Ad space

একদিন আমার সঙ্গে অভিনয় করার জন্য আমাকেই খুঁজবেন

প্রকাশ:
16
Image

শহীদুজ্জামান সেলিম, ব্যাপক আলোচিত অভিনেতা, নির্মাতা ও সংগঠক। ডিরেক্টরস গিল্ডের বর্তমান সভাপতি তিনি। টিভি নাটকের পাশাপাশি সিনেমাতেও দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাই বলে ‘এলাম আর জয় করলাম’ এমনটা নয় তাঁর নাট্যজীবন। নিষ্ঠা, অধ্যবসায় এবং অভিনয়ের প্রতি প্রেম ও ভালোবাসার শক্তিতে তিনি আজকের পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছেন। টেলিভিশনে অভিনয়ের আগে মঞ্চে কাজ করেছেন তিনি। তাই বলে নাটকের দলে ঢুকেই অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন এমনটা নয়। সেই গল্প দিয়েই এই লেখাটা শুরু হোক। 

ঢাকা থিয়েটারের সক্রিয় সদস্য শহীদুজ্জামান সেলিম একটানা ৭/৮ বছর লেগে থাকার পর সংগঠনের মৌলিক নাটকে গুরুত্বপুর্ন চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছিলেন। এব্যাপারে কি শিক্ষা পেয়েছিলেন তিনি। সেলিমের মুখেই শুনুন সে কথা... 

Image

দুটো জিনিস আমি শিখেছিলাম। একটা হচ্ছে-টার্গেট। টার্গেটে অবিচল থাকা। একটা লক্ষ আমি নির্ধারণ করেছি। ওটা না পাওয়া পর্যন্ত আমাকে লেগে থাকতে হবে। দ্বিতীয় হল- সুযোগ আসবেই। সুযোগ আসা মাত্রই সিক্স মারার চেষ্টা করতে হবে। ৬ অথবা ৪ মারতেই হবে। আমি ৬ মারার পক্ষে ছিলাম। 

শহীদুজ্জামান সেলিম বেশ জেদি মানুষ। একবার যদি কোন কাজ নিয়ে ভাবেন যে কোনো মূল্যে সে কাজ করেই ছাড়েন। প্রয়াত অভিনেতা আবুল খায়েরকে ঘিরে একটা ঘটনা আছে। যে ঘটনা তার মাঝে অভিনয়ের ক্ষুধা বাড়িয়ে দিয়েছিল। সেলিম কি বলেন আসুন শুনি...

খায়ের ভাই আমার অনেক পছন্দের মানুষ ছিলেন। তিনি এখন পৃথিবীতে নাই। গভীর শ্রদ্ধা তাঁর প্রতি। ঘটনাটা বলি। খায়ের ভাইয়ের উপর রাগ করেই আমি মূলত: টেলিভিশনে তালিকা ভুক্ত শিল্পী হয়েছিলাম। ঘটনার সূত্রপাত একটা চলচ্চিত্রকে ঘিরে। তখন সবেমাত্র মুক্ত চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু হয়েছে। আর্ট ফিল্ম ঘরানার ছবি। বুলবুল চৌধুরী ওই ছবির পরিচালক। তারই লেখা গল্প। ছবির নাম চন্দ্রবরণ। এই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করার কথা হুমায়ুন ফরীদি ভাইয়ের। ফরীদি ভাই তখন বানিজ্যিক ছবিতে অভিনয়ের জন্য ঝুঁকেছেন। নিয়ামত ভাইয়ের ‘দহন’ নামে একটি ছবিতে অভিনয় করেছেন। বেশ আলোচিত ছবি। ববিতা ছিলেন নায়িকা। প্রয়াত পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকনের সঙ্গে কাজ করতে শুরু করেছেন।

Image

ফলে কোনো ভাবেই ‘চন্দ্রবরণ’ এর মতো আর্ট ঘরানার একটি ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ হয়তো বের করতে পারছিলেন না। ফরীদি ভাই তখন আজাদ প্রোডাক্টস এ চাকরি করতেন। আমাকে ডেকে পাঠালেন। বললেন, তুই একটু আয়। বিকেলে আমার কাছে একটা লোক আসবে। তোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিব। আমি ফরীদি ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। সেখানেই বুলবুল চৌধুরীর সঙ্গে আমার পরিচয় হলো। একটা কথা বলে রাখি। ফরীদি ভাই বুলবুল চৌধুরীকেও ডেকেছেন। কিন্তু কেন ডেকেছেন তা তাকে বলেননি। আমাকেও আসল ঘটনা বলেননি। আমি এবং বুলবুল চৌধুরী ফরীদি  ভাইয়ের টেবিলের সামনে বসে আছি। কোনো ভূমিকা ছাড়াই ফরীদি ভাই বুলবুল চৌধুরীকে বললেন, ভাই আমি আপনার ছবিতে অভিনয় করতে পারছি না। তবে আমার চরিত্রটা করবে সেলিম। 

বুলবুল ভাই অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। আমাকে তিনি চিনেন না, জানেনও না। অথচ তার ছবিতে অভিনয় করবো। এটা কেমন করে হয়? বুলবুল চৌধুরী কিছুক্ষণ চুপ থেকে ফরীদি ভাইকে বললেন, দেখেন ফরীদি আপনি যখন বলছেন... ঠিক আছে উনিই অভিনয় করুক। তবে আপনি অভিনয় করলে ভালো হতো। 

ফরীদি ভাই বললেন, বুলবুল শোনেন, সেলিম চরিত্রটার জন্য বেশ মানান সই। সে ভালো করবে। আপনি স্যুটিং শুরু করে দেন। আমাকে স্ক্রীপ্ট দেওয়া হলো। পরের দিনই স্যুটিং। রাতে স্ক্রীপ্ট পড়লাম। 

আমাদেরকে ট্রেনে চেপে যেতে হবে কালিগঞ্জে। আড়িখোলা স্টেশনে নামতে হবে। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ট্রেেেন উঠলাম। অন্যান্যদের মধ্যে আবুল খায়ের ভাইও ট্রেনে উঠলেন। ট্রেন কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে ছেড়ে দিল। তেজগাঁও রেল স্টেশন পার হচ্ছিলো। তখন হঠাৎ খায়ের ভাই বুলবুল চৌধুরীকে জিজ্ঞেস করলেন- ফরীদি কোথায়? ট্রেন তো ছেড়ে দিল। ফরীদি কই? সে যাবে না? 

ট্রেনের সীটে আমার ডান পাশে বুলবুল ভাই বসা, বামে খায়ের ভাই বসা। নায়িকা ছিল কাজল। খুব ভালো অভিনয় করতো। সেও আমাদের সঙ্গে যাচ্ছে। খায়ের ভাইয়ের প্রশ্ন শুনে বুলবুল ভাই বললেন, ফরীদি ভাই আমাদের ছবিতে অভিনয় করছেন না। 

Image

খায়ের ভাই যারপর নাই অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন- ফরীদি অভিনয় না করলে কে অভিনয় করবে? বুলবুল ভাই আমাকে দেখিয়ে বললেন, ওই যে উনার নাম সেলিম। উনি অভিনয় করবেন। খায়ের ভাই আমার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আমার মাথার চুলে টান দিয়ে অবজ্ঞার সুরে বললেন, ও অভিনয় করবে মানে? একটা ইট ভাটার শ্রমিকের চরিত্র। যেটা ফরীদিকে ডিমান্ড করে। সেখানে এই ছেলে অভিনয় করবে? ও কি এর আগে টেলিভিশনে অভিনয় করেছে? অভিনয় জানে? 

বুলবুল ভাই বললেন, না সে টিভিতে অভিনয় করে নাই। তবে ফরীদি ভাই চাচ্ছেন চরিত্রটি সেলিমই করুক। 

এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হল যে আমি লজ্জায় চোখ তুলে তাকাতে পারছিলাম না। রেলের একটা কামরায় অনেক মানুষের সামনে খায়ের ভাই আমাকে নিয়ে যেভাবে কথা বললেন তাতে বেশ অপমানিত বোধ করলাম আমি। সেদিন খায়ের ভাইকে শুধু একটা কথা বলেছিলাম- খায়ের ভাই আগামী পাঁচ বছর আপনি বেঁচে থাকবেন কিনা জানিনা। বেঁচে যদি থাকেন তাহলে আপনি আমার সঙ্গে অভিনয় করার জন্যই আমাকে খুঁজে বেড়াবেন...

(চলবে)  

Image


নিজেকে মহাপন্ডিত বললেন শহীদুজ্জামান সেলিম

সহকর্মী শিল্পীদের সম্পর্ক মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম। আসুন দেখি তিনি কার সম্পর্কে কি মন্তব্য করেছেন। 

বিজরী বরকতউল্লাহ- অত্যন্ত চঞ্চল, প্রতিভাবানশিল্পী। 

তৌকীর আহমেদ- ভদ্র মানুষ। 

আজিজুল হাকিম- ভালো মানুষ। 

জাহিদ হাসান- অত্যন্ত আবেগী। 

মাহফুজ আহমেদ- ধনী মানুষ। 

ইন্তেখাব দিনার- অত্যন্ত ভালো ছেলে। 

মোশাররফ করিম- তেমন জানিনা। 

চঞ্চল চৌধুরী- খুব ভালো ছেলে। 

অপূর্ব- রোমান্টিক হিরো।

আফরান নিশো- টাঙ্গাইল্যা। 

শরীফুল রাজ- ভেরি গুড অ্যাক্টর। 

শমী কায়সার- দুর্দান্ত অভিনেত্রী। 

বিপাশা হায়াত- প্রিয় শিল্পী। 

মিমি- সুপার সম্পর্ক আমার সঙ্গে। 

তানিয়া- ভালোবাসার মানুষ। 

সুইটি- অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিশীল। 

জয়া আহসান- বুইঝ্যা উঠতে পারি নাই। 

তারিন- মেধাবী অভিনেত্রী। 

ঈশিতা- ভদ্র, বিনয়ী, ন¤্র। 

রিচি সোলায়মান- অনেক কিছু করতে পারতো। 

দীপা খন্দকার- এখন নিজেকে প্রমাণ করছে। 

সুমাইয়া সিমু- মেধাবী অভিনেত্রী। 

অপি করিম- সুপার অ্যাক্টর। 

মৌ- দেবীর মতো।

রুমা খান- ভালো অভিনেত্রী। 

তিশা-  বলবো না। 

শহীদুজ্জামান সেলিম- মহাপন্ডিত। 

আরও পড়ুন

লোড হচ্ছে...