
টেলিভিশনের নাটককে কি হাসির নাটক হতেই হবে?

টিভি নাটকের ক্ষেত্রে একটা ধারনা ছড়িয়ে দেয়া আছে। সেটা হল হাসির নাটকই সেরা নাটক। টিভি নাটক দেখতে বসে মন খারাপ হোক এটা কেউ চায় না। নাটক দেখবো, হাসব, ভাববো তারপর সব ভুলে যাব-এই ধারনা অনেকের। হুমায়ূন আহমেদ তাঁর টিভি নাটকে হাস্যরস ও কৌতুকের একটা নতুন ধারা তৈরি করেন। তার হাসির নাটকে কোন প্রকার ভাড়ামি নেই। চরিত্র গুলো অনেক আপন। তবে আত্মভোলা। প্রাণের গভীর থেকে সহজ সরল ভঙ্গিতে কথা বলে, ভাব ভঙ্গি প্রকাশ করে। নাটকের সংলাপের প্রকাশ ভঙ্গিই দর্শককে হাসায়। ফলে হুমায়ূন আহমেদের টিভি নাটক ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

আমাদের দেশে সাধারত কি হয়? একবার কোনো কিছু জনপ্রিয়তা পেলে সবাই তার পিছনে ছুটতে শুরু করে। নাট্যকার ও পরিচালক হিসেবে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাবের আগে আমাদের টিভি নাটকের অন্য এক প্রকাশ ভঙ্গি ছিল। হুমায়ূন আহমেদই প্রথম টিভি নাটকের সংলাপে সহজ সরল প্রকাশ ভঙ্গি তুলে ধরেন। তার টিভি নাটকের অধিকাংশ চরিত্র সত্যবাদী যুধিষ্ঠির। খারাপ অর্থাৎ মন্দ চরিত্রও দর্শককে আকৃষ্ট করে। ফলে তার টিভি নাটকের একটি নতুন ধারা তৈরি হয়ে যায়। হুমায়ূন আহমেদের নাটক মানেই হাসির নাটক- এই ধারনা ছাড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। স্পন্সর প্রতিষ্ঠান সমূহ হুমায়ূনের হাসির নাটকর প্রতি অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে ওঠে। ফলে অন্যান্য পরিচালক অর্থাৎ নির্মাতাদের মধ্যে হাসির নাটক নির্মাণের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। তোরা যে যা বলিস তাই আমার হাসির নাটক চাই- এই স্রোতে গা ভাসিয়ে দেন অনেক নির্মাতা। কিন্তু অন্ধ অনুকরণে ভালো কিছু অর্জন করা যায় না। হুমায়ূন আহমেদের নাটকের ধারা অনুকরণ করতে গিয়ে অনেকে হাসির নাটককে একটা প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়। কিছু কথা আছে শুনলে মনে হবে প্রাণের গভীর থেকে উৎসারিত। শোনার পর হৃদয় কাঁপে অথবা হৃদয়ে সুে খর অনুরনন ঘটে। স্বাভাবিক ভাবেই দেহ মনে হাসির ফোয়ারা ছোটে। আবার কিছু কথা আছে শুনলে বুঝা যায় মানুষকে নিছক হাসানোর জন্য বলা হচ্ছে।এবার ঈদে দেশের টেলিভিশন চ্যানেল গুলোতে শত শত নাটক প্রচার হয়েছে। সবই নিম্নমানের নাটক তা বলা যাবে না। অনেক মান সম্পন্ন ভালো নাটক প্রচার হয়েছে। শত শত নাটকের ভীড়েও ভালো নাটক ঠিকই সবার নজর কেড়েছে। এটাই আশার কথা।
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...








