Ad space

সিনেমার অনুষ্ঠানে সিনেমার মানুষজন থাকেন না কেন?

প্রকাশ:
5
Image
Film & Theatre

আমাদের এফডিসিকে বলা হয় সিনেমা নির্মাণের কারখানা। একটা সময় এফডিসিতে ঢুকতে পারা ছিল অনেক ভাগ্যের ব্যাপার। কারণ এফডিসিতে ঢুকতে পারলে সিনেমার পর্দায় দেখা তারকাদের খুব কাছে কাছ থেকে দেখা যেত। কিভাবে সিনেমার শুটিং হয়? বড় পর্দার মানুষগুলো আসলে কেমন? পর্দায় জনপ্রিয় তারকারা বাস্তবে কেমন? এরকম কত প্রশ্নই না সাধারণ মানুষের মনে জাগ্রত হয়। একবার এফডিসি থেকে ঘুরে আসতে পারলেই জীবন স্বার্থক। পর্দার তারকাদের কাছ থেকে দেখার আনন্দই আলাদা। অন্য রকম।আমি প্রথম যে বার এফডিসিতে ঢুকি তখনকার দিনে ফেসবুকের অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এতো প্রভাব ছিল না। আনন্দ বিনোদনের প্রধান মাধ্যম ছিল সিনেমা, একমাত্র সিনেমাই। সঙ্গত কারণে এফডিসির প্রতিটি ফ্লোর, বহিরাঙ্গণ, রাস্তা, ঝর্নাস্পট সবখানেই শুটিংয়ের ব্যস্ততা থাকতো। আমি তখন দৈনিক ইত্তেফাকে কাজ করি। নায়ক রাজ রাজ্জাকের ইন্টারভিউ করার সুযোগ পেয়েছি। শুটিংয়ের ফাঁকে তিনি মাত্র ৫ মিনিট কথা বলবেন। এই পাঁচ মিনি সময় নেওয়ার জন্য কত কাঠখড় যে পোহাতে হয়েছে।

Image

নায়ক রাজ নির্ধারিত সময়েই কথা বললেন। ঘড়ি ধরে পাঁচ মিনিট। তাতেই আমি খুশি। পরের সপ্তাহে ইত্তেফাকে নায়করাজের সাক্ষাৎকার ছাপা হলো। সাক্ষাৎকার পছন্দ হয়েছিল নায়ক রাজের। রিপোর্টিংয়ের সূত্র ধরেই পরবর্তীতে তার সান্নিধ্য পাওয়ার সুযোগ হয়। সাংবাদিকতার সূত্রে নায়ক আলমগীরের সান্নিধ্যও পেয়েছি আমি। সোহেল রানা, উজ্জ্বল আরো কত নাম। সময় পেলেই দূর থেকে তাদেরকে দেখার জন্য এফডিসিতে যেতাম। তখনকার দিনে এফডিসিতে ঢেকার ক্ষেত্রে বেশ কড়াকড়ি নিয়ম ছিল। যদিও সেটাই হওয়ার কথা।৯ ডিসেম্বর বহুদিন পর এফডিসিতে গেলাম। লোকমুখে শুনেছি বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি এফডিসিকে আধুনিক করে গড়ে তোলার আন্তরিক উদ্যোগ নিয়েছেন। এডিটিং, কালার গ্রেডিংসহ কারিগরি অন্যান্য ক্ষেত্রে আধুনিক ধ্যান ধারণাকেই এখন গুরুত্ব দেয়া হবে। ঐতিহাসিক সেই ঝর্না স্পটকে নতুন করে সাজানো হয়েছে। চলচ্চিত্র পরিবারের উপস্থিতিতে এফডিসিতে বিশেষ একটি অনুষ্ঠান হবে। তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমসহ আরো অনেক বিশিষ্টজন অনুষ্ঠানে আসবেন।সন্ধ্যায় ছয়টা অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। খুশির আতিশয্যে বিকেল পাঁচটায় এফডিসিতে ঢুকলাম। পরিবেশ দেখে শুরুতেই আনন্দ উদ্দীপনায় ভাটা পড়লো। উৎসব আমেজেই সেজেছে গোটা এফডিসি। কিন্তু তারকাদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির অফিসে গেলাম। দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, শাহীন সুমনসহ অনেকের সঙ্গেই দেখা হলো। পরিচালক সমিতির অফিস মোটামুটি জমজমাট। পাশেই শিল্পী সমিতির অফিস। শিল্পীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। অনুষ্ঠানে একমাত্র বাপ্পারাজ ছাড়া আর তেমন কাউকে দেখলাম না। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি তার দলবল সহ তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের আসার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা সন্ধ্যা ছয়টায়। সাড়ে সাতটায়ও প্রধান অতিথির দেখা নেই। দর্শক কিছুটা বিরক্ত। যদিও দর্শক সারিতে কয়েকজন পরিচালক ছাড়া শিল্পীদের কাউকে দেখলাম না। একটা প্রশ্ন নিজেই নিজেকে করলাম – সিনেমার অনুষ্ঠানে সিনেমা সংশ্লিষ্ট মানুষজন নেই কেন? তারকারা কোথায়? উত্তর পাইনি। জানি না এই প্রশ্নের উত্তর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে আছে কি না। তবে আন্তরিক উদ্যোগ সফল হোক। অপেক্ষায় আছি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র একদিন বিশ্বজয় করবে। আশা আছে বলেই মানুষ বাঁচে।

আরও পড়ুন

লোড হচ্ছে...