মিলন ও আফজাল হোসেন। তাঁদের কথা শুনছিলেন মাহফুজ আহমেদ, আমীরুল ইসলাম, আফসানা মিমি, অনিমা রায়,

শহীদুজ্জামান সেলিম, ব্যাপক আলোচিত অভিনেতা, নির্মাতা ও সংগঠক। ডিরেক্টরস গিল্ডের বর্তমান সভাপতি তিনি। টিভি নাটকের পাশাপাশি সিনেমাতেও দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাই বলে ‘এলাম আর জয় করলাম’

ঢাকাই চলচ্চিত্রে যুগে যুগে নায়ক এসেছেন, গেছেন। কেউ কয়েক বছর আলো ছড়িয়েছেন, কেউ এক যুগ রাজত্ব করেছেন, আবার সময়ের স্রোতে হারিয়েও গেছেন। কিন্তু একটা নাম দুই যুগের বেশি সময় ধরে বারবার ফিরে এসেছে দর্শকের মুখে

বাংলাদেশে ফুটবলকে বিষয় করে মাত্র দুটি সিনেমা নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদুর রেজা সাগরের লেখা কাহিনী অবলম্বনে রায়হান রাফি পরিচালিত ‘দামাল’ ব্যাপক আলোচিত সিনেমা। ইমপ্রেস প্রযোজিত এই সিনেমাটি শুধু ফুটবল নয় ফুটবলকে

শিল্পী মানেই ভালোবাসা আর সম্মানের কাঙাল। জীবনে কখনোই অর্থ-বিত্তের হিসাব করিনি, চেয়েছি শুধু মানুষের ভালোবাসা। সেই ভালোবাসাই আমাকে আজকের আমি বানিয়েছে। পরিবার, দেশের মানুষ, দেশের বাইরে ছড়িয়ে