
সবার সেরা স্পেন
শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার লড়াইয়ে তিন বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে পরাস্ত করে ২০২৬ এর বিশ্বকাপ ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। ১৬ বছর পর এটি স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়। ঐতিহাসিক মেটলাইফ স্টেডিয়ামে.....

নেইমারের জন্য কান্না
নেইমারের কথা দিয়েই লেখাটা শুরু করি। পৃথিবীর কোন প্রান্তে, বাংলাদেশ থেকে ঠিক কত শত, হাজার মাইল দুরে ব্রাজিলের অবস্থান তা অনেকেই জানেন না। তবে নেইমারকে চিনেন বাংলাদেশের অধিকাংশ ফুটবল ভক্ত মানুষ। নেইমারের ব্রাজিল যেন পাশের দেশ। তাই ব্রাজিলকে নিয়ে কত যে আশা, ভরসা। বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রায় শেষ দিকে ছিটকে পড়লো ব্রাজিল। ব্রাজিল ভক্তরা এই পরাজয় নিতে পারেননি। পরাজয়ের গ্লানি সহ্য করতে না পেরে বাংলাদেশের কয়েকজন ফুটবল পাগল মানুষ আত্মাহুতি দিয়েছেন। একথা ভাাবলেই ভয়ে বুক কেপে ওঠে। কোথায় ব্রাজিল, আর কোথায় বাংলাদেশ? অথচ ফুটবলে ব্রাজিলের পরাজয় এখনও মানতে পারছেন না ব্রাজিল ভক্তরা।
মেসিই এবারের বিশ্বকাপের সেরা তারকা
৪৮টি দেশ এবার বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নিয়েছে। অথচ ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা দুই দেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের ফুটবল পাগল মানুষ। একই পরিবারে বাবা হয়তো ব্রাজিলের সমর্থক। মা আর্জেন্টিনার সমর্থক। ছেলে-মেয়েদের মধ্যেও ভাগাভাগি এই দুই দেশকে নিয়ে। কাছের বন্ধুদের মধ্যেও ব্রাজিল আর্জেন্টিনা ভাগাভাগি অবস্থা। হলের টিভি রুমেও ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা বিতর্ক। একই বাড়িতে উড়েছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার পতাকা। অনেকেই এবার আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মধ্যে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা দেখার স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু ফুটবল লড়াইয়ের প্রায় শেষ দিকে ব্রাজিল ছিটকে পড়ার পর আর্জেন্টিনার প্রতি সবার আগ্রহ দেখা দেয়। আর্জেন্টিনার মেসি, যাকে বলা হয় ফুটবল জাদুকর। অনেকটা মেসি নির্ভর আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ধাপে অর্থাৎ সেমিফাইনালে এসে দাঁড়িয়েছে। এই লেখাটি যখন লেখা হচ্ছে তখন ফ্রান্স ও স্পেন এবং আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে দুই সেমিফাইনাল দেখার অপেক্ষায় মুখিয়ে আছে গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমী মানুষ। বাংলাদেশের মানুষের অনেক ভরসা মেসির আর্জেন্টিনার প্রতি। ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ডের পক্ষেও অনেকে দাঁড়িয়েছেন। আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ড ৪ দেশই এর আগে বিশ্বকাপ জিতেছে। কাজেই এবার নতুন কোন দেশের বিশ্বকাপ জেতা হচ্ছে না। চার চ্যাম্পিয়ন দেশের কে হয় শ্রেষ্ঠ সেটাই এখন দেখার প্রত্যাশা। অবশ্য আনন্দ আলোর এই সংখ্যা প্রকাশের আগেই এবারের বিশ্বকাপ জয়ী দেশের নাম জানা যাবে।

রোনালদোর জন্য শুধুই হাহাকার!
বিশ্বকাপ ফুটবলের হাসি কান্নায় এবার সবচেয়ে আলোচিত ছিলেন পর্তুগালের জীবন্ত কিংবদন্তী ফুটবলার রোনালদো। বিশ্বকাপের শেষ দিকে এসে রোনালদোর পর্তুগাল বিদায় নেয়। বাংলাদেশের ফুটবল পাগল মানুষ রোনালদোকেও অনেক ভালোবাসে, তাকে পছন্দ করে। ৬ জুলাই ডালাস স্টেডিয়ামে পর্তুগাল -স্পেন ম্যাচ শেষে ক্যামেরা খুঁজে নিয়েছিল রোনালদোকে। ততক্ষণে রোনালদোর বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়। ২০২৬ এর বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্যর্থতার কাতারেই থাকবে এই ফুটবল মহাতারকার নাম। রোনালডোর বিদায় মেনে নিতে পারেনি তার ভক্তরা। পর্তুগালের বিদায়ক্ষণে ফুটবল মাঠে রোনালদোর কান্না ভেজা মুখ অনেককেই কাঁদিয়েছে।
বিশ্বকাপের হাসি কান্নায় চমক দেখিয়েছে ফ্রান্সের জীবন্ত কিংবদন্তী ফুটবলার এমবাপ্পে। এবারের বিশ্বকাপে গোল সংখ্যার দিক দিয়ে মেসিকে প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছেন এমবাপ্পে। তার ক্রীড়াশৈলী বাংলাদেশের ফুটবল পাগল মানুষকে অনেক আনন্দ দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন শুধুমাত্র এমবাপ্পের কারণে বাংলাদেশ আগামীতে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার পাশাপাশি ফ্রান্স ও ফুটবলের ক্ষেত্রে পছন্দের দেশ হয়ে উঠতে পারে।

আলোচিত হল্যান্ড
নরওয়ের ফুটবলার হল্যান্ডের কথা একটু বলি। শেষ আট এ পৌছেছিল নরওয়ে। এই অর্জনের পেছনে নরওয়ের ফুটবলার হল্যান্ডের ভূমিকা অনেক বেশী। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যায় নরওয়ে। তবে ২৬ এর বিশ্বকাপ ফুটবলের আলোচনায় নরওয়ের হল্যান্ডের ভূমিকা বিশেষ ভাবে গুরুত্ব পাবে। ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ ম্যাধমে সমর্থকদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন হল্যান্ড। তিনি বলেছেন, সত্যি চমৎকার এক যাত্রা ছিল। এটিকে এতটা বিশেষ করে তোলার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।
কেইনের প্রতি ভালোবাসা
একই সঙ্গে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় হ্যারি কেইনের ব্যাপারেও আলোচনা হওয়া দরকার। বিশ্বকাপের শেষ চারে দাড়িয়েছে ইংল্যান্ড। এজন্য হ্যারি কেইনের অবদান অনেক।

৪৮ দেশের বিশ্বকাপে এবার বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে দ্বীপ রাষ্ট কেপ ভাদ্রে। মাত্র ৬ লাখ মানুষের দেশ কেপ ভাদ্রে। শুধুমাত্র ঢাকার মীরপুরেও কেপ ভাদ্রের চেয়ে জনসংখ্যা বেশী। অথচ এই দ্বীপ রাষ্ট্র কেপ ভাদ্রে এবার বিশ্বকাপে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শেষ ষোলোতে উঠে এসেছিল কেপভাদ্রে। আর্জেন্টিনাকে প্রায় হারাতে বসেছিল। কেপ ভাদ্রের ফুটবল যোগ্যতা গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমী মানুষকে অবাক করেছে। অনেকে বলছেন ফুটবল শিখতে হলে দেশ হিসেবে কেপ ভাদ্রেকে গুরু মানতেই হবে।
শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে কেপভাদ্রে। তবুও দেশে ফিরে পেয়েছে বীরোচিত সংবর্ধনা। একথা সত্যি, ভবিষ্যতে ২০২৬ এর বিশ্বকাপ ফুটবল প্রসঙ্গ আলোচনায় উঠলেই কেপভাদ্রের প্রসঙ্গ বিশেষ ভাবে গুরুত্ব পাবে। এই রিপোর্ট লেখার সময় জানা গেল কেপ ভাদ্রের অ্যাটাকিং মিড ফিন্ডার জোবানে ক্যাবরালকে দলে ভিড়িয়েছে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব গ্রেমিয়ো। সদ্য বিশ্বকাপ খেলা এই তারকার সঙ্গে দেড় বছরের চুক্তি করেছে দলটি।
আলোচিত গোলরক্ষক
কেপভাদ্রের গোল রক্ষক ভোজিন হা এবার বিশ্বকাপের ব্যাপক আলোচিত তারকা। কেপভাদ্রেকে শেষ ষোলোতে নিয়ে আসার পেছনে তার অবদান অনেক। মাকে বিশ্বকাপের মাঠে দর্শক হিসেবে আনতে চেয়েছিলেন ভোজিন হা। কিন্তু ভিসা জটিলতায় মাকে ফুটবল মাঠের গ্যালারিতে প্রথম দিকে আনতে পারেননি। কিন্তু বিশ্বকাপের শুরুতেই গোলরক্ষক হিসেবে তিনি চমক সৃষ্টি করেন। ফলে তার মাকে ভিসা জটিলতা থেকে মুক্ত করা হয়। ভোজিনহার মা গ্যালারিতে বসে ছেলের খেলা দেখার সুযোগ পেয়েছেন।
এদিকে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরমেন্সের স্বীকৃতি হিসেবে বিরল এক সম্মানে ভুষিত হয়েছেন ভোজিনহা। সদ্য আবিস্কৃত নতুন প্রজাতির এক সামুদ্রিক শামুক তার নামেই নামকরণ করা হয়েছে। ক্যারিবীয় সাগরে ছোট আকারের লাল রঙের এই শামুক আবিস্কার করেছেন জীব বিজ্ঞানী হেসুস ওর্তেয়া।

এই প্রাণহানি কাম্য নয়
বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবলে নেই। কিন্তু ফুটবল পাগল দেশ হিসেবে গোটা বিশ্বে বাংলাদেশের নাম গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। এটা অত্যন্ত আনন্দের খবর। কিন্তু আনন্দের মাঝেও দুঃখের খবর হলো ফুটবলের সমর্থক হিসেবে এক পক্ষ অন্যপক্ষকে কটুক্তি করায় পছন্দের দল হেরে যাওয়ার পর তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করায় চরম বিবাদের জেরে সারাদেশে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি কোনো ভাবেই মেনে নেওয়ার মতো ঘটনা নয়। খেলায় জয় পরাজয় থাকবেই। তাই বলে এক পক্ষ অন্যপক্ষের ওপর চড়াও হতে হবে কেন? এই যে সারাদেশে ১১ জন মানুষের মৃত্যু হল এর দায় ভার কার? খেলাধুলার ক্ষেত্রে পছন্দের দল থাকাটাই স্বাভাবিক। তাই বলে এক পক্ষ অন্য পক্ষের প্রাণ হরণ করবে এটা কোনো যুক্তির কথা নয়।
তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি, মারামারি, ছুরিকাঘাত, এমনকি হত্যাকা-ের ঘটনাও ঘটছে। কোথাও পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, কোথাও শোভাযাত্রায় দুর্ঘটনায়, আবার কোথাও অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসের কারণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ইতিমধ্যে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজন সমর্থকদের সংঘর্ষে, তিনজন পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, একজন অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসের সময় স্ট্রোকে, একজন শোভাযাত্রার সড়ক দুর্ঘটনায়, একজন গোলপোস্ট বা ল্যাম্পপোস্ট ভেঙে এবং একজন কিশোরদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলাকে শুধু বিনোদনের উপকরণ হিসেবে না দেখে অতিরিক্ত আবেগতাড়িত হয়ে বিতর্কে জড়ানোর কারণে ঘটছে সহিংসতার ঘটনা। সংঘর্ষ এড়াতে সকলকে আবেগ থেকে বেরিয়ে এসে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
সর্বশেষ গত ৭ই জুলাই রাত ১১টার দিকে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ধনপুর এলাকায় আর্জেন্টিনা-মিশর ফুটবল ম্যাচ দেখা নিয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হামলায় মো. শরিফুল ইসলাম (৩৫) নামে এক অটোচালক নিহত হন। নীলফামারী থেকে স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে কুমিল্লায় এসেছিলেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটাতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে তার পরিবার। খেলার শুরুতে মেসি পেনাল্টি মিস করলে শরিফুল উল্লাস প্রকাশ করতে থাকেন। এ নিয়ে কয়েকজন যুবকের সঙ্গে তার বাকবিত-া হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন আর্জেন্টিনা সমর্থক শরিফুলকে মারধর করেন। হামলাকারীরা স্থানীয় দেখে শরিফুল একপর্যায়ে পাশের একটি মেসে চলে যান। তখন সেখানে গিয়েও তাকে মারধর করা হয়। এরপর দোকানের সামনেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শরিফুল। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে গত ১লা জুলাই রাতে রাজধানীর আদাবরে নবোদয় হাউজিং এলাকায় ব্রাজিলের খেলা দেখার সময় বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে আবুল বাশার বাদশা নামে এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপি’র সভাপতি সাদ্দাম গুরুতর আহত হন। একই রাতে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় ফুটবল খেলা দেখার সময় চিৎকার করাকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে আলম আহমদ (২৮) নামে এক যুবক নিহত হন। এদিকে, ব্রাজিল-জাপান ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে আশুলিয়ায় নাহিদ হাসান নামে এক কিশোরকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার পর বালুচাপা দিয়ে রাখা হয়।
পতাকা টাঙাতে গিয়ে নিহত ৩: গত ১৯শে জুন ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে মাহিন শেখ নামে এক স্কুলছাত্র মারা যান। ১৫ই জুন চট্টগ্রামে আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙাতে গিয়ে রামহরি বৈষ্ণবের মৃত্যু হয়। এর আগে গত ৯ই জুন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে ফয়সাল (১৮) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়।
আরও কয়েকটি প্রাণহানির ঘটনা: গত ৭ই জুলাই মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়ের পর অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে গিয়ে ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের রসুল উদ্দীন (৪০) নামের এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়। তিনি মেসির একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গত ৩রা জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকায় গোলপোস্ট ভেঙে মাহিদুল ইসলাম (২০) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়। একই দিন নড়াইলে কিশোরদের ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে মোস্তফা কাজী নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগে ১৩ই জুন ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থকদের শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ইসমাইল (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

এদিকে, গত ৭ই জুলাই রাতে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ ঘিরে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দু’জন আহত হন। গুরুতর আহত ব্রাজিল সমর্থক মাঈনুদ্দিন মিঠুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া, একই দিন রাতে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ম্যাচকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী প্রক্টরসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে একাডেমিক ভবনে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এদিন রাতে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, দেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে ঘিরে যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা যেন আনন্দময় থাকে। এটিকে কেন্দ্র করে দেশে যেন আর কোনো প্রাণনাশের ঘটনা না ঘটে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন আনন্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, কোনোভাবেই সহিংসতায় রূপ না নেয়। সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, খেলা বিনোদনের অংশ, তাতে জয়-পরাজয় থাকবে- এটি মেনে নেয়ার মানসিকতায় ঘাটতি আছে আমাদের। তবে এটি শুধু ক্রীড়াক্ষেত্রে নয়; জাতিগতভাবেই আমরা রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক কোনো ক্ষেত্রেই জয়-পরাজয় স্বাভাবিকভাবে নিতে পারি না। এ কারণে এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

আমি যে শৈশব পাইনি, আমার ভাই যেন তা পায়: ইয়ামাল
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে স্পেন। তবে ম্যাচে লামিন ইয়ামালের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে গ্যালারিতে থাকা তার মাত্র তিন বছর বয়সী ভাই কেইন।
সোফাই স্টেডিয়ামে ক্যামেরা যখনই গ্যালারির দিকে ঘুরেছে, তখনই ছোট্ট কেইনের হাসি, উচ্ছ্বাস আর দুষ্টুমিভরা অভিব্যক্তি দর্শকদের নজর কেড়েছে। মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় তার ভিডিও।
কেইন ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ইয়ামালের মা শিলা এবানার ঘরে জন্মগ্রহণ করে। দুই ভাইয়ের মা এক হলেও বাবা ভিন্ন। ফলে তাদের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরেরও বেশি।
ইয়ামাল যখন ছোট ছিলেন, তখনই তার বাবা-মা আলাদা হয়ে যান। ইয়ামাল মূলত গ্রানোইয়ার্সে তার মায়ের কাছে বড় হয়েছেন। পরবর্তীতে তার মা আবার বিয়ে করলে কেইনের জন্ম হয়।
এই বয়সের ব্যবধানের কারণে ইয়ামাল তার ছোট ভাইকে এমন একটি ভিন্ন পৃথিবীতে বড় হতে দেখছেন, যা তার নিজের কাটানো কঠিন শৈশব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ইয়ামাল বলেছেন, ‘আমি এমন একটি ঘর থেকে এসেছি যেখানে রান্নাঘর আর শোবার ঘর একই জায়গায় ছিল। আজ আমি আমার মাকে সুখী দেখছি। আমি দেখছি আমার ভাই সেই শৈশবটা পাচ্ছে যা আমি নিজে পেতে চেয়েছিলাম; আর এটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়।’
বিশ্বকাপে শেষ ১৬-র ম্যাচে দুর্দান্ত খেলে যখন ইয়ামাল ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ হন, তখন ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে কোনো গোল বা কৌশল নিয়ে কথা বলেননি তিনি। তার পুরোটা জুড়ে ছিল ভাই আর পরিবার। ইয়ামাল আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছোট ভাইকে এতটা খুশি দেখতে পেয়ে আমি আবেগাপ্লুত। আমার মা এবং বন্ধুদেরও তাদের স্বপ্নের মতো জীবন কাটাতে দেখে খুব ভালো লাগছে। আমার ছোট ভাইই আমার সব। আমি তাকে প্রচ- ভালোবাসি; মনে হয় সে যেন আমার নিজেরই সন্তান।’

কোচদের ‘বিদায়’ মিছিল
৪৮ দলের বিশ্বকাপ এখন নেমে এসেছে ৪ দলে। ফ্রান্স নাকি স্পেন, ইংল্যান্ড নাকি আর্জেন্টিনা কে যাবে ফাইনালে? তা নির্ধারণ হয়ে যাবে চলতি সপ্তাহে। এরপর আগামী সপ্তাহে বিশ্বকাপের ফাইনাল। তারপর পর্দা নামবে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ।
জমকালো যে আয়োজন শুরু হয়েছিল ১২ জুন। এক মাসের পথ চলায় ৪৪ দল ধরেছে বাড়ির পথ। টিকে থাকা ৪ দল এখন শিরোপার লড়াইয়ে। তবে এই লড়াই শেষ হওয়ার আগেই শুরু হয়ে গেছে কোচ ছাঁটাই কিংবা চুক্তির পর বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। কেউ কেউ ব্যর্থতা মাথায় নিয়ে সরে যাচ্ছেন। কেউ আগেভাগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, বিশ্বকাপের পর থাকবেন না। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই ১৫ জাতীয় দলের কোচের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক বরখাস্তের ঘটনা ঘটেছে সেনেগাল দলে। প্রধান কোচ পাপে থিয়াওকে বরখাস্ত করেছে সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন। দলের বিশ্বকাপ অভিযানে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় কোচিং স্টাফের অন্যান্য সদস্যদেরও বিদায় করা হয়েছে। থিয়াওয়ের অধীনে সেনেগাল ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছিল এবং ২০২৬ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালেও পৌঁছেছিল।
২০২৬ বিশ্বকাপে সেনেগাল শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেয়। ম্যাচের শেষ দিকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও নাটকীয়ভাবে হার মেনে নিতে হয় তাদের। গ্রুপ পর্বে ফ্রান্স ও নরওয়ের কাছে হারের পর ইরাককে বড় ব্যবধানে হারিয়ে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছিল সেনেগাল।



জার্মানির কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানও দ্বিতীয় রাউন্ডে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হারের পর দায়িত্ব ছাড়েন। প্রায় তিন বছর দায়িত্বে থাকার পর তার সহকারী কোচরাও পদত্যাগ করেন। ইতোমধ্যে জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি) নতুন কোচ হিসেবে ইয়ুর্গেন ক্লপকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে। বর্তমানে রেড বুলের গ্লোবাল ডিরেক্টর অব ফুটবল হিসেবে কর্মরত ক্লপকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত বলে জানা গেছে।
উরুগুয়ের মার্সেলো বিয়েলসা গ্রুপ পর্ব থেকেই দলের বিদায়ের পর পদত্যাগ করেন। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে দায়িত্বে থাকা এই আর্জেন্টাইন কোচ বিশ্বকালে দল পরিচালনা নিয়ে নানা বিতর্কের মধ্যেই বিদায় নেন।
দীর্ঘ নয় বছর দায়িত্ব পালন শেষে ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচও পদত্যাগ করেছেন। তার অধীনেই ক্রোয়েশিয়া ২০১৮ বিশ্বকাপে রানার্সআপ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল।
এছাড়া স্পেনের কাছে শেষ ষোলোতে হেরে দায়িত্ব ছাড়েন পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে বিদায়ের পর মেক্সিকোর কোচ হাভিয়ের আগিরেও বিদায় নেন। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে সাবেক ডিফেন্ডার রাফা মার্কেজের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজ কলম্বিয়ার কাছে দ্বিতীয় রাউন্ডে হারের পরই দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন। মাত্র তিন মাস আগে তিনি দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তিউনিসিয়ার কোচ সাবরি লামুচিকে বিশ্বকাপ চলাকালেই বরখাস্ত করা হয়। সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলের বড় পরাজয়ের পর তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
জর্ডানের কোচ জামাল সেল্লামি গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর দায়িত্ব ছাড়েন। তার অধীনেই দেশটি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। তিউনিসিয়ার অন্তর্বর্তী কোচ হারভে রেনার্ডের চুক্তিও নবায়ন করা হয়নি। মাত্র ১৯ দিনের দায়িত্ব পালন শেষে দুই ম্যাচে হেরে তার অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
নেদারল্যান্ডসের কোচ রোনাল্ড কোম্যান মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেওয়ার পর পদত্যাগ করেন। স্ত্রীর অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফুটবলের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় রয়েছে জীবনে।’ ইকুয়েডরের কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের চুক্তির মেয়াদ বিশ্বকাপেই শেষ হয়। দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর তিনি দায়িত্ব ছাড়েন।
এ ছাড়া চেক প্রজাতন্ত্রের মিরোস্লাভ কুবেক, স্কটল্যান্ডের স্টিভ ক্লার্ক এবং দক্ষিণ কোরিয়ার হং মিয়ুং-বোও বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর নিজেদের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হং মিয়ুং-বো সমালোচনা ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

ভাই বড় ধন
ফ্রান্সের আলোচিত খেলোয়াড় লামিন ও তার ছোট ভাই বিশ্বকাপ ফুটবলের আলোচিত চরিত্র হয়ে উঠেছে। নিজের ছোটবেলা ভালো কাটেনি লামিনের। লামিনের মায়ের বয়স যখন ১৬ বছর তখন জন্ম লামিন ইয়ামালের। বাবাকে কাজ করতে হতো অন্যের দুয়ারে ঘুরে ঘুরে। অভাবের তাড়নায় মাঠে ময়দানে ফেলে রাখা পরিত্যক্ত জিনিসও কুড়াতে হয়েছে লামিনের পরিবারকে। জীবনের সেই চড়াই উৎরাইয়ের সময়ে লামিনের ভালোবাসার মানুষ ছিল তার ছোট ভাই। সেই ভালোবাসাই আজ আলোচিত বিশ্ব মন্ডলে। অনেকে লামিনের ছোট ভাইকে তার সন্তান হিসেবে এলোমেলো করে ফেলেন। তবে লামিনের কাছে তার ছোট ভাই-ই সব। ৪ বছরের ছোট ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসার কথা লামিন বার বার তুলে ধরেছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে নক আউট পর্বে ৩-০ গোলে স্পেন জেতার পর মাঠে থাকা ছোট ভাই কেইনের দিকে টিভি ক্যমেরা ধরলে দেখা যায় ছোট ভাই চিৎকার দিয়ে আনন্দ করছে। এক সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল জানান ছোট ভাইকে খুশি দেখলে তিনিও আবেগ প্রবণ হয়ে যান। দুই ভাইয়ের এই সম্পর্কের রসায়ন এখন বিশ্বকাপের ব্যাপক আলোচিত প্রসঙ্গ। উল্লেখ্য, কেইন ইয়ামালের আপন ভাই নয়। সৎ ভাই। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের কোয়াটার ফাইনালে লামিনের গোলেই জয় পায় স্পেন।
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...

শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার লড়াইয়ে তিন বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে পরাস্ত করে ২০২৬ এর বিশ্বকাপ ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। ১৬ বছর পর এটি স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়। ঐতিহাসিক মেটলাইফ স্টেডিয়ামে.....

বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরে শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়ার পর একটুও রাখঢাক না রেখে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিলেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে.....

-এ শুরু হয়েগেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল উৎসব ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসরকে ঘিরে ইতোমধ্যে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ।

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে উন্মোচন করা হয়েছে অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘অ্যাডিডাস ট্রাইওন্ডা’। কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আয়োজনে এই বিশ্বকাপের প্রতীকী উপস্থাপন হিসেবেই বলটির নকশা

ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, এটি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের আবেগ, উন্মাদনা এবং সংস্কৃতির এক মহা-উৎসব। আর এই উৎসবের পারদ যখন চড়তে চড়তে চরম সীমায় পৌঁছায়, তখন তাতে বাড়তি রঙ, সুর আর মোহময়তা যোগ করে সংগীত

সারা পৃথিবী এখন ফুটবল জ্বরে ভুগছে। জ্বর শব্দটা আতংকের। শারিরীক অসুস্থতার কারণে শরীরের জ্বর হয়। কিন্তু ফুটবল জ্বর আতংকের কোনো বিষয় নয়। বরং আনন্দ ও উৎসবের উপলক্ষ ফুটবল জ্বর। বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে গোটা

কখনও কখনও মনে হয় বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় তখন আনন্দ আর খুশির আতিশয্যে আসলে কি করবে বাংলাদেশের মানুষ? সারাদেশ আনন্দে মেতে উঠবে। আনন্দ-উৎসবের পর্যরদ সে কোথায় গিয়ে ঠেকাবে

মেসি...মেসি...মেসি। সারা বিশ্বেই তাঁর বন্দনা চলছে। লিওনেল মেসি নিজেকে এখন এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যাকে এককথায় বলতে হয় ‘আনপ্যারালাল’ বা অতুলনীয়। ফুটবলার হিসেবে আমাদের অনেকেরই অনেকের প্রতি আবেগ বা পছন্দ থাকতে পারে